থঙ্গম ফিলিপ
থঙ্গম ফিলিপ | |
|---|---|
| জন্ম | ১২ মে ১৯২১ |
| মৃত্যু | ২৮ জানুয়ারি ২০০৯ (বয়স ৮৭) |
| সমাধি | সেন্ট অ্যাণ্ড্রু'স সিএসআই চার্চ, পান্নিমত্তম, কোট্টায়ম, কেরল, ভারত ৯°৩২′২″ উত্তর ৭৬°৩১′২৫″ পূর্ব / ৯.৫৩৩৮৯° উত্তর ৭৬.৫২৩৬১° পূর্ব |
| পেশা | পুষ্টিবিদ, লেখক |
| পরিচিতির কারণ | আতিথ্য শিক্ষা |
| পিতা-মাতা | টি. পি. ফিলিপ এলিজাবেথ ফিলিপ |
| পুরস্কার | পদ্মশ্রী এফএও সেরেস পদক নাইটহুড অফ দ্য অর্ডার অফ কর্ডন ব্লু ডু সান্ট এসপ্রিট ফায়ারস্টোন পুরস্কার |
থঙ্গম এলিজাবেথ ফিলিপ (১৯২১-২০০৯) ছিলেন একজন ভারতীয় পুষ্টিবিদ এবং ভারতে আতিথ্য শিক্ষার পথিকৃৎ।[১][২] তিনি মুম্বাইয়ের ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্টের প্রিন্সিপাল এমিরিটাস ছিলেন[৩][৪] এবং রান্নার ওপর বেশ কয়েকটি বইয়ের লেখক ছিলেন।[৫][৬] তিনি এফএও সেরেস পদক[৭] এবং ফ্রান্সের নাইটহুড অফ দ্য অর্ডার অফ কর্ডন ব্লু ডু সান্ট এসপ্রিটের প্রাপক ছিলেন।[৮] ফিলিপ ১৯৭৬ সালে ভারত সরকার কর্তৃক চতুর্থ সর্বোচ্চ ভারতীয় বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রীতে ভূষিত হন।[৯]
জীবনী
[সম্পাদনা]থঙ্গম ফিলিপের জন্ম ১৯২১ সালের ১২ই মে[৫] দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যের কোঝিকোড়ে, মধ্য ত্রাভাঙ্কোরের একটি পরিবারে।[১] তাঁর পারিবারিক নাম ছিল থেভার্থুণ্ডিয়িল। তাঁর বাবা ও মায়ের নাম ছিল যথাক্রমে টি পি ফিলিপ এবং এলিজাবেথ ফিলিপ।[১০] চেন্নাইয়ের উইমেন'স ক্রিশ্চিয়ান কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর, তিনি দিল্লির লেডি আরউইন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা অর্জন করেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি (এমএস) অর্জন করেন।[১][১০] তিনি কলকাতার সেন্ট থমাস স্কুলে গৃহ বিজ্ঞান অনুষদে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে তিনি অল্প সময়ের জন্য কাজ করেন। এরপর ১৯৪৯ সালে তিনি শ্রীলঙ্কায় চলে যান এবং সাউথল্যাণ্ড মেথোডিস্ট কলেজে একটি গৃহ অর্থনীতি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।[১]
১৯৫০ সালে ফিলিপ ভারতে ফিরে আসেন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি অন্নপূর্ণা ব্র্যাণ্ড নামে একটি ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনা করেন, যেখানে মধ্যবিত্তদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত খাবার পরিবেশন করা হত।[১] পাঁচ বছর পর, তিনি মুম্বাইতে চলে আসেন এবং ১৯৫৫ সালে ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ক্যাটারিং টেকনোলজি অ্যাণ্ড অ্যাপ্লায়েড নিউট্রিশন (আইএইচএম) প্রতিষ্ঠার সময় সেখানে যোগদান করেন।[১] তিনি রেডিও এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানও করেছিলেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করেছিলেন যেখানে তাঁর অনুষ্ঠানগুলি সম্প্রচারিত হয়েছিল।[১] ১৯৬১ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসার পর, তিনি আইএইচএম-এর অধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত হন।[১] তিনি সাময়িকীতে প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেন এবং অল ইণ্ডিয়া রেডিওতে একটি রান্নার অনুষ্ঠান চালু করেন। ১৯৬৩ সালে যখন খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ক্ষুধামুক্তি অভিযান শুরু করে,[১১] থঙ্গম ফিলিপও এই অভিযানে যোগ দেন[৮][১২] এবং ১৯৬৫ সালে এথেন্সে অনুষ্ঠিত প্রথম ইয়ং ওয়ার্ল্ড অ্যাসেম্বলিতে অংশগ্রহণ করেন।[১]
রান্না এবং আতিথ্য শিল্পের ওপর ফিলিপ বেশ কয়েকটি বই লিখেছিলেন।[৬][১২] তাঁর দুই খণ্ডের রচনা, মডার্ন বুক ফর টিচিং অ্যাণ্ড দ্য ট্রেড, আইএইচএম পাঠ্যক্রমের একটি নির্ধারিত পাঠ্যপুস্তক।[১][৩][৬][১২] তাঁর একটি বই, থঙ্গম ফিলিপ'স বুক অফ বেকিং, পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য লেখা একটি কাজ।[১] তিনি ইউএনডিপি, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং কুয়েত সরকারের বেশ কয়েকটি প্রকল্পের সাথে পরামর্শদাতা হিসেবেও জড়িত ছিলেন।[১] তিনি এয়ার ইন্ডিয়া, ইণ্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্যুরিজম অ্যাণ্ড ট্রাভেল ম্যানেজমেন্ট,[১৩] স্টার্লিং হলিডে রিসর্টস (ইণ্ডিয়া) লিমিটেড এবং কামাত হোটেলের মতো অনেক আতিথেয়তা উদ্যোগ ও সংস্থার বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন।[৩] তিনি কামাত হোটেল গ্রুপের পারিশ্রমিক কমিটির সদস্য এবং শেয়ারহোল্ডারদের অভিযোগ কমিটির সদস্যও ছিলেন।[১৩]
১৯৮৬ সালে অবসর গ্রহণের পর তিনি নিজের জন্মস্থানে ফিরে আসেন,[৬] এবং কেরালার কোট্টায়াম জেলার পাল্লমেতে নিজের বাড়ি থেকে গবেষণা চালিয়ে যান।[১] থঙ্গম ফিলিপ সারা জীবন অবিবাহিত থেকে গেছেন।[১০] ২০০৯ সালের ২৮শে জানুয়ারী[৫] তারিখে ৮৭ বছর বয়সে কোট্টায়ামের একটি নার্সিংহোমে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।[৩] তাঁর মৃতদেহ কোট্টায়মের পান্নিমাত্তমে অবস্থিত সেন্ট অ্যাণ্ড্রু'স সিএসআই চার্চ সমাধিস্থলে সমাহিত করা হয়েছিল।[১০]
পুরস্কার এবং সম্মাননা
[সম্পাদনা]
ফিলিপ যুক্তরাজ্যের হোটেল ক্যাটারিং অ্যাণ্ড ইনস্টিটিউশনাল ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের কুকারি অ্যাণ্ড ফুড অ্যাসোসিয়েশনের একজন ফেলো ছিলেন।[৩][১৩] তিনি যুক্তরাজ্যের রয়েল সোসাইটি ফর পাবলিক হেলথের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।[১][১৩] ১৯৭৫ সালে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা তাঁকে এফএও সেরেস পদকে সম্মানিত করার জন্য নির্বাচিত করে, এটি প্রাপকের ছবি সহ জারি করা একটি স্মারক পদক।[৩][৭] পরের বছর, তিনি ভারত সরকারের কাছ থেকে পদ্মশ্রী সম্মান পান।[৯] ১৯৮২ সালে ফ্রান্স সরকার তাঁকে নাইটহুড অফ দ্য অর্ডার অফ কর্ডন ব্লু ডু সান্ট এসপ্রিট উপাধিতে ভূষিত করে।[৮][১২] চার বছর পর, তিনি আইএইচএম থেকে অবসর গ্রহণ করেন।[১] এর পরে তাঁকে কলেজের অধ্যক্ষ এমিরিটাস করা হয়।[৩][৫][১০] তিনি ইণ্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ অকুপেশনাল হেলথ থেকে ফায়ারস্টোন পুরস্কারও পেয়েছিলেন।[৩][১৩]
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- ইনস্টিটিউট অফ হোটেল ম্যানেজমেন্ট, ক্যাটারিং টেকনোলজি অ্যাণ্ড অ্যাপ্লায়েড নিউট্রিশন, মুম্বাই
- ভারতীয় রান্নার বই
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 "Padmashree Thangam E. Philip"। Kerala Tourism, Government of Kerala। ২০১৫। ২২ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০১৫।
- ↑ Nagendra Kr Singh (২০০১)। Encyclopaedia of women biography। A.P.H. Pub. Corp। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭৬৪৮২৬৪৬। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০১৫।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 "Obituary"। Hospitality Biz India। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০১৫।
- ↑ "The Institute"। Institute of Hotel Management। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০১৫।
- 1 2 3 4 "Nutritionist Thangam Philip passes away"। Web India News। ২৮ জানুয়ারি ২০০৯। ২২ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০১৫।
- 1 2 "FAO Ceres Medal"। Food and Agriculture Organization। ২০১৫। ৬ জুন ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০১৫।
- 1 2 3 "Tellicherry Pepper Chicken - Succulent Chicken with Pepper, Spices & aromatic Kari leaves"। Weave a Thousand Flavors। ২০১৫। ২৮ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০১৫।
- 1 2 "Padma Shri" (পিডিএফ)। Padma Shri। ২০১৫। ১৫ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৫।
- 1 2 3 4 5 "Thangam Philip dead"। The Hindu। ২৯ জানুয়ারি ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০১৫।
- ↑ "Freedom from hunger campaign"। FAO। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০১৫।
- 1 2 3 4 "Thangam E Philip - Express Travel World"। Express Travel World। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০১৫।
- 1 2 3 4 5 "Thangam Elizabeth Philip Bloomberg bio"। Bloomberg। ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুন ২০১৫।
- ↑ Thangam E. Philip (২০১০)। Modern Cookery: For Teaching and the Trade (Volume 1)। Orient Blackswan। পৃ. ৯২০। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১২৫০৪০৪৪৬।
- ↑ Thangam E. Philip (২০১০)। Modern Cookery: For Teaching and the Trade (Volume 2)। Orient Blackswan। পৃ. ৭৭৬। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১২৫০৪০৪৫৩।
- ↑ Thangam E. Philip (১৯৯৩)। A Touch Of Spice। Sangam Books। পৃ. ১১৬। আইএসবিএন ৯৭৮০৮৬৩১১২৫৯১।
- ↑ Thangam Philip (১৯৯৪)। The Thangam Philip Book Of Baking। Orient Blackswan। পৃ. ১১৬। আইএসবিএন ৯৭৮৮১২৫০১৫০০০।
- ↑ Thangam Philip (২০১১)। Thangam Philip's Vegetarian Recipes for Healthy Living। Orient Blackswan। পৃ. ২৭৮। আইএসবিএন ৯৭৮৮১২৫০৩৭৩৮৫।