তিরুপুর

স্থানাঙ্ক: ১১°০৭′ উত্তর ৭৭°২০′ পূর্ব / ১১.১১° উত্তর ৭৭.৩৪° পূর্ব / 11.11; 77.34
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
তিরুপুর
শহর
নোইয়াল নদী বয়ে গেছে তিরুপ্পুরের মধ্য দিয়ে
নোইয়াল নদী বয়ে গেছে তিরুপ্পুরের মধ্য দিয়ে
ডাকনাম: ভারতের হাতে বোনা পোশাক রাজধানী, টেক্সটাইল সিটি, ডলার সিটি, কটন সিটি, বানিয়ান সিটি
তিরুপুর তামিলনাড়ু-এ অবস্থিত
তিরুপুর
তিরুপুর
ভারতের তামিলনাড়ুতে অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ১১°০৭′ উত্তর ৭৭°২০′ পূর্ব / ১১.১১° উত্তর ৭৭.৩৪° পূর্ব / 11.11; 77.34
রাষ্ট্র ভারত
রাজ্যতামিলনাড়ু
জেলাতিরুপুর
সরকার
 • ধরনমেয়র-কাউন্সিল
 • শাসকতিরুপ্পুর পৌর কর্পোরেশন
 • মেয়রপদ খালি রয়েছে
 • কর্পোরেশন কমিশনারশিবকুমার[২]
আয়তন[৩]
 • শহর১৫৯.৬ বর্গকিমি (৬১.৬ বর্গমাইল)
এলাকার ক্রম8
জনসংখ্যা (২০১১)[৪]
 • শহর৮,৭৭,৭৭৮[১]
 • ক্রম8
 • মহানগর[৫]৯,৬৩,১৭৩
ভাষা
 • দাপ্তরিকতামিল
সময় অঞ্চলআইএসটি (ইউটিসি+৫:৩০)
পিন৬৪১৬xx
টেলিফোন কোড+৯১-৪২১
যানবাহন নিবন্ধনটিএন-৩৯, টিএন-৪২, টিএন-৭৮
ওয়েবসাইটtiruppur.tn.nic.in

তিরুপুর বা তিরপুর ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের একটি শহর।[৬] তিরুপ্পুর হল তিরুপুর জেলার প্রশাসনিক সদর দফতর এবং তামিলনাড়ুর অষ্টম বৃহত্তম শহর ও শহরপুঞ্জ। নোইয়াল নদীর তীরে অবস্থিত শহরটি বিভিন্ন সময়ে আদি পাণ্ড্য, মধ্যযুগীয় চোল, পরবর্তী চোল, মহীশূর রাজ্য এবং ব্রিটিশদের দ্বারা শাসিত হয়। এটি রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ের প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার (২৮০ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে, কোয়েম্বাটুরের ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) পূর্বে, এরোডের ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) দক্ষিণে ও ধরপুরামের ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) উত্তরে অবস্থিত।

তিরুপুর শহরটি পৌর কর্পোরেশন দ্বারা পরিচালিত হয়, যা ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়এবং ৬০ টি ওয়ার্ডে বিভক্ত কর্পোরেশনের মোট আয়তন ১৫৯.6 কিমি। ২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে শহরের মোট জনসংখ্যা ৮৭৭,৭৭৮ জন। তিরুপ্পুর হল তিরুপুর নির্বাচনী এলাকার একটি অংশ, যা তার সংসদ সদস্যকে নির্বাচন করে।

তিরুপুর একটি প্রধান বস্ত্র ও হাতে বোনা পোশাকের কেন্দ্র, যা ভারত থেকে তুলা দ্বারা বোনা পোশাকের মোট রফতানির ৯০% অবদান রাখে।[৭] বস্ত্র শিল্প ছয় লক্ষাধিক লোককে কর্মসংস্থান প্রদান করে এবং ২০১৪–১৫ সালে রফতানিতে ₹ ২০০ বিলিয়ন (২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) টাকার অবদান রেখেছে।[৮][৯]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

তিরুপ্পুর সঙ্গম আমলে চেরা শাসিত কঙ্গুনাড়ু অঞ্চলের একটি অংশ গঠন করে।[১০][১১] অঞ্চলটি একটি বিশিষ্ট রোমান বাণিজ্য পথের অংশ ছিল, যা ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলকে সংযুক্ত করে।[১২][১৩] মধ্যযুগীয় চোলরা খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দীতে কঙ্গুনাড়ু জয় করে এবং চোলদের প্রস্তর খোদাই কাঞ্চি মানাধি (নওয়াল নদী) ও নদীর তীরে জমা হওয়া উর্বর বালির কথা উল্লেখ করে।[১৪][১৫][১৬]

এই অঞ্চলটি ১৬ম শতাব্দীর মধ্যে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের অধীনে আসে এবং পরবর্তীকালে পলয়াক্কাররা, মাদুরাই নায়কদের প্রধানরা এই অঞ্চল শাসন করে।[১৭] আঠারো শতকের শেষভাগে, মাদুরাই নায়ক রাজবংশের সাথে একাধিক যুদ্ধের পরে অঞ্চলটি মহীশূর রাজ্যের অধীনে আসে। ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে টিপু সুলতানের পরাজয়ের পরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই অঞ্চলটিকে ১৭৯৯ সালে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সীতে অন্তর্ভুক্ত করে।

তিরুপ্পুর সেচ খামার সহ একটি কৃষি শহর ছিল এবং ১৯৭০-এর দশকে কৃষকরা বিভিন্ন বস্ত্র সম্পর্কিত কারখানার ক্ষুদ্র মালিক হন। বস্ত্র শিল্পে গঠিত ছোট ছোট আকারের ইউনিটগুলিকে একটি আন্তঃ বোনা পোশাকের নেটওয়ার্কের দিকে পরিচালিত করে, যার ফলে শহরটি একটি বড় বস্ত্র শিল্প কেন্দ্রের আকার ধারণ করে।[১৮] ২০০৮ সালে তিরুপ্পুর একটি পৌর কর্পোরেশন হয়ে ওঠে এবং ২০০৯ সালে কোয়েম্বাতুর জেলা ও এরোড জেলা থেকে পৃথক হয়ে তিরুপ্পুর জেলা গঠিত হয়।[১৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Smart City Challenge-Tiruppur"। Government of India। ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  2. "Commissioner, Tiruppur Corporation"। Tiruppur corporation। ১৯ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১১ 
  3. "About Corporation of Tirupur"। Corporation of Tirupur। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০১০ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. "Provisional Population Totals, Census of India 2011; Cities having population 1 lakh and above" (PDF)। Office of the Registrar General & Census Commissioner, India। ৭ মে ২০১২ তারিখে মূল (pdf) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মার্চ ২০১২ 
  5. "Primary Census Abstract - Urban Agglomeration"Registrar General and Census Commissioner of India। ১৫ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল (XLS) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০১৫ 
  6. "About Tirupur Corporation"। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  7. "The New Developments in Tirupur" (PDF)। Fairwear Foundation। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০১৫ 
  8. "Knitwear exports from Tirupur cross Rs 20,000 crore"। The Economic Times। ২ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০১৫ 
  9. "City Guide: Tirupur"। India Catalog.Com। ১৩ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯ 
  10. Subramanian, T. S (২৮ জানুয়ারি ২০০৭)। "Roman connection in Tamil Nadu"The Hindu। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০১১ 
  11. S. Krishnaswami Aiyangar (২০০৯)। Some Contributions of South India to Indian Culture। BiblioBazaar। পৃষ্ঠা 27। আইএসবিএন 978-1-113-17175-7। ২২ জুন ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০১৬ 
  12. "Kovai's Roman connection"The Hindu। ৮ জানুয়ারি ২০০৯। ১ জুন ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১০ 
  13. "On the Roman Trail"The Hindu। ২১ জানুয়ারি ২০০৮। ১০ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১০ 
  14. "Rivers of Tiruppur"। Government of Tamil Nadu। ৩ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  15. Vanavarayar, Shankar (২১ জুন ২০১০)। "Scripting history"The Hindu। ১০ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০১১ 
  16. M, Soundariya Preetha (৩০ জুন ২০০৭)। "Tale of an ancient road"The Hindu। ১০ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০১১ 
  17. "The land called Kongunadu"The Hindu। ১৯ নভেম্বর ২০০৫। ২৮ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০১০ 
  18. "History of Tiruppur"। tiruppur.com। ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  19. "Tiruppur district formation"। Government of Tamil Nadu। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]