তারিকখানেহ মসজিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
তারিকখানেহ মসজিদ
مسجد تاریخانه
Damghan7.jpg
মসজিদের অভ্যন্তরীণ আঙ্গিনা
প্রাক্তন নামতারিকখানেহ মন্দির
সাধারণ তথ্য
ধরনধর্মীয় মাজার
স্থাপত্য রীতিসাসানীয়
অবস্থানদামগান , সেমানান প্রদেশ, ইরান
স্থানাঙ্ক৩৬°৯′৫১″ উত্তর ৫৪°২১′১৫″ পূর্ব / ৩৬.১৬৪১৭° উত্তর ৫৪.৩৫৪১৭° পূর্ব / 36.16417; 54.35417স্থানাঙ্ক: ৩৬°৯′৫১″ উত্তর ৫৪°২১′১৫″ পূর্ব / ৩৬.১৬৪১৭° উত্তর ৫৪.৩৫৪১৭° পূর্ব / 36.16417; 54.35417

তারিকখানেহ মসজিদ (ফার্সি: مسجد تاریخانه‎‎; এছাড়াও তারিকখানেহ মন্দির (ফার্সি: پرستشگاه تاریخانه‎‎) নামেও পরিচিত) হচ্ছে দামগান শহরের দক্ষিণ সীমানায় অবস্থিত একটি সাসানীয় সাম্রাজ্য রাজত্বকালের মসজিদ। ইরানের সেমানান প্রদেশের দামগানের অবস্থিত একটি মসজিদ। উঠানের চারপাশে স্থাপনার জন্য মসজিদটি বিখ্যাত। পূর্বে এটি মন্দির হিসেবে ব্যবহৃত হতো।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

এই স্থানটিতে পূর্ব-ইসলামী জোরাস্ট্রিয়ান ধর্মের লোকজন প্রার্থনা করতো। এটিকে আগুনের মন্দির বা মন্দির হিসেবে ব্যবহার করতো। এটি প্রায় ২,৩০০ বছরের পুরানো স্থাপনা। এই স্থাপনাটি প্রথমে সাসানীয় সাম্রাজ্য সময়কালে জোরোস্ট্রিয়ান অগ্নি মন্দির হিসেবে ব্যবহার করা হত। তবে সাসানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পরে এটি ৮শ শতাব্দীতে মসজিদে রূপান্তরিত হয়। এই স্থাপনাটি ইরানের প্রাচীনতম মসজিদ হিসেবে পরিচিত।[১]

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

তারিকখানেহ ফার্সি অর্থ ঐতিহাসিক। অন্যান্য নামগুলো তারিক খানহে (অন্ধকার ঘর) বা তুর্কি উৎস (যার তুর্কি কোনও অর্থ নেই) নামগুলির কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

স্থাপত্য এবং নকশা[সম্পাদনা]

এই স্থানটিতে পূর্ব-ইসলামী জোরাস্ট্রিয়ানরা প্রার্থনা করতো। এটিকে আগুনের মন্দির বা মন্দির হিসেবে ব্যবহার করতো। এটি প্রায় ২,৩০০ বছরের পুরানো স্থাপনা।

ইরান ও কোমস অঞ্চলে ইসলামের আগমনের আগে এ শহরের লোকেরা এই জায়গাটিকে জোরাস্ট্রিয়ান ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান হিসেবে ব্যবহার করতো।

মূল নকশায় একটি বর্গক্ষেত্রকার উঠান রয়েছে। সাসানীয় স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য অনুসারে উঠানটি অর্ধ-গোলাকার আকৃতির পোড়া মাটির তৈরি তোরণগুলি সারিবদ্ধভাবে বেষ্টিত। স্তম্ভগুলি ৩.৫ মিটার লম্বা এবং প্রায় ২ মিটার ব্যাসবিশিষ্ট।[২][৩]

মসজিদ থেকে কিছু দূরে একসাথে বর্গাকার কলামের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। কবে থেকে এসব রয়েছে তা সঠিকভাবে জানা যায়নি,সম্ভবত মূল নির্মাণের সময়ে নির্মিত। সেলযুক সাম্রাজ্যের সময়কালের একটি নলাকার মিনার রয়েছে। আধুনিক মিনারটি নবম শতাব্দীর পুরানো মিনারটি প্রতিস্থাপনের জন্য ১০২৬–২৯ সালে নির্মিত হয়। এবং অলঙ্করণ ছয়টি ভাগে লক্ষণীয়ভাবে বিভক্ত, প্রতিটি ভাগ পৃথক পৃথক জ্যামিতিক আকৃতির ইট দ্বারা গঠিত। মিনারটি ব্যাস ৪.২ মিটার। মিনারের শীর্ষটি হ্রাস পেয়েছে, তবে মূলত এটি ৩০ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট। সাথে খাঁজকাটা খিলানকে ধরে রাখা অংশ নিয়ে একটি গ্যালারি রয়েছে।[৪][৫][৬]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Rezaian (رضاییان), Farzin (فرزین) (২০০৭)। The Seven Auspicious Faces of Iran (هفت رخ فرخ ایران)। Green Circle (انتشارات دایره سبز)। পৃষ্ঠা 126। 
  2. Goode, Patrick (২০০৯)। The Oxford Companion to Architecture। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 467। আইএসবিএন 978-0-19-860568-3 
  3. Ernst J. Grube; James Dickie (১৯৭৮)। Architecture of the Islamic World। Thames and Hudson। আইএসবিএন 0-500-27847-4 
  4. Blair, Sheila (১৯৯১)। The monumental inscriptions from early Islamic Iran and Transoxiana। Brill Academic Publishers। পৃষ্ঠা 96। আইএসবিএন 978-90-04-09367-6 
  5. André Godard (১৯৬৫)। The Art of Iran। Praeger। এএসআইএন B0006BMOO8 
  6. O'Kane, Bernard (১৯৯৫)। Studies in Persian Art and Architecture। The American University in Cairo Press। আইএসবিএন 978-977-424-370-7 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]