ডেথ নোট
| ডেথ নোট | |
ডেথ নোটের লোগো | |
| ধরন | নাটক, গোয়েন্দা কাহিনী, লোমহর্ষক, মনস্তাত্ত্বিক রোমাঞ্চকর কাহিনী, শৌনেন মাঙ্গা, অতিপ্রাকৃত |
|---|---|
| মাঙ্গা | |
| ডেথ নোট | |
| লেখক | সুগুমি ওহতা (গল্প) তাকেশি ওবাতা (art) |
| প্রকাশক | |
| অ্যানিমে | |
| ডেথ নোট | |
| পরিচালক | তেৎসুরো আরাকি |
| স্টুডিও | |
| অ্যানিমে | |
| ডেথ নোট | |
| পরিচালক | Shūsuke Kaneko |
| স্টুডিও | এনটিভি, ওয়ার্নার ব্রস. |
| অ্যানিমে | |
| ডেথ নোট: দ্য লাস্ট নেইম | |
| পরিচালক | শুসুকে কানেকো |
| স্টুডিও | এনটিভি, ওয়ার্নার ব্রস. |
| মাঙ্গা | |
| ডেথ নোট এনাদার নোট লস এঞ্জেল্স বিবি রেনজোকু সাতসুজিন জিকেন | |
| লেখক | নিশিও ইজিন |
| প্রকাশক | |
| গেম | |
| ডেথ নোট কিরা গেইম | |
| নির্মাতা | কোনামি |
| প্রকাশক | কোনামি |
| ধরন | মারদাঙ্গা |
| ভিত্তিমঞ্চ | নিনটেন্ডো ডিএস |

ডেথ নোট (জাপানি: デスノート দেসু নোওতো) একটি জাপানি এনিমে। এটি মূলত জাপানি ম্যাঙ্গাকা সুগুমি ওহবা রচিত এবং তাকেশি ওবাতা অঙ্কিত একটি জাপানি ম্যাঙ্গা সিরিজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে এই কাহিনী অবলম্বনে এনিমে রূপান্তর করা হয়। গল্পটি নির্মিত হয়েছে এক উচ্চাভিলাষী মেধাবী ছাত্রকে কেন্দ্র করে, যে একটি অতিপ্রাকৃত নোটবুকের সাহায্যে পৃথিবীর অপরাধীদের শাস্তি দিতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে নিজেকে নতুন বিশ্বের ঈশ্বর হিসেবে কল্পনা করতে থাকে।
ডেথ নোট হলো মৃত্যুর দেবতাদের ব্যবহৃত একটি বিশেষ ধরনের ডায়েরি বা নোটবুক। এই নোটবুকে কোনো মানুষের নাম লিখলে, নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী সে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মৃত্যুবরণ করে। এই অতিপ্রাকৃত শক্তিকে কেন্দ্র করেই কাহিনীর প্রধান সংঘাত ও নাটকীয়তা গড়ে ওঠে।
ডেথ নোট প্রথমে একটি ম্যাঙ্গা সিরিজ হিসেবে প্রকাশিত হয়। ২০০৩ সালের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১২ খণ্ডে সিরিজটি সাপ্তাহিক সোনেন জাম্প পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ম্যাঙ্গাটির জনপ্রিয়তার কারণে এর কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে একাধিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়, যার প্রথমটি জাপানে মুক্তি পায় জুন ১৭, ২০০৬ সালে।
একই কাহিনীর উপর ভিত্তি করে একটি এনিমে সিরিজও নির্মিত হয়। এনিমে সিরিজটির চিত্রনাট্য রচনা করেন তোশিকি ইনোয়েসহ অন্যান্য লেখকগণ। এই সিরিজটি প্রথম জাপানে সম্প্রচারিত হয় অক্টোবর ৩, ২০০৬ সালে এবং এটি দ্রুতই আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
কাহিনী
[সম্পাদনা]মেধাবী ছাত্র লাইট ইয়াগামি। একসময় তার কাছে জীবন বিরক্তিকর মনে হতে শুরু করে। একইভাবে বিরক্ত হয়ে ওঠে মৃত্যুর দেবতা বা শিনিগামি রিউক। বিরক্তি কাটানোর জন্য রিউক মানুষের জগতে একটি ডেথ নোট ফেলে দেয়। মানুষের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। কে এই ডেথ নোটটি পাবে তা নির্দিষ্ট না থাকায়, এর ব্যবহারের নিয়মাবলি সে ইংরেজিতে লিখে দেয়।
এই ডেথ নোটটি খুঁজে পায় লাইট। শুরুতে সে বিষয়টি বিশ্বাস না করলেও কৌতূহলবশত পরীক্ষা করে দেখতে চায়। সে খবরে প্রচারিত এক খুনির নাম ডেথ নোটে লিখে রাখে। নিয়ম অনুযায়ী, নাম লেখার ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ার কথা। যেহেতু লাইট মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করেনি, তাই লোকটির মৃত্যু হয় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে, অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাকে।
পরদিন সকালে পত্রিকায় সেই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর দেখে লাইট ডেথ নোট সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে শুরু করে। সেদিনই সে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা চালায়। রাস্তায় এক কিশোরীকে উত্যক্ত করা একদল গুণ্ডার দলনেতাকে সে লক্ষ্য করে এবং তাকে হত্যা করে। এই ঘটনার পর থেকেই লাইট তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করে।
লাইট বিশ্বাস করতে থাকে যে, এই উপায়ে সে একদিন পৃথিবীর সব অপরাধীকে নির্মূল করবে। তার কল্পনায় একটি নতুন পৃথিবীর উদ্ভব ঘটবে, যেখানে শুধুমাত্র তার পছন্দের মানুষরা বাস করবে। সে নিজেকে সেই নতুন বিশ্বের ঈশ্বর হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করে। তার বাবা একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায়, অপরাধীদের বিভিন্ন তথ্য তার কাছে সহজলভ্য ছিল।
ডেথ নোট ব্যবহার করে কাউকে হত্যা করতে দুটি বিষয় জানা আবশ্যক: প্রথমত, লক্ষ্যব্যক্তির নাম এবং দ্বিতীয়ত, তার চেহারা। কারো মুখ মনে রেখে তার নাম ডেথ নোটে লিখলে সেই ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে। একই নামের অন্য কেউ এতে প্রভাবিত হয় না।
এদিকে, অপরাধীদের রহস্যজনক মৃত্যুর হার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় জাপানি পুলিশ বাহিনী সতর্ক হয়ে ওঠে। তারা এই মৃত্যুগুলোর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা খুঁজে পায় না। এই পরিস্থিতিতে তাদের সহায়তা করতে এগিয়ে আসে বিখ্যাত গোয়েন্দা এল। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় এল এবং লাইটের মধ্যে এক জটিল বুদ্ধির লড়াই।
চরিত্রসমূহ
[সম্পাদনা]প্রধান চরিত্রসমূহ
[সম্পাদনা]- লাইট ইয়াগামি

- একজন মেধাবী স্কুলছাত্র। তার প্রধান বৈশিষ্ট্য তার অসাধারণ বিশ্লেষণক্ষমতা ও কৌশলী বুদ্ধিমত্তা। ডেথ নোট পূর্বেও বহুবার মানুষের হাতে পড়েছিল, কিন্তু লাইটের মতো এত পরিকল্পিতভাবে কেউ এটি ব্যবহার করতে পারেনি। ডেথ নোট হাতে পাওয়ার পর লাইট বিশ্বের অপরাধীদের হত্যা করা শুরু করে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিপিও এবং জাপানি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ মনে করে, এই ধরনের বিচার আইনের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। তাই তারা লাইটকে (কিরা) শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা শুরু করে। তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে বিশ্বসেরা গোয়েন্দা এল।
- লাইট ও এল-এর মধ্যে এক তীব্র মানসিক লড়াই শুরু হয়। কখনও লাইট এল-এর ফাঁদে পড়ে যায়, আবার কখনও এল লাইটের কৌশলের কাছে পরাস্ত হয়। ধীরে ধীরে লাইট তার অধিকাংশ প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়। সে একটি নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতে থাকে, যেখানে কোনো অপরাধী থাকবে না। তার বিশ্বাস, শুধুমাত্র তার নির্বাচিত ব্যক্তিরাই সেখানে বসবাস করবে এবং সে নিজেই সেই পৃথিবীর ঈশ্বর হবে। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং নিজের বুদ্ধিমত্তার উপর তার অগাধ আস্থা রয়েছে।
- এল

- পৃথিবীর সেরা গোয়েন্দা হিসেবে পরিচিত। তার প্রধান লক্ষ্য কিরা-কে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা। এনিমেতে লাইটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সে-ই। জটিল কৌশল ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এল সবসময় লাইটকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।
- এল-এর কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তার বসার ভঙ্গি অদ্ভুত—সে সাধারণত চেয়ারের উপর দুই পা তুলে বসে এবং হাঁটুর উপর হাত রেখে থাকে। কোনো বস্তু ধরার সময় সে আঙুলের ডগায় এমনভাবে ধরে যেন সেটি হাত থেকে ঝুলছে। মোবাইল ফোনও একইভাবে ধরে। কিরা তদন্তের আগে সে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি; এমনকি পুলিশ কমিশনারও তার পরিচয় জানতেন না। তবে এই মামলার গুরুত্বের কারণে সে তদন্তকারী দলের সামনে নিজেকে প্রকাশ করে।
- কিরাকে ধরার জন্য এল বহুবার নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে। তার শৈশবও রহস্যময়। তার একমাত্র অভিভাবকসদৃশ সহযোগী ওয়াতারি তাকে ছোটবেলায় একটি এতিমখানায় নিয়ে যায়, যেখানে তার বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটে। কিরা ও এল-এর দ্বন্দ্বই কাহিনির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। যদিও একাধিক ক্ষেত্রে এল লাইটকে চাপে ফেলে, শেষ পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহে তার পরিণতি ঘটে।
- আমানে মিসা

- জাপানের একজন জনপ্রিয় মডেল। তার পরিবার সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়। হত্যাকারীকে সে শনাক্ত করলেও আইনগত প্রক্রিয়ায় সে মুক্তি পেয়ে যায়। এই ঘটনায় মিসার জীবনে গভীর প্রভাব পড়ে।
- একজন শিনিগামি তাকে বিশেষভাবে পছন্দ করত। একবার এক অপরাধীর আক্রমণ থেকে তাকে রক্ষা করতে গিয়ে সেই শিনিগামি নিজের জীবন উৎসর্গ করে। কারণ, কোনো শিনিগামি যদি কোনো মানুষের নির্ধারিত আয়ুর আগেই তাকে হত্যা করে, তবে সেই শিনিগামির মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর আগে সে মিসার দেখাশোনার দায়িত্ব আরেক শিনিগামি রেম-এর ওপর দিয়ে যায়। ফলে মিসা ডেথ নোটের মালিক হয়।
- ডেথ নোট পাওয়ার পর মিসা দ্বিতীয় কিরা হিসেবে আবির্ভূত হয়। তার বাবা-মায়ের হত্যাকারীকে কিরা শাস্তি দেওয়ায়, সে কিরার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। কিরার সাথে দেখা করার জন্য সে মরিয়া হয়ে ওঠে। তার আবেগপ্রবণ ও অপরিকল্পিত আচরণে লাইট বিরক্ত হলেও, পরে সে মিসাকে নিজের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
- মিসা শিনিগামি চোখ লাভ করে, যার মাধ্যমে সে মানুষের নাম ও আয়ু দেখতে পারে। এর বিনিময়ে তাকে তার অবশিষ্ট জীবনের অর্ধেক ত্যাগ করতে হয়। এই ক্ষমতার কারণে লাইট বুঝতে পারে, মিসা তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
- নিয়ার

- এল-এর মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরীদের মধ্যে অন্যতম নিয়ার। এল-এর প্রতিষ্ঠান থেকে জানা যায় যে, এল আর বেঁচে নেই। নিয়ার এবং মেলো—দুজনই সম্ভাব্য উত্তরসূরী ছিল। তবে মেলো একসাথে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে নিয়ার এককভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- নিয়ার এফবিআই এবং আইসিপিও-এর সহায়তায় কিরা তদন্তের জন্য “এসপিকে” (SPK) নামে একটি সংস্থা গঠন করে এবং এর নেতৃত্ব দেয়। তার আচরণেও কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, যা এল-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। যেমন, সে প্রায়ই অদ্ভুত ভঙ্গিতে বসে এবং ছোট ছোট ব্লক দিয়ে বিভিন্ন কাঠামো তৈরি করতে ভালোবাসে।
- এরপর নিয়ার ও কিরার মধ্যে নতুন করে বুদ্ধির লড়াই শুরু হয়, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- মেলো
- নিয়ারের সমসাময়িক এবং এল-এর আরেক সম্ভাব্য উত্তরসূরী। অত্যন্ত মেধাবী হলেও তার স্বভাব নিয়ারের তুলনায় বেশি আবেগপ্রবণ ও আক্রমণাত্মক। নিয়ারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সে নিজস্ব পথে কিরাকে ধরার চেষ্টা চালায়।
- তেরু মিকামি
- কিরার একনিষ্ঠ অনুসারী। লাইটের আদর্শে বিশ্বাস করে এবং তার নির্দেশ অনুসারে কাজ করে। পরবর্তীতে সে কিরার পক্ষ থেকে ডেথ নোট ব্যবহারের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং নিজেকে ন্যায়বিচারের প্রয়োগকারী হিসেবে বিবেচনা করে।
শিনিগামি
[সম্পাদনা]- শিনিগামিরা হলো মৃত্যুর দেবতা, যারা ডেথ নোট ব্যবহার করে মানুষের জীবন শেষ করে।
- রিউক
- একজন শিনিগামি, যে বিরক্তি কাটানোর জন্য নিজের ডেথ নোট মানুষের জগতে ফেলে দেয়। এর ফলেই লাইট ডেথ নোটটি পায় এবং কাহিনির সূচনা হয়। রিউক মূলত পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় থাকে এবং মানুষের কর্মকাণ্ড দেখে আনন্দ পায়।
- রেম
- মিসার সঙ্গে যুক্ত শিনিগামি। সে মিসার প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তাকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত। মিসার নিরাপত্তা তার কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
ডেথ নোটের নিয়মাবলী
[সম্পাদনা]ডেথ নোটটি মানুষের জগতে পাঠানোর আগে রিউক এর প্রথম পাতায় এর ব্যবহারের মৌলিক নিয়মাবলী লিখে দেয়। এই নিয়মগুলো ইংরেজি ভাষায় লেখা ছিল, যাতে যে কেউ এটি ব্যবহার করতে পারে।
লিখিত নিয়ম
[সম্পাদনা]- যার নাম ডেথ নোটে লেখা হবে, সে ব্যক্তি অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে।
- যার নাম লেখা হবে, তার চেহারা লেখকের মনে স্পষ্টভাবে থাকতে হবে। এর ফলে একই নামের একাধিক ব্যক্তি থাকলেও নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
- নাম লেখার পর ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে যদি মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়, তবে সেই ব্যক্তি উল্লিখিত কারণেই মারা যাবে।
- যদি কোনো কারণ উল্লেখ করা না হয়, তবে সেই ব্যক্তি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে, অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাকে মারা যাবে।
- মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করার পর, পরবর্তী ৬ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে মৃত্যুর আগে তার কার্যকলাপ নির্ধারণ করা যায়। সে সেই নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার পরই মৃত্যুবরণ করবে।
উপরোক্ত নিয়মগুলো অনুসরণ করেই লাইট তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। পরবর্তীতে সে ডেথ নোটের আরও কিছু নিয়ম সম্পর্কে অবগত হয়, যেগুলো রিউক অন্যান্য পাতায় লিখে রেখেছিল। এনিমের বিভিন্ন পর্বের মধ্যবর্তী অংশে এই নিয়মগুলো প্রদর্শিত হয়।
- ডেথ নোটটি যখনই পৃথিবীর মাটি স্পর্শ করে, তখন থেকেই এটি মানুষের জগতের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়।
- যে ব্যক্তি ডেথ নোটের মালিক হয়, সে মূল মালিক অর্থাৎ শিনিগামির অবয়ব দেখতে এবং তার কণ্ঠ শুনতে সক্ষম হয়।
- যে ব্যক্তি ডেথ নোট ব্যবহার করে, সে মৃত্যুর পর স্বর্গ বা নরক—কোথাও যেতে পারে না; বরং সে শূন্যতায় বিলীন হয়।
মিথ্যা নিয়ম
[সম্পাদনা]কাহিনির এক পর্যায়ে কিছু ভ্রান্ত নিয়ম যুক্ত করা হয়, যা তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।
- কোনো ব্যক্তির নাম ডেথ নোটে লেখার পর যদি পরবর্তী ১৩ দিনের মধ্যে আর কোনো নাম লেখা না হয়, তবে ডেথ নোটের মালিক মারা যাবে।
- যদি কোনোভাবে ডেথ নোটটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে যারা কখনও এই নোট স্পর্শ করেছে, তারা সবাই মৃত্যুবরণ করবে।
মিডিয়াসমূহ
[সম্পাদনা]ম্যাংগা
[সম্পাদনা]মূল সিরিজের পাশাপাশি আরও কিছু সংশ্লিষ্ট ম্যাংগা ও বিশেষ অধ্যায় প্রকাশিত হয়েছে:
- ডেথ নোট ১৩: হাউ টু রিড — এটি একটি গাইডবুক, যেখানে চরিত্রসমূহ, কাহিনির বিশ্লেষণ, স্রষ্টাদের সাক্ষাৎকার এবং অতিরিক্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- ডেথ নোট: শর্ট স্টোরিজ — বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত একাধিক এক-অধ্যায়ের (one-shot) গল্পের সংকলন, যেখানে মূল কাহিনির বাইরে অতিরিক্ত ঘটনা উপস্থাপন করা হয়েছে।
- ওয়ান-শট অধ্যায়সমূহ — মূল সিরিজ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে নতুন একক অধ্যায় প্রকাশিত হয়, যেখানে ডেথ নোটকে ঘিরে নতুন চরিত্র ও পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে (যেমন: নতুন কিরা-কে কেন্দ্র করে গল্প)।
এই অতিরিক্ত ম্যাংগাগুলো মূল কাহিনির জগতকে আরও বিস্তৃত করে এবং পাঠকদের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
চলচ্চিত্র
[সম্পাদনা]২০০৬ সালে ডেথ নোট অবলম্বনে দুটি লাইভ-অ্যাকশন চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। চলচ্চিত্র দুটির পরিচালক ছিলেন Shūsuke Kaneko এবং প্রযোজনা করে নিপ্পন টেলিভিশন।
এই চলচ্চিত্রগুলোতে মূল কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ঘটনাপ্রবাহে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে তা চলচ্চিত্র মাধ্যমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন ডেথ নোট (চলচ্চিত্র)।
এনিমে সিরিজ
[সম্পাদনা]ডেথ নোট-এর এনিমে অভিযোজন নির্মাণ করে Madhouse স্টুডিও। এটি মূল ম্যাংগার কাহিনির উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং ২০০৬ সালে প্রথম সম্প্রচারিত হয়। সিরিজটি মোট ৩৭টি পর্বে সমাপ্ত হয়।
এনিমে সংস্করণটি মূল গল্পের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, বিশেষ করে লাইট ইয়াগামি এবং এল-এর বুদ্ধির লড়াইকে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করে। চরিত্রগুলোর মানসিক জটিলতা, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং নৈতিক দ্বিধা এই সিরিজের প্রধান আকর্ষণ।
পরবর্তীতে এনিমেটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং ডেথ নোট-কে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তোলে।
ভিডিও গেম
[সম্পাদনা]ডেথ নোট অবলম্বনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একাধিক ভিডিও গেম প্রকাশিত হয়েছে, বিশেষ করে নিন্টেন্ডো ডিএস এবং অন্যান্য হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইসের জন্য।
এই গেমগুলো সাধারণত তদন্তভিত্তিক এবং ভিজ্যুয়াল নভেল ধাঁচের, যেখানে খেলোয়াড়রা কিরা ও এল-এর দ্বন্দ্বে অংশগ্রহণ করতে পারে। কিছু গেমে খেলোয়াড়কে ডেথ নোট ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, আবার কিছু গেমে তদন্ত ও যুক্তি নির্ভর গেমপ্লে বেশি গুরুত্ব পায়।
সাউন্ডট্র্যাক
[সম্পাদনা]ডেথ নোট এনিমে সিরিজের সাউন্ডট্র্যাক রচনা করেছেন তাকু ইওয়াসাকি। সাউন্ডট্র্যাকের সঙ্গীতগুলো কাহিনির গাঢ় ও থ্রিলারধর্মী পরিবেশকে আরও তীব্র করে তোলে।
বিশেষ করে উদ্বোধনী (opening) ও সমাপ্তি (ending) গানগুলো দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরে ব্যবহৃত ধ্রুপদী ও ইলেকট্রনিক সঙ্গীতের মিশ্রণ সিরিজটির মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনা প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিতর্ক ও সমালোচনা
[সম্পাদনা]শেনিয়াং
[সম্পাদনা]এই অনুচ্ছেদটি সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। |
বেইজিং
[সম্পাদনা]এই অনুচ্ছেদটি সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। |
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- Shueisha's ডেথ নোট নামক ম্যাংগার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (জাপানি)
- এনিমের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (জাপানি)
- VIZ Media's ডেথ নোট ওয়েবসাইট ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৬ মে ২০০৮ তারিখে
- অ্যানিমে নিউজ নেটওয়ার্ক বিশ্বকোষে ডেথ নোট (এনিমে) ({{{type}}})
- ডেথ নোট - AnimeNfo.com
| অ্যানিমে বিষয়ক এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |
- মাঙ্গা ধারাবাহিক
- অ্যানিমে ও মাঙ্গা নিবন্ধসমূহ অপ্রচলিত ও ভুল তথ্যছক পরামিতি ব্যবহার করছে
- অ্যানিমে ও মাঙ্গা অসম্পূর্ণ
- ডেথ নোট
- অ্যানিমে ধারাবাহিক
- অ্যানিমে চলচ্চিত্র
- অ্যানিমে ও মাঙ্গায় অপরাধ
- কাল্পনিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
- অ্যানিমে ও মাঙ্গায় রহস্য
- শৌনেন মাঙ্গা
- ২০২০-এর মাঙ্গা
- ২০০৩-এর মাঙ্গা
- মাঙ্গা ভিত্তিক অ্যানিমে ধারাবাহিক
- ২০০৬-এ অভিষিক্ত অ্যানিমে টেলিভিশন ধারাবাহিক
- অ্যানিমে টেলিভিশন চলচ্চিত্র
- এনিমে ও মাঙ্গা বিতর্ক
- চলচ্চিত্রে অভিযোজিত মাঙ্গা