টি. এস. সৌন্দরম রামচন্দ্রন
টি. এস. সৌন্দরম | |
|---|---|
| মাদ্রাজ রাজ্য বিধানসভার সদস্য | |
| কাজের মেয়াদ ১৯৫২ – ১৯৫৭ | |
| পূর্বসূরী | ভি. এস. এস. মণি চেট্টিয়ার |
| নির্বাচনী এলাকা | আথুর |
| মাদ্রাজ রাজ্য বিধানসভার সদস্য | |
| কাজের মেয়াদ ১৯৫৭ – ১৯৬২ | |
| পূর্বসূরী | ভি. মদনগোপাল |
| নির্বাচনী এলাকা | বেদাসন্দুর |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ১৮ আগস্ট ১৯০৪ তিরুনেলবেলি, মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত |
| মৃত্যু | ২১ অক্টোবর ১৯৮৪ (বয়স ৮০) দিন্দিগুল, তামিলনাড়ু, ভারত |
| রাজনৈতিক দল | ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস |
| দাম্পত্য সঙ্গী | জি. রামচন্দ্রন |
| পিতামাতা | টি. ভি. সুন্দরম আয়েঙ্গার (পিতা) |
| পেশা | ডাক্তার, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী |
টি এস সৌন্দরম রামচন্দ্রন (১৮ই আগস্ট ১৯০৪ – ২১শে অক্টোবর ১৯৮৪) ছিলেন একজন ভারতীয় চিকিৎসক, সমাজ সংস্কারক এবং রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন টি ভি সুন্দরম আয়েঙ্গারের কন্যা। টি ভি সুন্দরম হলেন ভারতের অন্যতম বৃহত্তম একটি শিল্পগোষ্ঠী টিভিএস গ্রুপ অফ কোম্পানিজ নামে পরিচিত, টিভি সুন্দরম আয়েঙ্গর অ্যাণ্ড সন্স লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা।[১] ১৯১৮ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সৌন্দরমের বিয়ে হয়। তাঁর স্বামী ডঃ সৌন্দরারাজন তাঁকে পড়াশোনার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু সৌন্দরারাজন তাঁর কিশোর বয়সেই মারা যান। সেইসময় তাঁর বাবা-মা তাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। দিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজেই তিনি তাঁর মেডিসিন ডিগ্রি অর্জন করেন।[২]
স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং পুনর্বিবাহ
[সম্পাদনা]দিল্লিতে কলেজের দিনগুলিতে, তিনি সুশীলা নায়ারের সাথে বন্ধুত্ব করেন এবং তাঁর মাধ্যমে তিনি গান্ধীজির সাথে দেখা করেন। তিনি তৎক্ষণাৎ স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়লেও পড়াশোনা ছেড়ে দেননি। ১৯৩৬ সালে যখন তিনি ডাক্তার হিসেবে স্নাতক হন, তখন তাঁর বয়স ছিল ৩২ বছর। এরপর তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত করেন এবং গান্ধীজির মাধ্যমে তিনি হরিজন আন্দোলনে সক্রিয় কেরালার জি. রামচন্দ্রনের সাথে পরিচিত হন। তাঁরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সৌন্দরমের বাবা-মা এই বিবাহের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। গান্ধী তাঁদের এক বছর ধরে একে অপরের সাথে যোগাযোগ না রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এক বছর বিচ্ছেদের পরেও, যখন তাঁদের মনোভাব পরিবর্তিত হয়নি, তখন গান্ধীজি তাঁদের আশীর্বাদ করেন এবং ১৯৪০ সালের ৭ই নভেম্বর তাঁরা বিয়ে করেন। টি এস সৌন্দরম এবং তাঁর স্বামী শীঘ্রই ভারত ছাড়ো আন্দোলনের তীব্রতায় জড়িয়ে পড়লেও গান্ধীর পরামর্শমতো তিনি সামাজিক কাজে মনোযোগ দিতে শুরু করেন। সৌন্দরম দক্ষিণ ভারতে কস্তুরবা গান্ধী জাতীয় স্মৃতি ট্রাস্টের প্রতিনিধি নিযুক্ত হন এবং গ্রামীণ এলাকায় এমন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরির দায়িত্ব পান যা দরিদ্রতম মানুষের অবস্থার উন্নতি করবে। এভাবেই গান্ধীগ্রামের ধারণার জন্ম হয়, যেখানে গ্রামবাসীদের দক্ষতা শেখানো হত এবং গ্রামীণ শিল্প ও গ্রামীণ সম্প্রদায়ের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা প্রদান করা হত। টি এস সৌন্দরম এই প্রকল্পে সর্বান্তকরণে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।[৩]
সামাজিক কাজ
[সম্পাদনা]১৯৪৭ সালে, সৌন্দরম মাদুরাই দিন্দিগুল হাইওয়ের পাশে একটি ছোট শহর চিন্নালপট্টির একটি বাড়িতে দুই শয্যা বিশিষ্ট ক্লিনিক হিসেবে কস্তুরবা হাসপাতাল শুরু করেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে, হাসপাতালটি গ্রামীণ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছিল, এটি এখন ২২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল। তাঁর স্বামী ডঃ জি. রামচন্দ্রনের সাথে, তিনি উল্লেখযোগ্যভাবে ১৯৪৭ সালে জাতীয় অনুদানের তহবিল দিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রয়াত স্ত্রী কস্তুরবা গান্ধীর স্মৃতিসৌধ হিসেবে গান্ধীগ্রাম গ্রামীণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।[৩] এটি তামিলনাড়ুর ডিণ্ডিগুল জেলার একটি প্রত্যন্ত স্থানে একটি গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যাতে সবচেয়ে বঞ্চিত মানুষের সেবা করা যায়।
১৯৭৬ সালে গান্ধীগ্রাম গ্রামীণ ইনস্টিটিউট একটি ডিম্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
রাজনৈতিক জীবন
[সম্পাদনা]সৌন্দরম তৎকালীন মাদ্রাজ রাজ্য থেকে দুবার বিধানসভার (ভারত) সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, প্রথমবার ১৯৫২ সালে আথুর (রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা) থেকে এবং দ্বিতীয়বার ১৯৫৭ সালে বেদাসন্দুর (রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা) থেকে। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এরপর ১৯৬২ সালে তিনি দিন্দিগুল (লোকসভা নির্বাচনী এলাকা) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দিল্লিতে ফিরে আসার পর, তাঁকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়। উপমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি সমগ্র ভারত জুড়ে বাধ্যতামূলক এবং বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা চালু করেছিলেন।[৩] তিনি জাতীয় পরিষেবা প্রকল্প (এনএসএস) শুরু করতেও সাহায্য করেছিলেন, যার মধ্যে এখনও একটি শক্তিশালী গ্রামীণ পরিষেবা উপাদান রয়েছে। ১৯৬২ সালে সমাজসেবামূলক কাজে অবদানের জন্য তিনি পদ্মভূষণ পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৬৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে দিন্দিগুল (লোকসভা কেন্দ্র) থেকে সৌন্দরম এক লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে ডিএমকে-র তরুণ ছাত্র নেতা এন. আনবুচেঝিয়ানের কাছে হেরে যান। পরবর্তীতে তিনি আবার সমাজসেবায় ফিরে আসেন এবং রাজনীতি থেকে অবসর নেন।
স্মারকলিপি
[সম্পাদনা]- ২০০৫ সালের ২রা অক্টোবর একটি স্মারক ডাকটিকিট জারি করা হয়।[৪]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Friend, philosopher and athai"। The Hindu। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২৫।
- ↑ "Dr. S. Soundaram"। amritmahotsav.nic.in। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২৫।
- 1 2 3 Sampathkumar, Srinivasan। "Remembering Dr TS Soundaram - the founder of Gandhigram at Chinnalapatti"। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২৫।
- ↑ Stamp on Dr T.S. Soundram released. blonnet.com. 2 October 2005
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]- ডাঃ সুশীলা নায়ার, মহিলা অগ্রগামী — ভারতের নবজাগরণে, ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, ২০০২আইএসবিএন ৮১-২৩৭-৩৭৬৬-১
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৫, দ্য হিন্দুতে সরল ও নিঃস্বার্থ, শতবর্ষ পূর্তির প্রবন্ধ
- গান্ধীগ্রাম ওয়েবসাইটে জীবনী সংক্রান্ত বিবরণ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩১ আগস্ট ২০০৬ তারিখে
- ২০শ শতাব্দীর ভারতীয় নারী শিক্ষাবিদ
- ২০শ শতাব্দীর ভারতীয় শিক্ষাবিদ
- মাদ্রাজ বিধানসভার সদস্য ১৯৫৭-১৯৬২
- মাদ্রাজ বিধানসভার সদস্য ১৯৫২-১৯৫৭
- লোকসভার নারী সদস্য
- টিভিএস গ্রুপ
- ২০শ শতাব্দীর ভারতীয় নারী চিকিৎসক
- তামিলনাড়ুর শিক্ষাবিদ
- ২০শ শতাব্দীর ভারতীয় নারী বিজ্ঞানী
- ২০শ শতাব্দীর ভারতীয় নারী রাজনীতিবিদ
- তামিলনাড়ুর চিকিৎসক
- সমাজসেবায় পদ্মভূষণ প্রাপক
- তামিলনাড়ুর লোকসভা সদস্য
- তৃতীয় লোকসভার সদস্য
- ২০শ শতাব্দীর ভারতীয় চিকিৎসক
- ১৯৮৪-এ মৃত্যু
- ১৯০৪-এ জন্ম
- তামিলনাড়ুর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতিবিদ