জ্যাক সিডল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জ্যাক সিডল
Jack Siedle 1935.jpg
১৯৩৫ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে জ্যাক সিডল
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামইভান জুলিয়ান সিডল
জন্ম(১৯০৩-০১-১১)১১ জানুয়ারি ১৯০৩
বিরিয়া, ডারবান, নাটাল, দক্ষিণ আফ্রিকা
মৃত্যু২৪ আগস্ট ১৯৮২(1982-08-24) (বয়স ৭৯)
বুলার, নাটাল, দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১২৩)
২১ জানুয়ারি ১৯২৮ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৮ ১২৩
রানের সংখ্যা ৯৭৭ ৭৭৩০
ব্যাটিং গড় ২৮.৭৩ ৪০.০৫
১০০/৫০ ১/৫ ১৭/৩২
সর্বোচ্চ রান ১৪১ ২৬৫*
বল করেছে ১৯ ৪৯
উইকেট
বোলিং গড় ৭.০০ ৩৫.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৭ ১/৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৭/- ৫৭/১
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২২ এপ্রিল ২০১৯

ইভান জুলিয়ান জ্যাক সিডল (ইংরেজি: Jack Siedle; জন্ম: ১১ জানুয়ারি, ১৯০৩ - মৃত্যু: ২৪ আগস্ট, ১৯৮২) ডারবানের বিরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯২৮ থেকে ১৯৩৬ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট নাটাল দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন জ্যাক সিডল

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

ডারবানের বিরিয়া এলাকায় জ্যাক সিডলের জন্ম। ওলউইচে জন্মগ্রহণকারী অটো সিডলের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন জ্যাক সিডল। অটো সিডল ডারবানে অভিবাসিত হন এবং জাহাজী ব্যবসায় ও জনসংযোগের সাথে জড়িত হয়ে পড়েন। অটো সিডলের স্ত্রী মেরি ডারবানের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। জ্যাকের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা কার্ল সিডল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে নাটালের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন ও যুদ্ধে নিহত হন। তার বোন পার্লা সিডল গিবসন প্রসিদ্ধ গায়িকা ছিলেন ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিজ দেশের পরিচিতি বহন করতেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ডানহাতি ব্যাটসম্যান জ্যাক সিডল ১৯২২-২৩ মৌসুমেথেকেই ১৯৩৬-৩৭ মৌসুম পর্যন্ত একটানা ১৫ মৌসুম নাটালের পক্ষে খেলেছেন। মাঝে-মধ্যে বোলিংকর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, অনিয়মিতভাবে উইকেট-রক্ষণে গ্লাভস হাতে নিতেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন জ্যাক সিডল। তবে শুরুরদিকে তেমন সাড়া জাগাতে পারেননি। ১৯২৩-২৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে খেলার জন্যে আহুত হন ও ইংল্যান্ড গমনের উদ্দেশ্যে প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রান তুলেছিলেন। ঐ মুহূর্তে এটিই তার ব্যক্তিগত সেরা ইনিংস ছিল। এছাড়াও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ছিল। তাসত্ত্বেও, ঐ সফরের জন্যে তাকে মনোনীত করা হয়নি।[১] পরের কয়েক মৌসুমে তাকে দলে না নেয়ার স্বার্থকতা ফুঁটে উঠে। নাটাল দলের পক্ষে তেমন রান করতে পারছিলেন না। ইনিংস প্রতি গড়ে মাত্র ২০-এর অধিক রান তুলেছিলেন জ্যাক সিডল।[২] কিন্তু, ১৯২৬-২৭ মৌসুমে বর্ডারের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম সেঞ্চুরির সন্ধান পান।[৩] দুই খেলার পর অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে দূর্দান্ত খেলা উপহার দেন। প্রথম উইকেট জুটিতে জন নিকোলসনের সাথে ৪২৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। অদ্যাবধি তাদের ঐ রেকর্ডটি নাটালের পক্ষেসহ দক্ষিণ আফ্রিকান প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে টিকে রয়েছে স্ব-মহিমায়। ১৭৪ রান তুলে জ্যাক সিডল আউট হলে এ জুটি ভেঙ্গে যায়; নিকোলসন ২৫২ রানে অপরাজিত থাকেন।[৪]

পরের বছর তুলনামূলকভাবে তেমন ভালো খেলা উপহার দেননি। তাসত্ত্বেও অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেন।[৫]

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ১৮টি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।[৬] ২১ জানুয়ারি, ১৯২৮ তারিখে ডারবানে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে জ্যাক সিডলের। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ তারিখে একই মাঠে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন।

১৯২৭-২৮ মৌসুমে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করে। ডারবানের তৃতীয় টেস্টে খেলার জন্যে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ১১ ও ১০ রানে তুলতে পেরেছিলেন।[৭] ফলে, ঐ সিরিজের বাদ-বাকী টেস্ট খেলার জন্যে তাকে আর দলে রাখা হয়নি। ১৯২৮-২৯ মৌসুমে ডারবানে বড়দিনের উৎসব উপলক্ষ্যে বেশ কয়েকটি খেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। জ্যাক সিডল এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দূর্বল প্রতিপক্ষ বর্ডারের বিপক্ষে অপরাজিত ২১২ রানের ইনিংস খেলতে সক্ষম হন। ঐ সময়ে এটিই তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল। ফলশ্রুতিতে, ১৯২৯ সালে ইংল্যান্ড গমনের উদ্দেশ্যে তাকে দলে রাখা হয়।[৮]

ইংল্যান্ড গমন[সম্পাদনা]

ইংল্যান্ড সফরের শুরুরদিকের খেলাগুলোয় বেশ ভালো খেলেন জ্যাক সিডল।লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে সফরের দ্বিতীয় খেলায় অপরাজিত ১৬৯ রান তুলেন। শতরান স্পর্শ করতে পাঁচ ঘন্টারও অধিক সময়ে ব্যয়িত হয় তার। তবে, বাদ-বাকী ৬৯ রানের জন্যে এক ঘন্টার অল্প সময়ে বেশী খরচ করেন।[৯][১০] তিন সপ্তাহে পর একই কৃতিত্ব গড়েন তিনি। ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ২০টি চারের মারের সাহায্যে নিয়ে ১৬৮ রান তুলেন। উইজডেনে তার এ ইনিংসের ভূয়সী প্রশংসা করা হয় ও অসাধারণ ইনিংস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।[১১][১২] এরপর, মাইনর কাউন্টিজের খেলায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও অবসর নিতে হয়। পরবর্তীতে সাত খেলার ছয়টিতেই তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। তন্মধ্যে, পাঁচ টেস্টে গড়া সিরিজের প্রথম দুই টেস্টও অন্তর্ভূক্ত ছিল।

সুস্থ হবার পর তৃতীয় টেস্টে অংশগ্রহণ করেন জ্যাক সিডল। কিন্তু, ০ ও ১৪ রান তুলেন। খেলায় স্বাগতিকরা পাঁচ-উইকেট জয় পায়।[১৩] সিরিজের বাদ-বাকী টেস্টেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারেননি তিনি। চতুর্থ টেস্টে ৬ ও ১ এবং পঞ্চম টেস্টের একমাত্র ইনিংসটিতে ১৪ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।[১৪][১৫] তবে, টেস্টের বাইরের খেলাগুলোয় বেশ নিয়মিতভাবে ও বিশ্বস্ত ব্যাটসম্যানের পরিচয় তুলে ধরেন। এ পর্যায়ে অবশ্য তিনি কোন সেঞ্চুরির সন্ধান পাননি। তাসত্ত্বেও, এ সফর শেষে ১৫৭৯ রান তুলেন। রান সংগ্রহের দিক দিয়ে ব্রুস মিচেলের পর এবং হার্বি টেলরের পর ৩৫.৮৮ গড়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।[১৬]

সামগ্রিকভাবে উইজডেনে তার মূল্যায়নে মন্তব্য করে যে, অংশগ্রহণকৃত তিন টেস্টে তেমন কিছু করতেই না পারলেও অন্য খেলাগুলোয় ধারাবাহিতা রক্ষা করেছেন। প্রত্যেক বলকেই সূচারূভাবে মোকাবেলান্তে বৈচিত্র্যময় স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছুটিয়েছেন।[১৭]

১৯২৯-৩০ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে এসে জ্যাক সিডল তার পুরো খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন। নাটালের সদস্যরূপে কারি কাপে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অপরাজিত ২৬৫ রান তুলেন তিনি।[১৮] ঐ সময়ে এটিই নাটালের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংসরূপে স্বীকৃত ছিল। এরপূর্বে ১৯১৯-২০ মৌসুমে ট্রান্সভালের বিপক্ষে ডেভ নোর্স অপরাজিত ৩০৪ রান তুলেছিলেন।[১৯]

ইংল্যান্ডের মুখোমুখি[সম্পাদনা]

১৯৩০-৩১ মৌসুমে ইংরেজ দল দক্ষিণ আফ্রিকায় আগমন করে। কারি কাপ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। নাটালের সদস্যরূপে সফররত ইংরেজ দলের বিপক্ষে ৪৬ ও ৩৮ রান তুলেন। এরফলে, পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রথমটিতে খেলার সুযোগ পান।[২০] ঐ খেলায় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দল ২৮ রানের স্বল্প ব্যবধানে জয় পায়। খেলায় তিনি ১৩ ও ৩৫ রান করেন। এ পর্যায়ে ৩৫ রানই তার সেরা টেস্ট রান হিসেবে ছিল।[২১] সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি সিডলের খেলোয়াড়ী জীবনের ষষ্ঠ টেস্ট ছিল। অবশেষে তিনি রানের দেখা পান। ব্রুস মিচেলের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে প্রথম উইকেট জুটিতে ২৬০ রান তুলেন। তিনি ১৪১ রান তুলে আউট হন। এটিই দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট রান ছিল। এরফলে দক্ষিণ আফ্রিকা দল তৎকালীন দলীয় সর্বোচ্চ ৫১৩/৮ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে।[২২] ঐ ইনিংসে হার্বি টেলরও সেঞ্চুরি করেন। ইংল্যান্ড ফলো-অনের কবলে পড়লেও খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়।

বৃষ্টিবিঘ্নিত তৃতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ৩৮রান তুলেন। চার রানের মাথায় আউট থেকে বেঁচে যান। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে রান তুলেন জ্যাক সিডল।[২৩] চতুর্থ টেস্টে সমান তালে চলে ও ড্রয়ে পরিণত হয়। প্রথম ইনিংসে ৬২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ রান তুলেছিলেন তিনি।[২৪] সিরিজের চূড়ান্ত ও পঞ্চম টেস্টে ৫৭ ও ৩০ রান তুলেন। এ খেলাটিও ড্রয়ের পথে চলে যায়। ফলশ্রুতিতে দক্ষিণ আফ্রিকা দল ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। এ খেলায় স্বাগতিকরা ড্রয়ের দিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। খণ্ডকালীন বোলারেরা বল হাতে নেয়ার সুযোগ লাভ করেন। সিডলও তার পুরো প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র উইকেটের সন্ধান পান। ইংরেজ ব্যাটসম্যান মরিস টার্নবুলকে কট এন্ড বোল্ডে বিদেয় করে এ সাফল্য পান।[২৫] পুরো সিরিজে ৪২.৬৬ গড়ে ৩৮৪ রান তুলেন। ব্রুস মিচেলের পর দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন।

টেস্টে প্রত্যাবর্তন[সম্পাদনা]

১৯৩১-৩২ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা দল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমন করে। এ সফরের শুরুতে জক ক্যামেরনের সহকারী অধিনায়কের দায়িত্ব লাভ করেন।[২৬] শেষ পর্যন্ত ঐ সফরে যাননি তিনি। ঐ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় খুব কমই ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তুলনামূলকভাবে কারি কাপে নাটালের পক্ষে নিয়মিতভাবে অংশ নিয়েছিলেন। পরবর্তী মৌসুমগুলোয়ও অন্যান্য প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। তবে, অস্ট্রালেসিয়ান সফরে যাওয়া থেকে বঞ্চিত হন। ১৯৩৫ সালের পূর্ব-পর্যন্ত আর কোন টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। ১৯৩৫ সালে ইংল্যান্ড গমনের জন্যে মনোনয়ন লাভ করেন।

১৯৩৫ সালে ইংল্যান্ড সফরের শুরুরদিকে খুবই ভালোমানের পর্যায়ে ছিলেন। মে মাসে সারে, অক্সফোর্ড ও এমসিসির বিপক্ষে উপর্যুপরী তিনটি প্রথম-শ্রেণীর সেঞ্চুরি করে বসেন। সারের খেলায় উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরিকারী ডাডলি নোর্সের সাফল্যে তার সাফল্য ম্লান হয়ে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১০৪ রান তুলেন। এ পর্যায়ে নোর্সের সাথে ১৬০ রানের নিরবচ্ছিন্ন জুটি ইনিংস ঘোষণার দিকে চলে যায়। ফলশ্রুতিতে, দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ জয়লাভ করে।[২৭] অক্সফোর্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে নোর্স সেঞ্চুরি করেন। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে হার্বি ওয়েডের সাথে উদ্বোধনী জুটিতে ১৬৪ ও এরিক রোয়ানের সাথে নিরবচ্ছিন্ন ২০৫ রান করলে উচ্চমুখী রানের খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। এ সফরে তার সংগৃহীত অপরাজিত ১৬৪ রানই সর্বোচ্চ হিসেবে রয়ে যায়।[২৮] লর্ডসে এমসিসির বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে বৃষ্টি আঘাত হানে। তবে, প্রথম দিনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ১৩২ রান তুললে দক্ষিণ আফ্রিকানদের ইনিংস ২৯৭ রানে শেষ হয়ে যায়।[২৯] উইজডেনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, এ খেলাটির প্রধান সম্মান লাভকারী হিসেবে জ্যাক সিডলের প্রাপ্য। পূর্বের তুলনায় এখানে তিনি দারুণ খেলেছেন। প্রায় পাঁচ ঘন্টা ক্রিজে অবস্থান করে নিখুঁত ব্যাটিং করেছেন। বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নেননি তিনি। তবে, অফ সাইডের কিছু স্ট্রোক, স্কয়ার ও লেট কাটে তার দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়।[৩০] মে মাসে তার রান সংগ্রহ ও তিনটি সেঞ্চুরির ধারাবাহিকতা পরবর্তীতে আর রক্ষা করতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, জুন মাসেও ঠিকই রান পাচ্ছিলেন। দলের প্রথম সদস্য হিসেবে ঐ মৌসুমে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষমতা দেখান জ্যাক সিডল।[৩১]

নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫৯ রান তুলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তবে, ফলো-অনের কবলে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে দুই রান তুলে দ্রুত বিদায় নেন তিনি। বৃষ্টিতে আক্রান্ত পিচে প্রথম ইনিংসে প্রায় তিন ঘন্টা অবস্থান করে তার দক্ষতা ও রক্ষণাত্মক শক্তিমত্তার প্রমাণ দেন।[৩২][৩৩] তবে, সিরিজের দ্বিতীয় খেলায় দূর্বলমানের খেলা উপহার দেন তিনি। লর্ডসে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় অবশ্য সফরকারীরা ১৫৭ রানে জয় পেয়েছিল। এটিই ইংল্যান্ডের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকানদের প্রথম জয়সহ সিরিজের সিদ্ধান্তসূচক জয়ে পরিণত হয়। সিডল ৬ ও ১৩ রান তুলতে সক্ষম হন।[৩৪]

ড্র হওয়া তৃতীয় টেস্টটিতে তুলনামূলকভাবে ভালো খেলেন। ৩৩ ও ২১ রান তুলেন। তবে, খেলায় তিনি হাঁটুর আঘাতে ভুগেন।[৩৫] হাঁটুর আঘাতের কারণে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন। তন্মধ্যে, চতুর্থ টেস্টে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে ৩৫ ও ৩৬ রান তুলেন। উচ্চমুখী রানের খেলাটি ড্র হলে দক্ষিণ আফ্রিকা অবধারিতভাবে সিরিজ জয় করে।[৩৬] আবারও আঘাতের কবলে পড়লে ঐ সফরে তিনি আর কোন প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেননি। টেস্ট সিরিজে ২৫.৬২ গড়ে ২০৫ রান তুললে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বেশ নিচেরদিকে চলে যান। রান সংগ্রহের দিক দিয়ে ষষ্ঠ ও গড়ের দিক দিয়ে অষ্টম স্থান দখল করেন তিনি। তাসত্ত্বেও, ৩৯.৫৮ গড়ে ১৩৪৬ রান তুলেছিলেন।[৩৭]

অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি[সম্পাদনা]

এর পরপরই ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে পাঁচ-টেস্টের সিরিজ খেলার উদ্দেশ্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়া দল দক্ষিণ আফ্রিকায় আগমন করে। এ সিরিজে খুব সহজেই সফরকারীরা সিরিজ জয় করে নেয়। দক্ষিণ আফ্রিকা দলে অনেক পরিবর্তন করতে হয়। তবে, জ্যাক সিডল ঠিকই ঐ মৌসুমে তার অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। প্রথম খেলায় ৩১ ও ৫৯ রান তুলেন। তার উদ্বোধনী সঙ্গী ব্রুস মিচেলের তুলনায় বেশ দ্রুত রান তুলতে তৎপর ছিলেন। ঐ খেলায় স্বাগতিকরা নয় উইকেটে পরাজিত হয়।[৩৮] দ্বিতীয় খেলায় ২২ ও ৩৪ রান তুলেন। ডাডলি নোর্সের ২৩১ রানের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের পথে চলে যায়।[৩৯] তৃতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকানরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। জ্যাক সিডল ১ ও ৫৯ রান তুলেন। ৫৯ রানই খেলায় দলের সর্বোচ্চ ছিল।[৪০] পরের খেলায় দলটি আবারও শোচনীয়ভাবে পরাজয়বরণ করে। চারদিনের খেলাটি মাত্র দুইদিনেই শেষ হয়ে যেতে বাধ্য হয়। এবারও প্রথম ইনিংসে ৪৪ রান তুলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ০ রানে বিদেয় নিতে হয় তাকে।[৪১]

সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তার ব্যাটিংশৈলী বেশ ভালোমানের ছিল। তবে এবারও তার দল ইনিংস পরাজয়ের শিকারে পরিণত হয়। খেলায় তিনি ৩৬ ও ৪৬ রান তুলেন যা সিরিজের শুরুরদিকের তুলনায় বিপরীতধর্মী চিত্র ছিল। খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম ইনিংসের তুলনায় আড়াই ঘন্টা বেশী খেলেন। দলের সংগৃহীত ১২৪ রানের মধ্যে তার সংগ্রহ ছিল ৩৬ রান।[৪২] সমগ্র সিরিজে ৩৩.২০ গড়ে ৩৩২ রান তুলেন। রান সংগ্রহ ও গড়ের দিক দিয়ে কেবলমাত্র ডাডলি নোর্স তার তুলনায় এগিয়েছিলেন।[৪৩]

অবসর[সম্পাদনা]

ট্রান্সভালের পক্ষে আর মাত্র একটি মৌসুম প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের পরবর্তী টেস্ট সিরিজ খেলার পূর্বে অবসর গ্রহণ করেন জ্যাক সিডল। ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে নাটালের সদস্যরূপে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে ২০৭ ইনিংসটিই তার সর্বশেষ খেলা ছিল।[৪৪]

১৪ মার্চ, ১৯৩১ তারিখে দলীয় সঙ্গী এরিক ডাল্টনকে সাথে নিয়ে লেসলি মুড ম্যাকফারসনের সাথে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন।[৪৫] এ দম্পতির সন্তান জন সিডল ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নাটাল ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

২৪ আগস্ট, ১৯৮২ তারিখে নাটালের বুলার এলাকায় ৭৯ বছর বয়সে জ্যাক সিডলের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Scorecard: JMMCommaille's XI v NV Lindsay's XI"। www.cricketarchive.com। ৩১ ডিসেম্বর ১৯২৩। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  2. "Batting and Fielding in each Season by Jack Siedle"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  3. "Scorecard: Natal v Border"। www.cricketarchive.com। ১৬ ডিসেম্বর ১৯২৬। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  4. "Scorecard: Orange Free State v Natal"। www.cricketarchive.com। ৩০ ডিসেম্বর ১৯২৬। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  5. "Scorecard: Orange Free State v Natal"। www.cricketarchive.com। ১৬ ডিসেম্বর ১৯২৭। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  6. "Jack Siedle"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০১২ 
  7. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ২১ জানুয়ারি ১৯২৮। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  8. "Scorecard: Natal v Border"। www.cricketarchive.com। ১৯ ডিসেম্বর ১৯২৮। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  9. "Scorecard: Leicestershire v South Africans"। www.cricketarchive.com। ৪ মে ১৯২৯। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  10. "South Africans in England"। Wisden Cricketers' Almanack। Part II (1930 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 10। 
  11. "Scorecard: Yorkshire v South Africans"। www.cricketarchive.com। ২৫ মে ১৯২৯। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  12. "South Africans in England"। Wisden Cricketers' Almanack। Part II (1930 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 16। 
  13. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ১৩ জুলাই ১৯২৯। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  14. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ২৭ জুলাই ১৯২৯। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  15. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ১৭ আগস্ট ১৯২৯। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  16. "Scorecard: First-class Batting and Fielding for South Africans"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  17. "South Africans in England"। Wisden Cricketers' Almanack। Part II (1930 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 3–4। 
  18. "Scorecard: Natal v Orange Free State"। www.cricketarchive.com। ১৫ মার্চ ১৯৩০। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  19. "Most Runs in an Innings for Natal"। www.cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  20. "Scorecard: Natal v MCC"। www.cricketarchive.com। ২১ নভেম্বর ১৯৩০। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  21. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ২৪ ডিসেম্বর ১৯৩০। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  22. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ১ জানুয়ারি ১৯৩১। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  23. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ১৬ জানুয়ারি ১৯৩১। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  24. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৩১। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  25. "Scorecard: South Africa v England"। www.cricketarchive.com। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৩১। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  26. "South Africa win the rubber"। The Times (45757)। London। ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৩১। পৃষ্ঠা 6। 
  27. "Scorecard: Surrey v South Africans"। www.cricketarchive.com। ১১ মে ১৯৩৫। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  28. "Scorecard: Oxford University v South Africans"। www.cricketarchive.com। ১৫ মে ১৯৩৫। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  29. "Scorecard: MCC v South Africans"। www.cricketarchive.com। ১৮ মে ১৯৩৫। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  30. "South Africans in England"। Wisden Cricketers' Almanack। Part II (1936 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 16। 
  31. "South Africans in England"। Wisden Cricketers' Almanack। Part II (1936 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 5। 
  32. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ১৫ জুন ১৯৩৫। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  33. "South Africans in England"। Wisden Cricketers' Almanack। Part II (1936 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 24। 
  34. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ২৯ জুন ১৯৩৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  35. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ১৩ জুলাই ১৯৩৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  36. "Scorecard: England v South Africa"। www.cricketarchive.com। ১৭ আগস্ট ১৯৩৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  37. "South Africans in England"। Wisden Cricketers' Almanack। Part II (1936 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 60–62। 
  38. "Scorecard: South Africa v Australia"। www.cricketarchive.com। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৩৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  39. "Scorecard: South Africa v Australia"। www.cricketarchive.com। ২৪ ডিসেম্বর ১৯৩৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  40. "Scorecard: South Africa v Australia"। www.cricketarchive.com। ১ জানুয়ারি ১৯৩৬। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  41. "Scorecard: South Africa v Australia"। www.cricketarchive.com। ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  42. "Scorecard: South Africa v Australia"। www.cricketarchive.com। ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  43. "Australian Team in South Africa"। Wisden Cricketers' Almanack (1937 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 667। 
  44. "Scorecard: Natal v Western Province"। www.cricketarchive.com। ৬ মার্চ ১৯৩৭। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  45. "The Daily Representative 1931, January to March"। www.eggsa.org। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]