দশেরি আম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ম্যাঙ্গিফেরা 'দশেরি'
Dosehri.JPG
গণম্যাঙ্গিফেরা
চাষকৃত উদ্ভিদ'দশেরি'
উৎসভারত
দশেরি আম, টুকরো করা কাটা

দশেরি আম হল এক ধরণের চাষ করা আম যার উৎসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল ১৮ শতকে লখনউ জেলার কাকোরির কাছে একটি গ্রামে। এখন এই মিষ্টি এবং সুগন্ধি জাতের আম পাওয়া যায় উত্তর ভারত, দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ, এছাড়াও নেপাল এবং পাকিস্তানেউত্তরপ্রদেশের মালিহাবাদে সবচেয়ে বেশি এই আমের চাষ হয়। দশেরি আমের বেশ কিছু আঞ্চলিক নাম রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দুসারি, দশেহারি, দুশেরি এবং দুশেহরি।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

'দশেরি' আম

১৮ শতকে, প্রথম, লক্ষ্ণৌর নবাবের বাগানে দশেরির চাষ হয়েছিল। সেই থেকে সারা ভারতে দশেরি গাছের চারা উৎপাদন ও রোপণ করা হচ্ছে। লখনউ শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে লখনউ-মালিহাবাদ রাস্তার ওপর দশারি গ্রামের একটি গাছ থেকে এই বিখ্যাত দশেরি আমের উৎপত্তি। এ গাছটিকে এখন দশেরির মা গাছ বলা হয়, সেটি ১৯০ বছরেরও বেশি পুরোনো।[১]

চেহারা ও স্বাদ[সম্পাদনা]

দশেরী আম ছোট থেকে মাঝারি আকারের ফল। এর গড় দৈর্ঘ্য ৯ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয় এবং ভোঁতা, বাঁকা প্রান্ত সহ একটি প্রসারিত, সোজা ডিম্বাকৃতি আছে। এর ত্বক আধা-পুরু, মসৃণ, চামড়াযুক্ত এবং মোমের মতো হয়। এর রঙ হালকা সবুজ থেকে হলুদ-সবুজ থাকে, পাকলে সোনালি হলুদ বর্ণে রূপান্তরিত হয়। ত্বকের নিচের কমলা রঙের কোমল শাঁস রসালো এবং প্রায় সম্পূর্ণ আঁশবিহীন। শাঁসের নিচে থাকে মাঝারি আকারের বীজ বা আঁটি। দশেরি আম অত্যন্ত সুগন্ধযুক্ত এবং গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফুলের মধুর গন্ধ যুক্ত। ফলের শাঁস খুব মিষ্টি এবং এতে গ্রীষ্মমন্ডলীয়, সুস্বাদু এবং হালকা টক ভাব রয়েছে।[২]

পুষ্টির মান[সম্পাদনা]

অন্যান্য জাতের আমের মতো দশেরী আমও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে ভিটামিন সি-এর একটি চমৎকার উৎস। ফলের শাঁসের তন্তু পরিপাকতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা সুস্থভাবে বজায় রাখার জন্য ফলগুলি ভিটামিন এ-এর একটি ভাল উৎস, এটিতে লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করার জন্য ফোলেট এবং কিছু পরিমাণে জিঙ্ক, ভিটামিন ই, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে। ভিটামিন এবং খনিজ ছাড়াও, দশেরি আমের ত্বকে ফাইটোকেমিক্যাল থাকে, প্রদাহ কমাতে যার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে।[১]

মরসুম[সম্পাদনা]

গ্রীষ্মকালে দশেরী আম পাওয়া যায়।[১]

রপ্তানি[সম্পাদনা]

দশেরি আম আন্তর্জাতিকভাবে সিঙ্গাপুর, হংকং, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "THE MOTHER DASEHRI TREE JUST 10KM FROM LUCKNOW IS WHERE THE FAMOUS DASEHRI MANGOES ORIGINATED"। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ 
  2. "Dasheri Mangoes"। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]