তৃতীয় মহম্মদ মহবত খানজী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মহম্মদ রসুল খানজী

তৃতীয় মহম্মদ মহবত খানজী (২রা আগস্ট, ১৯০০- ৭ই নভেম্বর, ১৯৫৯) জুনাগড় রাজ্যের একাদশ ও শেষ নবাব ছিলেন।

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

তৃতীয় মহম্মদ মহবত খানজী জুনাগড় রাজ্যের দশম নবাব মহম্মদ রসুল খানজীর কনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন। তাঁর মাতার নাম ছিল আয়েশা বিবি। অজমের শহরে অবস্থিত মেয়ো কলেজ থেকে তিনি উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ২২শে জানুয়ারি পিতার মৃত্যু হলে তিনি জুনাগড় রাজ্যের সিংহাসনে আসীন হন। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত তিনি রাজপ্রতিনিধি পরিষদের তত্ত্বাবধানে রাজত্ব করেন।[১]

পরিবার[সম্পাদনা]

তৃতীয় মহম্মদ মহবত খানজী ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ৭ই এপ্রিল মুনাওয়ার জাহানকে, ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল আমনা বিবিকে, ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে অক্টোবর অমন বিবিকে, ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৮ই জুলাই মোতি বিবিকে, ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ৯ই নভেম্বর দদিবা সাহিবাকে এবং ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে জুলাই সাঈদা সুলতানাকে বিবাহ করেন। তিনি মহম্মদ দিলাওয়ার খানজী, মহম্মদ হিম্মত খানজী, মহম্মদ শমসের খানজী, মহম্মদ ইকবাল খানজী, মহম্মদ সাখাওয়াত খানজী, গুলাম মহম্মদ খানজী, মহম্মদ ইউসুফ খানজী, মহম্মদ সাদিক খানজী, মহম্মদ শাহরিয়ার খানজী ও সাঈদ আলী খানজী নামক দশজন পুত্র এবং তাজ বখতে, উমরাও বখতে, ইনায়ত বখতে, রহেব বখতে, উনরাও বখতে, কুলসুম বখতে, সুলতান বখতে, নূর বখতে, জোহরা বখতে ও রাহাত বখতে নামক দশজন কন্যার জনক ছিলেন।[১]

নবাবী শাসনের বিলুপ্তি[সম্পাদনা]

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই জুলাই ভারতীয় স্বাধীনতা অধিনিয়ম ১৯৪৭ পাশ হলে ভারতপাকিস্তান নামক দুইটি রাষ্ট্রের জন্মের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দেশীয় রাজ্যগুলিকে এই দুই রাষ্ট্রে যোগ দেওয়া বা স্বাধীন থাকার মধ্যে একটি পথ বেছে নেওয়ার কথা বলা হয়।[২] তৃতীয় মহম্মদ মহবত খানজী ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই সেপ্টেম্বর পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে তাঁর রাজ্যকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেন। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জুনাগড় রাজ্যে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নেওয়া হলে তিনি ২৪শে অক্টোবর সপরিবারে পাকিস্তান চলে যান। ঐ বছর ৯ই নভেম্বর ভারতীয় আধিকারিকেরা জুনাগড় পৌঁছে রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্বভার গ্রহণ করলে নবাবী শাসনের বিলোপ ঘটে।[৩]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে তৃতীয় মহম্মদ মহবত খানজীকে দিল্লি দরবার স্বর্ণ পদক প্রদান করা হয়। তাঁকে ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দের ১৯শে জুন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাম্মানিক ক্যাপ্টেন পদ প্রদান করা হয়। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ২১শে জুলাই তাঁকে বাহিনীর মেজর পদে এবং ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই অক্টৈবর কর্ণেল পদে উন্নীত করা হয়। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে পাকিস্তান সরকারের তরফে নিশান-ই-কায়েদ-ই-আজম পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Christopher Buyers। "Junagadh, The Babi Dynasty"www.royalark.net। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৫ 
  2. "Indian Independence Act 1947 (c.30)" (PDF)Original Statute from The UK Statute Law Database। Office of Public Sector Information, National Archives, UK। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৪-৩০ 
  3. Yājñika, Acyuta; Sheth, Suchitra (2005)। The Shaping of Modern Gujarat: Plurality, Hindutva, and Beyond। Penguin Books India। পৃষ্ঠা 328। আইএসবিএন 9780144000388। সংগ্রহের তারিখ ২৬শে জানুয়ারি, ২০১৫  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
পূর্বসূরী
মহম্মদ রসুল খানজী
তৃতীয় মহম্মদ মহবত খানজী
জুনাগড় রাজ্যের একাদশ নবাব
উত্তরসূরী
---