জ্যেষ্ঠা (দেবী)
| জ্যেষ্ঠা | |
|---|---|
প্রতিকূলতা এবং দুর্ভাগ্যের দেবী | |
জ্যেষ্ঠা, কৈলাস মন্দির, কাঞ্চীপুরম।[১] | |
| অন্তর্ভুক্তি | দেবী |
| বাহন | গর্দভ |
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| সহোদর | লক্ষ্মী |
| সঙ্গী | ঋষি দুঃসহ |
জ্যেষ্ঠা ( সংস্কৃত: ज्येष्ठा, "বড়" বা "সবথেকে বড়") হলেন প্রতিকূলতা এবং দুর্ভাগ্যের হিন্দু দেবী।[২] তাঁকে সমৃদ্ধি এবং শুভর দেবী লক্ষ্মীর বড় বোন এবং বিরোধী হিসাবে গণ্য করা হয়। তিনি দক্ষিণ ভারতে সাধারণত মুদেবী নামে পরিচিত।[৩]
জ্যেষ্ঠা দেবী অশুভ স্থান এবং পাপীদের সাথে যুক্ত। তিনি অলসতা, দারিদ্র্য, দুঃখ, কদর্যতার সাথেও যুক্ত এবং প্রায়শই কাকের সাথে চিত্রিত হন। তাঁকে কখনও কখনও দুর্ভাগ্যের আরেক দেবী অলক্ষ্মীর সাথে অভিন্নরূপে গণ্য করা হয়। তাঁর উপাসনা করেন মহিলারা, তাঁরা অশুভকে নিজেদের বাড়ি থেকে দূরে রাখার জন্য এই দেবীকে পূজা করেন।
৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের প্রথম দিকে হিন্দু ঐতিহ্যে জ্যেষ্ঠার আবির্ভাব ঘটে। খ্রিস্টীয় ৭ম-৮ম শতাব্দীতে দক্ষিণ ভারতে তাঁর পূজা বৃদ্ধি পেয়েছিল। ১০ম শতকের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। তিনি বিস্মৃতির দিকে চলে যান। আজ জ্যেষ্ঠার অসংখ্য প্রাচীন মূর্তি এখনও বিদ্যমান, যদিও তাঁকে খুব কমই পূজা করা হয়।
বর্ণনা এবং মূর্তিতত্ত্ব
[সম্পাদনা]জ্যেষ্ঠার মূর্তিতত্ত্ব সম্বন্ধে বিস্তারিত লেখা পাওয়া কিছু গ্রন্থ: আগম যেমন অমশুমদ্ভেদগামা, সুপ্রভেদগামা এবংপূর্বাকারঙ্গমা। এছাড়া বিষ্ণুধর্মোত্তর পুরাণ এবং বৌধায়নগৃহসূত্রে কিছু সংক্ষিপ্ত উল্লেখ রয়েছে।[৪] ৮ম শতাব্দীর মূর্তিবিদ্যা এবং উপাসনা অনুশীলনের বিশদ বিবরণ সহ প্রাচীনতম লিপিবদ্ধ দ্বিভাষিক শিলালিপি মাদুরাইয়ের কাছে তিরুপারঙ্কুনরামের গুহাগুলিতে পাওয়া গেছে।[৫]
জ্যেষ্ঠাকে সাধারণত দ্বিভুজা হিসেবে চিত্রিত করা হয়। তাঁর নাক লম্বা এবং এতটাই লক্ষণীয় যে কখনো কখনো তাঁর মুখকে হাতির মুখের মতো বলা হয়।[৪] জ্যেষ্ঠাকে "বৃহৎ দোদুল্যমান নাভি পর্যন্ত লম্বিত স্তন, একটি থলথলে পেট, স্থূল উরু, উত্থিত নাসা, ওষ্ঠের নিম্নভাগ প্রলম্বিত এবং সেটির রঙ কালির রঙের মতো বর্ণনা করা হয়েছে।"[৬] আরো বলা আছে তাঁর বৃহৎ উদর তাঁর স্ফীত দোদুল্যমান স্তনকে অবলম্বন দেয়। তাঁর গায়ের রং কালো বা লাল। তিনি কালচে নীল বা লাল পোশাক পরেন। তাঁকে প্রায়শই মাটিতে পা রেখে সিংহাসনে আরামে উপবিষ্ট রূপে চিত্রিত করা হয়।[৪]
শাস্ত্রীয় বর্ণনা অনুসারে, জ্যেষ্ঠা তাঁর ডান হাতে একটি নীল বা সাদা পদ্ম ধারণ করেন। একটি জল-পাত্র তাঁর বাম হাতে ধরা থাকে বা তাঁর সিংহাসনের কাছে রাখা হয় অথবা অভয় মুদ্রা তৈরি করা হাতে থাকে, এই মুদ্রাটি সুরক্ষা প্রদানের ভঙ্গি। তাঁর বাম হাত সাধারণত তাঁর আসন বা তাঁর উরুতে শায়িত থাকে।[৭] মাঝে মাঝে জ্যেষ্ঠা দেবী হাতে ঝাড়ু ধরে থাকেন।[৬]
জ্যেষ্ঠা তাঁর কপালে একটি তিলক চিহ্ন আঁকেন এবং বিভিন্ন অলঙ্কার পরিধান করে থাকেন, যা তাঁর বিবাহিত অবস্থার চিহ্ন।[৭] তাঁর চুল সাধারণত বিনুনি করা থাকে এবং বিনুনিটি মাথার উপরে জড়ো করা থাকে বা ভাসিকাবন্ধ নামক খোঁপার আকারে মাথার চারপাশে পেঁচানো থাকে।[৬][৭]
জ্যেষ্ঠার একটি কাক চিত্রিত নিশান আছে এজন্য তামিল ভাষায় তাঁকে "কাক-নিশানযুক্ত" ( কাক্কাইক্কোডিয়াল ) বলা হয়। দুই পরিচারক দেবীর একটি দল কখনও কখনও তাঁর পাশে দাঁড়ায়, তাদের হাতে সাধারণত একটি কাক এবং একটি ঝাড়ু থাকে।[৮] মাঝে মাঝে একটি কাক তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকে।[৬] জ্যেষ্ঠাকে প্রায়শই দুই পরিচারকের সাথে চিত্রিত করা হয়, কখনও কখনও তাদের তাঁর ছেলে মন্থন এবং কন্যা মন্থি হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়। পুরুষটি ষাঁড়ের মুখযুক্ত এবং তার হাতে একটি দড়ি থাকে। মহিলাটিকে শাঙ্কব মুকুট পরা একটি সুন্দরী যুবতী হিসাবে চিত্রিত করা হয়।[৯]
যদিও জ্যেষ্ঠাকে প্রায় কখনোই বাহনে চড়ে চিত্রিত করা হয়নি। কিন্তু বেশিরভাগ গ্রন্থে তাঁকে অলক্ষ্মীর মতো গাধায় চড়ে বলে বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যান্য কিছু গ্রন্থে, বলা হয়েছে তিনি সিংহের টানা একটি রথে ভ্রমণ করেন। বাঘ, উট বা সিংহকেও মাঝেমধ্যে বাহন হিসেবে লক্ষ্য করা যায়।[৯]
কিংবদন্তি
[সম্পাদনা]
বেশিরভাগ হিন্দু কিংবদন্তিতে মহাজাগতিক মহাসাগর মন্থনের সময় জ্যেষ্ঠার জন্মের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। সাগর থেকে বিষাক্ত হলাহল উত্থিত হওয়ার সময় তাঁর জন্ম বলে বর্ণনা করা হয় এবং তাঁর বিরোধী সৌভাগ্যের দেবী লক্ষ্মীর জন্ম হয় যখন জীবনের অমৃত আবির্ভূত হয়।[১০]
পদ্মপুরাণে, যখন সমুদ্র মন্থন শুরু হয়, তখন প্রথমে সমুদ্র থেকে বিষ বের হয়। এটি দেবতা শিব গ্রাস করেন এবং তারপরে জ্যেষ্ঠা সমুদ্র থেকে লাল পোশাক পরে আবির্ভূত হন। যখন তিনি দেবতাদের জিজ্ঞাসা করেন যে তাঁর কি করা উচিত, তখন তাঁকে অশুভ স্থানে বাস করার আদেশ দেওয়া হয়। বলা হয়েছে তিনি দুঃখ এবং দারিদ্র্য নিয়ে আসেন। বলা হয়েছে যেখানে খুব ঝগড়া হয়, যেখানে মিথ্যাবাদীরা কঠোর ভাষা ব্যবহার করে, যেখানে দুষ্ট এবং পাপী পুরুষরা বাস করে, যেখানে লম্বা চুল, মাথার খুলি, হাড়, ছাই বা কাঠকয়লা থাকে (অপ্রথাগত ভিক্ষাজীবীর লক্ষণ) সেখানে তিনি বাস করেন।[১১]
লিঙ্গ পুরাণ অনুসারে, দেবতা বিষ্ণু জগতকে ভাল এবং মন্দ উভয় ভাগে ভাগ করেছেন। তিনি লক্ষ্মী (শ্রী) এবং জ্যেষ্ঠাকে সৃষ্টি করেছেন, উভয়েই মহাজাগতিক মহাসাগরের মন্থন থেকে জন্মগ্রহণ করেছেন। লক্ষ্মী বিষ্ণুকে বিবাহ করেছেন, জ্যেষ্ঠা বিবাহ করেছেন ঋষি দুঃসহকে। ঋষি শীঘ্রই আবিষ্কার করেন যে তাঁর কুৎসিত স্ত্রী কোনও শুভ জিনিসের শব্দ বা দৃশ্য সহ্য করতে পারেন না। তিনি বিষ্ণু বা ঋষি মার্কেন্ডেয়ের (কিছু সংস্করণে) কাছে অভিযোগ করেন। বিষ্ণু/মার্কেন্ডেয় দুঃসহকে পরামর্শ দেন জ্যেষ্ঠাকে শুধুমাত্র অশুভ স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বর্ণনা করা হয়েছে জ্যেষ্ঠা ধার্মিকদের থেকে দূরে থাকেন। জ্যেষ্ঠা তখন অলক্ষ্মী উপাধি অর্জন করেন, এর অর্থ "যিনি অশুভ"। তিনি এমন জায়গায় বাস করেন যেখানে "পরিবারের সদস্যরা ঝগড়া করে এবং বড়রা তাদের বাচ্চাদের ক্ষুধাকে উপেক্ষা করে নিজেরা খাবার খায়"। হিন্দুদের দ্বারা ধর্মবিরোধী হিসাবে বিবেচিত মিথ্যাবাদীদের সাথে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করা হয়। অবশেষে তাঁর অসামাজিক প্রকৃতিতে ক্লান্ত হয়ে, দুঃসহ জ্যেষ্ঠাকে এমন একটি জায়গায় ত্যাগ করে আসেন যেখানে অ-বৈদিক (ধর্মবিরোধী) আচার-অনুষ্ঠান করা হয়। তিনি তখন বিষ্ণুর কাছে এর প্রতিকার প্রার্থনা করেন। বিষ্ণু আদেশ দেন যে নারীদের প্রদান করা নৈবেদ্য দ্বারা জ্যেষ্ঠা বেঁচে থাকবেন।[১২][১৩]
কাম্বা রামায়ণ অনুসারে, মহাজাগতিক মহাসাগর মন্থনের সময় জ্যেষ্ঠা আবির্ভূত হন। হিন্দু ত্রয়ী ত্রিমূর্তি তাঁকে খুঁজে পান এবং তাঁকে অশুভ স্থানে বসবাসের আদেশ দেন। যেহেতু জ্যেষ্ঠা লক্ষ্মীর আগে আবির্ভূত হয়েছিলেন, তাই জ্যেষ্ঠাকে লক্ষ্মীর বড় বোন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই কারণে তাঁকে মুদেবী বা মুধেবীও বলা হয়।[২][১৪]
শৈব পুরাণগুলি পরম দেবীর (পরাশক্তি ) আটটি অংশের একজন হিসাবে তাঁর গুণগান করে, পরাশক্তি মানুষের জীবনকে বিভিন্ন উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করেন।[২][১৫]
গোষ্ঠী
[সম্পাদনা]
জ্যেষ্ঠা একজন হিন্দু স্ত্রীর নেতিবাচক দিক নিয়ে তৈরি, লক্ষ্মী তৈরি হয়েছেন ইতিবাচক দিকগুলি নিয়ে। একটি বহুগামী পরিবারে জ্যেষ্ঠা হলেন বরিষ্ঠ স্ত্রী, যাঁকে সংস্কৃতে জ্যেষ্ঠা বলা হয়েছে। তিনি তাঁর সমনামী নক্ষত্র (নক্ষত্রমণ্ডল) জ্যেষ্ঠার সাথে যুক্ত, এই নক্ষত্রটি দেবীর নেতিবাচক গুণাবলী উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছে। জ্যেষ্ঠা নক্ষত্রে যদি কোনও বধূ গৃহে প্রবেশ করে, তবে তার বড় ভাসুর মারা যাবে বলে বিশ্বাস করা হয়।[১৬]
লেসলির মতে, জ্যেষ্ঠাকে যেমন হাতির মুখধারী হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং বাধা অপসারণের জন্য আহ্বান জানানো হয়, হাতি-মাথাযুক্ত দেবতা গণেশেরও অনুরূপ ভূমিকা আছে, জ্যেষ্ঠা গণেশের পূর্বসূরি হতে পারেন। ভারতের কিছু অংশে, তাঁকে গুটিবসন্তর দেবী শীতলা দেবীর সাথে এক করা হয়। পদ্ম, অভয় মুদ্রা এবং লক্ষ্মীর সাথে তাঁর সম্পর্ক তাঁকে বৈষ্ণব (বিষ্ণুর সাথে সম্পর্কিত) দেবতার সাথে যুক্ত করে। তাঁর ভয়ঙ্কর দিক এবং শাক্তধর্মের সাথে তাঁর যোগসূত্র একটি শৈব (শিবের সাথে সম্পর্কিত) সংযোগ নির্দেশ করে। দুর্ভাগ্যের প্রতীক কাক তাঁকে নিরীতি এবং যমের মতো দেবতাদের সঙ্গে যুক্ত করে।[১৭] তান্ত্রিক মহাবিদ্যা দেবী গোষ্ঠীর অংশ, একজন বিধবা দেবী ধূমাবতীর সাথে কিন্সলে জ্যেষ্ঠাকে যুক্ত করেন। জ্যেষ্ঠার মতোই ধূমাবতীও কৃষ্ণবর্ণ, কুৎসিত এবং কাকের সাথে যুক্ত। এছাড়াও জ্যেষ্ঠার মতো, তিনি কলহপূর্ণ, অশুভ জায়গায় বাস করেন এবং তাঁর মানসিক অবস্থা ক্রোধযুক্ত থাকে।[১৮] সারদাতিলক-তন্ত্রের ভাষ্যকার লক্ষ্মণ দেশিকা ধূমাবতীকে জ্যেষ্ঠার সাথে এক করেন।[১৯]
যদিও জ্যেষ্ঠা সুন্দর দেহের অধিকারী (সৌম্য) হিন্দু দেবীদের শ্রেণীতে পড়েন না, তবুও তিনি অন্যান্য ভয়ানক বৈশিষ্ট্যযুক্ত ক্ষীণকায় এবং অমঙ্গলকারী গুণাবলী সহ হিংস্র (উগ্র ) দেবীদের শ্রেণী থেকে আলাদা। আলস্যের দেবী হিসাবে, জ্যেষ্ঠার কদর্যতা এবং স্থূলতা তাঁর অলসতার জন্য হয়েছে। তিনি নিছক অশুভ এবং ঝামেলাপূর্ণ, কিন্তু ভয়ঙ্কর নন।[১০]
উপাসনা
[সম্পাদনা]
হিন্দু ঐতিহ্যের প্রথম দিকে জ্যেষ্ঠা আবির্ভূত হয়েছেন।[৬] বৌধায়ন-গৃহসূত্রে (৩০০ থেকে ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) তিনি প্রথম আবির্ভূত হন।[২০] সাধারণত গ্রামের উপকণ্ঠে, তাঁর অনেক মূর্তি এখনও বিদ্যমান। খ্রিস্টীয় ৭ম-৮ম শতাব্দীতে, তিনি দক্ষিণ ভারতে জনপ্রিয় দেবী ছিলেন। শাক্তধর্ম ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে তাঁর খ্যাতি ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে।[২১] ৭ম থেকে ৯ম শতাব্দীর মধ্যে, বৈষ্ণব অলবর সাধক থণ্ডারাদিপ্পোদি আলবার, জ্যেষ্ঠার উপাসনাকারী "মূর্খ ভক্তদের" সংখ্যা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন জ্যেষ্ঠা তাদের সত্য থেকে দূরে রাখেন। তিনি আদেশ করলেন যে জ্যেষ্ঠা দেবীর পূজা করার প্রয়োজন নেই।[২][২২][২১] ১০ম শতকের মধ্যে, তাঁর উপাসনা কমবেশি বন্ধ হয়ে যায়। [২]
আজকের দিনে, জ্যৈষ্ঠার মূর্তির কমই পুজো হয়।[২১] মূর্তিগুলি মন্দিরের উপেক্ষিত কোণে অবহেলার সঙ্গে রাখা হয় বা মন্দিরের বাইরে ফেলে দেওয়া হয়।[২১] যেখানে তিনি এখনও পরিচিত, সেখানে তিনি ভয়ের বস্তু। উত্তরমেরুর-এর একটি মন্দিরে জ্যেষ্ঠা দেবীর মূর্তি মাটির দিকে মুখ করে রাখা আছে। দেবীর নিছক দৃষ্টিই গ্রামে মৃত্যু নিয়ে আসে বলে বিশ্বাস করা হয়।[২১]
যাইহোক, জনপ্রিয়তার শিখরে থাকার সময়, জ্যেষ্ঠা এমন একজন দেবী ছিলেন, যাঁকে প্রতিদিন একজন ভাল স্ত্রীর মাধ্যমে প্রসন্ন করতে হতো। স্ত্রীধর্মপদ্ধতি -তে পাওয়া যায় যে একজন স্ত্রীকে অবশ্যই তার নিজের খাওয়ার আগে জ্যেষ্ঠাকে অন্নপ্রদান করতে হবে। যিনি তা করবেন না তিনি মৃত্যুর পর নরকে যাবেন; কিন্তু যিনি এই নিয়ম অনুসরণ করবেন তিনি বংশধর ও সমৃদ্ধি লাভ করবেন।[২১] বৌধায়ন সূত্রে জ্যেষ্ঠার উপাসনা সম্পর্কেও বিস্তারিত বলা হয়েছে।[২][২৩] লিঙ্গ পুরাণের কিংবদন্তি অনুসারে বিশ্বাস করা হয় যে, যে সমস্ত বাড়ির মহিলারা দেবীকে নৈবেদ্য দিয়ে খুশি করেন তাঁরা দেবীকে নিজেদের ঘর থেকে দূরে রাখতে পারেন।[১২]
১৩শ শতাব্দীর সেউণ রাজবংশের প্রধানমন্ত্রী হেমাদ্রি ধর্মীয় ব্রত এবং উপবাসের উপর একটি বই লিখেছিলেন, তিনি উল্লেখ করেছেন যে একজন পুরুষ ভক্তেরও জ্যেষ্ঠার পূজা করা উচিত নিজের স্ত্রী এবং বংশধরদের সৌভাগ্য আনার জন্য।[২৪] সারদাতিলক-তন্ত্র বর্ণনা করে যে তান্ত্রিক আচারে, জ্যেষ্ঠার পূজা করা হয় বন্ধুদের মধ্যে শত্রুতা (বিদ্বেষ) সৃষ্টি করার জন্য। বিদ্বেষের অধিপতি দেবী হিসাবে জ্যেষ্ঠাকে আচার অনুষ্ঠান শুরুর আগে আমন্ত্রণ জানানো হয়।[২৫] [২৬]
টীকা
[সম্পাদনা]- ↑ The description and photo of this image is given in Julia Leslie pp. 115, 117
- 1 2 3 4 5 6 Mani, Vettam (১৯৭৫)। Puranic Encyclopaedia: A Comprehensive Dictionary With Special Reference to the Epic and Puranic Literature। Motilal Banarsidass। পৃ. ৩৬০। আইএসবিএন ০-৮৪২৬-০৮২২-২।
- ↑ Kampar (২০০২)। Kamba Ramayana (ইংরেজি ভাষায়)। Penguin Books India। পৃ. ৪১৪। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৪-৩০২৮১৫-৪।
- 1 2 3 Leslie p. 115
- ↑ K.G. 1981, pp. 15-8
- 1 2 3 4 5 Kinsley (1997) p. 178
- 1 2 3 Leslie p. 116
- ↑ Leslie p. 117
- 1 2 Leslie p. 118
- 1 2 Leslie p. 120
- ↑ Leslie p. 121
- 1 2 Kinsley (1997) pp. 178-9
- ↑ Leslie pp. 121-2
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; নামবিহীন ref সমূহের অবশ্যই বিষয়বস্তু থাকতে হবে - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; নামবিহীন ref সমূহের অবশ্যই বিষয়বস্তু থাকতে হবে - ↑ Leslie p. 107
- ↑ Leslie p. 119
- ↑ Kinsley (1997), pp.178-181
- ↑ Gupta, Sanyukta (২০০১)। Tantra in practice। Motilal Banarsidass Publ। পৃ. ৪৭২। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-১৭৭৮-৪। ৯ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০২৩।
- ↑ Leslie p. 113
- 1 2 3 4 5 6 Leslie p. 114
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; নামবিহীন ref সমূহের অবশ্যই বিষয়বস্তু থাকতে হবে - ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়; নামবিহীন ref সমূহের অবশ্যই বিষয়বস্তু থাকতে হবে - ↑ Leslie p. 122
- ↑ Leslie p. 125
- ↑ Mishra, Vibhuti Bhushan (১৯৭৩)। Religious beliefs and practices of North India during the early mediaeval period। BRILL। পৃ. ২৮। আইএসবিএন ৯৭৮-৯০-০৪-০৩৬১০-৯। ৯ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০২৩।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- Kinsley, David R. (১৯৯৭)। Tantric visions of the divine feminine: the ten mahāvidyās। University of California Press.। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-২০৪৯৯-৭।
- K.G., Krishnan (১৯৮১)। Studies in South Indian History and Epigraphy volume 1। New Era Publications।
- Leslie, Julia (১৯৯২)। "Sri and Jyestha: Ambivalent Role Models for Women"। Roles and rituals for Hindu women। Motilal Banarsidass। আইএসবিএন ৮১-২০৮-১০৩৬-৮।