বিষয়বস্তুতে চলুন

দাউদ আল-তাই

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আবু সুলাইমান দাউদ ইবনে নুসাইর আল-তাই
আধ্যাত্নিক
জন্ম৭ম বা ৮ম শতাব্দী
সম্মানিতইসলাম
যার দ্বারা প্রভাবিতহবিব আল-আজামী, আবু হানিফা
যাদের প্রভাবিত করেনমারূ’ফ কারখী

আবু সুলাইমান দাউদ ইবনে নুসাইর আল-তাই, ( আরবি: ابو سلیمان داؤد بن نصیر الطائي ) সাধারণত দাউদ তায়ি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৭৭৬ থেকে ৭৮৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে) একজন ইসলামী পণ্ডিত এবং সুফি মরমী ছিলেন। তিনি কুফায় থাকতেন এবং আবু হানিফার একজন বিখ্যাত ছাত্র ছিলেন। তার শিষ্যদের মধ্যে মারুফ কারখি-সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুফি ব্যক্তি ছিলেন। তার উস্তাদ ছিলেন হাবিব আল-আজমি[]

জীবনী

[সম্পাদনা]

দাউদ তাই কুফায় ইমাম আবু হানিফার কাছে অনেক বছর হাদিসফিকহ পড়েছেন। তিনি তার প্রিয় ছাত্রদের একজন ছিলেন। তিনি জ্ঞান ও ফিকহে উঁচু মানে পৌঁছেছিলেন। তার কথা বলার ক্ষমতাও ছিল দারুণ। তবে তিনি মাঝে মাঝে একটু রূঢ় হয়ে যেতেন। একবার তিনি লাঠি দিয়ে কাউকে মারলে আবু হানিফা তাকে বকেন: "আবু সুলেমান, তোমার হাত এবং জিহ্বা লম্বা হয়ে যাচ্ছে!" এই কথায় তিনি খুব ভয় পান। তার ছাত্রজীবনের শেষ বছরে তিনি কথা বলা বন্ধ করে দেন। তিনি কোনো প্রশ্ন করতেন না, উত্তরও দিতেন না। দাউদ তাই তার সময়ের সবচেয়ে সাবলীল বক্তা ছিলেন। তিনি আরবি ভাষা খুব ভালো জানতেন। ফিকহ ও মতামতের দিক থেকেও তিনি শীর্ষ ইমামদের একজন ছিলেন। কিন্তু তিনি তার বইগুলো ফোরাত নদীতে ফেলে দেন। কেন ফেলেছিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন কথা আছে। এরপর তিনি জুহদ (সংযম) ও ইবাদতে মন দেন। তিনি লোকজন ও দুনিয়ার ব্যাপার থেকে দূরে চলে যান। তিনি নিজেকে ঘরে বন্দি করেন। শুধু নামাজের সময় মসজিদে যেতেন।

তার সাথে দেখা হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ফুদাইল বিন ইয়াজ, জাফর আল-সাদিক এবং ইব্রাহিম ইবনে আদহাম । ইমাম আবু ইউসুফের মতে, তিনি আব্বাসীয় খলিফা হারুন আল-রশিদের সাথেও দেখা করেছিলেন। ফরিদউদ্দিন আত্তার বলেন, ফুদাইল ইবন ইয়াজ দু’বার তার সঙ্গে দেখা করার জন্য গর্বিত ছিলেন। তার সময়ের একজন বলেন, “দাউদ তাই যদি রাসূলের সময়ে থাকতেন, কুরআনে তার সংযম ও তাকওয়ার কথা লিখা থাকত।” []

তার বিখ্যাত শিষ্য মারুফ কারখি বলেন, “তাইয়ের মতো দুনিয়াকে গুরুত্ব না দেওয়া মানুষ আমি দেখিনি।” তিনি কাউকে শুভকামনা জানাতে বলতেন, “তোমার মৃত্যু তোমার উৎসব হোক।” তিনি মৃত্যুকে দুনিয়ার কারাগার থেকে মুক্তি মনে করতেন। এই চিন্তা পরে ‘শব-ই আরুস’ বা ‘বিয়ের রাত’ নামে পরিচিত হয়। তিনি তার কবর যেন নির্জন জায়গায় হয় তা চেয়েছিলেন। তিনি ইবাদতের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। কিন্তু বলতেন যে কারও ইবাদতকে নিখুঁত হিসেবে দেখা উচিত নয় এবং তাদের ইবাদতের উপর বিশ্বাস করা উচিত নয়। তিনি মনে করতেন, উদারতা ও মানবিকতা ছাড়া ইবাদত অসম্পূর্ণ। সুফিবাদে যাওয়ার পর তিনি বাবার রেখে যাওয়া টাকা বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে দেন। []

আল-তাই তার ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িতে কুরআন পাঠ করার সময় মারা যান। কথিত আছে, এক রাতে তিনি জাহান্নাম সম্পর্কে একটি আয়াত পড়েন। এটি তাকে এতটাই প্রভাবিত করে যে তিনি অসুস্থ হয়ে সকালে মারা যান। []

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Hazrat Daud al Tai r.a"Aal-e-Qutub Aal-e-Syed Abdullah Shah Ghazi (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২২
  2. 1 2 3 "DÂVÛD et-TÂÎ - TDV İslâm Ansiklopedisi"TDV İslam Ansiklopedisi (তুর্কি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২২ উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "TDV" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে