বিষয়বস্তুতে চলুন

তাফসির আল-মাহাইমি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Tabsir al-Rahman wa Taysir al-Mannan bi-ba'd ma yashir ila I'jaz al-Quran
Book cover
Arabic cover
লেখকMakhdoom Ali Mahimi
মূল শিরোনামتـبـصـيـر الـرحـمـن وتـيـسـيـر الـمـنـان بـبـعـض مـا يـشـيـر إلـى إعـجـاز الـقـرآن
কাজের শিরোনামTafsir al-Mahaimi
ভাষাArabic
বিষয়Tafsir
ধরনClassical
প্রকাশিত15th century
মিডিয়া ধরনPrint
আইএসবিএন ৯৭৮-২-৭৪৫১-৬৩৮৬-৮ (Beirut, 2011)
297.1227
এলসি শ্রেণীBP130.4 M343 2011

তাবসির আল-রহমান ওয়া তাইসির আল-মান্নান বি-বাদ মা ইয়াশির ইলা ইজাজ আল-কুরআন ( আরবি: تـبـصـيـر الـرحـمـن وتـيـسـيـر الـمـنـان بـبـعـض مـا يـشـيـر إلـى إعـجـاز الـقـرآن يـشـازـيـر إلـقـى الـآن তাফসির আল-মাহাইমি নামে পরিচিত। তাফসিরটি ভারতীয় সুফি পণ্ডিত মাখদুম আলী মাহাইমি ১৫ শতকে রচনা করেন,যা কুরআনের ভাষ্য হিসেবে পরিচিত। এটি ভারতীয় উপমহাদেশে রচিত প্রাচীনতম কুরআনের তাফসীরগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসাবে বিবেচিত। এই তাফসির গ্রন্থে রহস্যময়তা , দার্শনিক তথ্য ও তত্ত্ব এবং ভাষাগত ব্যাখ্যার সমন্বয় রয়েছে। এর পদ্ধতিগত দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তীকালের বেশ কয়েকজন পণ্ডিতকে প্রভাবিত করে, যার মধ্যে শাহ আব্দুল আজিজ দেহলভী এবং আশরাফ আলী থানভী, বিশেষ করে থানভীর বায়ান আল-কুরআনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে এই তাফসির ।

পটভূমি

[সম্পাদনা]

মাহিমির কাজের পূর্ণ শিরোনাম হল তাবসির আল-রহমান ওয়া তাইসির আল-মান্নান বাদ মা ইউশিরু ইলা ই'জাজ আল-কুরআন, তবে এর সংক্ষেপে এর নাম তাফসির আল-মাহাইমি নামে পরিচিত। [] এই তাফসিরে- আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আজিজ আল-সিজিস্তানীর একটি সহায়ক পাঠ, নুজহাত আল-কুলুব ফি তাফসির গারিব আল-কুরআন, এর অবশিষ্ট অংশ পাণ্ডুলিপির শেষের দিকে পাওয়া যায়। [] ভাষ্যটি আন্দালুসীয় মরমী ব্যক্তি ইবনে আরাবীর প্রভাব প্রদর্শন করে এবং সুফিবাদ, যুক্তিসঙ্গত বিশ্লেষণ এবং ধর্মতাত্ত্বিক প্রতিফলনের উপাদানকে একীভূত করে। []

ভোপাল রাজ্যের প্রশাসক মুহাম্মদ জামাল আল-দীন দেহলভীর পৃষ্ঠপোষকতায় মিশরের বুলাক প্রেসে এই তাফসিরটি মুদ্রিত হয়। তার সহযোগী মুহাম্মদ হুসেন ফকির দেহলভীকে প্রকাশনার দেখাশুনা ও তদারকির জন্য মিশরে পাঠানো হয়। []

মাহিমির তাফসিরের ব্যাখ্যামূলক পদ্ধতি পরবর্তীকালে দক্ষিণ এশীয় মুফাসসিরদের প্রভাবিত করে। তাদের মধ্যে রয়েছে, শাহ আব্দুল আজিজ। যিনি কুরআনের সুসংগঠিত রীতির (নাজম) উপর মাহিমির পদ্ধতি গ্রহণ করেন, অন্যদিকে আশরাফ আলী থানভী, হুসেন আলী, হামিদুদ্দিন ফারাহী, গোলাম উল্লাহ খান এবং আমিন আহসান ইসলাহী তাদের নিজস্ব লেখায় মাহিমির ব্যাখ্যামূলক পদ্ধতির দিকনির্দশনা অন্তর্ভুক্ত করেন। []

বিষয়বস্তু এবং পদ্ধতি

[সম্পাদনা]

মাহিমি কুরআনের বিষয়গত এবং কাঠামোগত সাদৃস্য (নাজম) এর উপর জোর দেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন যে, প্রতিটি সূরার মধ্যে আয়াতগুলো কীভাবে একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা গঠনের জন্য সংযুক্ত হয়। [] তিনি এই পদ্ধতিটি বিসমিল্লাহ এবং বিচ্ছিন্ন অক্ষর (হুরুফ আল-মুকাত্তা'আত) পর্যন্ত প্রসারিত করেন। তার ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করেছে প্রতিটি সূরা তাদের নিজ নিজ বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কিত। তবে, তার পদ্ধতি মূলত কুরআনের সামগ্রিক কাঠামোর পরিবর্তে সূরার অভ্যন্তরীণ ঐক্যের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে। []

তাঁর তাফসিরে অধ্যয়ন এবং অর্থের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংযোগ বজায় রাখা হয়েছে, যার ফলে ব্যাখ্যার একটি স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। যেখানে কুরআনের শব্দ থেকে সরাসরি বোধগম্যতা বেরিয়ে আসে পাঠক-শ্রোতার কাছে। প্রতিটি সূরায়, তিনি বর্ণিত নামগুলো লিপিবদ্ধ করেন, অয়াতের অর্থ অনুসন্ধান করেন এবং কেন্দ্রীয় বিষয় (মাকসাদ) চিহ্নিত করেন- যার চারপাশে আয়াতগুলোর সংগঠিত ঐক্য রয়েছে। মাহিমি প্রতিটি সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহর একটি প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যাও উপস্থাপন করেন এবং সুরার সাথে সাদৃশ্য গঠন করেন। []

যখন আয়াতগুলো তেলাওয়াত করতে দেখা যায়, তখন তিনি এগুলোর প্রাসঙ্গিক উদ্দেশ্য তুলে ধরার জন্য স্বতন্ত্র ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। বিচ্ছিন্ন অক্ষরগুলোর (হরফে মোহকামাত) অর্থ অনুধাবন একইভাবে সূরার বিচ্ছিন্ন প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করার পরিবর্তে বিষয়ভিত্তিক বিষয়বস্তুর সাথে সংযুক্ত করা হয়। []

গঠনশৈলীর দিক থেকে, মাহিমি পূর্ববর্তী ভাষ্যে পাওয়া দীর্ঘ ব্যাকরণগত এবং অলঙ্কৃত বিতর্ক এড়িয়ে গেছেন। তিনি বিষয়গত অর্থ এবং আধ্যাত্মিক প্রতিফলনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, শুধু প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রেই বর্ণনা করেছেন হাদিস। ঐতিহাসিক প্রতিবেদন এবং দার্শনিক অন্তর্দৃষ্টি ব্যবহার করেছেন। কুরআনের গল্পগুলো সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত হয় এবং তাদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়। []

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. al-Muhammadi, Muhammad Muslih Mahdi (২০১৮)। "The Renown Interpreter Ali Al-Maha'ami: His Life, Personality, And Scientific Status Among Scientists"Al-Qanatir১২ (1): ৪৯।
  2. 1 2 Zubair, Hafiz Muhammad; Rehman, Zia ur (২০১৯)। ""Tafsir-e-Mahaimi" Research and Analytical Studies"The Islamic Culture (উর্দু ভাষায়) (41): ১০৮–১০৯। ডিওআই:10.46568/tis.v0i41.564আইএসএসএন 2663-1709 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে ":0" নামটি একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  3. Tareen, SherAli (২০২০)। "South Asian Qur'an Commentaries and Translations: A Preliminary Intellectual History"ReOrient (ইংরেজি ভাষায়)। (2): ২৩৬। ডিওআই:10.13169/reorient.5.2.0233আইএসএসএন 2055-561X
  4. Zubair ও Rehman 2019, পৃ. 117।
  5. Zubair ও Rehman 2019, পৃ. 109–110।
  6. 1 2 3 Zubair ও Rehman 2019, পৃ. 116।
  7. Zubair ও Rehman 2019, পৃ. 112–113।

বাহ্যিক লিঙ্কগুলি

[সম্পাদনা]