তত্ত্ববোধিনী সভা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

তত্ত্ববোধিনী সভা হল ব্রাহ্মধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সমিতি। রামমোহন রায়ের মৃত্যুর পর ব্রাহ্ম সমাজ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়লে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর একে পুনরুজ্জীবিত করেন এবং এর প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৩৯ সালের ৬ অক্টোবর তত্ত্বরঞ্জিনী সভা প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ এই সভার দ্বিতীয় অধিবেশনে সভার নতুন নামকরণ করেন তত্ত্ববোধিনী সভা। সকল হিন্দুশাস্ত্রের নিগূঢ তত্ত্ব এবং বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার ছিল এ মুখ্য উদ্দেশ্য। ১৮৪২ সালে তত্ত্ববোধিনী সভা ও ব্রাহ্মসমাজ সমম্বিত হয় এবং তত্ত্ববোধিনী সভা ব্রাহ্মসমাজ পরিচালনা ও ব্রাহ্মধর্ম প্রচারের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এ সভা তখন ভারতীয় জনগণকে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষা দেওয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে।

ব্রাহ্মধর্ম প্রচারকল্পে তত্ত্ববোধিনী সভা তিনটি পন্থা অবলম্বন করে: তত্ত্ববোধিনী পাঠশালা স্থাপন, তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ও গ্রন্থপ্রকাশ এবং বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রাহ্মধর্মের প্রচারকল্পে তরুণ পণ্ডিতদের দ্বারা বেদাদি শাস্ত্রগ্রন্থের অধ্যয়ন ও সংগ্রহ। প্রথম পর্যায়ে বংশবাটী গ্রামে একটি পাঠশালা প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলা ও বাংলার মাধ্যমে সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষার অধ্যয়ন এবং ধর্মগ্রন্থাদি পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করা হয়। ১৮৪৩ সালে পাঠশালাটি হুগলির ববাঁশবেড়িয়ায় স্থানান্তরিত হয়। এ বছরেরই ১৬ আগস্ট সভার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়। এদিন অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা । এ সময় হতে ব্রাহ্মধর্ম বিষয়ক পুস্তকাদিও প্রকাশিত হতে থাকে। সভার তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয় ১৮৪৫ সাল থেকে। এ সময় চতুর্বেদ অধ্যয়নের জন্য আনন্দচন্দ্র বিদ্যাবাগীশসহ চারজন ছাত্রকে বারাণসীতে পাঠানো হয়।

তত্ত্ববোধিনী সভা ব্রাহ্মধর্মের প্রচার ছাড়াও বাঙালিদের আধুনিক শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য বিষয়ে জ্ঞানদানের উদ্যোগ গ্রহণ করে। তাঁদের ধর্ম আন্দোলনেও যুক্তিনির্ভর পরিশীলিত মানসিকতার প্রকাশ ঘটে। এসব কারণে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের মতো রক্ষণশীল এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো আধুনিক মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিত্বও তত্ত্ববোধিনী সভার সঙ্গে যুক্ত হন।

এক সময় সভার প্রতিষ্ঠাতা দেবেন্দ্রনাথের ধর্মমতের পরিবর্তন ঘটে এবং তাঁর সঙ্গে সভার পরিচালকদের অনেক বিষয়ে মতানৈক্য হয়। এর ফলে ১৮৫৯ সালের মে মাসে তত্ত্ববোধিনী সভা উঠে যায় এবং পত্রিকা পরিচালনা ও গ্রন্থাদি প্রকাশনার ভার পড়ে কলকাতা ব্রাহ্মসমাজের ওপর।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ-শিবনাথ শাস্ত্রী, নিউ এজ্‌ পাবলিসার্স পাঃ লিঃ