ডিক রিচার্ডসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ডিক রিচার্ডসন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামডেরেক ওয়াল্টার রিচার্ডসন
জন্ম (1934-11-03) ৩ নভেম্বর ১৯৩৪ (বয়স ৮৬)
হেয়ারফোর্ড, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনবামহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাব্যাটসম্যান
সম্পর্কপিটার রিচার্ডসন (ভ্রাতা)
ব্রায়ান রিচার্ডসন (ভ্রাতা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ৩৮৫)
৪ জুলাই ১৯৫৭ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৮৩
রানের সংখ্যা ৩৩ ১৬৩০৩
ব্যাটিং গড় ৩৩.০০ ২৭.৩৯
১০০/৫০ ০/০ ১৬/৮৯
সর্বোচ্চ রান ৩৩ ১৬৯
বল করেছে ৫৮৮
উইকেট
বোলিং গড় ৪৪.২৫
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ২/১১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/– ৪২২/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৯ অক্টোবর, ২০২০

ডেরেক ওয়াল্টার ডিক রিচার্ডসন (ইংরেজি: Dick Richardson; জন্ম: ৩ নভেম্বর, ১৯৩৪) হেয়ারফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ডিক রিচার্ডসন

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

হেয়ারফোর্ডে জন্মগ্রহণকারী ডিক রিচার্ডসন ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান পিটার রিচার্ডসনের কনিষ্ঠ ভ্রাতা ছিলেন। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ও কাছাকাছি এলাকায় অপূর্ব ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। তবে, তার ভাইয়ের ন্যায় পেশাদারী পর্যায়ের অধিকাংশ সময় ওরচেস্টারশায়ারে খেলতে পারেননি ও বাদ-বাকী সময়টুকু কাউন্টি দলে অবস্থান করেন।

১৯৫২ সাল থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ডিক রিচার্ডসনের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। পুরোটা সময়ই কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ার দলের পক্ষে খেলে কাটিয়েছেন।[১]

খোলামেলা চুলের অধিকারী ও পরিপাটি বামহাতি মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানকারী অসাধারণ ফিল্ডার হিসেবে ডিক রিচার্ডসনের যথেষ্ট সুনাম ছিল। শুরুতে ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে শৌখিন খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হলেও পরবর্তীকালে ১৯৫৬ সালে পেশাদারী খেলোয়াড় হন।

১৯৫৫ সাল থেকে কাউন্টি দলের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলতে থাকেন। পরের মৌসুমে পেশাদারী পর্যায়ের দিকে ধাবিত হবার পর প্রথমবারের মতো সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১৯৫৭ সালে আরও সামনের দিকে ধাবিত হন। ৩২ গড়ে ১৮৩০ রান তুলেন।

১৯৫৮ সালে তার খেলার মান যথেষ্ট নিম্নমূখী হয়। সহস্র রান সংগ্রহ করলেও ঐ মৌসুমে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান ছিল মোটে ৬০। সম্ভবতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে সহস্র রান সংগ্রাহকদের তালিকায় এটিই সর্বনিম্ন সংগ্রহ ছিল। ওরচেস্টারশায়ার কর্তৃপক্ষের সাথে আর্থিক সংঘাতে লিপ্ত হন ও তার ভাই শৌখিন কাউন্টি অধিনায়ক পিটার রিচার্ডসনও পেশাদারী পর্যায়ের দিকে চলে যাবার ইচ্ছে প্রকাশ করেন।

ডিক রিচার্ডসনের খেলোয়াড়ী জীবনের উত্তরণ ঘটে। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত প্রত্যেক মৌসুমেই দেড় হাজারের অধিক রান তুলেন। ১৯৬১ সাল থেকে ইংল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় ফিল্ডার হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬১ সালে ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে ৬৫ ক্যাচ তালুবন্দী করেন যা রেকর্ড হিসেবে বিবেচ্য। কাউন্টি দলের ১০ মৌসুমের পাঁচটিতেই সর্বোচ্চ ফিল্ডিং রেকর্ড গড়েন। সবমিলিয়ে ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে ৪১২টি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। উইকেট-রক্ষকবিহীন এ সংখ্যাটি ওরচেস্টারশায়ারের রেকর্ডবিশেষ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন ডিক রিচার্ডসন। ৪ জুলাই, ১৯৫৭ তারিখে নটিংহামে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

১৮৯১-৯২ সালের পর ইংল্যান্ডে দুই ভাইয়ের প্রথম টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ ছিল। ট্রেন্ট ব্রিজে স্বীয় ভ্রাতার সাথে একত্রে ট্রেন্ট ব্রিজের তৃতীয় টেস্টে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ব্যাট হাতে যখন মাঠে নামেন, তখন টম গ্রেভেনি’র ২৫৮ রানের কল্যাণে ইংল্যান্ড দল ৫১০/৪ তুলে। ব্যাটিং উপযোগী পিচে ডিক রিচার্ডসন সত্তর মিনিটে ৩৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন।[২] কিন্তু এ যাত্রা তিনি রক্ষা পাননি। ১৯৫৭ সালে খণ্ডকালীন ক্রিকেটার ডেভিড শেপার্ডকে সিরিজের বাদ-বাকী দুই টেস্টে খেলানো হয় ও অগ্রাধিকার দেয়া হয়। এরপর আর তাকে দলে রাখা হয়নি।[৩]

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৬৩ সালের পর থেকে ব্যাটিংয়ের তুলনায় ফিল্ডিংয়ের দিকে লক্ষ্য রেখে ওরচেস্টারশায়ার দলে তাকে রাখা হয়। ১৯৬৪ সালে প্রথমবারের মতো কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন। এরপরের বছরও এর ব্যতয় ছিল না। তবে, ১৯৬৫ সালে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন। ১৯৬৬ সালে আরও নিচের দিকে চলে যান। ১৯৬৭ সালে দল থেকে বাদ পড়েন ও ঐ মৌসুম শেষে ৩২ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে বাধ্য হন।

পিটার রিচার্ডসন ছাড়াও কনিষ্ঠ ভ্রাতা ব্রায়ান রিচার্ডসন স্বল্পকালীন সময়ের জন্যে ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

জন আর্লট মন্তব্য করেন যে, নিঃসন্দেহে তিনি লড়াকুচিত্তের অধিকারী ছিলেন। তবে, তার পরিসংখ্যান দেখে তার মূল্যমানের সঠিক পরিচিতি প্রকাশ পায়নি।

অন্যদিকে, ক্রিকেট লেখক কলিন বেটম্যান মন্তব্য করেছেন যে, ‘ডিক রিচার্ডসনের টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন সংক্ষিপ্ত হলেও বেশ তাৎপর্যময়। তারচেয়েও জনপ্রিয় সহোদর পিটার রিচার্ডসনের সাথে একই দলে খেলেছেন। ১৯৫৭ সালে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে খেলেন। এরফলে, বিংশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুই ভাইয়ের একত্রে খেলার প্রথম ঘটনা হিসেবে ইতিহাসের পর্দায় ঠাঁই করে নেন।’[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Dick Richardson"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০২০ 
  2. "3rd Test, West Indies tour of England at Nottingham, Jul 4-9 1957"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১০ মে ২০২০ 
  3. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 137আইএসবিএন 1-869833-21-X 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]