টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল
| সদরদপ্তর | ঢাকা, বাংলাদেশ |
|---|---|
যে অঞ্চলে | বাংলাদেশ |
দাপ্তরিক ভাষা | বাংলা |
টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল, যা টিএফআই সেল নামেও পরিচিত, হল বাংলাদেশ সরকারের একটি বিশেষ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র (কারাগার) যা বাংলাদেশের গোয়েন্দা বাহিনী প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর ও পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) দ্বারা পরিচালিত হয়।[১] এটি ঢাকার উত্তরায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরের ভেতরে অবস্থিত।[১] দ্য গার্ডিয়ান এটিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে কুখ্যাত নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছে।[১] একই রকম অন্য আরেকটি জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রকে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল বলা হয়।[২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]দ্য গার্ডিয়ানের মতে, টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিভিন্ন ধরণের নির্যাতনমূলক পদ্ধতি ব্যবহার করে। সন্দেহভাজনদের মধ্যে সন্ত্রাসী বলে সন্দেহ করা ব্রিটিশ নাগরিকরাও রয়েছে।[১] ব্রিটিশ-বাংলাদেশী সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় টাস্কফোর্স ব্রিটেনের এমআই৫ ও এমআই৬ এর সাথে জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম সমন্বয় করেছে।[৩]
২০০৬-২০০৮ সালের বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের সময়, টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল রাজনীতিবিদদের দুর্নীতির তথ্য বাংলাদেশের সংবাদ সংস্থা, যেমন দ্য ডেইলি স্টারকে সরবরাহ করেছিল।[৪] পরবর্তীতে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক সেলের দেওয়া তথ্য ব্যবহারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।[৪]
২০০৯ সালে চট্টগ্রামে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মামলায় গ্রেপ্তারের পর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রাক্তন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুর রহিমকে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।[৫]
২০১২ সালে, বাংলাদেশের সংসদের একটি বিশেষ কমিটি টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল বন্ধ করার সুপারিশ করে ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের অংশগ্রহণ সীমিত করার সুপারিশ করে।[৬]
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর বিদ্রোহের পর, ঢাকার পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরের ভেতরে একটি অস্থায়ী টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো।[৭][৮] একটি সরকারি কমিটির তত্ত্বাবধানে, নির্যাতনের অভিযোগের পর ২০১০ সালের জানুয়ারিতে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।[৭][৯] কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ গোলাম হোসেন।[৭] অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শাহ জামাল রাজ ও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ মাইনুল ইসলাম কমিটির সদস্য ছিলেন।[৭] জিজ্ঞাসাবাদের সময়, ৬৭ জন বিদ্রোহী হেফাজতে মারা যান।[৭] কিছু মৃত সৈন্যের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেছে।[৭]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 "Bangladesh interrogation centre where Britons were taken to be tortured"। The Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ জানুয়ারি ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১।
- ↑ "Bangladesh Govt Urged To Criminalise Torture"। Scoop। ২৪ জুন ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১।
- ↑ "UK linked to notorious Bangladesh torture centre"। The Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ জানুয়ারি ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১।
- 1 2 "Bangladesh's Daily Star editor gets bail in defamation case"। Yahoo Finance (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১।
- ↑ "TFI starts grilling Rahim"। bdnews24.com। ২২ মে ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১।
- ↑ "Keep DGFI away from politics"। The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১।
- 1 2 3 4 5 6 Azad, M. Abul Kalam (১১ জানুয়ারি ২০১০)। "TFI Cell at Pilkhana may be withdrawn"। The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১।
- ↑ "Interrogation cell at BDR HQ closed"। The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ জানুয়ারি ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১।
- ↑ "BDR men turn up at hospital after quizzing"। The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১।