ঝাং চেংঝি
ঝাং চেংঝি | |
|---|---|
| স্থানীয় নাম | 张承志 |
| জন্ম | ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮[১] বেইজিং , চীন |
| পেশা | লেখক, গবেষক |
| সময়কাল | ১৯৭৮ – বর্তমান |
| উল্লেখযোগ্য রচনা | History of the Soul |
ঝাং চেংঝি ( জিয়াওরজিং : ﺟْﺎ ﭼْﻊ جِ, জন্ম: ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮) একজন সমসাময়িক হুই চীনা লেখক। চীনের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম লেখক হিসেবে প্রায়শই নামকরণ করা হয়, তার ঐতিহাসিক আখ্যান " হিস্ট্রি অফ দ্যা সউল", যা জাহরিয়া (哲合忍耶 এর উত্থান সম্পর্কে লেখা। ) সুফি তরিকা নিয়ে লেখা, গ্রন্থটি ১৯৯৪ সালে চীনের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনপ্রিয় গ্রন্থ ছিল।
জীবনী
[সম্পাদনা]ঝাং ১৯৪৮ সালে বেইজিং শহরে শানডং অঞ্চলের হুই মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।[২] ১৯৬৭ সালে তিনি চিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। এ সময় সাংস্কৃতিক বিপ্লব চলছিল। পিপলস ডেইলি পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, ঝাং নিজেকে "রেড গার্ড" আখ্যায়িত করা প্রথম ব্যক্তি ছিলেন; ছাত্রাবস্থায় তিনি এটি ছদ্মনাম হিসেবে ব্যবহার করতেন। ১৯৬৬ সালের ২৯ মে, সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ পর, ঝাং প্রায় দশজন সিনিয়র শিক্ষার্থীকে একত্রিত করে স্কুল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বড় অক্ষরের পোস্টার প্রকাশ করেন, যেখানে ব্যক্তিগত স্বাক্ষরের পাশাপাশি "মাও জেদং-এর রেড গার্ড" নামে স্বাক্ষর করা হয়। তিন দিন পর, তারা একই নামে আরেকটি পোস্টার প্রকাশ করেন, যার শিরোনাম ছিল "আমাদের অবশ্যই মহান প্রলেতারিয় সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে নিতে হবে", যেখানে একশোরও বেশি ছাত্রের স্বাক্ষর ছিল। এরপর থেকেই বেইজিংয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও নিজেদের "রেড গার্ড" বলে পরিচয় দিতে শুরু করে।[৩][৪]
স্নাতক শেষ করার পর ঝাং কে গ্রামাঞ্চলে পাঠানো হয় ইনার মঙ্গোলিয়ার শিলিন গোল লীগ অঞ্চলের উজিমচিন ব্যানারে, যেখানে তিনি চার বছর কাটান। এরপর তিনি বেইজিংয়ে ফিরে আসেন।[৫][৬] ফিরে এসে তিনি পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়র পুরাতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৭৫ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
১৯৭৮ সালে তিনি লেখালেখি শুরু করেন। সে বছর তিনি মঙ্গোলিয়ান ভাষায় "জনগণের পুত্র" (做人民之子/Arad-un-huu) নামের একটি কবিতা এবং চীনা ভাষায় "অশ্বারোহী কেন গান গায়?" (骑手为什么歌唱) শিরোনামের একটি ছোটগল্প প্রকাশ করেন।[৭] একই বছর, তিনি চীনা সমাজবিজ্ঞান একাডেমির চীনের সংখ্যালঘু ভাষা বিভাগের ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি হন এবং ১৯৮১ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৮৩ সালে, তিনি আন্তর্জাতিক বিনিময় গবেষক হিসেবে জাপানে যান এবং টোকিওর তোয়ো বানকো গ্রন্থাগারে গবেষণা করেন, যা জাপানের সবচেয়ে বড় এশীয় অধ্যয়ন গ্রন্থাগার।[২] চীনা ও মঙ্গোলিয়ান ছাড়াও ঝাং জাপানিও বলতে পারেন।[৮][৯]
ঝাং উল্লেখ করেন যে দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধের সময় হুই মুসলিমরা জাপানি গবেষকদের উদ্দেশ্যের প্রতি সন্দেহ পোষণ করতেন এবং সাক্ষাৎকারের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় তথ্য গোপন করতেন।[১০]
সাহিত্যিক জীবন
[সম্পাদনা]ঝাং চেংঝিকে প্রায়ই তথাকথিত শিকড় সন্ধান আন্দোলনের (xungen) একজন প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যদিও তিনি নিজে xungen ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন।[১১][১২] তার সাহিত্যকর্মে বারবার শহরজীবন ও ভোগবাদিতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, চিরন্তন ঐতিহ্য এবং শহীদত্বের বিষয়বস্তু উঠে এসেছে।[১৩]
অন্যান্য অনেক সাহিত্যিকের মতো তিনি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নৈরাজ্য নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। বরং তার প্রাথমিক রচনাবলি, যেমন উত্তরের নদীসমূহ ও কালো অশ্বারোহী, তৎকালীন রেড গার্ড জীবনের প্রতি এক ধরনের আদর্শবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করে এবং ক্ষত সাহিত্যর প্রচলিত পূর্বধারণাগুলোর প্রতি সুস্পষ্টভাবে বিরোধিতা প্রকাশ করে।[১৪][১৫]
চীনা সাহিত্য ও চিন্তাধারায় ঝাং-এর প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ বিভিন্ন রকম। ঝু শ্যুয়েকিন তার পুরোনো আত্মপরিচয় পরিত্যাগ করে আদর্শবাদী মূল্যবোধের পক্ষে এবং জাতিগত স্বার্থপরতার বিরুদ্ধে "দৃঢ় অবস্থান" নেওয়ার জন্য ঝাং-এর প্রশংসা করেন।[১৬] অপরদিকে ড্রু গ্ল্যাডনি ঝাং-এর জনপ্রিয়তাকে ১৯৯০-এর দশকের চীনে "জাতিগত চাকচিক্যের" ভোগবাদী প্রলোভনের বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন।[১৭]
চীনে ও বিদেশে কিছু গবেষক ঝাং-এর প্রতি কঠোর সমালোচনা করেছেন; তারা তাকে "বিদেশীবিদ্বেষী" বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার পরও মাওবাদর প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্য সমালোচনা করেছেন।[১৮]
১৯৮০-এর দশকের শুরুকে ঝাং-এর "গীতিময় পর্যায়" (lyrical phase) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[১৯] এই সময়কালের সাহিত্যকর্মের জন্য তাকে চীনের প্রাথমিক "চেতনাপ্রবাহ ভিত্তিক কথাসাহিত্যের" অন্যতম অগ্রদূত বলা হয়।[১৩]
তবে ১৯৮৪ সালে ঝাং চীনা লেখক সমিতির চাকরি ছেড়ে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে চলে যান এবং নিংশিয়ার শিখাইগু অঞ্চলের মুসলিমদের সঙ্গে ছয় বছর কাটান। এ সময়ের অভিজ্ঞতা কেবল তাকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করেনি এবং এক সমালোচকের ভাষায় চীনা সংস্কৃতির "প্রকাশ্য প্রত্যাখ্যানে" উদ্বুদ্ধ করেনি, বরং এই অভিজ্ঞতার ফলস্বরূপ রচিত হয় তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ History of the soul।
History of the soul একটি আখ্যানমূলক ঐতিহাসিক উপন্যাস, যেখানে তিনি চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জাহরিয়া তরিকায়ার ১৭২ বছরের ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় দ্বন্দ্ব চিত্রিত করেছেন, যা তার নিজের পর্যবেক্ষণের সাথে মিশ্রিত হয়েছে।[১৭][২০]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "张承志诉世纪互联通讯技术有限公司侵犯著作权纠纷案 (Zhang Chengzhi v. 21 ViaNet Communication Technology Co., Ltd.: Dispute over Infringement of Copyright)" (চীনা ভাষায়)। Harbin City Government। ৮ সেপ্টেম্বর ২০০৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০০৮।
- 1 2 Deng 1989
- ↑ People's Daily 2001-04-13. মূল শিরোনাম: "坚决把无产阶级文化大革命进行到底"
- ↑ Fisac 2003: 163
- ↑ G. Yuan 2004
- ↑ উজিমচিন বর্তমানে পূর্ব উজিমচিন ব্যানার এবং পশ্চিম উজিমচিন ব্যানার-এ বিভক্ত; ঝাং কোথায় কাজ করেছিলেন তা সূত্রে স্পষ্ট নয়।
- ↑ Xinhua 2006-05-17
- ↑ The Black Steed, ইংরেজি সংস্করণের তথ্য
- ↑ Xinhua 2004-03-15
- ↑ Jennifer Robertson (১৫ এপ্রিল ২০০৮)। A Companion to the Anthropology of Japan। John Wiley & Sons। পৃ. ৩০–। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০৫১-৪১৪৫-১।
- ↑ Wang 2004.
- ↑ Shi 2002.
- 1 2 Wu 2000: 128–29.
- ↑ McDougall and Louie 1997: 395–96.
- ↑ J. Yuan 2004.
- ↑ Zhu 2003: 96.
- 1 2 Gladney 2000.
- ↑ Fisac 2003: 164.
- ↑ Li 2000: 115.
- ↑ Lin 2005: 133–36.
- ১৯৪৮-এ জন্ম
- জীবিত ব্যক্তি
- বেইজিংয়ের ইতিহাসবিদ
- হুই জাতিগোষ্ঠী
- জাপানে অবস্থানরত চীনা নাগরিক
- চীনা মুসলিম
- ইসলামে ধর্মান্তরিত
- নাস্তিকতা বা অজ্ঞেয়বাদ থেকে ইসলামে ধর্মান্তরিত ব্যক্তি
- জাপানি ভাষার লেখক
- ইসলামের ইতিহাসবিদ
- পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- মিনজু চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- ২০শ শতাব্দীর চীনা ইতিহাসবিদ
- চীনা পুরুষ ছোটগল্পকার
- ২০শ শতাব্দীর চীনা ছোটগল্পকার
- ২০শ শতাব্দীর চীনা পুরুষ লেখক
- বেইজিংয়ের ছোটগল্পকার
- রেড গার্ড সদস্য
- হুয়েই জাতি