বিষয়বস্তুতে চলুন

টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল
সদরদপ্তরঢাকা, বাংলাদেশ
যে অঞ্চলে
বাংলাদেশ
দাপ্তরিক ভাষা
বাংলা

টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল, যা টিএফআই সেল নামেও পরিচিত, হল বাংলাদেশ সরকারের একটি বিশেষ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র (কারাগার) যা বাংলাদেশের গোয়েন্দা বাহিনী প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর ও পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট (র‍‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) দ্বারা পরিচালিত হয়।[] এটি ঢাকার উত্তরায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরের ভেতরে অবস্থিত।[] দ্য গার্ডিয়ান এটিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে কুখ্যাত নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছে।[] একই রকম অন্য আরেকটি জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রকে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল বলা হয়।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

দ্য গার্ডিয়ানের মতে, টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিভিন্ন ধরণের নির্যাতনমূলক পদ্ধতি ব্যবহার করে। সন্দেহভাজনদের মধ্যে সন্ত্রাসী বলে সন্দেহ করা ব্রিটিশ নাগরিকরাও রয়েছে।[] ব্রিটিশ-বাংলাদেশী সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় টাস্কফোর্স ব্রিটেনের এমআই৫ ও এমআই৬ এর সাথে জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম সমন্বয় করেছে।[]

২০০৬-২০০৮ সালের বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের সময়, টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল রাজনীতিবিদদের দুর্নীতির তথ্য বাংলাদেশের সংবাদ সংস্থা, যেমন দ্য ডেইলি স্টারকে সরবরাহ করেছিল।[] পরবর্তীতে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক সেলের দেওয়া তথ্য ব্যবহারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।[]

২০০৯ সালে চট্টগ্রামে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মামলায় গ্রেপ্তারের পর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রাক্তন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুর রহিমকে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।[]

২০১২ সালে, বাংলাদেশের সংসদের একটি বিশেষ কমিটি টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল বন্ধ করার সুপারিশ করে ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের অংশগ্রহণ সীমিত করার সুপারিশ করে।[]

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর বিদ্রোহের পর, ঢাকার পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরের ভেতরে একটি অস্থায়ী টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো।[][] একটি সরকারি কমিটির তত্ত্বাবধানে, নির্যাতনের অভিযোগের পর ২০১০ সালের জানুয়ারিতে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।[][] কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ গোলাম হোসেন।[] অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শাহ জামাল রাজ ও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ মাইনুল ইসলাম কমিটির সদস্য ছিলেন।[] জিজ্ঞাসাবাদের সময়, ৬৭ জন বিদ্রোহী হেফাজতে মারা যান।[] কিছু মৃত সৈন্যের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেছে।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 "Bangladesh interrogation centre where Britons were taken to be tortured"The Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ জানুয়ারি ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১
  2. "Bangladesh Govt Urged To Criminalise Torture"Scoop। ২৪ জুন ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১
  3. "UK linked to notorious Bangladesh torture centre"The Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ জানুয়ারি ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১
  4. 1 2 "Bangladesh's Daily Star editor gets bail in defamation case"Yahoo Finance (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১
  5. "TFI starts grilling Rahim"bdnews24.com। ২২ মে ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১
  6. "Keep DGFI away from politics"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১
  7. 1 2 3 4 5 6 Azad, M. Abul Kalam (১১ জানুয়ারি ২০১০)। "TFI Cell at Pilkhana may be withdrawn"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১
  8. "Interrogation cell at BDR HQ closed"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ জানুয়ারি ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১
  9. "BDR men turn up at hospital after quizzing"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০২১