ত্রিপুরী বর্ষপঞ্জি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ত্রিপুরী বর্ষপঞ্জি হলো একটি ঐতিহ্যবাহী সৌরচান্দ্রিক বর্ষপঞ্জি যা ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী বিশেষ করে ত্রিপুরী অপ্রতিরোধ্যতার প্রসঙ্গে ব্যবহার করে। এর "তিপ্রা সন", "ত্রিপুরা সন" বা ত্রিপুরাব্দ ১৫ এপ্রিল ৫৯০ খ্রিস্টাব্দে নির্ধারণ করা হয়েছে যার সূচনা বঙ্গাব্দ বা বাংলা সনের তিন বছর আগে।

ত্রিপুরাব্দের নববর্ষ হল বৈশাখের ১লা তারিখে যা সেই বছরটি লিপ ইয়ার কিনা তার উপর নির্ভর করে কমন এরার ১৪ বা ১৫ এপ্রিলের সাথে মিলে যায়। এর মাসগুলোকে ১৪১৯ বছর আগে ৫১২ শকাব্দে ত্রিপুরের রাজা হামতোর্ফা ওরফে হিমটিফা ওরফে জুঝারুফা এর সূচনা করার সময় থেকে ভারতীয় মাসগুলোর ন্যায় নামকরণ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে ত্রিপুরা সন ব্রিটিশ রাজের অধীনে টিপ্রা রাজ্যের সমস্ত সরকারি বিষয়ে প্রচলিত ছিল। ঐতিহ্য অনুযায়ী সালটি রাজমালা কালপঞ্জিতে ১১৮ তম হামতোর ফা (এছাড়াও জুজারু ফা বা হিমতি বা বিররাজ) নামক ত্রিপুরী রাজার বাংলা বিজয়কে চিহ্নিত করে।[স্পষ্টকরণ প্রয়োজন] তবে ঐতিহাসিক বাস্তবতায়, ত্রিপুরাব্দ, বঙ্গাব্দের মতোই ১৫৬৩ সালে সম্রাট আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত মুঘল ফসলি সনের অবলম্বিত। ত্রিপুরায় (তিপ্রা) এর ব্যবহার ত্রিপুরী গণনায় ১৬৩ তম রাজা গোবিন্দ মাণিক্য (শা. ১৬৬০) থেকে পাওয়া যায় ও তিন বছরের বৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তনটি প্রথম তার উত্তরসূরি ছত্রমাণিক্যের অধীনে ১৬৬৩/৪ সালে লিপিবদ্ধ হয়, যিনি এইভাবে "ত্রিপুরী বর্ষপঞ্জি" চালু করেছেন বলে মনে করা হয়।

১৯৪৯ সালে ভারতের প্রজাতন্ত্রে ত্রিপুরার যোগদানের সাথে সাথে, ত্রিপুরী বর্ষপঞ্জির আনুষ্ঠানিক ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। ত্রিপুরী জাতীয়তাবাদে ত্রিপুরী বর্ষপঞ্জি পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান দীর্ঘদিন ধরে। ১৯৯১ সালে রাজ্য সরকারের বর্ষপঞ্জি ও নথিতে ত্রিপুরাব্দের প্রথম উল্লেখ করা হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ২০০১ সালে ত্রিপুরা উপজাতীয় অঞ্চল স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ একটি তিন দিনের "ট্রিং উৎসব" আয়োজন করে, যা পশ্চিম ত্রিপুরার টিটিএএডিসি-এর সদর দফতর খুমুলুঙে সমাপ্ত হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • ডিসি সরকার, পূর্ব ভারত থেকে মধ্যযুগীয় সময়ের কিছু এপিগ্রাহিক্যাল নথি, অভিনব প্রকাশনা, ১৯৭৯, 93f.