জো স্মল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জো স্মল
জো স্মল.jpg
১৯২৮ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে জো স্মল
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামযোসেফ এ স্মল
জন্ম(১৮৯২-১১-০৩)৩ নভেম্বর ১৮৯২
প্রিন্সেস টাউন, ত্রিনিদাদ
মৃত্যু২৬ এপ্রিল ১৯৫৮(1958-04-26) (বয়স ৬৫)
সংরক্ষিত বনাঞ্চল অথবা পয়েন্টে-আ-পিরে, ত্রিনিদাদ
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট, অফ ব্রেক
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১১)
২৩ জুন ১৯২৮ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১ ফেব্রুয়ারি ১৯৩০ বনাম ইংল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯০৯–১৯৩২ত্রিনিদাদ
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৭৭
রানের সংখ্যা ৭৯ ৩,০৬৩
ব্যাটিং গড় ১৩.১৬ ২৬.১৭
১০০/৫০ ০/১ ৪/১৬
সর্বোচ্চ রান ৫২ ১৩৩
বল করেছে ৩৬৬ ১০,৮৪৭
উইকেট ১৬৫
বোলিং গড় ৬১.৩৩ ২৭.৮১
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ২/৬৭ ৭/৪৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/– ৭১/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

যোসেফ এ. স্মল (ইংরেজি: Joe Small; জন্ম: ৩ নভেম্বর, ১৮৯২ - মৃত্যু: ২৬ এপ্রিল, ১৯৫৮) ত্রিনিদাদের প্রিন্সেস টাউনে জন্মগ্রহণকারী ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯২৮ থেকে ১৯৩০ সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম ফাস্ট কিংবা অফ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন জো স্মল

অল-রাউন্ডার হিসেবে ১৯০৯ থেকে ১৯৩২ সময়কালে ত্রিনিদাদ দলের পক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন জো স্মল। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটি টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ ঘটে তার। ১৯২৮ সালে ইংল্যান্ড গমন করেন। ঐ সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বপ্রথম টেস্টে প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়াও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম অর্ধ-শতকের ইনিংস হাঁকিয়েছিলেন তিনি। এরপর তিনি আরও দুই টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ২৩ জুন, ১৯২৮ তারিখে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে জো স্মলের।

২৬ এপ্রিল, ১৯৫৮ তারিখে ৬৬ বছর বয়সে ত্রিনিদাদের পয়েন্টে-আ-পিরে অথবা, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে জো স্মলের দেহাবসান ঘটে।

নিচুস্তরের অধিকারী ত্রিনিদাদ দলের পক্ষে প্রথম ক্রিকেট খেলতে নামেন জো স্মল। ত্রিনিদাদ দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হন। অচিরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের স্বল্পসংখ্যক সেরা ব্যাটসম্যানের একজন হন। ত্রিনিদাদের সদস্য থাকাকালে আন্তঃঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতায় বার্বাডোসের একাধিপত্যবাদে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে সহায়তা করেছিলেন।

১৯১২-১৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর দুইবার ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৯২৩ সালে মাঝারিমানের সফলতা পান। তবে, ১৯২৮ সালের সফরে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। মূলতঃ মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতেন জো স্মল। মিডিয়াম ফাস্ট ও অফ ব্রেক - উভয় ধরনের বোলিংয়েই সিদ্ধহস্তের পরিচয় দিয়েছেন।

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

১৮৯২ সালে ত্রিনিদাদের প্রিন্সেস টাউন এলাকায় জো স্মলের জন্ম।[১] ত্রিনিদাদে স্টিঙ্গো নামের একটি ক্লাবের পক্ষে প্রথম ক্রিকেট খেলতে নামেন।[২] ক্লাবটিতে মূলতঃ সমাজের নীচুশ্রেণীর খেলোয়াড়েরা অংশ নিতো। ত্রিনিদাদে তখন জাতিগত বিভেদ চলে আসছিল। দ্বীপের ক্রিকেট ক্লাবগুলোয় খেলোয়াড়দের চামড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো। বিশিষ্ট লেখক ও ঐতিহাসিক সি. এল. আর. জেমস স্টিঙ্গো সম্পর্কে লিখেছেন যে, দলটিতে হীনজাত হিসেবে কসাই, দর্জি, মোমবাতি প্রস্তুতকারী, উদ্দেশ্যবিহীন শ্রমিক, বেকারদের অংশগ্রহণ ছিল। দলটি সম্পূর্ণরূপে কৃষ্ণাঙ্গ ও সামাজিক মর্যাদা ছিল না।[৩] জেমস স্মল সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, ক্রিকেট মাঠে তিনি আনন্দচিত্তে অংশগ্রহণ করতেন। প্রত্যেকের সাথে তিনি কথা বলতেন এবং অন্যেরাও তার সাথে কথা বলতো। জো স্বভাবগত দিক দিয়ে বেশ ভালো ছিলেন ও আত্মসন্তুষ্ট ছিলেন।[৪] ক্রিকেট খেলার বাইরে তিনি ত্রিনিদাদ লিজহোল্ডস তৈল প্রতিষ্ঠানের বিপণীবিতানে কাজ করতেন।[৫]

১১ নভেম্বর, ১৯০৯ তারিখে ত্রিনিদাদের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে জো স্মলের। ডব্লিউসি শেফার্ডের গড়া একটি দলের বিপক্ষে খেলেন তিনি। খেলায় তিনি ১৩ ও ০ রান তুলেন। এছাড়াও বল হাতে দুই ওভার বোলিং করে কোন উইকেট পাননি।[৬] পরবর্তী জানুয়ারিতে আন্তঃঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতায় ত্রিনিদাদের পক্ষে প্রথম অংশ নেন। একমাত্র ইনিংসটিতে সাত রান তুলেন। ব্রিটিশ গায়ানার প্রথম ইনিংসে ১৬ রান খরচায় চার উইকেট পান।[৬][৭] চূড়ান্ত খেলায় বার্বাডোসের বিপক্ষে এক উইকেট পান। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে তিনি ১৭ ও ৮ রান তুলেন। ত্রিনিদাদ খেলায় জয় পেয়েছিল।[৬][৭] ঐ বছর শেষে জো স্মল পুণরায় বার্বাডোসের মোকাবেলা করেন। পরবর্তী আন্তঃঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় অংশ নিয়ে খুব কমই সফলতা পান। ১৯১২ সালের প্রতিযোগিতাটিতে দুই খেলায় অংশ নিয়ে ১৫ রান ও তিনটি উইকেট পান। তবে, উভয় বছরের প্রতিযোগিতায় বার্বাডোস জয় পেয়েছিল।[৬]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯১২-১৩ মৌসুমে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন করে। ঐ সফরে দলটি বার্বাডোস, ত্রিনিদাদ ও ব্রিটিশ গায়ানার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছিল। এমসিসি দল প্রত্যেক দ্বীপপুঞ্জের বিপক্ষে দুইটি করে খেলায় অংশ নেয়। এছাড়াও, প্রত্যেক অঞ্চলে একটি করে প্রতিনিধিত্বমূলক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলে।[৮] ত্রিনিদাদের সদস্যরূপে জো স্মল সফরকারীদের বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ২৫ ও ২৬ রান করেন ও এমসিসির প্রথম ইনিংসে ৭/৪৯ পান। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে আরও একটি উইকেট পান তিনি। তাসত্ত্বেও খেলাটিতে ত্রিনিদাদ দল পরাজিত হয়েছিল।[৬] দ্বিতীয় খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল। স্মল ২৮ রান তুলেন ও একটি উইকেট লাভ করেন।[৬] পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের পক্ষে খেলার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে জো স্মলকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তবে, তিনি খুব কমই সফলতা পেয়েছিলেন।[৬][৭]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পূর্ব-পর্যন্ত তিনি আর কোন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেননি। তবে, যুদ্ধকালীন মিশরে অবস্থানকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভবিষ্যৎ ক্রিকেট অধিনায়ক কার্ল নুনেসের সাথে খেলেছিলেন তিনি।[৫] ১৯২০ সালে ত্রিনিদাদে ফিরে এসে পুণরায় খেলার জগতে প্রবেশ করেন জো স্মল। বার্বাডোসের বিপক্ষে দুই খেলায় অংশ নেন। প্রথমটিতে ৩৩ ও ৬২ রান তুলেন। তন্মধ্যে ৬২ রানের ইনিংসটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তার প্রথম অর্ধ-শতক ছিল। দ্বিতীয়টিতে অপরাজিত ১০২ রানের অভিষেক সেঞ্চুরি করেন। খেলাগুলো থেকে তিন উইকেট পান। উভয়ক্ষেত্রেই বার্বাডোস দল জয় পেয়েছিল।[৬] ১৯২১ সালে আন্তঃঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতা চালু হলে উভয় খেলায় অংশ নিয়ে খুব কম সাফল্যপ্রাপ্তি ঘটে তার।[৬] ১৯২২ সালের প্রতিযোগিতায় ব্রিটিশ গায়ানার বিপক্ষে জো স্মল ৩৩ ও ৮২ রান করেন। গায়ানার প্রথম ইনিংসে ৩/৪৬ পেয়েছিলেন। আরও একবার চূড়ান্ত খেলায় বার্বাডোসের বিপক্ষে পরাজিত হয় তার দল। খেলায় তিনি ৩৬ ও ৫ রান তুলেন এবং ৩৫ ওভার বোলিং করে মাত্র দুই উইকেটের সন্ধান পান।[৬][৭]

ইংল্যান্ড গমন, ১৯২৩[সম্পাদনা]

১৯২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ইংল্যান্ড গমন করে। ত্রিনিদাদ থেকে জো স্মলসহ পাঁচজন খেলোয়াড়কে দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়। ঐ সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান হিসেবে শ্বেতাঙ্গদেরকে প্রাধান্য দেয়া হতো। জেমসের মতে, জো স্মল স্বীয় যোগ্যতায় নিজেকে দলে স্থান করে নিয়েছেন যা অস্বীকার করার কোন উপায় ছিল না।[৯] জেমস লিখেছেন যে, ত্রিনিদাদ থেকে স্মলকে স্বাভাবিকভাবে নেয়া হলেও দল নির্বাচকমণ্ডলী আর কোন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যাটসম্যানকে দলে নিতে রাজী হননি।[৯] সফর শুরু হলে নিজস্ব দ্বিতীয় খেলাতে ৫৩ রান তুলেন। তবে, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বোলিং করেন।[৬] কয়েকটি খেলায় স্বল্প রান করলেও ওল্ড ট্রাফোর্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ৯৪ ও ৬৮ রান তুলেন।[৬][৭] গণমাধ্যমে তার ইনিংসগুলোর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয়। বিশেষতঃ নজরকাড়া ড্রাইভ মেরেছিলেন তিনি।[৫] জেমস পরবর্তী বছরগুলোয় স্মলের ব্যাটিং সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, ১৯২৩ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে তার ড্রাইভিং ছিল দেখার মতো।[১০] কম গুরুত্বপূর্ণ খেলায় ছয় উইকেট পান। এরপর পরবর্তী প্রথম-শ্রেণীর খেলায় নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ৫/৯৩ ও ৭১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। খেলায় তিনি ৫৩ ওভার বোলিং করে এ সফরে নিজস্ব সেরা সাফল্য পান।[৬] আরেকটি গুরুত্বহীন খেলায় সেঞ্চুরি করেন। এরপর ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৮৫ রান তুলেন ও মৌসুমের বাদ-বাকী খেলায় অংশ নিয়ে তিনটি প্রথম-শ্রেণীর অর্ধ-শতক করেন।[৬] সকল প্রথম শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৩১.০৪ গড়ে ৭৭৬ রান তুলেছিলেন।[১১] ফলশ্রুতিতে, ব্যাটিং গড়ে দলের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মর্যাদা লাভ করেন।[৫] বল হাতে ৩৩.৪৭ গড়ে ১৯ উইকেট দখল করেন।[১২]

সি. এল. আর. জেমসের মতে, হ্যাম্পশায়ার কিংবা সাসেক্স দল থেকে এ সফর শেষে খেলার প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিল। পূর্বেকার সফর শেষেও ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান খেলোয়াড়েরা খেললেও তিনি তা অস্বীকার করেন। জেমসের মতে, দলের অন্যান্যদের তুলনায় বিপরীতমূখী চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সীমিত দৃষ্টিভঙ্গীর প্রতিফলনের সাহায্য নিয়ে তিনি অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকতেন।[১৩]

আন্তঃঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতা[সম্পাদনা]

১৯২৪ সালের আন্তঃঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতায় ত্রিনিদাদের পক্ষে খেলেন। প্রথম খেলায় ৬২ রান তুললেও চূড়ান্ত খেলায় বার্বাডোসের বিপক্ষে ব্যর্থ হন।[৬] ফেব্রুয়ারি, ১৯২৫ সালের প্রতিযোগিতায় তিনি আরও সফলতা পান। ৭২ রান তোলার পর ৬/৪৩ নিয়ে ব্রিটিশ গায়ানা দলকে পরাজিত করে তার দল।[৬] চূড়ান্ত খেলায় ত্রিনিদাদ দল ১৯১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বার্বাডোসকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। ২ ও ৩৬ রানের পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে ৫/৩৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৪/৬২ নিয়ে ত্রিনিদাদকে ১৩ রানের নাটকীয় জয়ে প্রভূতঃ সহায়তা করেন।[৬] একই বছরের শেষদিকে ব্রিটিশ গায়ানার বিপক্ষে দুই উইকেটে জয় তুলে নিয়ে শিরোপা ধরে রাখে। প্রথম ইনিংসে ১৩৩ রান তুলেন। এরপর ব্রিটিশ গায়ানার দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেট পান।[৬] জানুয়ারি, ১৯২৬ সালে এমসিসি দল আবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজে আসে। দ্বীপপুঞ্জ ও সম্মিলিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলায় অংশ নেয় সফরকারী দলটি। ত্রিনিদাদের পক্ষে দুইবার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে তিনবার সফরকারীদের মোকাবেলা করেছিলেন জো স্মল।[৭] তবে, আট ইনিংস খেলে একটিমাত্র অর্ধ-শতক সহযোগে ১০৬ রান উঠাতে সক্ষম হয়েছিলেন ও বল হাতে ১১ উইকেট দখল করেন।[৬] জানুয়ারি, ১৯২৭ সালে বার্বাডোসের বিপক্ষে ১০১ রানের ইনিংস খেলেন। ত্রিনিদাদ ৩৮৪ রানে এগিয়ে গেলেও বার্বাডোস তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭২৬ রান তুললে হেরে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬০ ওভার বোলিং করে দুই উইকেট পেয়েছিলেন।[৬]

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯২৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ইংল্যান্ড গমন করে। ঐ সফরে দলটি প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলায় অংশ নেয়।[৫] এ উপলক্ষ্যে দল নির্বাচকমণ্ডলী ডিসেম্বর, ১৯২৭ ও জানুয়ারি, ১৯২৮ সময়কালের মধ্যে বার্বাডোসে তিনটি টেস্ট পূর্ব-প্রস্তুতিমূলক খেলার আয়োজন করে।[১৪] জো স্মল পাঁচ ইনিংসে অংশ নিয়ে মাত্র দুইবার আউট হন। সর্বোচ্চ ৮১ রানসহ মোট ২১৭ রান তুলেন তিনি।[১১] এছাড়াও, তিনি পাঁচ উইকেট পান।[১২] ফলশ্রুতিতে, এ সফরের জন্য মনোনীত হন।[১৫] ১৯২৩ সালের তুলনায় তিনি কম সফলতা পেয়েছিলেন। তবে, প্রতিষ্ঠিত ইংরেজ খেলোয়াড়েরা চমৎকার ব্যাটিং উপযোগী পিচে রেকর্ড গড়েছিলেন। স্মলের ব্যাটিং গড় নিচেরদিকে চলে যায়। দলের অন্যান্য খেলোয়াড়ের সাথে তিনিও ব্যাট হাতে কার্যতঃ ব্যর্থ হয়েছিলেন।[১৬] তবে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকাতে সক্ষম হন। এ সফরে তিনি ১৮.৫৯ গড়ে ৫৯৫ রান তুলতে সমর্থ হয়েছিলেন।[৬][১৭] বল হাতে অবশ্য বেশ সফল হন। ২০.৮৮ গড়ে ৫০ উইকেট পান ও দলের বোলিং গড়ে তৃতীয় স্থান দখল করেন।[৫][১৭] উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমেনাক থেকে এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করা হয় যে, ১৯২৩ সালের সাথে তুলনান্তে ব্যাট হাতে জো স্মল উল্লেখযোগ্য হারে ব্যর্থ হয়েছেন। বল হাতে সফলতা পেলেও অন্যান্য বোলারের ব্যর্থতার জন্য ভারসাম্য আনতে পারেনি।[১৮]

তিন টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের প্রত্যেকটিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল পরাজয়বরণ করেছিল। প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের ইনিংস থেকে দুই উইকেট লাভ করেন জো স্মল। এরপর তিনি তার প্রথম ইনিংসে রানে আউট হয়ে যান। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ৫২ রান তুলেছিলেন।[৬] এটিই টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম অর্ধ-শতকের ইনিংস ছিল। উইজডেনে উল্লেখ করা হয় যে, দেড় ঘন্টা চমৎকার ব্যাটিংশৈলী উপহার দেন। দলের পক্ষে কেবলমাত্র এটিই একমাত্র ৫০ ঊর্ধ্ব রান ছিল।[১৯] এছাড়াও, তৃতীয় টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।[৭] তবে, খেলা থেকে কোন উইকেটের সন্ধান পাননি এবং ০ ও ২ রান তুলতে পেরেছিলেন।[৬]

শেষের বছরগুলো[সম্পাদনা]

১৯২৮-২৯ মৌসুমের আন্তঃঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতায় ত্রিনিদাদের প্রথম খেলায় ৪/১৪ পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ে আর তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি।[৬] ঐ বছরের শেষদিকে জুলিয়েন কানের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশের সদস্যরূপে জ্যামাইকায় খেলার সুযোগ লাভ করেন। খেলায় তিনি ৭/৭৭ পেয়েছিলেন। তিনি ও অন্য দুইজন জ্যামাইকান খেলোয়াড়কে খেলায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল।[৬][২০] ১৯২৯-৩০ মৌসুমের প্রতিযোগিতায় ত্রিনিদাদ দল ব্রিটিশ গায়ানার কাছে হেরে যায়। এ খেলায় জো স্মল খুব কমই অবদান রেখেছিলেন। ঐ মৌসুমে এমসিসি দল পুণরায় সফর করে। সফরকারী দলের বিপক্ষে ত্রিনিদাদের দুই খেলার একটি তার অংশগ্রহণ ছিল।[৬][২১] খেলায় তেমন সফলতা না পেলেও ত্রিনিদাদে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে খেলার সুযোগ দেয়া হয়। খেলায় তিনি একটিমাত্র উইকেট পান এবং ২০ ও ৫ রান তুলেছিলেন। এটিই তার সর্বশেষ টেস্ট অংশগ্রহণ ছিল।[৬] তিনটি টেস্টে অংশ নিয়ে ১৩.১৬ গড়ে ৭৯ রান এবং বল হাতে ৬১.৩৩ গড়ে ৩ উইকেট পান তিনি।[২২]

এরপর আরও দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন জো স্মল। ১৯৩০-৩১ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজে কোন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হয়নি।[২৩] তবে, তিনি ত্রিনিদাদের পক্ষে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুমের আন্তঃঔপনিবেশিক প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ী ত্রিনিদাদ দলের সদস্য ছিলেন। নিজস্ব সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর ইনিংসে ৬৬ রান তুলেন ও সর্বশেষ ডেলিভারিতে উইকেট তুলে নেন।[৬] সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ২৬.১৭ গড়ে ৩,০৬৩ রান তুলেন ও ২৭.৮১ গড়ে ১৬৫ উইকেট দখল করেন।[২২] ১৯৪০-এর দশকের সূচনালগ্ন পর্যন্ত দক্ষিণ ত্রিনিদাদে সফলতার সাথে স্থানীয় লীগ ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন তিনি।[২৪] ২৬ এপ্রিল, ১৯৫৮ তারিখে স্বল্পকালীন অসুস্থ থাকার পর ত্রিনিদাদের পয়েন্টে-আ-পিরে এলাকায় ৬৫ বছর বয়সে তার দেহাবসান ঘটে।[জ ১][১][৫] ওয়েস্ট ইন্ডিজে তাকে প্রায় সবাই ভুলেই গিয়েছিল।[৫] তবে, ১৯৮৪ সালে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো স্পোর্টস হল অব ফেমে তাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।[২৪]

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

তার স্মরণে উইজডেনে লেখা হয় যে, জো স্মল দীর্ঘদেহী, সাধারণমানের অল-রাউন্ডার ছিলেন। ত্রিনিদাদের পক্ষে চমৎকার খেলেছিলেন।[২৫] ব্রিজেত লরেন্স তার ‘দ্য কমপ্লিট রেকর্ড অব ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান টেস্ট ক্রিকেটার্স’ শীর্ষক গ্রন্থে মন্তব্য করেন যে, জো স্মল টেস্ট ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পথিকৃৎ অল-রাউন্ডারদের অন্যতম ছিলেন। তিনি সহজাত ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। সকল ধরনের স্ট্রোকস খেলতে সক্ষম ছিলেন। মিডিয়াম পেস অফ ব্রেক বোলার ও সুদক্ষ স্লিপ ফিল্ডার হিসেবে খেলতেন।[২৬] ডেইলি গ্লিনারের মতে, ঐ সময়ের অন্যান্য ত্রিনিদাদীয় ক্রিকেটারের সাথে তিনিও বার্বাডোস দলকে প্রাধান্য বিস্তারে প্রভূতঃ ভূমিকা রেখেছেন।[৫] এছাড়াও, উইজডেনে তাকে চমৎকার স্লিপ ফিল্ডার হিসেবে বিবৃত করে।[২৫] বিভিন্ন অবস্থানে থেকে ব্যাটিং করেছেন। তবে, সচরাচর নিচেরদিকে তৃতীয়স্থানে ব্যাট হাতে নামতেন। কখনোবা বোলিং উদ্বোধন করতে নামতেন ও দ্রুতগতিতে স্বীয় দায়িত্ব পালন করতেন।[৫] এছাড়াও, তিনি অফ স্পিন থেকে শুরু করে মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন।[২৬] দীর্ঘ উচ্চতার কারণে প্রায়শঃই ব্যাটসম্যানেরা বিব্রতবোধ করতেন।[৫]

‘বিয়ন্ড এ বাউন্ডারি’ শীর্ষক গ্রন্থে সি. এল. আর. জেমস জো স্মল সম্পর্কে তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন যে, গুরুত্বহীন খেলায় একবার স্মল ফাস্ট বোলার জর্জ জনের মোকাবেলা করে শক্তভাবে জনের পায়ের দিকে বলকে ঠেলে দেন ও রাগান্বিত করেছিলেন।[২৭] এছাড়াও তার সাথে অনুশীলনকালে বলেছিলেন যে, সাধারণমানের লোকদের জন্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নয়। মাঠে দুইজন বালক ফিল্ডিং করতে পারে। কিন্তু, যখন আপনি জোকে অফ স্ট্যাম্পের বাইরে মাঝামাঝি উচ্চতা বরাবর বোলিং করবেন, তখন তিনি সর্বশক্তি প্রয়োগ করে বলকে আঘাত হানবেন তা যদি ১৫০ গজ দূর থেকেও বলটি তার কাছে আসে। এরপর তিনি দশ মিনিট ধরে বোলিং করেছিলেন।[২৮]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Some sources give Small's place of death as Forest Reserve, Trinidad. His obituary in the Jamaican Daily Gleaner states he died in Pointe-à-Pierre.[১][৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Joe Small"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১২ 
  2. James, p. 57.
  3. James, p. 50
  4. James, p. 69.
  5. "Joe Small helped West Indies to gain Test match status"The Daily Gleaner। Kingston, Jamaica। ৯ মে ১৯৫৮। পৃষ্ঠা 28। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১২  (সদস্যতা প্রয়োজনীয়)
  6. "Player Oracle JA Small"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১২ 
  7. "First-class Matches played by Joe Small"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১২ 
  8. "Marylebone Cricket Club in West Indies 1912/13"। CricketArchive। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০১২ 
  9. James, p. 94.
  10. James, C. L. R. (৭ অক্টোবর ১৯৫৩)। "Return of a Wanderer"The Manchester Guardian। Manchester। পৃষ্ঠা 9। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১২  (সদস্যতা প্রয়োজনীয়)
  11. "First-class Batting and Fielding in Each Season by Joe Small"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১২ 
  12. "First-class Bowling in Each Season by Joe Small"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুন ২০১২ 
  13. James, p. 90.
  14. Wynne-Thomas, p. 257.
  15. Wynne-Thomas, p. 258.
  16. Wynne-Thomas, pp. 258–60.
  17. Wynne-Thomas, p. 260.
  18. "West Indies in England, 1928"। London: John Wisden & Co। ১৯২৯। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১২ 
  19. "England v West Indies 1928 (first Test)"। London: John Wisden & Co। ১৯২৯। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১২ 
  20. Wynne-Thomas, p. 89.
  21. Wynne-Thomas, p. 92.
  22. "Joe Small (player profile)"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০১২ 
  23. "Cricket in West Indies in 1930/31"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০১২ 
  24. "Trinidad and Tobago Sports Hall of Fame"। First Citizens Sports Foundation। ২৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০১৩ 
  25. "Obituaries in 1958"। London: John Wisden & Co। ১৯৫৯। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০১২ 
  26. Lawrence and Goble, p. 139.
  27. James, p. 76.
  28. James, p. 62.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]