তাহার হাদ্দাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
তাহর হাদ্দাদ

তাহার হাদ্দাদ (আরবি: الطاهر الحداد‎‎; ১৮৯৯ - ডিসেম্বর ১৯৩৫) একজন তিউনিসীয় লেখক, শ্রমিক কর্মী, পণ্ডিত এবং সংস্কারক ছিলেন।

হাদ্দাদ তিউনিসে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯১১ সাল থেকে ১৯২০ সাল পর্যন্ত তিনি জিতুনিয়া মসজিদে ইসলামি আইন অধ্যয়ন করেন ও সেখান থেকে স্নাতক লাভ করেন।[১] তিনি একজন নোটারি হন; তবে পরে তিনি তার কর্মজীবন ত্যাগ করে আল-দেস্তোরে যোগদান করেন, দলটি তিউনিশিয়ার জাতীয় আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী প্রথম প্রধান রাজনৈতিক দল ছিল। পরের বছর তিনি তিউনিশিয়ার ক্রমবর্ধমান শ্রমিক আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি দ্রুত আন্দোলনের একজন নেতৃস্থানীয় মুখপাত্রে পরিণত হন। তিনি নেতৃত্ব, বিশেষ করে শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি দলের নেতিবাচক মনোভাবের কারণে অসন্তুষ্ট হয়ে দল ত্যাগ করেন।[২] [৩]

হাদ্দাদ তিউনিশিয়ার প্রথম দিকের শ্রমিক আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আন্দোলনটি তিউনিশিয়ার আদিবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় ফরাসি শ্রমিক আন্দোলনের অনীহার প্রতিক্রিয়া হিসেবে আবির্ভূত হয়। তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি পরে প্রথম এবং সর্বাগ্রে একজন অগ্রগামী তিউনিশিয়ার নারীবাদী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৩০ সালে শরিয়ত ও সমাজে আমাদের নারী বইয়ে তিনি নারীদের বর্ধিত অধিকারের পক্ষে কথা বলেন এবং বলেন যে সেই সময় ইসলামের বিভিন্ন ব্যাখ্যা নারীদের জন্য প্রতিবন্ধক ছিল।[৪] তিউনিসিয়ার বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে এই প্রকাশনার প্রতিক্রিয়া প্রাথমিকভাবে কঠোর ছিল, কিন্তু নেও-দেস্তোর দল তাকে পরবর্তীকালে নারীবাদী এবং আধুনিকীকরণের সংস্কারকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নিয়োগ দেয় এবং জাতীয় আইকনে উন্নীত করে।

ফরাসি ঔপনিবেশিক সরকারের সময়, সরকার তার বন্ধু এবং সিজিটিএট শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-প্রতিষ্ঠাতাকে নির্বাসনে পাঠালেও হাদ্দাদকে কখনই নির্বাসিত করা হয়নি। অল্প সময়ের জন্য তিনি ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের নেতা ছিলেন। হাদ্দাদ যক্ষ্মা রোগে মারা যান। তার শেষের বছরগুলিতে তিনি সামাজিক আনমনা এবং বিষণ্নতায় ভুগেছিলেন, কেননা তার নারীবাদী মতামতের জন্য আইনি, ধর্মতাত্ত্বিক, কেরানি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলি কার্যত তার থেকে দূরে ছিল। এই কারণে তাকে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, তাকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। বেশ কিছু বিশিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ তাকে বিধর্মী ঘোষণা করে বেশ কয়েকটি ফতোয়া জারি করা হয়েছিল, কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে ধর্মত্যাগের অভিযোগ এনেছিল। সেই সময় তাকে বিয়ে করতেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি তিউনিশিয়া এবং বৃহত্তর আরব বিশ্বে তাকে তিরস্কার করার জন্য বেশ কয়েকটি লেখাও লিখা হয়েছিল।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The Tunisian Islamic Scholar and Activist Tahar Haddad: A Rebel Loyal to the Koran - Qantara.de"Qantara.de - Dialogue with the Islamic World (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-২৫ 
  2. "Tahar Haddad, Tunisian Social Reformer." তিউনিশিয়ার কমিউনিটি সেন্টার। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০০৯।
  3. "[]." Tunisian Workers and the Emergence of the Labor Movement.
  4. Curtiss, Richard H. "Women's Rights an Affair of State for Tunisia." মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ওয়াশিংটন রিপোর্ট। সেপ্টেম্বর/অক্টোবর ১৯৯৩, পৃষ্ঠা ৫০। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি, ২০০৯।