ডন টেলর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ডন টেলর
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামডোনাল্ড ডগল্ড টেলর
জন্ম(১৯২৩-০৩-০২)২ মার্চ ১৯২৩
অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড
মৃত্যু৫ ডিসেম্বর ১৯৮০(1980-12-05) (বয়স ৫৭)
এপসম, নিউজিল্যান্ড
ডাকনামব্লোক
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪৫)
২১ মার্চ ১৯৪৭ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট৯ মার্চ ১৯৫৬ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৪৬/৪৭ - ১৯৫৯/৬০অকল্যান্ড
১৯৫০ - ১৯৫৩ওয়ারউইকশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৯৫
রানের সংখ্যা ১৫৯ ৩৭৭২
ব্যাটিং গড় ৩১.৮০ ২৩.২৮
১০০/৫০ ০/১ ১/২২
সর্বোচ্চ রান ৭৭ ১৪৩
বল করেছে ১৯২৭
উইকেট ৩২
বোলিং গড় ৩৩.২১
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/২৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/– ৬২/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৬ মে ২০২০

ডোনাল্ড ডগল্ড টেলর (ইংরেজি: Don Taylor; জন্ম: ২ মার্চ, ১৯২৩ - মৃত্যু: ৫ ডিসেম্বর, ১৯৮০) অকল্যান্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৬ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ‘ব্লোক’ ডাকনামে পরিচিত ডন টেলর

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম পর্যন্ত ডন টেলরের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। নিয়মিতভাবে ‘ব্লোক শব্দ’ ব্যবহারের কারণে তিনি ‘ব্লোক’ ডাকনামে পরিচিতি পান। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন ডন টেলর। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। ৫১.২৫ গড়ে ২০৫ রান তুলেন।[১] ঐ মৌসুমে অকল্যান্ডকে প্লাঙ্কেট শীল্ডের শিরোপা বিজয়ে যথেষ্ট ভূমিকা রাখেন। ঐ মৌসুমের শেষ খেলায় ক্যান্টারবারির বিপক্ষে ২৩৬ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নামে অকল্যান্ড দল। দলের সংগ্রহ ৭৬/৪ থাকাকালীন তিনি উইকেটে নামেন। বার্ট সাটক্লিফের সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে ১৬১ রান তুলেন। নিজে করেন অপরাজিত ৯৮ রান।[২]

১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম পর্যন্ত অকল্যান্ডের পক্ষে খেলেন। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে অকল্যান্ডের সদস্যরূপে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে খেলেন। এ পর্যায়ে উদ্বোধনী জুটিতে বার্ট সাটক্লিফের সাথে মাঠে নামেন। উভয় ইনিংসেই তারা দুই শতাধিক রান তুলেন। খেলায় তারা ২২০ ও ২৮৬ রান করে উভয় ইনিংসের উদ্বোধনী জুটিতে দুই শতরান সংগ্রহ করে নতুন বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেন।[৩] প্রথম ইনিংসে ৯৯ রান করেন। খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ১৪৩ রান তুলেন। এটিই তার প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র শতরানের ইনিংস ছিল। তার সহযোদ্ধা বার্ট সাটক্লিফের সংগ্রহ ছিল ১৪১ ও ১৩৫ রান। ১৯৪৯ সালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট অ্যালমেনাক কর্তৃক বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে প্লাঙ্কেট শীল্ডের খেলায় ৩৬.২৮ গড়ে ২৫৪ রান তুলেন।

ওয়ারউইকশায়ার[সম্পাদনা]

১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত পেশাদারী পর্যায়ে ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে খেলতে থাকেন।[৪] তিন মৌসুম ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে খেললেও তেমন বর্ণাঢ্যময় ছিল না। বিদেশী খেলোয়াড়দের অনেকের ন্যায় তিনিও কাউন্টি ক্রিকেটে প্রয়োজনমাফিক নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ওয়ারউইকশায়ারের কোচের দৃষ্টিতে তিনি পুণরায় আগমন ঘটা ‘টাইগার স্মিথ’ ছিলেন। মাঠে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে অভিযুক্ত হয়েছিলেন।

সেখান থেকে নিউজিল্যান্ডে ফিরে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম পর্যন্ত অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন ডন টেলর। ২১ মার্চ, ১৯৪৭ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ৯ মার্চ, ১৯৫৬ তারিখে অকল্যান্ডে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৪৬-৪৭ মৌসুমের শেষদিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম টেস্ট খেলেন। পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ রান তুলেছিলেন। ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে অ্যালেক বেডসার তাকে এলবিডব্লিউতে বিদেয় করেছিলেন।

ট্রেন্ট ব্রিজে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৯০ রান তুলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে ঘরোয়া আসরে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের ফলে দীর্ঘ নয় বছর বাদে পুণরায় তাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়।[৫] সিরিজের তৃতীয় টেস্টে চার নম্বরে নেমে ৪৩ ও ৭৭ রান করে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। চতুর্থ টেস্টেও তাকে দলে রাখা হয়। মার্চ, ১৯৫৬ সালে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এ টেস্টেই নিউজিল্যান্ড দল তাদের ইতিহাসের প্রথম টেস্টে জয়লাভ করার কৃতিত্ব দেখায়। তবে, তিনি করেছিলেন মাত্র ১১ ও ১৬ রান।[৬]

৫ ডিসেম্বর, ১৯৮০ তারিখে ৫৭ বছর বয়সে এপসম এলাকায় ডন টেলরের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Plunket Shield batting averages, 1946-47
  2. Auckland v Canterbury, 1946-47
  3. Auckland v Canterbury, 1948-49
  4. Wisden 1982, p. 1210.
  5. Plunket Shield batting averages, 1955-56
  6. Don Neely & Richard Payne, Men in White: The History of New Zealand International Cricket, 1894–1985, Moa, Auckland, 1986, pp. 255–58.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]