জ্যান কুবিশ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
জ্যান কুবিশ
জন্ম ২৪ জুন, ১৯১৩
ডলনি ভিলেমোভিস, মোরাভিয়া, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরী
(অধুনা চেক প্রজাতন্ত্র)
মৃত্যু ১৮ জুন ১৯৪২ (২৮ বছর)
প্রাগ
সমাধি অবস্থিত ডাবলিস সেমেটারি
আনুগত্য  চেকোস্লোভাকিয়া
 ফ্রান্স 1939–40
 ইংল্যান্ড
সার্ভিস/শাখা চেকোস্লোভাকিয়ান সেনাবাহিনী
ফ্রেঞ্চ ফরেন লিজিয়ন
কার্যকাল ১৯৩৫–৩৮
২৯৩৯–৪০
১৯৪০–৪২ 
পদমর্যাদা স্টাফ সার্জেন্ট
ইউনিট স্পেশাল অপারেশনস এক্সিকিউটিভ
যুদ্ধ/সংগ্রাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও অপারেশন এনথ্রপয়েড
পুরস্কার ক্রয়েক্স দ্য গুরে

জ্যান কুবিশ (ইংরেজি: Jan Kubiš) (২১ জুন, ১৯১৩ - ১৮ জুন, ১৯৪২) একজন চেক সৈনিক, নাজিবিরোধী প্রতিরোধ বাহিনীর সদস্য। তিনি ১৯৪২ সালে থার্ড রাইখ প্রোটেকটর রেইনহার্ড হেডারিক কে হত্যার ষড়যন্ত্র, অপারেশ এনথ্রপয়েড এর সাথে যুক্ত ছিলেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

১৯১৩ সালে চেকোস্লোভাকিয়ামোরাভিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন জ্যান কুবিশ। তিনি বয় স্কাউটের সাথে যুক্ত ছিলেন।[১] ১৯৩৫ সালে চেক সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। পেটি অফিসার থেকে প্রমোশন পেয়ে করপোরাল পদ পান। ১৯৩৮ সালে চেকোস্লোভাকিয়া সীমান্তে কর্মরত থাকেন ডেপুটি প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে। মিউনিখ চুক্তির পর কুবিশ ১৯৩৮ সালের ১৯ অক্টোবর সেনাবাহিনী থেকে চলে আসেন ও সাধারণ নাগরিকের মত ইঁটের কারখানায় চাকরি নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ১৬ জুন ১৯৩৯ খৃষ্টাব্দে তিনি চেকোস্লোভাক ইউনিটে যোগ দেন এবং অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে ফ্রান্সের হয়ে লড়াই করেন, ফ্রান্স সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করারা জন্যে ক্রয়েক্স দ্য গুরে সম্মান পান। নাৎসি জার্মানির সাথে যুদ্ধে ফ্রান্সের পরাজয় ঘটলে তিনি গ্রেট ব্রিটেনে পলায়ন করেন এবং সেখানে প্যারাট্রুপারের প্রশিক্ষন নেন। কলমন্দলে দুর্গে, চেকোস্লোভাকিয়ার মুক্তি বাহিনীর একটি ইউনিট ব্রিটেনে চেক তরুনদের প্রশিক্ষন দিতো। এই সময় তার বন্ধু যোসেফ গাবচিকও তার সাথে প্রশিক্ষন নেন।

হেডারিক হত্যা[সম্পাদনা]

২৮ নভেম্বর, ১৯৪১ সালে রাত ১০ টায়, যোসেফ গাবচিক ও জ্যান কুবিশ প্যারাট্রুপারে এসে নামেন চেকোস্লোভাকিয়া। তাদের সাথে চেক গেরিলাবাহিনীর আরো সাতজন ব্রিটেন থেকে আসেন। চেকোস্লোভাকিয়ায় নাৎসি পার্টির অন্যতম প্রধান রেইনহার্ড হেডারিককে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের এই অভিযানের নাম ছিল অপারেশন এনথ্রপয়েড। প্রাগ শহরে অনেকগুলি পরিবার ও নাৎসি বিরোধী জনগন তাদের গোপনে সাহায্য করেন। ১৯৪২ সালের ২৭ মার্চ হেডারিকের হিটলারের সাথে দেখা করার কথা ছিল। জার্মান দলিল অনুযায়ী আডলফ হিটলার তার বিশ্বস্ত হেডারিককে জার্মান দখলীকৃত ফান্সের দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন। ড্রেসডেন-প্রাগ রোড ও ট্রোজা ব্রিজের সংযগস্থলে হেডারিককে আক্রমনের পরিকল্পনা করেন বিপ্লবীরা। এই রাস্তায় ট্রাম স্টপেজে, বুলোভকা হসপিটালের কাছে গাবচিক হেডারিকের মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির সামনে চলে আসেন ও গুলি করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তার স্টেনগান বন্ধ হয়ে গেলে হেডারিক গাড়ি থামিয়ে নিজেই পাল্টা গুলি করতে যান আক্রমনকারীকে কিন্তু কুবিশ এই কামান বিধ্বংসী একটি শক্তিশালী গ্রেনেড ছোরেন তার গাড়ি লক্ষ করে। বোমাটি গাড়ির ভেতর না পড়লেও গ্রেনেডের টুকরোতে হেডারিক মারাত্মক আহত হন ও ড্রাইভার ক্লেইনকে আদেশ দেন আক্রমনকারিদের ধরবার জন্যে। ক্লেইন ধরতে গেলে গাবচিক তাকে গুলি চালিয়ে আহত করেন। এই ঘটনায় কুবিশ নিজেও ঘাতক গ্রেনেডের টুকরোয় আঘাত পান। গাবচিক ও কুবিশ আহত অবস্থায় পলায়নে সক্ষম হন। বুলোভকা হসপিটালে হেডারিককে নিয়ে যাওয়া হয়। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গা, ফুসফুস, কন্ঠার হাড়, ইত্যাদি নানা অংগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ডাক্তারেরা অপারেশন করার চেষ্টা করেন ও তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। হিমলার তাকে দেখতে আসেন ২ জুন। হিমলারের আদেশে হিটলারের ব্যক্তিগত চিকিৎসক, থিওডর মোরেল, কার্ল গেভারডথ তার চিকিৎসা করতে প্রাগে আসেন, হিমলারের নির্দেশে। ৪ জুন হেডারিক মারা যান।[২][৩]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

সিরিল চার্চের দেওয়ালে বুলেটের দাগ, এখানেই লুকিয়ে ছিলেন কুবিশ ও সহ বিপ্লবীরা

প্রাগ শহরের রেসলোভা স্ট্রীটের সেন্ট সিরিল চার্চে কুবিশ ও গাবচিককে খুজে পাওয়া যায়। চেকোস্লোভাকিয়ান বিপ্লবী দলের কারেল কুর্ডা'র বিশ্বাসঘাতকতায় নাৎসি সেনারা তাদের অবস্থান জেনে নেয়। ১৯৪২ এর ১৮ জুন এস এস ট্রুপস এর সাথে দীর্ঘ ছয় সাত ঘন্টার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে কুবিশ জখম অবস্থায় ধরা পড়েন ও হসপিটালে মারা যান। যোসেফ গাবচিক, যোসেফ ভালচিক সহ বাকি বিপ্লবীরা আরো চার ঘন্টা লড়াই করেন ও জীবিত অবস্থায় ধরা দেবার পরিবর্তে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। এই যুদ্ধে ১৪ জন জার্মান মৃত ও ২১ জন ঘায়েল হয়। হেডারিক হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে নাজী সেনারা জ্যান কুবিশের পরিচিত, আত্মীয়, অল্প পরিচিত মোট ২৪ টি পরিবারকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পাঠায় ও হত্যা করে। ১৩০০০ হাজার মানুষকে সর্বমোট গ্রেপ্তার করে অত্যাচারা করা হয়। জ্যান কুবিশের প্রেমিকা আনা মলিনোভাকে মাউথআউসেন-গুসেন কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পাঠানো হয় ও মেরে ফেলা হয়।[৪][৫]

চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

২০১৬ সালে অপারেশন এনথ্রপয়েডের ঘটনা নিয়ে হলিউড চলচ্চিত্র 'এনথ্রপয়েড' নির্মিত হয়। এই সিনেমায় জ্যান কুবিশের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যামি ডরন্যান।[৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Prague in Black: Nazi Rule and Czech Nationalism (২০০৭)। Bryant, Chad Carl। Cambridge: Harvard University Press। আইএসবিএন 978-0-674-02451-9 
  2. Seven Men At Daybreak (১৯৮৩)। Burgess, Alan [1960]। New York: Bantam Books। পৃ: ১৬০। আইএসবিএন 978-0-55323-5-081 
  3. Assassination: Operation ANTHROPOID, 1941–1942 (২০০২)। Burian, Michal; Knížek, Aleš; Rajlich, Jiří; Stehlík, Eduard। Prague: Ministry of Defence of the Czech Republic। আইএসবিএন 978-8-07278-1-584 
  4. Reinhard Heydrich: Assassination (১৯৯৪)। Cowdery, Ray R.; Vodenka, Peter। Lakeville, MN, USA: Victory WW2 Publishing Ltd.। আইএসবিএন 978-0-91066-7-425 
  5. "Poprava 262 spolupracovníků parašutistů v Mauthausenu 24. 10. 1942 - 74 let"fronta.cz (in Czech)। সংগৃহীত ২২ মে, ২০১৭ 
  6. "ANTHROPOID (2016)"historyvshollywood.com। সংগৃহীত ১১ জুন, ২০১৭