ডোরা মুনো নিয়াম্ব
ডোরা মুনো নিয়াম্বে (২৩ জুন ১৯৯২[১][২] – ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪) ছিলেন একজন জাম্বীয় মানবতাবাদী, শিক্ষাবিদ এবং টিকটকার, যিনি গ্রামীণ জাম্বিয়ার শিশুদের নিয়ে তার কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন।
জীবনী
[সম্পাদনা]নিয়াম্বে একজন দক্ষিণ আফ্রিকান মা এবং জাম্বীয় বাবার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জাম্বিয়ার লুসাকার চিবোম্বোতে বড় হয়ে ওঠেন। অল্প বয়সেই তিনি বিদেশি ধর্মপ্রচারকদের সংস্পর্শে আসেন এবং বিদেশিদের সাহায্য প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলো উপলব্ধি করেন। নিয়াম্বে প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ইএসএল (দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি) শিক্ষক হিসেবে সনদপ্রাপ্ত হন এবং চীনে শিক্ষকতা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। ২২ বছর বয়সে তিনি তার প্রথম সন্তান দত্তক নেন।
নিয়াম্বে ২০১৯ সালে প্রথম জাম্বিয়ার মুকুশির মাপাপাতে যান, একজন বন্ধুর পরিবারের সাথে দেখা করতে। তিনি "স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদের সংখ্যা এবং বাল্যবিবাহ ও কিশোরী গর্ভধারণের উচ্চ হার দেখে হতবাক" হয়েছিলেন। সেই সময়ে নিয়াম্বের পাঁচজন দত্তক সন্তান ছিল, যাদের মধ্যে তিনজন ছিল কিশোর-কিশোরী।
২৭ বছর বয়সে নিয়াম্বে তার সন্তানদের নিয়ে মাপাপাতে চলে আসেন।[৭] তাকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নেতিবাচক মনোভাব এবং তার নতুন বাসস্থান, একটি মাটির কুঁড়েঘরে উইপোকার উপদ্রবসহ একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। মাপাপাতে নিয়াম্বে 'ফুটপ্রিন্টস অফ হোপ' নামে একটি দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন এবং একটি স্কুল স্থাপন করেন। ২০২৩ সালের মধ্যে স্কুলটিতে ১৫০ জন আবাসিক ছাত্রসহ ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল এবং এতে শ্রেণিকক্ষ, একটি গ্রন্থাগার, একটি খাবারের হল এবং ছাত্রাবাস অন্তর্ভুক্ত ছিল। স্কুলটি ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত চলে, এই বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারকে কৃষিকাজে সহায়তা করে। সময়ের সাথে সাথে নিয়াম্বের কার্যক্রম স্থানীয়দের মধ্যে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, যারা শিশুদের উপর এর ইতিবাচক প্রভাবগুলো উপলব্ধি করতে পারে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি তার কাজের জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা সরকারি সহায়তা পাচ্ছিলেন না।
তিনি মোট ১৩টি শিশুকে দত্তক নিয়েছিলেন এবং তার ১৫০ জন আবাসিক ছাত্রীর অভিভাবকত্ব পালন করেছিলেন।[১১][১০] শিক্ষা উদ্যোগের পাশাপাশি, নিয়াম্বে তার ছাত্রীদের বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রেও হস্তক্ষেপ করতেন, কখনও কখনও একটি শিশুর বিয়ের জন্য পরিবারগুলোর খরচ করা টাকাও তিনি ফেরত দিতেন। তিনি তার ছাত্রীদের নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নিয়েছিলেন।
নিয়াম্বের গল্প নিয়ে জোসেফ শ্মিট 'আন্ডার আ জাম্বিয়ান ট্রি' নামে একটি বই লেখেন, যা ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়।
নিয়াম্বে ২০২২ সালের ২৫শে ডিসেম্বর ভোররাতে ৩২ বছর বয়সে মারা যান। তাকে মাপাপায় তার স্কুলের প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়। তার স্কুলের একজন শিক্ষকের মতে, নিয়াম্বে ২৪শে ডিসেম্বর অসুস্থ বোধ করেন এবং একাধিকবার জ্ঞান হারানোর পর নিজেই একটি স্থানীয় ক্লিনিকে যান; তাকে কাছের একটি হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়।
অনলাইন উপস্থিতি
[সম্পাদনা]২০২০ সালের মে মাসে, তার এক মেয়ের উৎসাহে, নিয়াম্বে টিকটকে তার কাজ সম্পর্কে পোস্ট করা শুরু করেন এবং তার কিছু প্রাথমিক ভিডিও ভাইরাল হয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তার ৭০০,০০০-এরও বেশি ফলোয়ার ছিল। ২০২৩ সালের মধ্যে তার ৪ মিলিয়ন ফলোয়ার হয় এবং তিনি শিশুদের শিক্ষার জন্য প্রায় ৫০০,০০০ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেন। নিয়াম্বের পোস্ট করা একটি গোফান্ডমি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তার দর্শকরা গ্রামের মানুষের জল পাওয়ার জন্য নলকূপ স্থাপনের জন্য ৫৮,০০০ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেন।
নিয়াম্বেকে তার অ্যাকাউন্টের জন্য মাঝে মাঝে সমালোচিত হতে হয়েছিল, উভয়ই জাম্বিয়ার নাগরিকদের দ্বারা যারা অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি দেশটির সম্পর্কে গতানুগতিক ধারণা প্রচার করছেন এবং বিদেশীদের দ্বারা যারা বলেছিলেন যে তার বিষয়বস্তু ছিল "চ্যারিটি পর্ন"।[১০] তিনি এই অভিযোগগুলোর জবাবে বলেন যে তিনি তার ছাত্রীদের দুর্ভোগকে কাজে লাগানোর পরিবর্তে, তাদের অর্জন এবং "সঠিক পুষ্টি, শিক্ষা, যত্ন ও ভালোবাসার মাধ্যমে আসা ভালোর" উপর মনোযোগ দিয়েছেন।