ত্রিকাল (১৯৮৫-এর চলচ্চিত্র)
| ত্রিকাল | |
|---|---|
| চিত্র:Trikal (Past, Present, Future), 1985.jpg ত্রিকাল (অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত) | |
| পরিচালক | শ্যাম বেনেগাল |
| প্রযোজক | ফ্রেনি এম ভারিয়াভা |
| রচয়িতা | শ্যাম বেনেগাল (গল্প ও চিত্রনাট্য) শামা জাইদি (সংলাপ) |
| শ্রেষ্ঠাংশে | লীলা নাইডু অনিতা কানওয়ার নীনা গুপ্তা সোনি রাজদান দালিপ তাহিল নাসিরুদ্দিন শাহ লাকি আলী |
| সুরকার | বনরাজ ভাটিয়া |
| চিত্রগ্রাহক | অশোক মেহতা |
| সম্পাদক | ভানুদাস দিবাকর |
| মুক্তি |
|
| স্থিতিকাল | ১৩৭ মিনিট |
| ভাষা | হিন্দি, কোঙ্কনি, পর্তুগিজ |
ত্রিকাল (অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ) হলো শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত ১৯৮৫ সালের একটি ভারতীয় চলচ্চিত্র। এটি রচনা করেন তিনি। চলচ্চিত্রটি পর্তুগিজ শাসনের শেষ সময়ে গোয়ার পটভূমিতে নির্মিত। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ১৯৬৯ সালের পর লীলা নাইডু প্রথম চলচ্চিত্রে প্রত্যাবর্তন করেন।
চলচ্চিত্রটি ১৯৮৬ সালের ফিল্মোৎসবে ইন্ডিয়ান প্যানোরামা হিসেবে এবং লিসবনে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ফিল্ম রেট্রোস্পেক্টিভের জন্য নির্বাচিত হয়। পরবর্তীতে এটি ১৯৮৬ সালে লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রিত হয়।[১]
কাহিনী সংক্ষেপ
[সম্পাদনা]১৯৬১ সালে পর্তুগিজ গোয়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক উপনিবেশটি মুক্ত হওয়ার ঠিক আগেকার এই কাহিনী ফ্ল্যাশব্যাকের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। আন্না সুজা-সুয়ারেজের দাদু আর্নেস্তো হঠাৎ মারা গেলে, তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইরাসমো নামের এক যুবকের সাথে তার বাগদান হয়। বাগদানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। কারণ পরিবারের কর্ত্রী আন্নার শোকাহত দিদিমা ডোনা মারিয়া তার পরিচারিকা মিলাগ্রিনিয়াকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আর্নেস্তোর সাথে যোগাযোগ করার জন্য প্রেতাত্মা আহ্বানের চেষ্টা করেন। কিন্তু এই প্রেতাত্মা আহ্বানের ফলে অতীতে পরিবারের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন মানুষের প্রেতাত্মা আবির্ভূত হতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পরেই ডোনা মারিয়ার দাদুর হাতে ভুল পরিচয়ে শিরশ্ছেদ হওয়া এক ভারতীয় বিদ্রোহীর আত্মা দেখা দেয়। আন্নার প্রেমিক লিওন একজন পলাতক আসামি। সে পরিবারের বাড়ির পাতালঘরে লুকিয়ে থাকে। আনা শীঘ্রই জানতে পারে যে সে লিওনের সন্তানের মা হতে চলছে। সে এরাসমোর কাছ থেকে তার এই পরকীয়ার কথা লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে। রুইজ অতীতে আনাকে পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। সে মিলাগ্রিনিয়ার সাথে একটি গোপন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং মিলাগ্রিনিয়াও গর্ভবতী হয়ে যায়। আনা শুধু একটি চিঠি রেখে লিওনের সাথে ইউরোপে পালিয়ে যায়। সন্তানটি যাতে অবৈধভাবে জন্ম না নেয়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টায় মিলাগ্রিনিয়াও একজন বয়স্ক পুরুষকে বিয়ে করে। চব্বিশ বছর পর রুইজ তার পৈতৃক বাড়িতে ফিরে আসে। সেবাড়ি বছরের পর বছরের অবহেলায় এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।সে তার ফিরে আসার কারণগুলো নিয়ে ভাবতে থাকে।
চলচ্চিত্রটি নাসিরুদ্দিন শাহের একটি স্বগতোক্তি দিয়ে শেষ হয়। সেটি আসলে তার নিজেরসহ চলচ্চিত্রের চরিত্রগুলোর কার্যকলাপকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সে অবাক হয়ে ভাবে এত বছর পর কী তাকে ফিরিয়ে আনল। সময়ের আস্তরণের নিচে সবকিছু মিলিয়ে যায় এবং যা অবশিষ্ট থাকে তা হলো মধুর স্মৃতি।
শ্রেষ্ঠাংশে
[সম্পাদনা]- লীলা নাইডু - ডোনা মারিয়া সুজা-সোয়ারেস চরিত্রে
- নাসিরুদ্দিন শাহ - রুইজ পেরেইরা চরিত্রে
- নিখিল ভগত - তরুণ রুইজ পেরেরার চরিত্রে
- অনিতা কানওয়ার - সিলভিয়া চরিত্রে
- নীনা গুপ্তা - মিলাগ্রেনিয়া হিসাবে
- সোনি রাজদান - অরোরা চরিত্রে: সিলভিয়ার বড় মেয়ে
- দালিপ তাহিল - লিওন গনসালভেসের চরিত্রে
- কে. কে. রায়না - সেনর লুসিও হিসেবে
- কুনাল কাপুর - কাপিতান রিবেইরো/ গভর্নর হিসাবে
- ডাঃ সাইমন পেরেইরা চরিত্রে - কিথ স্টিভেনসন
- লাকি আলী - ইরাসমোর চরিত্রে
- সেলিম ঘাউস - চার্চে প্রধান পুরোহিত হিসেবে
- ইলা অরুণ - রাধুনি চরিত্রে
- জয়ন্ত কৃপালানি - ফ্রান্সিসের চরিত্রে
- আকাশ খুরানা - রেনাতো চরিত্রে
- সাবিরা মার্চেন্ট - ডোনা অ্যামেলিয়া চরিত্রে
- আন্না চরিত্রে - সুষমা প্রকাশ: সিলভিয়ার ছোট মেয়ে
- রেমো ফার্নান্দেস - গায়ক হিসেবে
- আলিশা চিনয় - গায়ক হিসেবে
- কুলভূষণ খারবান্দা - বিজয় সিং রানে/খুশতোবা রানে চরিত্রে
- ধ্রুব ঘানেকার - সিলভিয়ার যুবক ছেলের চরিত্রে
- জয় ঘানেকার - সিলভিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র হিসেবে