বিষয়বস্তুতে চলুন

দায়াইম আল-ইসলাম (গ্রন্থ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

দা'য়াইম আল-ইসলাম ( আরবি: دعائم الإسلام ; ইসলামের স্তম্ভ ) হলো শিয়া ইসলামের ইসমাইলি শাখার একটি আইন শাস্ত্রীয় গ্রন্থ।[] গ্রন্থটি দশম শতাব্দীর প্রসিদ্ধ শিয়া ধর্মীয় পণ্ডিত ইবনে হাইয়ুন রচনা করেন।

দা'য়াইম ইসলাম
دعائم الإسلام
দা‘য়াইম আল ইসলামের একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির অনুলিপি, যা লন্ডনের ইসমাঈলি অধ্যয়ন ইনস্টিটিউটের গ্রন্থাগার সংগ্রহে সংরক্ষিত।
লেখকইবনে হাইয়ুন
ভাষাআরবি ভাষা
বিষয়শিয়া ফিকহ
প্রকাশকদারুল মায়ারিফ, কায়রো মিশর
প্রকাশনার তারিখ
১৯৬৩

বিবরণ

[সম্পাদনা]

বইটি লিখেছেন দশম শতাব্দীর প্রসিদ্ধ শিয়া আইনজ্ঞ ও বিচারক আল-কাদি আল-নু'মান[] তিনি মিশরের চারজন শিয়া ইমামের দাঈ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন: ১১তম ইসমাইলি ইমাম আবদুল্লাহ আল-মাহদি বিল্লাহ থেকে শুরু করে ১৪তম ইমাম আল-মুইজ লি-দীনুল্লাহ পর্যন্ত, যারা পর্যায়ক্রমে মিশরের প্রথম চার ফাতেমী খলিফা ছিলেন। [] এই বইটিতে প্রথম পাঁচ ফাতেমীয় ইমাম ও পূর্ববর্তী শিয়া ইমাম, যেমন ইমাম আলি ইবনে আবি তালিব, ইমাম হাসান ইবনে আলী, ইমাম হুসাইন ইবনে আলী, আলি জায়নুল আবেদিন, মুহাম্মদ আল-বাকীরজাফর-আস-সাদিকের এর উদ্ধৃতি দিয়ে শিয়া দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী যাবতীয় ইবাদতের পাশাপাশি শিষ্টাচার ও শিষ্টাচারের উপর ইসলাম কতটা গুরুত্ব দেয়, তা তুলে ধরা হয়েছে। []

পরবর্তী সকল ফাতেমীয় ইমাম, খলিফা ও ইসমাইলি দাঈরা দা'য়াইম আল-ইসলামের উপর ব্যাপক নির্ভর করেছেন। ১৬তম ফাতেমীয় ইমাম খলিফা আল-হাকিম বি-আমরিল্লাহ (৯৯৬-১০২১) ইয়েমেনে তার দাঈ হারুন বিন মোহাম্মদকে শুধুমাত্র দায়াইম আল-ইসলামের আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশ দেন।[]

বর্ণিত হয়েছে যে, ফাতিমীয় খলিফা আল-জাহির দাঈদের (ধর্মপ্রচারক) নির্দেশ দেন, যাতে তারা জনগণকে এই গ্রন্থটি মুখস্থ করতে উৎসাহিত করে। এমনকি যে ব্যক্তি এটি মুখস্থ করতে পারত, তার জন্য মূল্যবান পুরস্কারের ব্যবস্থাও করা হতো বলে ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়।[] আজও গ্রন্থটি ভারতে বসবাসকারী ‘দাউদী বোহরা' সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি মৌলিক ও প্রামাণ্য পাঠ্যগ্রন্থ হিসেবে পঠিত হয়।[] গ্রন্থটি মূলত দুই খণ্ডে বিভক্ত; প্রথম খণ্ডে আলোচিত হয়েছে ইবাদত বা ধর্মীয় উপাসনা এবং দীনের ফরজওয়াজিব বিষয়াদি। এই অধ্যায়ে নামাজ, রোজা, যাকাত ও হজ্জসহ ইসলামের মৌলিক ইবাদতসংক্রান্ত বিধি-বিধান উপস্থাপিত হয়েছে। দ্বিতীয় খণ্ডে মু‘আমালাত বা পারস্পরিক লেনদেন ও সামাজিক বিধানাবলি বিস্তারিতভাবে উল্লেখিত হয়েছে। এতে খাদ্যসংক্রান্ত বিধান, অসিয়ত (ওসিয়তনামা), মিরাস (উত্তরাধিকার আইন), নিকাহ (বিবাহ) ও তালাক (বিচ্ছেদ) ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।[]

আধুনিক গবেষক ইসমাইল সামেয়ী এই গ্রন্থ সম্পর্কে বলেন যে, সামগ্রিক দৃষ্টিতে এ গ্রন্থটি মুয়াত্তা ইমাম মালেকের মতো প্রচলিত সুন্নি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ থেকে মৌলিকভাবে খুব বেশি ভিন্ন নয়। কাঠামো, অধ্যায় বিন্যাস ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে এটি সুন্নিধারার ঐতিহ্যবাহী ফিকহ গ্রন্থগুলোর অনুরূপ। তবে ‘ইমামত’ বা ‘ওলায়াত’ (আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব ও বৈধ কর্তৃত্ব) সম্পর্কিত অধ্যায়ে এর স্বতন্ত্রতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ এটি ইসমাঈলি মতবাদের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য এবং সুন্নিসহ অন্যান্য ভিন্নমতাবলম্বী ধারায় এমন ধারণা পাওয়া যায় না; বরং একে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়।[]

প্রকাশনা

[সম্পাদনা]

১৩৮৩ হিজরিতে (১৯৬৩ খ্রি) বইটি আসিফ আলী আসগর ফয়েজীর সম্পাদনায় মিশরের কায়রোস্থ দারুল মায়ারিফ থেকে প্রকাশিত হয়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 Daftary 1990, পৃ. 250।
  2. "المصدر: الأعلام، خير الدين الزركلي، 1980"। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  3. "Al-Qadi Al-Noman"[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. "Daya'aim Al Islam"
  5. سامعي, إسماعيل (১ জানুয়ারি ২০১০)। الدولة الفاطمية وجهود القاضي نعمان في إرساء دعائم الخلافة الفاطمية والتطور الحضاري ببلاد المغرب 4 هـ/ 10 م (আরবি ভাষায়)। Al Manhal। আইএসবিএন ৯৭৯৬৫০০০৪২০৩৯

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]