বিষয়বস্তুতে চলুন

টিপু সুলতানের গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ

স্থানাঙ্ক: ১২°৫৭′৩৪.১৮″ উত্তর ৭৭°৩৪′২৪.৮৬″ পূর্ব / ১২.৯৫৯৪৯৪৪° উত্তর ৭৭.৫৭৩৫৭২২° পূর্ব
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
টিপু সুলতানের গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ
প্রাসাদের সম্মুখভাগ
মানচিত্র
সাধারণ তথ্যাবলী
স্থাপত্যশৈলীইন্দো-ইসলামীয়
অবস্থানব্যাঙ্গালোর, কর্ণাটক, ভারত
নির্মাণ শুরু১৭৮১
সম্পূর্ণ১৭৯১
স্বত্বাধিকারীটিপু সুলতান (১৭৯১–১৭৯৯)
ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (বর্তমান)

টিপু সুলতানের গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ ব্যাঙ্গালোর, ভারতে অবস্থিত একটি ইন্দো-ইসলামীয় স্থাপত্যের নিদর্শন এবং মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানের গ্রীষ্মকালীন বাসভবন ছিল। হায়দার আলী ১৭৮১ সালে ব্যাঙ্গালোর দুর্গের প্রাচীরের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শুরু করেন এবং ১০ বছর পরে, ১৭৯১ সালে টিপু সুলতানের রাজত্বকালে এর নির্মাণ সম্পন্ন হয়।[১] চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে টিপু সুলতানের মৃত্যুর পর ব্রিটিশ প্রশাসন প্রাসাদটিকে সচিবালয় হিসেবে ব্যবহার করে; ১৮৬৮ সালে সচিবালয়টি আতারা কাছেরিতে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ প্রাসাদটির রক্ষণাবেক্ষণ করে। এটি পুরনো ব্যাঙ্গালোরের কেন্দ্রস্থলে, কালাসিপাল্য বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত এবং একটি পর্যটনস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভারতীয় নাগরিকদের জন্য প্রবেশমূল্য ₹২০, আর বিদেশি পর্যটকদের জন্য ₹ ২০০ (ইউএস$ ২.৪৪)।

ভবনটি সম্পূর্ণভাবে সেগুন কাঠ দিয়ে নির্মিত এবং স্তম্ভ, খিলান ও বারান্দা দ্বারা সুশোভিত। মনে করা হয়, টিপু সুলতান উপরের তলার পূর্ব ও পশ্চিম দিকের বারান্দা থেকে তাঁর দরবার পরিচালনা করতেন। প্রথম তলার চার কোণে চারটি ছোট কক্ষ রয়েছে, যেগুলি জেনানা মহল হিসেবে ব্যবহৃত হত। প্রাসাদের দেওয়াল সুন্দর পুষ্পশোভিত নকশায় অলংকৃত। এখানে টিপু সুলতানের কল্পিত রাজসিংহাসনের একটি চিত্রও রয়েছে। সোনার পাত দিয়ে আবৃত এবং মূল্যবান পান্নার পাথরে সজ্জিত এই সিংহাসনটি টিপু প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে পরাজিত না করা পর্যন্ত তিনি এতে বসবেন না। টিপু সুলতানের মৃত্যুর পর ব্রিটিশরা সিংহাসনটি খুলে এর বিভিন্ন অংশ নিলামে বিক্রি করে দেয়, কারণ একজন ব্যক্তির পক্ষে সম্পূর্ণ সিংহাসনটি কেনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ভবনের নিচতলার কক্ষগুলি বর্তমানে একটি ছোট জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে টিপু সুলতান ও তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন কৃতিত্ব প্রদর্শিত হয়। সেই সময়ের বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্থানের সদ্য নির্মিত প্রতিকৃতিও এখানে রয়েছে। ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামে সংরক্ষিত টিপু সুলতানের বাঘের একটি প্রতিকৃতিও এখানে প্রদর্শিত হয়। রুপো ও সোনার পাদপীঠে টিপু সুলতানের পোশাক ও মুকুট রাখা রয়েছে। হায়দার আলীকে তাঁর এক সেনাপতির দেওয়া রুপোর পাত্রগুলিও এখানে প্রদর্শিত হয়।

কর্ণাটক সরকারের উদ্যানপালন দপ্তর প্রাসাদের সামনের অংশের উদ্যান ও লনটির রক্ষণাবেক্ষণ করে।

শিলালিপি

[সম্পাদনা]
ফারসি শিলালিপি (রোমান হরফে) বাংলা অনুবাদ

Ta. bina e mahal ba shaukat shud
Sar ba anje falak za bohjat shud
Vah che farrokh raahal bina e rafi
Bar tar az asman za rafat shud
Hast aina khaua e ba safa
Har kasash did raahave hirat shud
G6 e safvat rabud az kafe charkh
Charkh ziin sar niguu za khijlat shud
Vasfe in khasr ra shunid magar
Zan FaiiJun ba khabe ghalat shud
Justamash az hisabe Zar tarikh
Goft Hatif ke baite ishrat shud
Chun ahud in khasre taza nakhsh tamam
Surate Chin khajil za ghirat shud
Justam az khizre akhl tarikhash
Goft laraib rashke jannat shud
DaU 1791 A.D.

এই প্রাসাদের ভিত্তি স্থাপিত হতেই,
আনন্দে তার শীর্ষ আকাশের দিকে উঠে গেল।
আহা, কী শুভ্র ও সুউচ্চ এই প্রাসাদ, সুখের আবাস,
যার চূড়া আকাশমণ্ডলেরও ঊর্ধ্বে।
এটি স্বচ্ছতায় কাচের মতো এক প্রাসাদ,
যে-ই একে দেখে, বিস্ময়ে অভিভূত হয়।
মহিমায় এটি আকাশের সঙ্গে পাল্লা দেয়,
যেন আকাশ লজ্জায় তার মস্তক অবনত করে।
এই প্রাসাদের বর্ণনা যখন ফরিদুন শুনলেন,
তখন তা তাঁকে দীর্ঘ নিদ্রায় নিমগ্ন করল।
আমি জার-এর হিসাব অনুসারে এর নির্মাণের সাল নির্ণয় করতে চাইলাম,
তখন অদৃশ্য এক দূত বললেন—“আনন্দের আবাস”, ১১৯৬ (১৭৮১ খ্রিস্টাব্দ)।
এই নতুন প্রাসাদের চিত্রাঙ্কন যখন সম্পূর্ণ হল,
তখন তা চীনের চিত্রকলার সৌন্দর্যকেও ম্লান করে দিল।
আমি জ্ঞানী খিজিরের কাছে এর নির্মাণের সাল জানতে চাইলাম,
তিনি বললেন—“নিঃসন্দেহে এটি স্বর্গের ঈর্ষার কারণ”,
১২০৬ (১৭৯১ খ্রিস্টাব্দ)।

(২) জার — টিপু সুলতান কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি পদ্ধতি, যেখানে মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত আরবি সংখ্যাপদ্ধতি আবজাদের পরিবর্তে আবতাস ব্যবহার করে হিসাব করা হত। (দ্রষ্টব্য: মহীশূর গেজেটিয়ার, সংশোধিত সংস্করণ, ১৮৯৭, খণ্ড I, পরিশিষ্ট, পৃ.৮১২)

(৩) পারস্যের এক রাজার মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত একজন নবী। তিনি জীবনদায়ী ঝরনাটি আবিষ্কার করে তার জল পান করেছিলেন এবং অমরত্ব লাভ করেছিলেন। কেউ কেউ তাঁকে নবী ইলিয়াসের সঙ্গে অভিন্ন মনে করেন। ইংল্যান্ডের সেন্ট জর্জের সঙ্গেও তাঁকে অভিন্ন মনে করা হয়; তাঁকে ‘খিজির ইলিয়াস’ নামে অভিহিত করা হয়।[২]

পুরোনো আলোকচিত্র ও চিত্রশালা

[সম্পাদনা]
রবার্ট হোম (১৭৫২–১৮৩৪)-এর আঁকা ব্যাঙ্গালোরের মহীশূরের রাজা টিপুর প্রাসাদের ব্রিটিশ আমলের খোদাই চিত্র।

জেমস হান্টারের অঙ্কন

[সম্পাদনা]

জেমস হান্টার গোলন্দাজ বাহিনীতে লেফটেন্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি একজন সামরিক চিত্রশিল্পী ছিলেন এবং তাঁর অঙ্কনগুলিতে তৎকালীন বিভিন্ন দিক ও দৈনন্দিন জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে। হান্টার ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।

হান্টার দক্ষিণ ভারতে ব্যাঙ্গালোর, মহীশূর, হোসুর, কাঞ্চিপুরম, মাদ্রাজ, আর্কট, শ্রীপেরুমবুদুর প্রভৃতি স্থানসহ বিভিন্ন ভূদৃশ্য অঙ্কন করেছিলেন। তাঁর এই চিত্রগুলি এডওয়ার্ড অর্ম কর্তৃক লন্ডন থেকে ১৮০২ থেকে ১৮০৫ সালের মধ্যে প্রকাশিত A Brief history of ancient and modern India embellished with coloured engravings এবং ১৮০৪ সালে এডওয়ার্ড অর্ম কর্তৃক প্রকাশিত Picturesque scenery in the Kingdom of Mysore গ্রন্থে প্রকাশিত হয়।[৩]

হান্টার ১৭৯২ সালে ভারতে মৃত্যুবরণ করেন।[৪] ব্যাঙ্গালোরের প্রাসাদ নিয়ে তাঁর আঁকা কয়েকটি চিত্র নিচে দেওয়া হলো।

গ্যালারি

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ Mysore. Dept. of Archaeology; Rice, B. Lewis (Benjamin Lewis); Narasimhacharya, Ramanujapuram Anandan-pillai (১৮৯৪)। Epigraphia carnatica. By B. Lewis Rice, Director of Archaeological Researches in Mysore। Robarts - University of Toronto। Bangalore Mysore Govt. Central Press। পৃ. ২৭।
  2. 1 2 Rice, Benjamin Lewis (১৮৯৪)। Epigraphia Carnatica: Volume IX: Inscriptions in the Bangalore District। Mysore Department of Archaeology। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১৫।
  3. 1 2 Hunter, James। A Street Leading To The Palace Of Bangalore। পৃ. Plate ১১। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
  4. ↑ Ebinesan, J (২০০৬)। "James Hunter's Bangalore"। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০১৫।
  5. 1 2 Hunter, James (১৮০৪)। 'Square at Bangalore' and on reverse: 'The Entrance of Tippoo's Palace, Bangalore Feby. 92'। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
  6. ↑ Hunter, James (১৮০৪)। North Entrance Of Tippoo's Palace At Bangalore। পৃ. Plate১৩। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
  7. ↑ Hunter, James (১৮০৪)। The Square And Entrance Into Tippoo's Palace, Bangalore। পৃ. Plate ১২। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
  8. ↑ Hunter, James (১৮০৪)। North Front Of Tippoo's Palace, Bangalore। পৃ. Plate ৯। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।
  9. ↑ Hunter4, James (ফেব্রুয়ারি ১৭৯৪)। The Entrance of Tippoo's Palace, Bangalore। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫।{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক)