বিষয়বস্তুতে চলুন

তোকুগাওয়া ইয়েমোচি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সর্বোচ্চ প্রবীণ পদবি
তোকুগাওয়া ইয়েমোচি
徳川 家茂
শোগুন
কাজের মেয়াদ
১৪ আগস্ট, ১৮৫৮  ২৯ আগস্ট, ১৮৬৬
সার্বভৌম শাসকসম্রাট কোমেই
পূর্বসূরীতোকুগাওয়া ইয়েসাদা
উত্তরসূরীতোকুগাওয়া ইয়োশিনোবু
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৮৪৬-০৭-১৭)১৭ জুলাই ১৮৪৬
মিনাতো, এদো, জাপান
মৃত্যু২৯ আগস্ট ১৮৬৬(1866-08-29) (বয়স ২০)
ওসাকা দুর্গ, জাপান
দাম্পত্য সঙ্গীরাজকুমারী কাজু
স্বাক্ষর

তোকুগাওয়া ইয়েমোচি ( জাপানি: 徳川 家茂; ১৭ জুলাই, ১৮৪৬–২৯ আগস্ট, ১৮৬৬) ছিলেন জাপানের তোকুগাওয়া শোগুনাতের চৌদ্দতম শোগুন, যিনি ১৮৫৮ থেকে ১৮৬৬ পর্যন্ত ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।[] ইয়েমোচির শাসনকালে জাপান পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন শুরু করে এবং এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বেড়ে যায়। তার শাসনকালে শোগুনাতের ক্ষমতাও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়।[] ইয়েমোচি ১৮৬৬ সালে মারা যান এবং জোজো-জিতে তাকে সমাহিত করা হয়। তার বৌদ্ধ ধর্মীয় নাম ছিল শোনময়োইন।

জীবনী

[সম্পাদনা]

ইয়েমোচি শৈশবে কিকুচিয়ো (菊千代) নামে পরিচিত ছিল। তিনি ওয়াকায়ামা অঞ্চলের শাসক পরিবারের একাদশ প্রজন্মের নেতা তোকুগাওয়া নারিউকির (১৮০১–১৮৪৬) বড় ছেলে। তার জন্ম হয়েছিল নারিউকির কনকুবাইন (স্ত্রী) জিৎসুজোইনের গর্ভে এবং তার জন্মস্থান ছিল ওয়াকায়ামা পরিবারের এদোস্থ বাসভবন (বর্তমান টোকিওর মিনাতো-কু)। নারিউকি ছিলেন একাদশ শোগুন তোকুগাওয়া ইনারির কনিষ্ঠ পুত্র।

১৮৪৭ সালে মাত্র এক বছর বয়সে তাকে দ্বাদশ প্রজন্মের দাইমিয়ো তোকুগাওয়া নারিকাতসুর উত্তরাধিকারী হিসেবে দত্তক নেওয়া হয় এবং ১৮৫০ সালে ইয়েমোচি নারিকাতসুর স্থলাভিষিক্ত হন। এর পরের বছর ১৮৫১ সালে বোধসম্পন্ন বয়সে পৌঁছানোর পর তিনি 'তোকুগাওয়া ইয়োশিতোমি' নাম গ্রহণ করেন। দত্তক নেওয়ার পর ও তোকুগাওয়া পরিবারের উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণার কিছু সময়ের মধ্যে ১৮৫৮ সালে তিনি শোগুন ইয়েসাদা ও তার স্ত্রী আতসুহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ইয়োশিতোমিকে শোগুন হিসেবে নির্বাচিত করা সহজ কাজ ছিল না। কারণ সরকারের মধ্যে এমন কয়েকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীও ছিল, যারা তোকুগাওয়া ইয়োশিনোবু বা মাৎসুদাইরা নারিতামিকে শোগুন হিসেবে সমর্থন করছিল। এরা দু’জনই প্রাপ্ত ছিলেন, যারা ইয়োশিতোমির তুলনায় অধিক উপযুক্ত ছিলেন। শোগুনের পদ গ্রহণ করার পর ইয়োশিতোমি তার নাম পরিবর্তন করে ইয়েমোচি রাখেন।

ইয়েসাদা মারা যাওয়ার আগে নিজের ওসিয়তনামায় ইই নাওসুক সম্পর্কে বলেছিলেন:

  • প্রথমত, ইই নাওসুকে অবশ্যই ইয়েমোচির শাসনকার্যে সাহায্য করতে হবে যতক্ষণ না ইয়েমোচি প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে নিজের ক্ষমতাবলে শাসন পরিচালনা করতে সক্ষম হয়।
  • দ্বিতীয়ত, সব রাজনৈতিক বিষয় ইয়েমোচির মহান মাতা তেনশোইনের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।

কোবু গাত্তাই (বিয়ের মাধ্যমে সম্রাটের রাজসভা ও শোগুন সরকারের মাঝে বন্ধন) আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৮৬২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইয়েমোচি সম্রাজ্ঞী কাজুর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কাজু ছিলেন সম্রাট নিঙ্কোর কন্যা। তিনি রাণী হিসেবে 'মিদাইদোকোরো' নামের সরকারী সম্মানসূচক উপাধি ব্যবহার করতে অস্বীকার করেন এবং তার পরিবর্তে কেবল “মিয়া” উপাধি ব্যবহার করতেন। ১৮৬৩ সালের ২২ এপ্রিল (বুনকিউ ৩, ৩য় মাসের ৫ম দিন) শোগুন ইয়েমোচি একটি বিশাল পদযাত্রায় রাজধানী কিয়োতাতে যাত্রা করেছিলেন। পূর্বে তাকে সম্রাটের পক্ষ থেকে আহ্বান করা হয়েছিল এবং এই যাত্রায় প্রহরী হিসেবে তার সঙ্গে ৩,০০০ জন ভৃত্য ছিলেন। এটি কানেই যুগে ইয়েমিৎসুর কিয়োতো সফরের ২৩২ বছর পর প্রথমবারের মতো ঘটে। এই সময়ে কোনো শোগুন কিয়োতো পরিদর্শন করেননি।[]

মাত্র ২০ বছর বয়সে তার অকাল মৃত্যু রাজকুমারী কাজু-নো-মিয়ার সঙ্গে তার স্বল্পকালীন দাম্পত্য জীবনের ইতি টানে। ইয়েমোচি মৃত্যুর আগে তাইয়াসু কামেনোসুকে নামে একজন শিশুপুত্রকে দত্তক হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং তাকেই নিজের উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেন। এই তাইয়াসু কামেনোসুকে পরবর্তী সময়ে তোকুগাওয়া ইয়েসাতো নামে পরিচিত হন। সে সময় তাইয়াসু কামেনোসুকের বয়স ছিল মাত্র ৩ বছর। তখন তোকুগাওয়া শোগুনাত চোশু অঞ্চলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। এর ফলে যুদ্ধ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং তার পরিবর্তে একজন প্রাপ্তবয়স্ক শাসকের প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় শিশু উত্তরাধিকারীর বদলে প্রাপ্তবয়স্ক তোকুগাওয়া ইয়োশিনোবুকে পঞ্চদশ শোগুন হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তবে শোগুন হওয়ার পর ইয়োশিনোবু ইয়েমোচির দত্তক পুত্র তাইয়াসু কামেনোসুকেকে নিজের দত্তক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। ইয়েমোচির মৃত্যুর পর রাজকুমারী কাজু-নো-মিয়া নিজের নাম পরিবর্তন করে সেকানইন-নো-মিয়া রাখেন। ইয়েমোচির মৃত্যুর কারণ হিসেবে সাধারণভাবে বেরিবেরি রোগজনিত হৃদ্‌যন্ত্রের ব্যর্থতাকে দায়ী করা হয়। বেরিবেরি হলো থায়ামিন বা ভিটামিন বি১-এর অভাবে সৃষ্ট একটি রোগ।[]

ইয়েমোচির উত্তরসূরি হিসেবে তোকুগাওয়া ইয়োশিনোবুই সর্বশেষ তোকুগাওয়া শোগুন ছিলেন। তিনি ক্ষমতায় এসেই শোগুনাত শাসনের পতনের সাক্ষী হন। এর পরে মেইজি পুনর্গঠন আন্দোলন প্রভাব বিস্তার করতে থাকে এবং গোটা জাপান একক সাম্রাজ্যের অধীনে শাসিত হতে শুরু করে।

পরিবার

[সম্পাদনা]
  • পিতা: তোকুগাওয়া নারিউকি (১৮০১–১৮৪৬)
  • মাতা: জিৎসুজোইন (১৮২১–১৯০৪)
  • দত্তক পিতা:
    • তোকুগাওয়া নারিকাতসু (১৮২০–১৮৪৯)
    • টোকুগাওয়া ইয়েসাদা
  • দত্তক মাতা: তেনশো-ইন
  • স্ত্রী: কাজু-নো-মিয়া চিকাকো
  • উপপত্নী:
    • ওইউরি নো কাতা (১৮৫০–১৮৮০), পরবর্তীতে শোকো-ইন
    • ওহিনা নো কাতা (১৮৪৬–১৮৬২); শিমাজু তাদাফুয়ুর কন্যা ও তেনশো-ইনের ভাতিজি
  • দত্তক পুত্র:
    • তোকুগাওয়া মোচিৎসুগু
    • তোকুগাওয়া ইয়েসাতো

ইয়েমোচির বাকুফুর (শাসন) যুগ

[সম্পাদনা]
আব্রাহাম লিঙ্কনের পক্ষ থেকে শোগুন তোকুগাওয়া ইয়েমোচির উদ্দেশে প্রেরিত পত্র, যেখানে টাউনসেন্ড হ্যারিসের প্রস্থান সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়েছে; ১৪ নভেম্বর, ১৮৬১।
ডুচেন দ্য বেলকুরের পরিবর্তে লেয়োঁ রোশকে মনোনয়নের বিষয়ে সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়ন বেনাপার্টের পক্ষ থেকে শোগুন তোকুগাওয়া ইয়েমোচিকে প্রেরিত পত্র (২৭ অক্টোবর ১৮৬৩)। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক নথি দপ্তর থেকে সংগৃহীত।

তোকুগাওয়া ইয়েমোচি যেসব বছর শোগুন ছিলেন, সেই সময়কালকে জাপানের প্রচলিত বর্ষনাম বা নেঙ্গো (年号) অনুযায়ী একাধিক যুগে ভাগ করে চিহ্নিত করা হয়। নিচে ইয়েমোচির শাসনামলের বর্ষনামগুলো ক্রমানুসারে দেওয়া হলো:

  • আনসেই (安政): ১৮৫৪–১৮৬০
  • মান্‌এন (万延) : ১৮৬০–১৮৬১
  • বুনক্যু (文久) : ১৮৬১–১৮৬৪
  • গেনজি (元治) : ১৮৬৪–১৮৬৫
  • কেইও (慶応) : ১৮৬৫–১৮৬৮

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 "Japan:Memoirs of a Secret Empire"PBS। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০০৭
  2. 1 2 Ponsonby-Fane, Richard. (1956). Kyoto: the Old Capital of Japan, 794–1869, p. 325.

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]
  • Rekishi Dokuhon Jan. 2006 issue: Tokugawa Shōgun-ke to Matsudaira Ichizoku
  • Tokugawa Iemochi to sono jidai: wakaki shōgun no shōgai 徳川家茂とその時代: 若き将軍の生涯. Tokyo: Tokugawa kin'en zaidan 徳川記念財団, 2007.
  • Totman, Conrad. (1980). The Collapse of the Tokugawa Bakufu, 1862–1868. Honolulu: University of Hawai'i Press. আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮২৪৮-০৬১৪-৯

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]

উইকিমিডিয়া কমন্সে তোকুগাওয়া ইয়েমোচি সম্পর্কিত মিডিয়া দেখুন।