বিষয়বস্তুতে চলুন

তরিকা-ই-মুহাম্মদীয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
তরিকা-ই-মুহাম্মদিয়া
নেতাতিতুমীর
অপারেশনের তারিখ১৮৩০ (সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে)
ভাঙন১৮৩০ (সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে)
দেশবেঙ্গল প্রেসিডেন্সি
উদ্দেশ্যবাংলায় একটি স্বতন্ত্র ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
সদরদপ্তরনারিকেলবাড়িয়া
মতাদর্শ
অবস্থানিষ্ক্রিয়
আকার১০০০ এর অধিক
মিত্রসৈয়দ আহমদ বেরলভির সশস্ত্র দল
বিপক্ষইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
খণ্ডযুদ্ধ ও যুদ্ধবাদুড়িয়া যুদ্ধ
নারিকেলবাড়িয়া অবরোধ
বাঁশের কেল্লার যুদ্ধ
তিতুমীর বিদ্রোহ
পূর্বসূরী
সৈয়দ আহমদ বেরলভির সশস্ত্র দল

তরিকা-ই-মুহাম্মদীয়া ছিল উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ভারতীয় উপমহাদেশে উদ্ভূত একটি ইসলামি সংস্কারমূলক, পুনর্জাগরণমূলক ও সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন। আন্দোলনটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ শাসিত তৎকালীন মুসলিম সমাজে তাওহিদনবি মুহাম্মদের সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা করা এবং ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম অব্যাহত রাখা।[][]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

আন্দোলনটির সূচনা ঘটে যখন বাংলার মুসলিম নেতা ও ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী সৈয়দ মীর নিসার আলী উরফে তিতুমীর হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় গমন করেন এবং সেখানে সৈয়দ আহমদ বেরেলভীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সৈয়দ আহমদ বেরলভী তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশে একজন ইসলামি চিন্তাবিদ ও জিহাদের প্রবর্তক ছিলেন, যিনি উত্তর ভারতে ব্রিটিশ ও শিখদের বিরুদ্ধে ইসলামি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তিতুমীর তার চিন্তাধারায় গভীরভাবে প্রভাবিত হন এবং তাঁর কাছ থেকে ইসলামি আদর্শ ও সংগ্রামের দীক্ষা গ্রহণ করেন। মক্কা থেকে ফিরে এসে তিতুমীর বাঙালি মুসলিম সমাজে একটি নতুন চিন্তার বিস্তার ঘটান এবং তিনি সৈয়দ আহমদ বেরলভির আদর্শ অনুসরণে নিজ অঞ্চলে তরিকা-ই-মুহাম্মদিয়া আন্দোলনের সূচনা করেন।[]

তরিকা-ই-মুহাম্মদীয়া কেবলমাত্র ধর্মীয় সংস্কারমূলক আন্দোলনই ছিল না; বরং এটি ছিল একটি সুশৃঙ্খল সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন, যা ধর্মীয় বিশুদ্ধতার সাথে সাথে রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবি করে। আন্দোলনটি স্থানীয় বাঙালি হিন্দু জমিদারদের অন্যায় কর ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং সমাজে চলমান ধর্মীয় বিদআত ও কুসংস্কার বিরোধী গণআন্দোলনে পরিণত হয়। আন্দোলনের মাধ্যমে তিতুমীর বাংলায় একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ বাহিনী গঠন করেন এবং নীলকর, জমিদার ও ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে নামেন। তিনি নারিকেলবাড়িয়া নামক স্থানে একটি কেল্লা নির্মাণ করেন, যা "বাঁশের কেল্লা" নামে পরিচিত। এখান থেকেই তিনি নিজের সংগঠিত বাহিনী নিয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করতেন। যদিও ১৮৩১ সালে ব্রিটিশ বাহিনীর হাতে তিতুমীর শহীদ হন এবং তাঁর দুর্গ ধ্বংস করা হয়, তবে তরিকা-ই-মুহাম্মদিয়া আন্দোলন মুসলিমদের মাঝে একটি সামাজিক ও ধর্মীয় জাগরণ সৃষ্টি করে।[]

এই আন্দোলন পরবর্তীকালে দেওবন্দি, আহলে হাদীস ও অন্যান্য ইসলামি গোষ্ঠীর চিন্তাধারায় প্রভাব ফেলে। []

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Tariqah-i-Muhammadiya - Banglapedia"en.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪
  2. Hasan, Mubashar (২০১৭)। "South–South Migration and Security Risks: Political Islam and Violent Extremism in the Shadow of Globalisation in Bangladesh"India Quarterly৭৩ (3): ৩১৬–৩১৭। ডিওআই:10.1177/0974928417716208আইএসএসএন 0974-9284জেস্টোর 48505544। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০২৫
  3. 1 2 3 "Tariqah-i-Muhammadiya - Banglapedia"en.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০২৫