ঝাং-গ্যু-ব্রাগ-পা-ব্র্ত্সোন-'গ্রুস-গ্রাগ্স-পা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ঝাং-গ্যু-ব্রাগ-পা-ব্র্ত্সোন-'গ্রুস-গ্রাগ্স-পা

ঝাং-গ্যু-ব্রাগ-পা-ব্র্ত্সোন-'গ্রুস-গ্রাগ্স-পা (ওয়াইলি: zhang g.yu brag pa brtson 'grus grags pa) ছিলেন তিব্বতী বৌদ্ধধর্মের অন্যতম প্রধান ধর্মসম্প্রদায় ব্কা'-ব্র্গ্যুদ ধর্মসম্প্রদায়ের ত্শাল-পা-ব্কা'-ব্র্গ্যুদ (ওয়াইলি: tshal bka' brgyud) ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা।

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

ঝাং-গ্যু-ব্রাগ-পা-ব্র্ত্সোন-'গ্রুস-গ্রাগ্স-পা ১১২৩ খ্রিষ্টাব্দে স্ক্যিদ নদী উপত্যকায় স্না-নাম-ঝাং পরিবারগোষ্ঠীতে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পর তাঁর নাম রাখা হয় দার-মা-গ্রাগ্স (ওয়াইলি: dar ma grags) শৈশবে তিনি মা-জো-দার-মা নামক এক ভিক্ষুণী ও সাম-বু নামক এক অনুবাদকের নিকটে শিক্ষালাভ করেন। কৈশোরে তাঁর পিতামাতার মৃত্যু হলে তিনি আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে পড়েন।[১]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

১১৪৮ খ্রিষ্টাব্দে খাম্স অঞ্চলে তিনি ঝাং-গ্যু-ব্রাগ-পা-ব্র্ত্সোন-'গ্রুস-গ্রাগ্স-পা নাম নিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুতে পরিণত হন। এই অঞ্চলেই তিনি র্গোয়া-লো-ত্সা-ওয়া নামক তিব্বতী অনুবাদকের নিকট চক্রসম্বর তন্ত্র সম্বন্ধে শিক্ষালাভ করেন। এরপর তিনি 'ওল-খা-বা-ছোস-গ্যুং (ওয়াইলি: 'ol kha ba chos g.yung) (১১০৩-১১৯৯) এবং মাল-য়ের-পা-বা (ওয়াইলি: mal yer pa ba) নামক দুইজন তিব্বতী বৌদ্ধ পন্ডিত এবং বৈরোচনবজ্র নামক ভারতীয় দোঁহা পন্ডিতের নিকটে শিক্ষালাভ করেন। এছাড়াও তিনি স্গাম-পো-পা-ব্সোদ-নাম্স-রিন-ছেন নামক মিলারেপার শিষ্যের ভগিনীপুত্র স্গোম-পো-ত্শুল-খ্রিম্স-স্ন্যিং-পো নামক বিখ্যাত ব্কা'-ব্র্গ্যুদ পন্ডিতের শিষ্যত্ব লাভ করেন। এই সময় তিনি ফ্যাগ-ছেন-লাম-ম্ছোগ-ম্থার-থুগ (ওয়াইলি: phyag chen lam mchog mthar thug) নামক বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন।[১]

ধর্মীয় দ্বন্দ্বে ভূমিকা[সম্পাদনা]

১১৬০ এর দশকে তিব্বতে বিভিন্ন বৌদ্ধ মঠের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে স্গোম-পো-ত্শুল-খ্রিম্স-স্ন্যিং-পো এই ব্যাপারে মধ্যস্থতা করেন এবং তিনি তাঁর শিষ্য ঝাং-গ্যু-ব্রাগ-পা-ব্র্ত্সোন-'গ্রুস-গ্রাগ্স-পাকে ভবিষ্যতের সমস্ত সংঘর্ষ ও বৌদ্ধ মঠ ধ্বংস প্রতিরোধের আদেশ দেন। সেই কারণে তিনি ১১৭৫ খ্রিষ্টাব্দে উত্তর দিক থেকে আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য লাসা শহরের উত্তরে স্ক্যিদ নদীর উত্তর তীরে ত্শাল-গুং-থাং (ওয়াইলি: tshal gung thang) নামক বিখ্যাত বৌদ্ধমঠটির নির্মাণ করেন। এই সময় তিনি মধ্য তিব্বতের একজন শক্তিশালী শাসক হিসেবে পরিগণিত হন। তিনি এই সময় এই অঞ্চলে তাঁর নিজের আইন কানুন স্থাপন করেন এবং আইনভঙ্গকারীদের ওপর নির্যাতন ও শাস্তির ব্যবস্থা করেন।[১]

পরবর্তী জীবন[সম্পাদনা]

একষট্টি বছর বয়সে এক কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে তিনি তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গোপণে সাধনার জন্য চলে যান। এই সময় তিনি কোন ব্যক্তির সঙ্গে দেখা না করতেন না। একমাত্র ১১৮৯ খ্রিষ্টাব্দে কার্মা-ব্কা'-ব্র্গ্যুদ ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা দুস-গ্সুম-ম্খ্যেন-পা তাঁর সঙ্গে দেখা করে তাঁর সামরিক অভিযান বন্ধের অনুরোধ করলে ঝাং-গ্যু-ব্রাগ-পা-ব্র্ত্সোন-'গ্রুস-গ্রাগ্স-পা তাঁর যুক্তিতে রাজি হন।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Martin, Dan (2008-08)। "Zhang Yudrakpa Tsondru Drakpa"The Treasury of Lives: Biographies of Himalayan Religious Masters। সংগ্রহের তারিখ 2013-08-18  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]