ডেভিড ও’সালিভান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ডেভিড ও’সালিভান
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামডেভিড রবার্ট ও’সালিভান
জন্ম (1944-11-16) ১৬ নভেম্বর ১৯৪৪ (বয়স ৭৬)
পালমারস্টোন নর্থ, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১২৫)
৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩ বনাম পাকিস্তান
শেষ টেস্ট২৬ নভেম্বর ১৯৭৬ বনাম ভারত
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১৬)
৩০ মার্চ ১৯৭৪ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ ওডিআই১৬ অক্টোবর ১৯৭৬ বনাম পাকিস্তান
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৭১ - ১৯৭৩হ্যাম্পশায়ার
১৯৭২ - ১৯৮৫সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস
১৯৭৪ - ১৯৭৭ডারহাম
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১১ ১৩৬ ৫৩
রানের সংখ্যা ১৫৮ ২,১৭৪ ২৬১
ব্যাটিং গড় ৯.২৯ ২.০০ ১৫.৪১ ১০.৮৭
১০০/৫০ ০/০ ০/০ ০/৩ ০/৩০
সর্বোচ্চ রান ২৩* * ৭০* ৩২
বল করেছে ২,৭৪৪ ১৬৮ ৩৬,৫৫৮ ১,৫০৩
উইকেট ১৮ ৫২৩ ৫৬
বোলিং গড় ৬৮.০০ ৬১.৫০ ২৫.৯১ ২৬.৮৩
ইনিংসে ৫ উইকেট ২৮
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৫/১৪৮ ১/৩৮ ৬/২৬ ৪/১৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/– ০/– ৪৬/– ১২/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১ এপ্রিল ২০২০

ডেভিড রবার্ট ও’সালিভান (ইংরেজি: David O'Sullivan; জন্ম: ১৬ নভেম্বর, ১৯৪৪) পালমারস্টোন নর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম ও হ্যাম্পশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন ডেভিড ও’সালিভান

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

পালমারস্টোন নর্থে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন ডেভিড ও’সালিভান। পালমারস্টোন নর্থ বয়েজ হাই স্কুলে পড়াশুনো করেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে হক কাপে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় ক্রিকেট দল মানাওয়াতুর পক্ষে বামহাতি স্পিন বোলার হিসেবে খেলতে শুরু করেন।

১৯৭০ সালে ইংল্যান্ডে চলে যান। সেখানে হ্যাম্পশায়ার দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেন। ১৯৭১ সালে ১৪.৮০ গড়ে ৫০ উইকেট লাভ করেন। কাউন্টি দলটির দ্বিতীয় একাদশের চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে প্রধান মেরুদণ্ডকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এ পর্যায়ে দলটি পুরো মৌসুমে অপরাজিত অবস্থায় ছিল।[১]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৭১ সাল থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত ডেভিড ও’সালিভানের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৭১ সালে হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। সফররত ভারতীয় একাদশের বিপক্ষে খেলায় ৬৪.৪ ওভার বোলিং করেন। বোলিংয়ে নেমে ৫/১১৬ ও ৩/২৭ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান।[২] ১৯৭২ সালে বড়দের দলে খেলার জন্যে হ্যাম্পশায়ার কর্তৃপক্ষ তার সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়।

১৯৭২ সালে মাঝারিমানের খেলা উপহার দেন। হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে ১১টি খেলায় অংশ নিয়ে ২৯.৮৬ গড়ে ২৯ উইকেট লাভ করেন। ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডে তিনি তার প্রথম প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলোয় অংশ নিয়েছিলেন। প্লাঙ্কেট শীল্ডে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে পাঁচটি খেলায় অংশ নিয়ে ২২.৭৩ গড়ে ১৯ উইকেট দখল করেন। ১৯৭৪-৭৫ ও ১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে দূর্দান্ত খেলা উপহার দেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে এগারোটি টেস্ট ও তিনটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন ডেভিড ও’সালিভান। ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে ডুনেডিনে সফরকারী পাকিস্তান দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২৬ নভেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে চেন্নাইয়ে স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

ঘরোয়া ক্রিকেটে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ জানুয়ারি, ১৯৭৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত কোকা-কোলা নক-আউট কাপে খেলার জন্যে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। সেমি-ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিজয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা পালন করেন। আট বলে গড়া আট ওভারে ৪/২৬ পান ও ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এরপর, চূড়ান্ত খেলায় ছয় ওভারে ৩/২৯ পান। এবারও তার দল বিজয়ী হয় ও প্রতিযোগিতার শিরোপা জয় করে।[৩]

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ডেভিড ও’সালিভানের অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৯৬৯ সালে নিউজিল্যান্ড দলের প্রধান স্পিন বোলার হ্যাডলি হাওয়ার্থের সাথে একত্রে খেলেন। খেলায় তিনি কোন উইকেটের সন্ধান পাননি ও তার দল ইনিংস ব্যবধানে পরাভূত হয়। ফলশ্রুতিতে, তৃতীয় টেস্টে অংশগ্রহণ করা থেকে তাকে বিরত রাখা হয়।

১৯৭৩ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাকে দলে রাখা হয়নি। তার পরিবর্তে এরিক জিলটকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। ফলশ্রুতিতে, হ্যাম্পশায়ার দলে প্রত্যাবর্তন করেন। দলের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন। ১৩ খেলায় ২০.৫৯ গড়ে ৪৭ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে খেলায় ৪১ রান খরচায় ১১ উইকেট পেয়েছিলেন।[৪] ১৯৭৪ সালের জন্যেও হ্যামশায়ার কর্তৃপক্ষ তাকে দলে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু, তার পরিবর্তে দলের দ্বিতীয় বিদেশী খেলোয়াড় অ্যান্ডি রবার্টসের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়।[৫] ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৭ সময়কালে ডারহামের পক্ষে মাইনর কাউন্টিজ চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নেন।

১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে হ্যাডলি হাওয়ার্থের অনুপস্থিতিতে ডেভিড ও’সালিভানকে টেস্ট দলে প্রধান স্পিনার হিসেবে রাখা হয়।[৬] প্রথম টেস্ট শুরুর পূর্বে চারটি রাজ্য দলীয় খেলায় ৫৬.০০ গড়ে মাত্র পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন। তাসত্ত্বেও, তিন টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই তার অংশগ্রহণ ছিল। প্রথম টেস্টে কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। দ্বিতীয় টেস্টে তাকে বোলিং করানো হয়নি। তৃতীয় টেস্টে আট-বল নিয়ে গড়া ওভারের ৩৫.৫ ওভার বোলিং করে ৫/১৪৮ পান। তবে, অস্ট্রেলিয়া দল ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।[৭] নিউজিল্যান্ডে ফিরতি সিরিজে হ্যাডলি হাওয়ার্থের প্রত্যাবর্তনে ও’সালিভানকে দলে বাইরে অবস্থান করতে হয়।

ভারত গমন[সম্পাদনা]

১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে হ্যাডলি হাওয়ার্থের সাথে একযোগে খেলেন। তবে, খেলায় তিনি কোন উইকেট লাভে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। এরফলে, পরবর্তী দুই টেস্ট থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড দল পাকিস্তান ও ভারত গমন করে।

১৯৭৬ সালের শেষদিকে হাওয়ার্থ পুনরায় অনুপস্থিত থাকার কথা ঘোষণা করেন। ফলে, দলের স্পিন বোলিং আক্রমণ পিটার পেথেরিককে সাথে নিয়ে গড়ে উঠে। এ সিরিজের পূর্বে পাঁচ টেস্টে অংশ নিয়ে মাত্র পাঁচটি উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে, পিটার পেথেরিক কোন টেস্ট খেলায় অংশ নেননি। ও’সালিভান ছয় টেস্টের সবকটিতেই অংশ নেন। ২৭৩ ওভার বোলিং করে ৬১.৪৬ গড়ে ১৩ উইকেট পান। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। ৫০ ওভারে ৩/১২৫ পান।[৮]

১৯৭৭ সালের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে হ্যাডলি হাওয়ার্থকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে ইংল্যান্ড গমনার্থে তরুণ বামহাতি স্পিনার স্টিফেন বুককে দলে রাখা হয়। হাওয়ার্থ ও ও’সালিভান - উভয়েই দল থেকে বাদ পড়েন ও তারা আর কোন টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি।

অবসর[সম্পাদনা]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পরও নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে বীরদর্পে খেলতে থাকেন ডেভিড ও’সালিভান। ৪০ বছর বয়সে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে খেলার জগৎ থেকে নিজের অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ঐ মৌসুমে চার শতাধিক ওভারো বোলিং করে ২৭.৬০ গড়ে ৩৮ উইকেট লাভ করেছিলেন তিনি।[৯] সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে ৩৯২টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট পেয়েছেন। এ সংগ্রহটি যে-কোন বোলারের চেয়ে বেশি ছিল।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Wisden 1972, p. 819.
  2. Hampshire v Indians 1971
  3. Coca-Cola Knockout Cup 1972–73
  4. Hampshire v Nottinghamshire 1973
  5. Wisden 1974, p. 424.
  6. Don Neely & Richard Payne, Men in White: The History of New Zealand International Cricket, 1894–1985, Moa, Auckland, 1986, p. 29.
  7. Wisden 1975, pp. 930–43.
  8. Dicky Rutnagur, "New Zealand in Pakistan and India, 1976–77", Wisden 1978, pp. 930–45.
  9. David O'Sullivan bowling by season

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]