বিষয়বস্তুতে চলুন

তৃতীয় সরকার মন্ত্রিসভা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আবু হোসেন সরকারের তৃতীয় মন্ত্রিসভা

পূর্ব পাকিস্তানের ৮ম মন্ত্রিসভা
১৯৫৮
গঠনের তারিখ২০ জুন ১৯৫৮ (1958-06-20)
বিলুপ্তির তারিখ২৩ জুন ১৯৫৮ (1958-06-23)
ব্যক্তি ও সংস্থা
গভর্নরসুলতানউদ্দিন আহমদ
মুখ্যমন্ত্রীআবু হোসেন সরকার
মন্ত্রী সংখ্যা
মোট সংখ্যা
সদস্য দল
আইনসভায় অবস্থাসংখ্যালঘু
১৩৮ / ৩০৭(৪৫%)
বিরোধী দল
বিরোধী নেতাআতাউর রহমান খান
ইতিহাস
নির্বাচন১৯৫৪
সর্বশেষ নির্বাচন১৯৪৬
আইনসভার মেয়াদদ্বিতীয় পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ
পূর্ববর্তীদ্বিতীয় আতাউর মন্ত্রিসভা
পরবর্তীতৃতীয় আতাউর মন্ত্রিসভা

তৃতীয় সরকার মন্ত্রিসভা পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পূর্ব পাকিস্তানে গঠিত অষ্টম মন্ত্রিসভা। এটি দ্বিতীয় আতাউর মন্ত্রিসভা পতনের পর বিজয়ী কৃষক শ্রমিক পার্টির আবু হোসেন সরকারের নেতৃত্বে গঠিত হয়ে তিন দিন পর্যন্ত স্থায়ী ছিল, যা তৃতীয় আতাউর মন্ত্রিসভা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

পটভূমি

[সম্পাদনা]

১৮ জুন ১৯৫৮ সালে কৃষক শ্রমিক পার্টি সহ পূর্ব পাকিস্তান আইনসভার বিরোধী দলগুলোর অনাস্থা ভোটে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয় আতাউর মন্ত্রিসভার পতন ঘটে। অনাস্থা ভোটে সরকারদলীয় ও সরকারি সমর্থক দলগুলোর মোট সমর্থন ১২৬ ও বিরোধীদলগুলোর মোট সমর্থন ১৩৮ ছিল। অনাস্থা ভোটে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত ছিল।[] এরপরের দিন প্রাদেশিক গভর্নর সুলতানউদ্দিন আহমদ কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা আবু হোসেন সরকারকে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করার জন্য প্রস্তাব করলে তিনি তা গ্রহণ করেন।[] ফলে ২০ জুনে আবু হোসেন সরকারের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট নতুন মন্ত্রিসভা শপথগ্রহণ করে। পরবর্তীতে আলোচনাসাপেক্ষে মন্ত্রিসভার সদস্য আরো বৃদ্ধি করা করার কথা ছিল।[]

পতন ও ফলাফল

[সম্পাদনা]

মন্ত্রিসভা গঠনের দিন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির পূর্ব পাকিস্তান শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ আলী ও নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির পাঁচ দফা কর্মসূচির ব্যাপারে সংসদীয় সংহতির ব্যাপারে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল।[] এরই মধ্যে আইনসভায় নতুন মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। ২১ জুনে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল হামিদ খান ভাসানী পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় আগমনের পর প্রাদেশিক রাজধানীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঢাকায় আবদুল হামিদ খান ভাসানী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের আতাউর রহমান খান ও পূর্ব পাকিস্তান কৃষক শ্রমিক পার্টির আবু হোসেন সরকার সহ শীর্ষ নেতাদের সাথে আলাপ করেন।[] ২৩ জুন অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য তারিখ নির্ধারিত হয়। এই উপলক্ষ্যে সরকার ও বিরোধীপক্ষ সমর্থন আদায়ের উদ্দেশ্যে তোড়জোড় করতে থাকে। তারা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সাথেও যোগাযোগ করেছিল।[] অবশেষে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সমর্থনের ফলে ১৪ ভোটে হেরে মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।[] তবে প্রাদেশিক গভর্নরের প্রতিবেদন অনুযায়ী পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে গভর্নরের শাসন জারি করে।[] এরপর ২৫ আগস্টে তৃতীয় আতাউর মন্ত্রিসভা প্রদেশের দায়িত্ব গ্রহণ করে।[]

সদস্য

[সম্পাদনা]

মন্ত্রিসভা নিম্নলিখিত মন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত ছিল:[]

কার্যভারমন্ত্রীদায়িত্ব গ্রহণদায়িত্ব ত্যাগদল
মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর২০ জুন ১৯৫৮২৩ জুন ১৯৫৮ কেএসপি
২০ জুন ১৯৫৮২৩ জুন ১৯৫৮ কেএসপি
কারা ও অর্থ দপ্তর২০ জুন ১৯৫৮২৩ জুন ১৯৫৮ ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ পার্টি

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী-কংগ্রেস কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার পতন"। দৈনিক আজাদ। ১৯ জুন ১৯৫৮। পৃ. ১।
  2. "গবর্ণর কর্ত্তৃক জনাব আবু হোসেন সরকার মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য আমন্ত্রিত"। দৈনিক আজাদ। ২১ জুন ১৯৫৮। পৃ. ১।
  3. 1 2 3 "পূর্ব পাকিস্থানের মুখ্যমন্ত্রীরূপে মিঃ সরকারের শপথ গ্রহণ"। যুগান্তর পত্রিকা। ২১ জুন ১৯৫৮। পৃ. ১, ৫।
  4. "ন্যাপের সমর্থন সংগ্রহের প্রশ্নে ঢাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি"। দৈনিক আজাদ। ২২ জুন ১৯৫৮। পৃ. ১।
  5. "অদ্য পরিষদের অধিবেশনে মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনা"। দৈনিক আজাদ। ২৩ জুন ১৯৫৮। পৃ. ১।
  6. "পূর্ব্ব পাকিস্তান পরিষদে আবু হোসেন মন্ত্রিসভার পরাজয়"। দৈনিক আজাদ। ২৪ জুন ১৯৫৮। পৃ. ১।
  7. "পূর্ব পাকিস্তানে দুই মাসের জন্য ১৯৩ ধারার শাসন প্রবর্ত্তন"। দৈনিক আজাদ। ২৫ জুন ১৯৫৮। পৃ. ১।
  8. "A.L. MINISTRY SWORN IN"। দ্য পাকিস্তান অবজার্ভার (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ জুন ১৯৫৮। পৃ. ১।