ঢাকাদক্ষিণ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ঢাকাদক্ষিণ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নে অবস্থিত। এটি ১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি গোলাপগঞ্জ উপজেলার প্রাচীনতম বিদ্যালয়।

ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বহিঃচিত্র।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

চিত্র:Rmonogram.jpg
বিদ্যালয়ের মনোগ্রাম

ঊনবিংশ শতকের শেষ দিকে ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষের জনগণ আধুনিক শিক্ষা-দীক্ষায় অত্যন্ত অনগ্রসর ছিল। ঢাকাদক্ষিণ এলাকাও এর ব্যতিক্রম ছিল না। শুধুমাত্র জেলা শহরগুলিতে কিছুসংখ্যক স্কুল তৎকালীন ঔপনিবেশিক শাসকদের দ্বারা এবং কিছু স্কুল স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় গোলাপগঞ্জের পার্শ্ববর্তী থানাসমূহেও কোন ইংরেজি স্কুল ছিল না। এরূপ অবস্থার প্রেক্ষিতে স্থানীয় কিছু সংখ্যক বিদ্যোৎসাহী ও দূরদর্শী ব্যক্তি অত্র অঞ্চলে আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ১৮৯৮ সালে ঢাকাদক্ষিণ পরগনার দত্তরাইল গ্রামে দত্তরাইল মিডল ইংলিশ স্কুল নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়ের রেকর্ড-পত্রে প্রতিষ্ঠাতা ব্যক্তিবর্গের মধ্যে রায় বাহাদুর প্রকাশ চন্দ্র দেব চৌধুরী, কালী কৃষ্ণ দত্ত চৌধুরী, মৌলভী বাহা উদ্দিন চৌধুরী প্রমূখের নাম পরিলক্ষিত হয়। ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়টি মিডল ইংলিশ স্কুল হিসেবে উত্তর পূর্ব সিলেটে শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।

উল্লেখ্য যে, ১০/০৩/১৯৩৮ সালে নীরদ নাথ দাস-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের এক সভায় মৌলভী মোজাহিদ আলী চৌধুরীর প্রস্তাবে ১৯৩৯ সাল থেকে বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণী খোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষা বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের নিকট সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণী খোলার অনুমতি প্রার্থনা করেন। কিন্তু ডেপুটি ইন্সস্পেক্টর উত্তর সিলেট, ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ১১/১২/১৯৪১ সালে পত্র মারফত এ আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে ১৮/০৩/৪৪ সালে ঢাকাদক্ষিণ পরগনার বিভিন্ন গ্রামের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ একসভায় মিলিত হয়ে ১৯৪৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে বিদ্যালয়টিকে একটি হাই ইংলিশ স্কুলে পরিণত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং ডি,পি,আই, আসামের নিকট আবেদনপত্র প্রেরণ করেন।

১৯৪৪ সালে বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণী ও ১৯৪৫ সালে অষ্টম শ্রেণী খোলা হয়। ১৯৪৬ সালে ৯ম শ্রেণী এবং ১৯৪৭ সালে ১০ম শ্রেণী খোলা হয়। একই বৎসর কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ১২/০৩/৪৭ সালে এক পত্র মারফত ১/১/৪৭ সাল থেকে পরবর্তী (দুই) বৎসরের জন্য বিদ্যালয়টিকে উচ্চ ইংরেজি স্কুল হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করেন।

১৯৯৮ সাল থেকে মানবিক শাখা ছাড়াও বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও কৃষি বিজ্ঞান শাখা চালু করা হয়। এ সময় থেকে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয় ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়, দত্তরাইল। ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয়ে উচ্চ-মাধ্যমিক (বিজ্ঞান ও মানবিক) শাখা চালু করা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]