দক্ষিণ আফ্রিকায় ইসলাম
| মোট জনসংখ্যা | |
|---|---|
| আনু. ~৮৯২,৬৮৫ (২০১৬ গণনা)[১] (মোট জনসংখ্যার ১.৬%) | |
| উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যার অঞ্চল | |
| সর্বত্র | |
| ধর্ম | |
| সংখ্যাগুরু: ৯৫% সুন্নি[২] সংখ্যালঘু: ৫% শিয়া ও অন্যান্য | |
| ভাষা | |
| উর্দু, আরবি, আফ্রিকান্স
আঞ্চলিক ভাষা আরবি[৩] |
দক্ষিণ আফ্রিকা একটি খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র এবং ইসলাম সেখানে একটি সংখ্যালঘু ধর্ম হিসেবে পালিত হয়। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১.৬% ইসলাম ধর্ম পালন করে। [৪] দক্ষিণ আফ্রিকায় ইসলাম তিনটি ভিন্ন পর্যায়ে বিকশিত হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১৬৫২ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ থেকে আফ্রিকার কেপ কলোনিতে দাস, কারিগর, রাজনৈতিক বন্দী ও রাজনৈতিক নির্বাসিতদের অনিচ্ছাকৃত অভিবাসনের অংশ হিসেবে মুসলমানদের নিয়ে আসা হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্যায়টি ছিল ১৮৬০ থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত নাটালের আখ-ক্ষেতে কাজ করার জন্য ব্রিটিশ ভারত থেকে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিকদের আগমন। নাটাল প্রদেশে নিয়ে আসা প্রথম চালানের প্রায় ১,৭৬,০০ ভারতীয়ের মধ্যে কমপক্ষে ৭-১০% মুসলিম ছিল।

১৯৯৪ সালে বর্ণবাদের অবসানের পরপর আফ্রিকীয় মুসলিমদের একটি ঢেউ এখানে তৃতীয় পর্যায়ের সূচনা করে। একটি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুসারে, এই অভিবাসীদের সংখ্যা প্রায় ৭৫,০০০ থেকে ১০০,০০০ এর মধ্যে ছিল। এছাড়াও বিভিন্ন সময় দক্ষিণ এশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম অভিবাসীও দক্ষিণ আফ্রিকায় এসেছিলেন। [৫] যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সুন্নি; তবে অল্প সংখ্যক শিয়াও এতে বসবাস করে; বিশেষ করে কেপটাউনে। [৬] স্থানীয় মুসলিম সমাজে দেওবন্দ আন্দোলন ধর্মীয় শিক্ষায় সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে, যারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক মাদ্রাসা গড়ে তুলেছে। প্রতিবছর আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকে এসব মাদ্রাসায় অনেক মুসলিম শিক্ষার্থী ইসলামি শিক্ষা অর্জন করতে আসে। [৭]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ওলন্দাজ যুগ
[সম্পাদনা]১৭ শতাব্দীতে ওলন্দাজরা পূর্ব ইন্দিয়া ও কেপ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতো। তখন আধুনিক ইন্দোনেশিয়া থেকে মুক্ত মুসলিম শ্রমিক ( যারা মার্ডিকার নামে পরিচিত), নির্বাসিত বিদ্রোহী ও দাসদের কেপ উপনিবেশে আনা হয়। [৮] তাদের মধ্যে কিছু মানুষকে মুক্ত শ্রমিক হিসেবে আনা হলেও অধিকাংশই দাস হিসেবে কেপে এসেছিল [৯] এবং তখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক দাস ভারত থেকেও আসে, যাদের অনেকেই মুসলিম ছিলেন। [৯]
মুক্ত মুসলমানদের (মার্ডিকার) প্রথম আগমন নথিভুক্ত করা হয় ১৬৫৮ সালে। মার্ডিকা বা মারেডিকা শব্দটির অর্থই হল "স্বাধীনতা"; সে হিসেবে মার্ডিকার অর্থ হলো মুক্ত। মার্ডিকাররা আম্বোইনা ( বর্তমান ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ মালুকু দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ) থেকে আগত জনগোষ্ঠী ছিলেন। তাদের নবনির্মিত ডাচ বসতিকে আদিবাসী জনগণের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য তাদের কেপে আনা হয়েছিল এবং এর সাথে তারা শ্রমশক্তিও সরবরাহ করত। তারা নিজেদের এলাকায় পূর্বে পর্তুগিজ এবং পরে ওলন্দাজদের অধীনে কাজ করত। কেপের প্রতিষ্ঠাতা ইয়ান ভান রিবিক নিজেই অনুরোধ করেছিলেন যেন মার্ডিকার শ্রমিকদের কেপে পাঠানো হয়। তবে মার্ডিকারদের ইসলাম ধর্ম প্রকাশ্যে চর্চা করার অনুমতি ছিল না। এটি ছিল "ভারতীয় বিধি" নামক আইন অনুযায়ী, যা ১৬৪২ সালে ভ্যান ডিয়েমান দ্বারা রচিত হয়েছিল। এই আইনের এক অধ্যায়ে বলা হয়েছিল:
"কেউ আম্বইনীয়দের তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্যে হয়রানি বা বিরক্ত করতে পারবে না; তবে শর্ত হলো তারা প্রকাশ্যে ধর্মীয় কার্যকলাপ চালাবে না এবং তারা খ্রিস্টান বা পৌত্তলিকদের মাঝে ইসলাম প্রচার করবে না। কেউ এই আইন ভঙ্গ করলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তবে যদি তাদের মধ্যে কেউ খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে চায়, তাকে বাধা দেওয়া যাবে না।"[১০]
এই আইনটি ১৬৫৭ সালের ২৩ আগস্টে গর্ভনর জন মায়টস্যুকার দ্বারা পুনঃপ্রকাশ করা হয়; এটি সম্ভবত মার্ডিকারদের কেপে আগমনের প্রাক্কালে। এই আইন কেপেও প্রযোজ্য ছিল; কারণ কেপ ছিল ওলন্দাজ ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের অংশ। [১০]
১৭শ শতাব্দীর শেষ ভাগে এবং ১৮শ শতাব্দীর শুরুতে ওলন্দাজরা পূর্ব ইন্দিয়া (ইন্দোনেশিয়া) থেকে মুসলিম নেতাদের কেপে নির্বাসিত করতে থাকে। ইন্ডিয়ানেন ও মোহাম্মদানেন নামে পরিচিত বহু মুসলিম রাজনৈতিক বন্দিদের পূর্ব এশিয়া থেকে এনে রাব্বেন দ্বীপে বন্দি করা হয়। [১১] ১৬৬৭ সালের দিকে প্রথম বার মুসলিম রাজনৈতিক নির্বাসিতরা কেপে আসে, যাদের "ওরাং কায়েন" বলা হতো। এরা ধনী ও প্রভাবশালী মুসলিম নেতা ছিলেন, যাদের ডাচরা নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের জন্য হুমকি মনে করত এবং তাই নির্বাসনে পাঠিয়ে দিত। এদের মধ্যে প্রথম নির্বাসিত রাজনৈতিক নেতা ছিলেন সুমাত্রার শাসক শেখ আব্দুর রহমান মাতবে শাহ ও শেখ মাহমুদ। তারা উভয়েই কনস্ট্যান্টিয়ায় সমাহিত হন। কেপ কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই এই নির্বাসিতদের কেপটাউনের বাইরে রাখত। কারণ তারা মনে করত, নির্বাসিতরা পালিয়ে যেতে পারে। কনস্ট্যান্টিয়ার ইসলাম পাহাড় এলাকায় আজও তাদের একটি সমাধি বিদ্যমান। শেখ আব্দুর রহমান মাতবে শাহ নির্বাসনের সময় কেপের দাসদের মাঝে ইসলাম প্রচারের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। [১২]
এরপর উল্লেখযোগ্য নির্বাসিত ব্যক্তি ছিলেন বান্টামের শেখ ইউসুফ। তিনি ১৬৯৪ সালের ২ এপ্রিল পরিবার ও অনুসারীদের নিয়ে ডে ফুটবুগ নামক জাহাজে করে কেপে পৌঁছান। ১৬৯৪ সালের ১৪ই জুন জ্যান্ডভ্লাইট নামক একটি খামারে তাদের রাখা হয়, যা এরস্ট নদীর মোহনার কাছে অবস্থিত ছিল এবং কেপটাউন থেকে দূরে ছিল। কোম্পানি শেখ ইউসুফকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। বরং জ্যান্ডভ্লাইট দাস ও অন্যান্য নির্বাসিত মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনস্থল হয়ে ওঠে। এখানেই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সংগঠিত মুসলিম সম্প্রদায় গঠিত হয়। যেহেতু শেখ ইউসুফ ও তার অনুসারীরা মাকাস্সার অঞ্চল থেকে এসেছিলেন, তাই আজও জ্যান্ডভ্লাইট এলাকার নাম ম্যাকাসার হিসেবে পরিচিত। [১০]
রাজনৈতিক নির্বাসিতদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তুয়ান গুরু, যিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ইসলামি ইতিহাসে প্রথম প্রধান ইমাম হিসেবে পরিচিত। অপর একজন ছিলেন শেখ মাদুরা, যাকে ১৭৪০-এর দশকে নির্বাসিত করা হয় এবং তিনি রোবেন দ্বীপে মৃত্যুবরণ করেন। তার কবর বা কেরামত (ধর্মীয় স্থাপনা) বর্তমানও রোবেন দ্বীপে অবস্থিত। [১১] মক্কার (বর্তমান ইয়েমেন) বাসিন্দা সাঈদ আলাবি–যিনি জনপ্রিয়ভাবে তুয়ান সাঈদ নামে পরিচিত–১৭৪৪ সালের দিকে হাজি মাতারিমের সঙ্গে কেপটাউনে আসেন। তাঁদের দু'জনকেই ওলন্দাজরা কেপটাউনে নির্বাসিত করেছিল এবং পরে তাদেরকে রোবেন দ্বীপে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। রোবেন দ্বীপ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তুয়ান সাঈদ কেপটাউনে স্থায়ী হন এবং সেখানে পুলিশের কনস্টেবল (পুলিশ কর্মী) হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই পেশার মাধ্যমে তিনি রাতে দাসদের বসতিগুলো পরিদর্শনের সুযোগ পেতেন এবং সে সময় তিনি দাসদের মধ্যে ইসলাম প্রচার করেন। তিনি কেপটাউনের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথম সক্রিয় দাঈ হিসেবে খ্যাত। বিশেষ করে তিনি স্লেভ লজ বা দাসদের নিবাসে ইসলামের শিক্ষা প্রদান করতেন। তাকে সাধারণভাবে কেপটাউনের মুসলিমদের প্রথম আনুষ্ঠানিক ইমাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। [১২]
১৭৬৭ সালের দিকে ইন্দোনেশিয়ার টিডোর রাজপুত্র আব্দুল্লাহ কাদি আবু সালমকেও কেপটাউনে নির্বাসিত করা হয়। তিঁনি কারাবন্দি অবস্থায় নিজের স্মৃতি থেকে পুরো কুরআন শরিফ লিপিবদ্ধ করেন এবং তার সেই মহামূল্যবান কপি বর্তমানও কেপটাউনে সংরক্ষিত রয়েছে। [৮] ১৭৯৩ সালে মুক্তি পাওয়ার পর আব্দুল্লাহ একটি মাদ্রাসা বা ইসলামি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম মাদ্রাসা এবং এটি দাস ও মুক্ত কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই মাদ্রাসা দাসদেরকে ইসলামে দীক্ষিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া এই মাদ্রাসায় আরবি-আফ্রিকানস ভাষার সাহিত্যিক রূপ বিকাশ লাভ করে। এই শিক্ষাগত ভূমিকার কারণে আব্দুল্লাহ কাদি আবু সালামকে তুয়ান গুরু বা "শিক্ষক সাহেব" উপাধিতে অভিহিত করা হয়। [১৩]
১৭৯৩ সালে কেপটাউনের মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা যথেষ্ট বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁরা ভিওসি ( ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি) কর্তৃপক্ষের নিকট একটি মসজিদ নির্মাণের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। [১৩] পরবর্তীতে তুয়ান গুরু কেপটাউনে প্রতিষ্ঠিত প্রথম মসজিদ আওয়াল মসজিদের প্রথম ইমাম হন। [১৪] দাসদের মধ্যে ইসলাম ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয় ধর্ম। কারণ ইসলামের শিক্ষা পদ্ধতি দাসদের মধ্যে লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টি করত। ফলে তারা তাদের প্রভুদের গৃহে অপেক্ষাকৃত ভালো পদ লাভ করত। এছাড়া ইসলাম নিজেদের দাসদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশও প্রদান করত।
- দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে পুরাতন মসজিদ আউয়াল মসজিদ, যার নির্মাণকাল হল ১৭৯৪।
- তালগাছ মসজিদ, যা দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরাতন মসজিদ। এর ভবনের নির্মাণকাল ১৭৮৮ এবং মসজিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮০৭।
ভারতীয় মুসলিমদের আগমন
[সম্পাদনা]১৮০০ দশকে দক্ষিণ এশিয়া থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় মুসলিমদের দুইটি প্রধান দল অভিবাসন করে। প্রথম দলটি ছিল দক্ষিণ ভারতের শ্রমিকদের একটি বড়ো ঢেউ, যাদেরকে ১৮৬০-এর দশকে ব্রিটিশদের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকায় আনা হয়েছিল। এদের অধিকাংশই ছিলেন চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক। এই শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় ৭ থেকে ১০ শতাংশ মুসলিম ছিলেন। দ্বিতীয় দলটি ছিল ব্যবসায়ীদের, যাদের "প্যাসেঞ্জার ইন্ডিয়ান" বলা হয়। তারা মূলত উত্তর ভারত থেকে এসেছিলেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নাটাল, ট্রান্সভাল ও কেপ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল। নাটালের প্রথম মসজিদ (জুমা মসজিদ) ১৮৮১ সালে ডারবানের গ্রে স্ট্রিটে নির্মিত হয়েছিল। ১৯১১ সাল নাগাদ নাটালে ভারতীয় অভিবাসীদের সংখ্যা দাঁড়ায় ১,৫২,৬৪১ জন। [১৫]
দেওবন্দি আন্দোলন
[সম্পাদনা]১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলায় দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে গড়ে ওঠা একটি প্রতিষ্ঠান। এখান থেকেই এক ধারাবাহিক রক্ষণশীল সুন্নি আন্দোলনের সূচনা হয়, যা "দেওবন্দি আন্দোলন" নামে পরিচিত। দেওবন্দি আন্দোলন আজ আন্তর্জাতিকভাবে বিস্তৃত এবং দক্ষিণ আফ্রিকাতেও এর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় এই আন্দোলনের বীজ বপন করেন মূলত গুজরাটি মুসলিম ব্যবসায়ীরা। [১৬]
দেওবন্দি আন্দোলনের শিক্ষা পদ্ধতি এবং পাশাপাশি এর সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠন; যেমন তাবলিগ জামাত, তাসাউফ (সুফিবাদ) ও জমিয়াতুল উলামা ইত্যাদি দক্ষিণ আফ্রিকায় সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ঠিক যেভাবে তা ভারতে গড়ে উঠেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার মাদ্রাসাগুলো এখন ইসলামি উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এবং এখানে বিদেশি শিক্ষার্থীরাও দেওবন্দি সিলেবাসের শিক্ষা লাভের জন্য আসছেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শিক্ষার্থী দক্ষিণ আফ্রিকার মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছেন। কয়েকটি দক্ষিণ আফ্রিকীয় মাদ্রাসা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং তারা ফতোয়া প্রদানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি সেবাও চালিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা এখন ইসলামি সাহিত্য অনুবাদ ও সংকলনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একইভাবে, দক্ষিণ আফ্রিকা তাবলিগ জামাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, যেখান থেকে দক্ষিণ এবং পূর্ব আফ্রিকায় দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মাদ্রাসা থেকে স্নাতক শিক্ষার্থীরা তাবলিগ জামাতের কাজের জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেন। দেওবন্দি আন্দোলনের অনেক আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকায় দেওবন্দি তরিকার সুফিবাদের ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই মহান ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছেন মাওলানা যাকারিয়া কান্ধলভী, মসীহুল্লাহ খান, মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহি এবং আসাদ মাদনী। দক্ষিণ আফ্রিকার দেওবন্দি মুসলিমদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী শিক্ষা ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন রয়েছে, যারা জনগণকে শিক্ষা প্রদান করে এবং ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংগঠন হলো জামিয়াতুল উলামা দক্ষিণ আফ্রিকা ও মুসলিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। [১৭]
আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের অবসানের পর
[সম্পাদনা]১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকা থেকে মুসলিম অভিবাসীদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তবে তাদের মোট সংখ্যা তুলনামূলকভাবে এখনও কম। [১৮]
এই নতুন আগত মুসলিমরা মূলত শহরকেন্দ্রিক; তারা সাধারণত কেপটাউন, ডারবান, পোর্ট এলিজাবেথ, ইস্ট লন্ডন, কিম্বারলি, প্রিটোরিয়া ও জোহানেসবার্গের মতো বড় শহরগুলিতে বাস করে। তাদের অধিকাংশই নাগরিক জীবনধারার সঙ্গে যুক্ত। [১৮]
ইসলামে ধর্মান্তরের নতুন উত্থান
[সম্পাদনা]
যদিও দক্ষিণ আফ্রিকায় ইসলামের প্রচারের উদ্দেশ্যে ডিসকভার ইসলাম, আইপিসিআই, ইসলামিক দাওয়া মুভমেন্ট অফ সাউথ আফ্রিকা এবং আফ্রিকা মুসলিম এজেন্সির মত বিভিন্ন সংগঠন সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে, তবুও কিছু বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠন; যেমন এমইউএমএসএ ও কল ফর ইসলাম ইসলামকে দক্ষিণ আফ্রিকার সামাজিক গঠন ও সংস্কৃতির অংশ করে তোলার ভিন্নধর্মী পথ অনুসরণ করেছে। তাদের মতে, সমাজের সাথে ইসলামি মূল্যবোধের মিলবন্ধনই হল মুসলিমদের উপস্থিতিকে দৃশ্যমান করার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
বিশিষ্ট গবেষক ও আফ্রিকায় ইসলাম বিষয়ের লেখক মাইকেল মুমিসার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ নারী এবং তরুণদের মধ্যে ইসলামে ধর্মান্তরের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এর ব্যাখ্যা করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যবিরোধী সংগ্রামে জড়িত অনেক নারী ও তরুণ–যারা এক সময় পুরনো শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন– ইসলাম গ্রহণকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিদ্রোহের অংশ হিসেবে দেখছেন। কারণ তাদের দৃষ্টিতে খ্রিস্টান ধর্মীয় নীতিগুলোই ছিল সেই বর্ণবৈষম্য নীতির ভিত্তি, যা দক্ষিণ আফ্রিকায় ওলন্দাজ চার্চের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তার পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে ইসলাম গ্রহণ তাদের জন্য পুরনো শোষণব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যানের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে মার্কিন মানবাধিকারকর্মী মেলকম এক্সের চেতনা ও তার প্রচারিত রক্ষণশীল ভাবধারার প্রভাব দক্ষিণ আফ্রিকার সব জাতিগোষ্ঠীর মুসলিমদের মধ্যে প্রবলভাবে দেখা যায় এবং বর্তমান দক্ষিণ আফ্রিকায় নেশন অব ইসলামের বিভিন্ন শাখাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নেশন অব ইসলামের বিশিষ্ট নেতা লুইস ফারাখান দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেন এবং সেখানে রাষ্ট্রপতি নেলসন ম্যান্ডেলা ও আফ্রিকান মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়াও ইসলামে ধর্মান্তরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো দক্ষিণ আফ্রিকায় বিভিন্ন সুফি তরিকা ও গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি। [১৯] এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মুরাবিতুন আন্দোলন, যাদের একটি শক্তিশালী অনুসারী গোষ্ঠী স্পেনেও রয়েছে।
ইসলামি সংগঠন
[সম্পাদনা]গুটেঙের জমিয়াতলুল উলামা (প্র. ১৯২৩), মুসলিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল (প্র. ১৯৪৫), কেপটাউন উলামা বোর্ড ও মুসলিম ইয়ুথ মুভমেন্ট অব সাউথ আফ্রিকার (প্র. ১৯৭০) মতো সংগঠনগুলো সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের নিকট থেকে উল্লেখযোগ্য নৈতিক ও আর্থিক সমর্থন পেয়েছে। এক সময় শক্তিশালী ভূমিকা পালনকারী মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথ আফ্রিকার (প্র. ১৯৭৪) কার্যক্রম সময়ের সাথে সাথে কমে যায় এবং তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রভাব হারাতে শুরু করে। সংগঠনটির শাখা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে ছিল। তাদের প্রভাব কমে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন স্বাধীন বা ইসলামি সংগঠন এর স্থান দখল করে নেয়। ২০১১ সালে তুরস্কভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিযামিয়া মুসলিম স্কুল দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও এখানে চিশতিয়া তরিকার তাসাউফ সম্প্রদায়েরও উপস্থিতি রয়েছে।[২০]
২০২০ সালে সালমান আল-ফারসি নামে একটি নতুন সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় অধিবাসীদের ( তবে কেবল তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়) ইসলামের শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং তাদের আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তাদের উদ্দেশ্য কোনো ধরনের উগ্রপন্থা বা চরমপন্থা ছড়ানো নয়; বরং ইসলাম ধর্মের পবিত্র ও নির্ভেজাল শিক্ষা দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করা। সংগঠনটি মুসলিমদের এমনভাবে শক্তিশালী করতে চায়, যেন তারা বিভিন্ন সাহায্যনির্ভর সংগঠনের উপর নির্ভরশীল না থাকে। সম্প্রতি বিশেষ করে গাউটেং অঞ্চলের টাউনশিপ এলাকাগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিমদের মধ্যে একটি নতুন আন্দোলনের উত্থান দেখা দিয়েছে। গাউটেং মুসলিম শুরা কাউন্সিল এই আন্দোলনের প্রতিফলন। এই নতুন সংগঠন মূলত পূর্ববর্তী সংগঠনগুলোর প্রতি অসন্তোষ থেকে গড়ে উঠেছে। কারণ অনেক কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম মনে করেন, পূর্বের সংগঠনগুলি–যেগুলোর নেতৃত্ব মূলত ভারতীয় এবং রঙিন সম্প্রদায়ের হাতে–ইসলামকে "ইন্দো-পাকিস্তানি সংস্করণের" ছাঁচে কৃষ্ণাঙ্গ চিন্তাধারার উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে সংগঠনটি গাউটেং প্রদেশের প্রতিটি টাউনশিপে তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক শুরা কাউন্সিল গঠন করেছে এবং প্রতিটি অঞ্চলে একজন করে আমীর (নেতা) নিযুক্ত হয়েছে। পুরো সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমীর মোহাম্মদ গাদিমাং। গুটেঙের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য আঞ্চলিক নেতার মধ্যে রয়েছেন: জাইদ লাঙ্গা (সয়েতো অঞ্চলের আমীর) ও আব্দুল কাদির মান্ডলা নকোসি (তশওয়ানে অঞ্চলের আমীর), যাদের এলাকা সবচেয়ে বড় এবং তারা সেখানে প্রভাবশালী।[২১][২২]
নিয়ন্ত্রক ও পরামর্শদাতা সংস্থা
[সম্পাদনা]রাজনৈতিক দলের বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনেক ইসলামি সংগঠন সক্রিয় রয়েছে, যারা মুসলিমদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক দেখাশোনা করে থাকে। এমন সংগঠনগুলির মধ্যে অন্যতম হলো মুসলিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল (এমজেডসি), যারা খাদ্যের হালাল সনদ প্রদানসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।[২৩]
কেপ টাউন উলামা বোর্ডও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন, যারা সরকারের সাথে সংলাপে অংশগ্রহণ ও ধর্মীয় ফতোয়া প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।[২৪]
দক্ষিণ আফ্রিকীয় হজ ও উমরাহ কাউন্সিল দেশের হাজীদের চাহিদা পূরণ ও হাজের অনুমতিপত্র ইস্যু করার দায়িত্ব পালন করে। [২৫]
ত্রাণ সংস্থা
[সম্পাদনা]দক্ষিণ আফ্রিকায় মুসলিমদের দ্বারা পরিচালিত বেশ কয়েকটি ত্রাণ সংস্থা সক্রিয় রয়েছে, যারা মুসলিম ও অমুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের জন্যই সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংস্থাগুলো হলো:
- জামিয়াতুল উলামা কওয়া জুলু নাটাল
- আওকাফ সাউথ আফ্রিকা
- আফ্রিকা মুসলিম এজেন্সি
- আল ইমদাদ ফাউন্ডেশন
- গিফট অব দ্য গিভারস, যা ইমতিয়াজ সুলেইমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
- ইসলামিক রিলিফ সাউথ আফ্রিকা
- ইসলামিক দাওয়াহ মুভমেন্ট অব সাউথ আফ্রিকা
- মুসলিম হ্যান্ডস সাউথ আফ্রিকা
- মুসলিম রিফিউজি অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ আফ্রিকা
- মুস্তাদাফিন ফাউন্ডেশন
- জিয়ায়ী ওয়েলফেয়ার
- সাউথ আফ্রিকান ন্যাশনাল যাকাত ফান্ড
এসব সংস্থার মধ্যে কয়েকটি দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত, আবার কিছু আন্তর্জাতিক বৃহত্তর সংস্থার অংশ হিসেবেও কাজ করে।

কর্মসূচি ও সক্রিয়তা
[সম্পাদনা]পিএজিএডি নামক একটি সংগঠন দক্ষিণ আফ্রিকায় অপরাধ ও মাদক বিরোধী লড়াইয়ের কারণে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। যদিও এটি মূলত মুসলিমদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, তবে এতে অন্যান্য ধর্মের লোকেরাও যোগ দেয়। [২৬]
এই সংগঠনটি গুন্ডাবাহিনী ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য গঠিত হয়েছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে এরা নগর সন্ত্রাসের সমর্থক হিসেবেও কুখ্যাত হয়ে ওঠে। এর বিরুদ্ধে ৩০০টিরও বেশি সহিংসতামূলক ঘটনার অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০০০ সালে সংগঠনের নেতাদের গ্রেফতার এবং বিচার হওয়ার পর সংগঠনটির কার্যক্রম কার্যত থেমে যায়।[২৭]

ইসলামি রাজনৈতিক দল
[সম্পাদনা]১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবার গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দুটি মুসলিম রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করে: আফ্রিকা মুসলিম পার্টি (এএমপি) ও ইসলামিক পার্টি (আইপি)। এএমপি জাতীয় সংসদ ও প্রাদেশিক পরিষদ উভয় ক্ষেত্রেই নির্বাচন করে এবং আইপি শুধুমাত্র ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের নির্বাচন করে। তবে এই দুটি দলই কোনো আসন লাভে সফল হয়নি। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে কোনো ইসলামি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। ২০০৪ সালের নির্বাচনে এএমপি ও পিস অ্যান্ড জাস্টিস কংগ্রেস নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল, কিন্তু তারাও সফল হতে পারেনি।[২৮]
পরবর্তীতে ২০০৭ সালে আল জামা-আহ নামে একটি দল প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদে একটি আসন লাভ করে এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ইসলামি মতাদর্শভিত্তিক প্রথম দল হিসেবে সংসদে প্রবেশ করে। [২৮]
সম্প্রদায়িক ও আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক
[সম্পাদনা]
দক্ষিণ আফ্রিকীয় সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়; বিশেষ করে ভারতীয় ও রঙিন জনগোষ্ঠীর আবাসিক এলাকাগুলিতে, যেখানে মুসলমানরা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নাস্তিক ও সংশয়বাদী ধর্মবিশ্বাসী দক্ষিণ আফ্রিকীয় নাগরিকদের সঙ্গে প্রায় পাশাপাশি বসবাস করেন; একসাথে কাজ করেন এবং এক স্কুলে পড়াশোনা করেন। দক্ষিণ আফ্রিকীয় মুসলিমরা সাধারণত তাদের অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখেন না। দক্ষিণ আফ্রিকীয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবে মুসলিমরা অন্য অমুসলিমদের মতো করমর্দন (হ্যান্ডশেক), আলিঙ্গন (হাগ) বা কখনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা আত্মীয়ের ক্ষেত্রে চুম্বন করেও অভিবাদন প্রকাশ করে— এমনকি এটি অমাহরাম (যাদের সাথে পর্দা জরুরি) ব্যক্তিদের সঙ্গেও। ন্যাশনাল ইন্টারফেইথ লিডারশিপ কাউন্সিল নামক একটি সংস্থা–যা প্রেসিডেন্ট জুমাকে (সাবেক রাষ্ট্রপতি) পরামর্শ দিত– এর সদস্য ছিলেন সাবেক ওয়েস্টার্ন কেপের এব্রাহিম রাসুল। [২৯]
দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলিম সমাজ মাদকের প্রভাবেও আক্রান্ত হয়েছে; বিশেষত কেপটাউনে টিক (ক্রিস্টাল মেথ) নামক মাদকের বিস্তারের কারণে। [৩০] এছাড়াও দরিদ্র মুসলমানদের মধ্যে অপরাধ ও গ্যাং-সংক্রান্ত কার্যকলাপও দৃশ্যমান। [৩১]
দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন লাইব্রেরি, জাতীয় গ্রন্থাগার ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে কুরআনের কপি উপলব্ধ রয়েছে। রমজান মাসে অনেক মুসলিম খুচরা দোকান, রেডিও স্টেশন ( সরকারি ও বেসরকারি উভয়), প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়ে থাকে।ঈদুল ফিতরের দিন বহু মুসলিম দোকান বন্ধ থাকে।
অর্থনৈতিক খাতে ফার্স্ট ন্যাশনাল ব্যাংক (এফএনবি), [৩২] এবিএসএ ব্যাংক, [৩৩] স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও নেড ব্যাংক ইসলামি শরিয়ানুযায়ী ব্যাংকিং সেবা ও আর্থিক পণ্য সরবরাহ করে।
এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকায় আলবারাকা ব্যাংক (সৌদি আরবীয় প্রতিষ্ঠান), হাবিব ওভার্সিজ ব্যাংক লিমিটেড ও এইচবিজেড ব্যাংক লিমিটেডের শাখা রয়েছে, যারা কেবলমাত্র শরিয়ানুযায়ী ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে থাকে।
ওয়েসিস ক্রিসেন্ট ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ নামক প্রতিষ্ঠানও মুসলিমদের জন্য আর্থিক পরিষেবা প্রদান করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় হালাল খাদ্যপণ্য, কসাইখানা এবং রেস্টুরেন্ট সহজলভ্য হলেও সমাজে নারী-পুরুষের আলাদা ব্যবস্থা বা লিঙ্গভিত্তিক পৃথকীকরণ সাধারণত প্রচলিত নয়।
ধর্মতত্ত্ব
[সম্পাদনা]
সম্প্রদায়সমূহ
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিকাংশ মুসলিম সুন্নি ইসলামের অনুসারী। তবে এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিয়া ও অন্যান্য ছোট ছোট মুসলিম সম্প্রদায় রয়েছে।
মাযহাব
[সম্পাদনা]ভারতীয় বংশোদ্ভূত বেশিরভাগ মানুষ হানাফি মাযহাব অনুসরণ করেন, যেখানে মালয়, ভারতীয় কোকনি ও পূর্ব আফ্রিকীয় সম্প্রদায় সাধারণত শাফিঈ মাযহাব অনুসরণ করেন। শাফিঈ মাজহাব মূলত পশ্চিম কেপ অঞ্চলে প্রচলিত। এছাড়াও সাম্প্রতিক মাগরেবী ও পশ্চিম আফ্রিকীয় অভিবাসীরা মালিকি মাযহাব অনুসরণ করে।
ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা
[সম্পাদনা]দক্ষিণ আফ্রিকার ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা মূলত দক্ষিণ এশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী দেওবন্দি ও বেরেলভি ধারার উপর ভিত্তি করে গঠিত, যা বিশেষভাবে ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত। [৩৪]
তবে মালয় সম্প্রদায়ের শিক্ষাধারা তুলনামূলকভাবে বৈচিত্র্যময়। কারণ মালয়রা সাধারণত মিশরের আল-আজহার, মক্কার উম্মুল-কুরা এবং সৌদি আরব ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক লাভ করেন। ভারতীয় পণ্ডিতদের অধিকাংশ দেওবন্দি মাদ্রাসা বা বেরেলভী জিয়াউল উলুমের মত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষালাভ করেন; যেমন: জামিয়া রাযভিয়া জিয়া উল উলুম (রাওয়ালপিন্ডি, পাকিস্তান)।

দক্ষিণ আফ্রিকার উলামা সংস্থা
[সম্পাদনা]- ইউনাইটেড উলামা কাউন্সিল অব সাউথ আফ্রিকা
- কেপটাউন উলামা বোর্ড
- মুসলিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল
- দারুল ইহসানের
বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত
[সম্পাদনা]- মাওলানা ইব্রাহিম ভাম: (জামিয়াতুল উলামা দক্ষিণ আফ্রিকার মহাসচিব)
- মুফতি মোহাম্মদ আকবর হাজারভী: (দারুল উলুম প্রিটোরিয়ার প্রধান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান প্রধান মুফতি)
- শেখ ইব্রাহিম গ্যাব্রিয়েলস: মুসলিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি।
- মুফতি ইব্রাহিম দেশাই: দারুল ইফতা মাহমুদিয়ার প্রতিষ্ঠাতা।
- আহমদ দীদাত: আইপসিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা।
- মুফতি সৈয়দ হারুন আল আজহারি: কেপ টাউন উলামা বোর্ডের বর্তমান মুফতি।
- মাওলানা তাহা কারান: মুসলিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মুফতি ও স্ট্র্যান্ডের দারুল উলুম আল-আরাবিয়া আল-ইসলামিয়ার প্রধান।
- মাওলানা রাফিক জাফর (ইসলামে ধর্মান্তরিত)
- মাওলানা সৈয়দ ইমরান জিয়ায়ী: সুন্নি উলামা কাউন্সিল কেপের সহ-সভাপতি।
- মাওলানা আলি আদম (ইসলামিয়া একাডেমি)
- মাওলানা আব্দুর রহমান খান (দারুল তুরাস আল-ইসলামি)
- মাওলানা আলি গদর (দারুন নাইম)
শরিয়া আইন
[সম্পাদনা]বিবাহ
[সম্পাদনা]দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের কয়েকটি মুসলিম সংখ্যালঘু দেশগুলোর একটি, যেখানে মুসলিম পারিবারিক আইন বা 'মুসলিম পার্সোনাল ল' বাস্তবায়নের কথা বিবেচনা করা হয়েছে। ২০০৩ সালে "মুসলিম বিবাহ বিল" নামে একটি খসড়া দেশটির বিচার বিভাগে জমা দেওয়া হয়। এই বিল অনুযায়ী, শরিয়া আইনের বিবাহ-সংক্রান্ত বিধান আদালত দ্বারা কার্যকর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেখানে একজন মুসলিম বিচারক ও ইসলামি আইন সম্পর্কে অভিজ্ঞ সহকারী বিচারকদের সহায়তা নেওয়া হবে, যাতে মুসলিম নারীদের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব হয়। [৩৫]
এই বিলের সমর্থকদের মতে, এটি মুসলিম নারীদের অধিকার সংরক্ষণে সহায়ক হবে। কারণ ইসলামি আইনজ্ঞদের (ফকিহদের) সিদ্ধান্তগুলি তালাকের পর আর্থিক মীমাংসার ক্ষেত্রে আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নয়। তবে মুসলিমদের জন্য পৃথক বৈবাহিক আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং এই বিলের প্রয়োজনীয়তা ও কাঠামো নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেই ঐকমত্যের অভাব রয়েছে। [৩৬]
২০২৩ সালের মে মাসে গনীফ হেনড্রিক্সের নেতৃত্বাধীন আল জামাহ নামের একটি রাজনৈতিক দল মুসলিম বিবাহগুলোকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে একটি ব্যক্তিগত সদস্য বিল ( প্রাইভেট মেম্বারস বিল) উপস্থাপন করে। এই প্রস্তাবে কেপ টাউন উলামা বোর্ড সমর্থন প্রদান করে এবং প্রক্রিয়ার সময় তারা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা চলছে। [৩৭]
২০০৯ সালে[৩৮] একটি মুসলিম নারী সংস্থা দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালতে একটি মামলা দায়ের করে, যাতে সরকারকে মুসলিম বিবাহ বিল কার্যকর করতে বাধ্য করার আবেদন জানানো হয়। শুনানির সময় বিচারক কেট ও'রেগান মন্তব্য করেন: "প্রশ্ন হচ্ছে, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য কি না।" বিচারক আলবি সাচস বলেন: "এটি আদালতকে খুবই সংবেদনশীল একটি ইস্যুতে গভীর হস্তক্ষেপ করতে বলছে।" [৩৫]

হালাল সনদপ্রদান
[সম্পাদনা]দক্ষিণ আফ্রিকায় হালাল সনদপ্রদানের জন্য অনেক কর্তৃপক্ষ রয়েছে, যারা খাবার, ভোজ্য পণ্য ও দেশের রেস্তোরাঁগুলির খাবারকে হালাল বলে সনদপত্র প্রদান করে। তবে এসব সংস্থার মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে মতপার্থক্য রয়েছে। [৩৯] এসব সনদপত্র দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলিমদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব বহন করে। সবচেয়ে পরিচিত হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থাগুলো হলো:
- মুসলিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল (এমজেডসি)
- দক্ষিণ আফ্রিকা ন্যাশনাল হালাল অথরিটি (সানহা)
- ন্যাশনাল ইন্ডিপেনডেন্ট হালাল ট্রাস্ট (নিট)
- ইসলামিক কাউন্সিল অব সাউথ আফ্রিকা (আইএসসিএ)
শিক্ষা
[সম্পাদনা]দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলমানদের বেশিরভাগই যৌথ লিঙ্গের সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। তবে কিছু মুসলিম ছাত্রছাত্রী ব্যক্তিমালিকানাধীন ( বেশিরভাগই ক্যাথলিক বা অ্যাংলিকীয়) বিদ্যালয়ে পড়ে, যেখানে তাদের প্রার্থনা অধিবেশন ও বাইবেল-বিষয়ক পাঠক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়াও সেখানে কিছু ইসলামি বিদ্যালয়ও রয়েছে, যা অ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম স্কুলস (এএমএস) ও মাদ্রাসাসমূহের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এএমএসের অধীনে থাকা ইসলামি স্কুলগুলি ইসলাম ধর্মীয় ও সাধারণ (আধুনিক) উভয় বিষয়ের সমন্বয়ে একটি ভিন্ন পাঠক্রম চালু রেখেছে। সাধারণ পাঠক্রমটি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত সিলেবাস অনুসরণ করে এবং ইসলামি শিক্ষার পাঠক্রমটি জামিয়তুল উলামা দক্ষিণ আফ্রিকার অধীনস্থ শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী চলে। কিছু প্রতিষ্ঠান সংক্ষিপ্ত কোর্সের মাধ্যমে ইসলামি শিক্ষা প্রদান করে এবং সেখানে ইসলামি আইন ও অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনার ব্যবস্থাও রয়েছে। [৪০]
দক্ষিণ আফ্রিকায় কুরআন শিক্ষা আসর বা "কুরআন স্টাডি গ্রুপ" প্রচলিত রয়েছে। এছাড়াও আরবি ভাষা শেখার জন্য ব্যক্তিগত শিক্ষক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমেও সুযোগ রয়েছে; যেমন উইটস বিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়েস্টার্ন কেপ বিশ্ববিদ্যালয়। [৪১]
দেশব্যাপী বহু দারুল উলুম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে কেবল দক্ষিণ আফ্রিকীয় ছাত্রই নয়; বরং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ছাত্ররা পড়তে আসে। উল্লেখযোগ্য কিছু প্রতিষ্ঠান হল:
- দারুল উলুম প্রিটোরিয়া
- দারুল উলুম আজাদভিল
- জিয়া উল উলুম
- দারুল উলুম কারিয়া গরীব নওয়াজ, লেডিস্মিথ
- দারুল উলুম নিউক্যাসল, নিউক্যাসল
- দারুল উলুম জাকারিয়া
- দারুল উলুম তালিমুদ্দীন
প্রখ্যাত মুসলিম ব্যক্তিত্বগণ
[সম্পাদনা]
দক্ষিণ আফ্রিকার মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকজন মুসলিম সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন প্রদেশে কাউন্সিলরও রয়েছে। পশ্চিম কেপের সাবেক প্রিমিয়ার ও যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম রাসুল একজন মুসলিম ছিলেন। ইমাম হাসান সোলোমন ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পার্লামেন্ট সদস্য ছিলেন। তিনি ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সদস্য ছিলেন, যেটিকে অনেকে নিষিদ্ধ আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস ফ্রন্টের সংগঠন মনে করত। প্রবাসজীবনে তিনি সৌদি আরবে ইসলামি শিক্ষা লাভের পর ১৯৯২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে আসেন এবং ১৯৯৪ সালের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদে যোগ দেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী নালেদি প্যান্ডর এএনসি দলের নেতা জেড.কে. ম্যাথিউসের নাতনি। তিনি শরিফ ইউসুফ প্যান্ডরের সঙ্গে বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। [৪২]
শাইখ আহমদ বাদশা পীর ১৮৬০ সালে শ্রমিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় আসেন। পরে তাকে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকার সম্মানজনক অব্যাহতি দেয়। কারণ তিনি ছিলেন একজন সুফি সাধক। আজ তার মাজার ডারবানের বাদশা পীর স্কয়ার বা ব্রুক স্ট্রিট কবরস্থানে অবস্থিত। [৪৩]
আবু বকর ইফেন্দি একজন ওসমানী বিচারক ও কুর্দি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি, যিনি ১৮৬২ সালে রাণী ভিক্টোরিয়ার অনুরোধে ওসমানী সুলতান আবদুল আজিজ কর্তৃক কেপ অব গুড হোপে পাঠানো হয়েছিলেন। তিনি কেপে মালয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ইসলামি শিক্ষা প্রচার করেন এবং আরবি আফ্রিকান্স ভাষায় সাহিত্যকর্ম রচনা করেন, যা আফ্রিকান্স সাহিত্যের প্রথম দিকের একটি উল্লেখযোগ্য কাজ হিসেবে পরিচিত।[৪৪]
খেলাধুলায় মুসলিমদের অংশগ্রহণ
[সম্পাদনা]ক্রিকেট
- হাশিম আমলা: দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ টেস্ট দলের নিয়মিত অধিনায়ক।
- আহমেদ আমলা: স্থানীয় ডলফিন্স দলের প্রাক্তন ব্যাটসম্যান ও হাশিম আমলার ভাই।
- ওয়েন পার্নেল (ধর্মান্তরিত): দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের একজন বোলার।
- ইমরান খান : ডলফিনস দলের অধিনায়ক।
- ফারহান বেহারদিন: একদিনের আন্তর্জাতিক এবং টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।
- শবনিম ইসমাইল: দক্ষিণ আফ্রিকা নারী দলের দ্রুততম বোলার ও সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। [৪৫]
- ইমরান তাহির: দক্ষিণ আফ্রিকীয় লেগ স্পিনার।
- বিয়র্ন ইমাদ (ধর্মান্তরিত): দক্ষিণ আফ্রিকীয় স্পিনার।
- তাব্রাইজ শামসী: স্পিনার ও ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
ফুটবল
- মুনীব জোসেফস: দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক গোলকিপার।
- আশরাফ হেন্ড্রিক্স : মরাকো সোয়ালোস, বিডভেস্ট উইটস, ব্ল্যাক এইসেস ও দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সাবেক ডিফেন্ডার।
- রেয়াদ পিটার্স: সুপারস্পোর্ট ইউনাইটেড ও কাইজার চিফস দলের গোলকিপার।
রাগবি
- নিযাম কার: প্রথম মুসলিম হিসেবে স্প্রিংবকস দলে খেলার সম্মান অর্জন করেন। [৪৬]
মার্শাল আর্টস
- সোলি সাঈদ: জোহানেসবার্গের কারাটেকা ও অপর একটি নিজস্ব কারাটে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা।[৪৭]
- হুসাইন নরকার: কেপটাউনের কারাটেকা ও অল স্টাইলস গভর্নিং বডির নির্বাহী সদস্য। [৪৮]
রাজনীতি
[সম্পাদনা]- আহমেদ কাঠরাদা: বিশিষ্ট বর্ণবাদবিরোধী কর্মী ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য।
- মান্ডলা ম্যান্ডেলা : এমভেজো ট্র্যাডিশনাল কাউন্সিলের প্রধান ও নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি।
- ইব্রাহিম প্যাটেল : অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রী।
- নালেদি প্যান্ডর
- এনভার সুরটি: মৌলিক শিক্ষাবিভাগের উপমন্ত্রী।
- ফাতিমা চোহান: প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী।
- গনিফ হেন্ড্রিক্স: আল জামাআহ দলের নেতা ও সংসদ সদস্য।
ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব
[সম্পাদনা]- আহমেদ দীদাত: মুসলিম দাঈ।
- ইব্রাহিম দেশাই: বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত ও বিচারক।
- ত্বহা কারান: ইসলামি ফকিহ।
- ইব্রাহিম সালেহজি: ইসলামি পণ্ডিত ও বিচারক।
গণমাধ্যম
[সম্পাদনা]টেলিভিশন
[সম্পাদনা]দক্ষিণ আফ্রিকায় ইসলামি বিষয়বস্তু সম্প্রচারের জন্য তিনটি টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে: হিলাল টিভি, যা স্যাটেলাইট প্ল্যাটফর্ম ডিএসটিভিতে সম্প্রচারিত হয়; হিজাজি চ্যানেল ও আইএনএক্স প্রাইম। এসব চ্যানেল স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ইসলামি বিষয়বস্তু মিশ্রণ করে সম্প্রচার করে। একসময় ডিএসটিভিতে প্রচারিত বিখ্যাত আইটিভি দীর্ঘ আদালত মামলার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন সপ্তাহের কার্যদিবসে সরকারি টিভি চ্যানেল এসএবিসি১ বিকাল সাড়ে পাঁচটায় সিসোয়াতি বা এনদেবেলে সংবাদের আগে ছোট ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। এখানে প্রতিদিন একটি ভিন্ন ধর্মের অনুষ্ঠান দেখানো হয়, যেখানে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৫টা ২ মিনিট পর্যন্ত “রিফ্লেকশনস অন ফেইথ” নামে এর ইসলামি সংস্করণ সম্প্রচারিত হয়। "আন-নূর - দ্য লাইট" হলো একটি ইসলাম ধর্মীয় অনুষ্ঠান, যা এসএবিসি১-এ প্রতি রবিবার সকালে সম্প্রচারিত হয়। এটি একটি আন্তঃধর্মীয় অনুষ্ঠান যেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও আলাপচারিতা স্থান পায়। 'স্পিরিট সানডে' অনুষ্ঠানে ইসলামি অনুষ্ঠান সম্প্রচার ও মুসলিমদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।[৪৯] এছাড়াও "রিলিজিয়ন্স অফ সাউথ আফ্রিকা" নামক একটি অনুষ্ঠানও ইসলামের ওপর তথ্য সম্প্রচার করে। [৫০] ডিএসটিভিতে "ইসলাম চ্যানেল" দক্ষিণ আফ্রিকীয় মুসলিমদের জন্য উপলব্ধ; পাশাপাশি ডিএসটিভির ভারতীয় বুউকেটেও ইসলামি প্রোগ্রাম দেখা যায়। [৫১]
রিজিওনাল কমিউনিটি টিভি স্টেশন, কেপটাউন টিভি (সিটিভি) প্রতি সপ্তাহে পূর্বে রেকর্ড করা জুমার নামাজ সম্প্রচার করে। রমজান মাসে সিটিভি প্রতিদিন রাত ৯:৩০ থেকে ১০:৩০ পর্যন্ত রমজান বিষয়ে আলোচনা সম্প্রচার করে।
রেডিও
[সম্পাদনা]দক্ষিণ আফ্রিকায় মুসলিম রেডিও স্টেশনগুলো মূলত আঞ্চলিক বা সম্প্রদায়ভিত্তিক সম্প্রচারে সীমাবদ্ধ। এসবের মধ্যে রয়েছে: রেডিও ৭৮৬ (কেপটাউন),[৫২] রেডিও ইসলাম (জোহানেসবার্গ), [৫৩] দ্য ভয়েস অফ দ্য কেপ (কেপটাউন),[৫৪] রেডিও আল আনসার (ডারবান),[৫৫] চ্যানেল ইসলাম ইন্টারন্যাশনাল (জোহানেসবার্গ), আইএফএম রেডিও ৮৮.৩ এফএম (পোর্ট এলিজাবেথ)।
মুদ্রিত প্রকাশনা
[সম্পাদনা]মুসলিম সম্প্রদায় কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল "মুসলিম ভিউজ" ও "আল কালাম" পত্রিকা।[৫৬]
চরমপন্থা
[সম্পাদনা]সাধারণত দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় মুসলিম জনগণ শান্তিপূর্ণ, সহিষ্ণু ও মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুইটি দক্ষিণ আফ্রিকীয় সংগঠনকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল: "পিপলস অ্যাগেইনস্ট গ্যাংস্টারিজম অ্যান্ড ড্রাগস (প্যাগাড)" ও কিবলা।[৫৭]
২০০১ সাল পর্যন্ত কিবলা ও প্যাগাড বিভিন্ন সহিংস কার্যকলাপে যুক্ত ছিল। তবে এরপর থেকে তারা শান্তিপূর্ণ মিছিল ও প্রতিবাদে অংশ নেওয়া শুর করে এবং ইরাক, গাজা, দারফুর ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে।
সমালোচকরা দাবি করেন যে, পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক দুর্নীতি ও দক্ষিণ আফ্রিকীয় পাসপোর্টের কালোবাজারি বিক্রি সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টাকে দুর্বল করেছে।[৫৭][৫৮]
২০১০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের আগে আশঙ্কা করা হয়েছিল যে, চরমপন্থীরা হামলা চালাতে পারে এবং প্রতিবেশী মোজাম্বিকে সোমালি আল-কায়েদা, আল-শাবাবসহ বিভিন্ন উগ্রপন্থী প্রশিক্ষণ শিবিরের খবর পাওয়া গিয়েছিল।[৫৯] তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সরাসরি হুমকি বা হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এই সময় দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলিম সম্প্রদায় "এসএ মুসলিমস ২০১০" নামে একটি প্রচারণা চালিয়েছিল। এর মাধ্যমে তারা অতিথিদের স্বাগত জানিয়েছিল। তারা ইসলাম ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ৩০০ বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভুল ধারণা দূর করার চেষ্টা করেছিল।[৫৭]
বিতর্ক
[সম্পাদনা]নবী মুহাম্মদের কার্টুন বিতর্ক
[সম্পাদনা]২০১০ সালের মে মাসে মেইল অ্যান্ড গার্ডিয়ান নামক দক্ষিণ আফ্রিকার একটি স্থানীয় পত্রিকায় জনাথন শাপিরো (যিনি জাপিরো নামে পরিচিত) কর্তৃক আঁকা একটু কার্টুন প্রকাশিত হয়, যেখানে নবী মুহাম্মদকে চিত্রিত করা হয়েছিল। কার্টুনটি প্রকাশের পর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। কার্টুন শিল্পী শাপিরো ও পত্রিকার সম্পাদককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। মুসলিম ধর্মীয় পরিষদ (জামিয়াতুল উলামা) আদালতে আবেদন করেছিল, যাতে কার্টুনটি প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কিন্তু আবেদনটি খারিজ করে দেয় এমন একজন বিচারক, যে নিজেও মুসলিম ছিলেন। তিনি বলেন, তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস বিচারিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে না।[৬০]
জাপিরো এই কার্টুনটি তৈরি করেছিল 'এভরিবডি ড্র মুহাম্মদ ডে' নামে একটি ফেসবুক প্রচারণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে। এই কার্টুনটিতে মহানবী মুহাম্মদকে মনোবিজ্ঞানীর সোফায় বসে থাকতে দেখা যায়, যেখানে তিনি বলছেন যে, "অন্যান্য নবীদের অনুসারীদের হাস্যরসের অনুভূতি আছে!”[৬১]
মুসলিম ধর্মীয় পরিষদ আশঙ্কা প্রকাশ করে, এই কার্টুন সহিংসতার জন্ম দিতে পারে এবং ২০১০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে; যদিও পরিষদ নিজে সহিংসতা সমর্থন করে না, তবে তারা জানায় যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে।
পত্রিকার সম্পাদক বলেন, “কোনো কার্টুন ইসলামের জন্য এতটা অবমাননাকর নয়, যতটা অবমাননাকর হলো মুসলিমদের সহিংস প্রতিক্রিয়া।" তিনি আরও বলেন, কার্টুনটি যদি বর্ণবাদী বা ইসলামবিদ্বেষী হতো, তাহলে তা প্রকাশ করা হতো না।[৬২]
জাপিরো বলেন যে, তাঁর কার্টুনটি খুবই মৃদু ছিল এবং কোনোভাবেই ডেনিশ কার্টুনের মতো ছিল না, যেখানে নবিকে অপমানজনকভাবে দেখানো হয়েছিল। পরের সপ্তাহে তিনি নিজেকে একজন মনোবিজ্ঞানীর সোফায় আঁকেন এবং বলেন, “সমস্যাটা হল মহানবিকে চিত্রিত করা...ব্যাপারটা এতই সরল"। তিনি আরও বলেন যে, এটা ইসলামের অনুসারীদের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারে; কিন্তু অমুসলিমদের কেন হয়রানি করা হবে? জাপিরো তৎকালীন ইরানি ও তুর্কি মুসলিমদের হাতে আঁকা নবি মুহাম্মাদের বহু পুরনো চিত্রের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “তবুও আমি দুঃখিত, যদি কেউ আমাকে শিশুসুলভ ইসলামবিদ্বেষী ফেসবুক প্রচারণার সাথে জড়িয়ে দেখে।” পত্রিকার সম্পাদকীয় অংশে স্বীকার করা হয় যে, তারা কার্টুনটি প্রকাশ করে মুসলিমদের মাঝে যে আঘাতের সৃষ্টি করেছে, তা তারা যথেষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারেনি। তারা এই অনাকাঙ্ক্ষিত আঘাতের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে। [৬০]
জাপিরো উল্লেখ করেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকে পূর্বে তাঁর ফিলিস্তিনপন্থী কার্টুনগুলো সমর্থন করেছেন, যেখানে তাঁর নিজের ইহুদি সম্প্রদায় ক্ষুব্ধ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের সাথে এক বৈঠকে মুসলিম নেতারা বলেন যে, তাঁরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করেন, তবে তাঁরা নবী মুহাম্মদের চিত্রায়নকে সমর্থন করেন না। [৬২]
তবে কার্টুনটি প্রকাশের পর কোনো সহিংসতা বা বড় ধরনের প্রতিবাদ দেখা যায়নি। অধিকাংশ দক্ষিণ আফ্রিকীয় মুসলিম কার্টুনটিকে মৃদু বলে মনে করেছে এবং অনেকে মনে করেন যে, মুসলিম পরিষদের প্রতিক্রিয়া অতিরিক্ত ছিল।[৬০]
এর আগে ২০০৬ সালে জমিয়াতুল উলামা সফলভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার সানডে টাইমস পত্রিকায় একটি বিতর্কিত ড্যানিশ কার্টুনের প্রকাশ ঠেকাতে সক্ষম হয়েছিল।[৬০]
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ [CS in brief 12 07 2017 (1).cdr (statssa.gov.za) "Community Survey 2016 in Brief"]। ২০১৬।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|ইউআরএল=মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ "The Future of Global Muslim Population: Projections from 2010 to 2013" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৩ জুলাই ২০১৩ তারিখে Accessed July 2013.
- ↑ Al-Jallad, Ahmad (৩০ মে ২০১১)। "Polygenesis in the Arabic Dialects"। Encyclopedia of Arabic Language and Linguistics (ইংরেজি ভাষায়)।
- ↑ Isilow, Hassan (৭ মে ২০২১)। "Islam has rich, proud history in South Africa: President"। Anadolu Agency।
- ↑ Faizal Dawjee। "Muslims in the Struggle."। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০১৩।
- ↑ Abdulkader Tayob (১৯৯৫)। Islamic Resurgence in South Africa: The Muslim Youth Movement। পৃ. ১০৪। আইএসবিএন ৯৭৮০৭৯৯২১৬১২৭। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৪।
- ↑ Khalili, Muhammadullah (2016). "Influence of Deoband School of Thought In South Africa". University of KwaZulu-Natal.।
- 1 2 "Islam in South Africa"। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০১৩।
- 1 2 Stell, Gerald; Luffin, Xavier; Rakiep, Muttaqin (২০০৮)। "Religious and secular Cape Malay Afrikaans: Literary varieties used by Shaykh Hanif Edwards (1906–1958)"। Bijdragen tot de Taal-, Land- en Volkenkunde। ১৬৩ (2–3): ২৮৯–৩২৫। ডিওআই:10.1163/22134379-90003687। আইএসএসএন 0006-2294।
- 1 2 3 Ebrahim Mahomed Mahida। "History of Muslims in South Africa: 1652 – 1699"। South African History Online। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০১৩।
- 1 2 "Kramat"। Robben Island Museum। ২৭ জুলাই ২০০৩। ৯ সেপ্টেম্বর ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
- 1 2 "Klein Constantia: Sheikh Abdurahman Matebe Shah"। ThinkQuest। ১৮ মে ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০০৭।
- 1 2 Ebrahim Mahomed Mahida। "History of Muslims in South Africa: 1700 – 1799"। South African History Online। ১২ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০১৩।
- ↑ "History of Muslims in South Africa"। Maraisburg Muslim Jamaat। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০১৩।
- ↑ Mosques, Mawlanas and Muharram: Indian Islam in Colonial Natal, 1860–1910 Author(s): Goolam H. Vahed Source: Journal of Religion in Africa, Vol. 31, Fasc. 3 (Aug. 2001), pp. 305–335।
- ↑ Moosa, Ebrahim (২০১৫), "Deobandīs in Africa", Encyclopaedia of Islam, THREE (ইংরেজি ভাষায়), Brill, সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
- ↑ Khalili, Muhammadullah (২০১৬)। "Influence of Deoband School of Thought In South Africa"। University of KwaZulu-Natal: ১৫।
- 1 2 Vahed, Goolam (২০২০)। "Muslims in post-apartheid South Africa: race, community, and identity"। Social Identities। ২৭ (1): ৪৪। আইএসএসএন 1350-4630।
- ↑ "Salafisam in South Africa"।
- ↑ "Chishti Nizami Habibi Soofie International Sufi Order – The Khanqah of the Chishti Nizami Habibi Soofie International Sufi Order in Pietermaritzburg, South Africa."। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৬।
- ↑ MATSHILI, RUDZANI। "Mamelodi businessman killed in row with building hijackers"। Independent Online (ইংরেজি ভাষায়)। South Africa। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০২২।
- ↑ Salaamedia (১৯ মে ২০১৬)। "Soweto Muslim elders honoured"। Salaamedia (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০২২।
- ↑ Thebus, Shakirah। "Eid 2022: Cape Muslims gather at Three Anchor Bay for sighting of the moon"। www.iol.co.za (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ Charles, Marvin। "'Forced down our throats': Muslim leaders slam Western Cape govt's support of LGBTQIA+ community"। News24 (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "Hajj and Umrah Operators in South Africa"। muslim.co.za। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০২২।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ The Jamestown Foundation "A case study of radical Islam in South Africa" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে
- ↑ "Chapter 2, The prime suspects? The Metamorphosis of Pagad - Fear in the City, Urban Terrorism in South Africa - Monograph No 62, July 2001"। www.iss.co.za। ১ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০২৫।
- 1 2 Manuel Álvarez-Rivera। "General Elections in the Republic of South Africa"। Election Resources on the Internet। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০০৭।
- ↑ "Why aren't we complaining about the National Interfaith Leadership Council?"। ২ অক্টোবর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১০।
- ↑ "Voice of the Cape — "My Radio Station, Your Radio Station, Our Radio Station""। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৬।
- ↑ "SANZAF e-Newsletter"। ১৯ নভেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১০।
- ↑ "IslamicFinance Overview - Islamic Finance - FNB"। ৩০ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১০।
- ↑ "Absa – Banking for individuals and businesses"। Absa।
- ↑ Fleet, Kate (সম্পাদক)। "Encyclopaedia of Islam Three Online"। referenceworks (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৫।
- 1 2 Faranaaz Parker (২৮ মে ২০০৯)। "Marrying rights with tradition"। Mail & Guardian। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৬।
- ↑ "Muslim women need protection beyond sharia law"। Mail & Guardian। ৯ জুলাই ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৬।
- ↑ Githahu, Mwangi। "Home Affairs Minister, Al Jama-ah Party urged to find common ground on Muslim marriages"। www.iol.co.za (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "Women's Legal Trust v President of the Republic of South Africa and Others (CCT13/09) [2009] ZACC 20; 2009 (6) SA 94 (CC) (22 July 2009)"। saflii.org।
- ↑ "Archived copy"। ২৪ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১১।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: শিরোনাম হিসাবে আর্কাইভকৃত অনুলিপি (লিঙ্ক) - ↑ "Islamic Finance Institute of Southern Africa"। ১০ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৬।
- ↑ "Islamic Education in South Africa"। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৬।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ Nuha Dramat। "Face to Face with Minister Naledi Pandoor"। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৬।
- ↑ [অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ Kriger, Robert (১৯৯৬)। "The Genesis of Afrikaans"। Afrikaans literature: recollection, redefinition, restitution: papers held at the 7th Conference on South African Literature at the Protestant Academy, Bad Boll। Rodopi। পৃ. ৫১।
- ↑ Collins, Adam। "'I always told myself there is no one better than me'"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২১।
- ↑ Gavin Rich (৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। "Socially conscious Nizaam enjoys linking role"। supersport.com। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৬।
- ↑ "Our Team"। kenfuderyu.com।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "Kaicho Hoosain Narker"। ১ জুলাই ২০১৪।
- ↑ [অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "IOL Tonight"। IOL। ১৪ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৬।
- ↑ "MultiChoice launches Islam Channel on DStv."। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৬।
- ↑ "Radio 786"। ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩।
- ↑ "Islamic Talk – TuneIn Radio"। ২৬ এপ্রিল ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৬।
- ↑ "Voice of the Cape — "My Radio Station, Your Radio Station, Our Radio Station""। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৬।
- ↑ "Al Ansaar Foundation"। ২৫ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০১৪।
- ↑ "Al-Qalam – South Africa's Muslim Newspaper"। Al-Qalam। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৬।
- 1 2 3 Randeree, Bilal। "'World Cup ready for 'terror' threat'"। Al Jazeera। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০১৮।
- ↑ "80% chance of World Cup terrorist attack"। Mail & Guardian। ৩০ মে ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৬।
- ↑ Du Plessis, Charl। "No terrorist threat to Cup"। Times LIVE। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৬।
- 1 2 3 4 Verashni Pillay (২১ মে ২০১০)। "Uproar over M&G Prophet Muhammad cartoon"। Mail & Guardian। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০১৬।
- ↑ "100520mg - Zapiro Mahummed on the couch cartoon"। ৩০ জানুয়ারি ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১০।
- 1 2 [অকার্যকর সংযোগ]