বিষয়বস্তুতে চলুন

ঢিঁডো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ঢিঁডো
নেপালে থকালি রেস্তোরাঁয় ঢিঁডো থালি
প্রকারখাবার
অঞ্চল বা রাষ্ট্রনেপাল
প্রধান উপকরণপানি, ভুট্টা, গম, ঢেমশি, জোয়ার

ঢিঁডো (নেপালি: ढिँडो) হল নেপালে তৈরি একটি প্রচলিত ও নেপালের জাতীয় খাবার। এটি ভুট্টা, গম, জোয়ার বা ঢেমশির আটা দিয়ে তৈরি করা হয়। এটি একটি স্বাস্থ্যকর এবং সবার জন্য সহজলভ্য খাবার। আটাকে ফোটানো পানিতে ধীরে ধীরে যোগ করে নাড়তে নাড়তে এটি প্রস্তুত করা হয়৷ বিশেষ করে নেপালের পাহাড়ি এলাকা এবং ভারতের সিক্কিম ও দার্জিলিং অঞ্চল সহ এটি নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রধান খাবারগুলোর একটি৷[] বর্তমানে এটি নেপালের প্রধান খাবার হলেও ঢিঁডো একসময় ভাতের তুলনায় কম মর্যাদাপূর্ণ খাবার হিসেবে ধরা হতো এবং নিম্ন সামাজিক অবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল।[] শহরে রেস্তোরাঁর মেন্যুতে ঢিঁডোকে অন্তর্ভুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে এই খাবারের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।[] ঢিঁডোর জনপ্রিয়তা নেপাল ছাড়িয়ে, বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।[]

এই খাবারটি তৈরি করতে কিছু বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন। যদি এটি সঠিকভাবে তৈরি করা না হয়, তবে এটি কিছুটা অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। এই খাবারটি বহুমূত্ররোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ইউরিক অ্যাসিডজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। শহরের রেস্তোরাঁর মেনুতে ঢিঁডো যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর মর্যাদাও বেড়েছে, যা সম্ভবত নেপালের দেশি শস্যের প্রতি পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গির ফল; এখন এগুলোকে পুষ্টিগুণের দিক থেকে বিশেষভাবে মূল্যবান বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।[][]

প্রস্তুতি এবং পরিবেশন

[সম্পাদনা]

ঢিঁডো তৈরি করতে সাধারণত পানি ও আটা প্রায় তিন-এক অনুপাতে মেশানো হয়। রান্নার সময়, ঢিঁডোতে ঘি, রসুন, লবণ বা চিনি যোগ করা যেতে পারে, অথবা রান্নার পর ঘি আলাদাভাবে পরিবেশন করা যেতে পারে। আটা ধীরে ধীরে ফুটন্ত পানিতে যোগ করা হয় এবং মিশ্রণটি কঠিন হওয়া পর্যন্ত জোরালোভাবে নাড়া হয়।[][] ঢিঁডো তৈরির প্রক্রিয়াকে নেপালি ভাষা মস্কাউনে (নেপালি: मस्काउने) বলা হয়।

ঢিঁডো সাধারণত ভূট্টা বা জোয়ারের আটা দিয়ে তৈরি করা হয়। এটি মূলত গরম পানি ও পেষা শস্যের একটি সরল মিশ্রণ হওবার কারণে যেকোনো প্রকারের আটা দিয়ে ঢিঁডো তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে৷ ইচ্ছা করলে ঢিঁডোতে কাটা খসির মাংস, অথবা নরম ছুর্পির ছোট টুকরা বা গুঁড়োও যোগ করা যেতে পারে।[]

ঢিঁডো প্রস্তুতের জন্য বেছে নেওয়া রান্নার পাত্র হল ফালামে তাপকে (লোহার প্যান) বা কড়াইকাঠ চামচ যা দাবিলো (दाबिलो) নামে পরিচিত পাত্র ঢিঁডো ঘন হওয়ার সময় নাড়াতে ব্যবহার করা হয়। ঢিঁডো খাওয়া হয় আঙুল দিয়ে একটি ছোট বল তৈরি করে৷ এটি কোনও তরলে (ডাল স্যুপ, মাংসের স্যুপ, দুধ বা গুন্দ্রুক) ডুবিয়ে এবং চাবানো ছাড়াই গিলে ফেলা হয়। এটি সাধারণত আচার, ডাল, গুন্দ্রুক ও বিভিন্ন মাংস এবং তরকারির সাথে পরিবেশিত হয়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "What is Dhido" [ঢিঁডো কি?]উই অল নেপালি ডট কম। উই অল নেপালি। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০১৪
  2. উপ্রিতি, অরুণা। "Dhido economy" [ঢিঁডোর অর্থনীতি]নেপালি টাইমস। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০২০
  3. খনল, কল্পনা (৩০ মার্চ ২০১৭)। "Dhindo, a Traditional Buckwheat Porridge, Gains Popularity at Kathmandu Restaurants" [কাঠমান্ডুর রেস্তোরাঁগুলিতে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গমের মণ্ড, ঢিঁডো]গ্লোবাল প্রেস জার্নাল। গ্লোবাল প্রেস জার্নাল। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০২০{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)
  4. "ढिँडो कसरी बनाउने"। Weallnepali। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০১৪
  5. ढिँडो बनाउने तरिका ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১২-০৩-০৪ তারিখে
  6. GC, Arun। "Future Smart Food: Rediscovering the hidden treasures of neglected crops to achieve Zero Hunger by 2030"Kathmandu Post (English ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০২০{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  7. "How to make Dhido"weallnepali.com। Weallnepali। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০১৪
  8. "Dhido"Nepali Australian। ২০ এপ্রিল ২০১৭। ২৭ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০২০
  9. "Dhindo"Taste Atlas। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মার্চ ২০২০