ট্যাঙ্গো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
যুগল নৃত্যরত
ট্যাঙ্গো ছন্দ[১]

ট্যাঙ্গো (স্পেনীয়: Tango) এক ধরনের যুগল নৃত্যকলা। ১৮৮০-এর দশকে আর্জেন্টিনাউরুগুয়ের মধ্যবর্তী প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা রিভার প্লাতা সীমান্তবর্তী এলাকায় ট্যাঙ্গো নৃত্যের উৎপত্তি ঘটেছে। পরবর্তীতে এ নৃত্যটি খুব দ্রুত বহিঃর্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। [২]

শুরুর দিকে ট্যাঙ্গো নৃত্য ট্যাঙ্গো ক্রিওলো বা ক্রওল ট্যাঙ্গো নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে প্রচলিত ট্যাঙ্গো নৃত্যের অনেকগুলো ধরন রয়েছে। জনপ্রিয়তা ও ট্যাঙ্গো নৃত্যজগতের মধ্যে প্রকৃত ট্যাঙ্গো নৃত্যের ধরনটি আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়েতে গড়ে উঠা নৃত্যের কাছাকাছি হিসেবে গণ্য করা হয়। ট্যাঙ্গো নৃত্যকলার সাথে জড়িত সঙ্গীত ঘরানাও ট্যাঙ্গো নামে পরিচিত। এ নৃত্যটি বর্তমানে দুই ধারায় বিভক্ত। তবে কোনটিই অন্যের তুলনায় সেরা নয়; উভয়েই স্বতন্ত্র প্রকৃতির।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

কিভাবে বিশ্বে ট্যাঙ্গো নৃত্য প্রভাববিস্তার করেছে

আফিকানইউরোপীয় সংস্কৃতির প্রভাবে ট্যাঙ্গো নৃত্যের উৎপত্তি ঘটেছে।[৩] সাবেক ক্রীতদাসদের ক্যান্দোম্বি উৎসবে ব্যবহৃত নৃত্যের তাল-লয়কে আধুনিককালে ট্যাঙ্গোতে মিশেল ঘটানো হয়েছে। এ নৃত্যকলা বুয়েন্স আয়ার্সমন্তেভিডিও’র নিম্নশ্রেণীর জেলাগুলোয় উৎপত্তি ঘটে।[৪] এর সঙ্গীত ইউরোপীয় সঙ্গীতের বিভিন্ন ধারা থেকে উদ্ভূত। ‘ট্যাঙ্গো’ বা ‘তাম্বো’ শব্দটি রিভার প্লেত উপত্যকায় ক্রীতদাসদের সঙ্গীত সমারোহকে পরিচিতি ঘটাতে শুরুতে ব্যবহার করা হয়। ঔপনিবেশিক শাসকেরা ১৭৮৯ সালের শুরুর দিকে এ জাতীয় সমাবেশে ব্যবহৃত নৃত্যকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে প্রথমবারের মতো লিখিত দলিলে এর উল্লেখ করে।[৫]

শুরুতে এটি শুধুই অনেকগুলো নৃত্যের মধ্য একটি ছিল। কিন্তু এ নৃত্যটি খুব দ্রুত সমাজে, মঞ্চনাটকে ও রাস্তায় ফেলে রাখা শূন্য ব্যারেলে অবস্থানকারী জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে ইউরোপীয় অভিবাসনকারীদের সাথে আসা শহরতলীর বস্তিতে অবস্থানকারী হাজার হাজার শ্রমিকশ্রেণীর লোকের কাছ ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে।[৬]

প্রভাব[সম্পাদনা]

২০শ শতাব্দীর শুরুর দিকে বুয়েন্স আয়ার্সের নর্তকী দল ও অর্কেস্ট্রাবাদকগণ ইউরোপ সফরে যান। ইউরোপে প্রথম ট্যাঙ্গো নৃত্যের উন্মত্ততা প্রকাশ পায় প্যারিসে। এরপর লন্ডন, বার্লিন ও অন্যান্য রাজধানীতে এ নৃত্যের সফল আসরগুলো মঞ্চস্থ হয়। এরপর ১৯১৩ সালের শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জনের পর ফিনল্যান্ডে ট্যাঙ্গো নৃত্যের আসর বসে। তন্মধ্যে, ১৯১১ সালের দিকে নৃত্যে ২ শব্দকে প্রায়শঃই ট্যাঙ্গোকে বোঝানো হতো।

ট্যাঙ্গো নৃত্য ও সঙ্গীত জিমন্যাস্টিকস, ফিগার স্কেটিং, ছন্দোময় সাঁতার ইত্যাদিতে খেলাধূলার সাথে জড়িত। এর প্রধান কারণ হচ্ছে এর নাটকীয়তাপূর্ণ অনুভূতি ও আবেগের সাথে এর সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা।

১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপে অ্যাডিডাস বলের নকশা প্রণয়ন করে ও এর নাম দেয় ট্যাঙ্গো।[৭] স্বাগতিক দেশে আয়োজিত প্রতিযোগিতাকে স্মরণীয় করে রাখতেই এ নামকরণ করা হয়েছে। একই নকশা স্পেনে অনুষ্ঠিত ১৯৮২ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ব্যবহার করা হয় ও ‘ট্যাঙ্গো মালাগা’ নামকরণ হয়।[৮] ১৯৮৪ ও ১৯৮৮ সালের উয়েফা ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ফ্রান্স ও পশ্চিম জার্মানিতে এর নামকরণ ট্যাঙ্গো রাখা হয়।

বলা হয়ে থাকে যে, ট্যাঙ্গোর মাধ্যমে সাধারণ জনগণ অধিক স্ফূর্তিবান, যৌন উদ্দীপনার অধিকারী ও কম মনোকষ্টে ভোগেন। এছাড়াও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।[৯]

মূল্যায়ণ[সম্পাদনা]

৩১ আগস্ট, ২০০৯ তারিখে ইউনেস্কো কর্তৃপক্ষ আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের কাছ থেকে যৌথভাবে স্পর্শহীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী তালিকায় ট্যাঙ্গো নৃত্যকে অন্তর্ভূক্তির জন্য প্রস্তাব আকারে আবেদন করলে তা অনুমোদিত হয়।[১০][১১][১২]

ট্যাঙ্গোর স্বাস্থ্যগত দিক[সম্পাদনা]

বলা হয়ে থাকে ট্যাঙ্গো মানুষকে অনেক বেশি প্রশান্তিকর অভিজ্ঞতা এনে দেয় যা বিষন্নতার বিরুদ্ধে কাজ করে। টেস্টোস্টেরন লেভেল বৃদ্ধির মাধ্যমএ ব্যক্তিত্বে যৌন আবেদনময়ীতা তুলে ধরে। .[৯] এই নৃত্যকলার ৬টি প্রধান লক্ষ্য সার্থকভাবে বয়স বাড়া এবং উন্নত জীবনযাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১. শরীর চর্চা ২. সামাজিক সন্তুষ্টি ৩. আধ্যাত্মিকতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি ৪. বোধশক্তি বৃদ্ধি ৫. মনোযোগ বৃদ্ধি ৬. মানসিক স্বাস্থ্য যদিও সব ধরনের নৃত্যেরই কিছু না কিছু স্বাস্থ্যকর দিক আছে কিন্তু আর্জেন্টিনার ট্যাঙ্গো নৃত্য বিশেষভাবে শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষদের স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনে সক্ষম বলে প্রমানিত। [১৩] ট্যাঙ্গোলেট এমন এক ধরণের শারীরিক চর্চা যেটাতে পাইলেটের স্থিতি মনোযোগসহকারে ধরে রাখতে হয়। তামারা দি তেলা ২০০৪ সালে ট্যাঙ্গোর নড়াচড়ার সমন্বয়ের নকশা করেন। সংগীতের তালে সংগীর সাথে এই নৃত্য এরোবিক ও কার্ডিও উপাদানের শায্যকারী। এই নিয়ম নার্ভাস ফাংশনের জটিলতায় ভোগা রোগীদের জন্য বেশ উপকারী।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Blatter, Alfred (2007). Revisiting music theory: a guide to the practice, p.28. আইএসবিএন ০-৪১৫-৯৭৪৪০-২.
  2. Termine, Laura (সেপ্টেম্বর ৩০, ২০০৯)। "Argentina, Uruguay bury hatchet to snatch tango honor"। Buenos Aires। সংগৃহীত এপ্রিল ২, ২০১০ 
  3. Miller, Marilyn Grace (২০০৪)। Rise and Fall of the Cosmic Race। University of Texas Press। পৃ: 82–89। আইএসবিএন 0-292-70572-7। সংগৃহীত ২০০৯-০৩-২২ 
  4. Denniston, Christine. Couple Dancing and the Beginning of Tango (2003)
  5. Giménez, Gustavo Javier (৩০ সেপ্টেম্বর ২০১০)। "Expresiones músico-religiosas como mecanismos de legitimación cultural. El caso de la comunidad africana en Buenos Aires entre 1776-1852" (স্পেনীয় ভাষায়)। Instituto Ravignani, Facultad de Filosofía y Letras, UBA। পৃ: ৫। সংগৃহীত ২১ এপ্রিল ২০১৬ 
  6. Frommers. Destinations. Buenos Aires
  7. http://www.soccerballworld.com/TangoRiver.htm soccerballworld.com
  8. http://www.soccerballworld.com/TangoEspana.htm soccerballworld.com
  9. "Mind Your Body: Dance Yourself Happy"Psychology Today। সংগৃহীত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  10. "Culture:The Tango"UNESCO Archives Multimedia website। UNESCO। সংগৃহীত ৩০ নভেম্বর ২০১০ 
  11. "The Tango"Intangible Heritage Lists। UNESCO। সংগৃহীত ৩০ নভেম্বর ২০১০ 
  12. "UN declares tango part of world cultural heritage"। Sydney Morning Herald। Sep ৩০, ২০০৯। সংগৃহীত Sep ৩০, ২০০৯ 
  13. "The benefits of Argentine tango dancing"। সংগৃহীত ৯ আগস্ট ২০১৬ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

Barreiro, Javier (১৯৮৫)। El tango (Spanish ভাষায়)। Gijón: Júcar। আইএসবিএন 84-334-2064-X 
Bottomer, Paul (১৯৯৯)। Tango। Madrid: Susaeta। 
Cadícamo, Enrique (১৯৭৩)। Café de camareras (Spanish ভাষায়)। Buenos Aires: Sudamericana। 
Ferrer, Horacio (১৯৮০)। Libro del tango: arte popular de Buenos Aires (3 tomos) (Spanish ভাষায়)। Buenos Aires: Antonio Tersol। 
Fitch, Melissa A. (১৯৮০)। Global Tangos: Travels in the Transnational Imaginary (Spanish ভাষায়)। Maryland: Bucknell University Press। আইএসবিএন 978-1-61148-652-0 
González Arzac, Alberto (২০০৭)। Tango aborigen (Spanish ভাষায়)। Buenos Aires: Quinque। 
Groppa, Carlos G. (২০০৪)। The tango in the United States: a history (Spanish ভাষায়)। McFarland। আইএসবিএন 0786426861 
Hidalgo Huerta, Manuel (২০০১)। Tango (Spanish ভাষায়)। Biblioteca Nueva। আইএসবিএন 84-7030-987-0 
Judkovski, José (১৯৯৮)। El tango. Una historia con judíos (Spanish ভাষায়)। Buenos Aires: Fundación IWO। আইএসবিএন 987-96990-0-9 
Historia del tango (21 tomos) (Spanish ভাষায়)। Buenos Aires: Corregidor। ১৯৭৬-২০১১। আইএসবিএন 978-950-05-1947-2 
Nudler, Julio (১৯৯৮)। Tango judío (del ghetto a la milonga) (Spanish ভাষায়)। Buenos Aires: Sudamericana। আইএসবিএন 950-07-1498-1 
Oderigo Ortiz, Néstor (২০০৯)। Latitudes africanas del tango (Spanish ভাষায়)। Buenos Aires: Eduntref। আইএসবিএন 950-07-1498-1 
Pau, Antonio (২০০১)। Música y poesía del tango (prólogo de Ernesto Sabato) (Spanish ভাষায়)। Madrid: Trotta। 
Sabato, Ernesto (১৯৬৩)। Tango: discusión y clave (Spanish ভাষায়)। Buenos Aires: Losada। 
Vidart, Daniel (১৯৬৪)। Teoría del tango (Spanish ভাষায়)। Montevideo: Banda Oriental। 
Vidart, Daniel (১৯৬৭)। El tango y su mundo (Spanish ভাষায়)। Montevideo: Tauro। 
Zubillaga, Carlos (১৯৮৬)। Carlos Gardel (prólogo de Jorge Luis Borges) (Spanish ভাষায়)। Madrid: Los Juglares। 
Zucchi, Oscar (১৯৯৭)। El tango, el bandoneón y sus intérpretes (10 tomos; 3 editados) (Spanish ভাষায়)। Buenos Aires: Corregidor। 

গ্যালারী চিত্র[সম্পাদনা]