জো প্যাট্রিজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জো প্যাট্রিজ
জো প্যাট্রিজ.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামযোসেফ টিটাস প্যাট্রিজ
জন্ম৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২
বুলাওয়ে, রোডেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা
মৃত্যু৬ জুন, ১৯৮৮
হারারে, জিম্বাবুয়ে
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২১৬)
৬ ডিসেম্বর ১৯৬৩ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট২২ জানুয়ারি ১৯৬৫ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১১ ৭৭
রানের সংখ্যা ৭৩ ৫২৩
ব্যাটিং গড় ১০.৪২ ৯.১৭
১০০/৫০ ০/০ ০/০
সর্বোচ্চ রান ১৩* ২৯*
বল করেছে ৩৬৮৪ ২০২৬৬
উইকেট ৪৪ ৩৭৬
বোলিং গড় ৩১.২০ ২০.৭৭
ইনিংসে ৫ উইকেট ২৪
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৭/৯১ ৮/৬৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৬/- ২১/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

যোসেফ টিটাস প্যাট্রিজ (ইংরেজি: Joe Partridge; জন্ম: ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ - মৃত্যু: ৬ জুন, ১৯৮৮) রোডেশিয়ার বুলাওয়ে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১][২][৩] দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন জো প্যাট্রিজ

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৬৬-৬৭ মৌসুম পর্যন্ত জো প্যাট্রিজের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা সুইং বোলারের মর্যাদা লাভ করেছেন তিনি। ফাস্ট বোলার হলেও অপ্রত্যাশিতভাবে খেলা চলাকালীন চশমা পরিধান করতেন। শক্ত, মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন তিনি।

১৯৫১ সালে রোডেশিয়ার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। তবে, নীল অ্যাডককপিটার হেইনের স্বর্ণালী সময়ে নিজেকে তেমন মেলে ধরতে পারেননি। কারি কাপের খেলাগুলোয় ১৮.৮১ গড়ে ১৯৫ উইকেট পেয়েছিলেন জো প্যাট্রিজ।

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে ১৯.০৬ গড়ে ৩৩ উইকেট নিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এর দুই বছর বাদে ২১.৭৬ গড় নিয়ে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করেন। তন্মধ্যে, বর্ডারের বিপক্ষে ৮/১২৪ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান ও খেলায় ১১ উইকেট পান। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে সারে দল দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে আসে। ২৩ ওভারে ৬/২৬ পান। এছাড়াও, একই মৌসুমে বর্ডারের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় সাফল্য লাভ করেন। ৭/৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন তিনি। তাসত্ত্বেও, ১৯৬০ সালে স্প্রিংবকদের সাথে ইংল্যান্ড গমনের সুযোগ পাননি।

১৯৬১-৬২ মৌসুমে সাত খেলায় মাত্র ১৩.৯৮ গড়ে ৫৩ উইকেট পান। এ পর্যায়ে সলিসবারিতে নাটালের বিপক্ষে ৮/৬৯ ও ৬/৩২ পান। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে ১৬.৬৮ গড়ে ৬৪ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান রেকর্ড ভঙ্গ করেন। ফলশ্রুতিতে, টেস্টের যাঁচাই-বাছাই খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে আমন্ত্রিত হন। কেবলমাত্র দুইবার তার এ সংগ্রহকে অতিক্রম হয়েছে। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে ৬৫ ও ১৯৮১-৮২ মৌসুমে ভিন্টসেন্ট ফন দার বিল এ সাফল্য পান।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে এগারোটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন জো প্যাট্রিজ। ৬ ডিসেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে ব্রিসবেনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২২ জুন, ১৯৬৫ তারিখে জোহেন্সবার্গে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমন করেন। পিটার পোলকের সাথে নতুন বল নিয়ে স্মরণীয় সফলতা লাভ করেছিলেন। ঐ সফরে আট টেস্টে অংশ নিয়ে ২৮.৪২ গড়ে ৩৮ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। আর্দ্রতা, বাতাস তার মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে খেলায় নয় উইকেট পান।

ব্রিসবেনে অভিষেক ঘটা টেস্টে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। এ টেস্টেই বল ঢিলাকৃতিতে ছুড়ে মারার কারণে ইয়ান মেকিফকে নো-বলের ডাক শুনতে হয়েছিল। মেলবোর্ন টেস্টে পাঁচ উইকেট পান। সিডনি টেস্টে নয় উইকেট লাভের ক্ষেত্রে বিল লরি, নর্ম ও’নীল, পিটার বার্জ, ব্রায়ান বুথকে দুইবার এবং ব্যারি শেফার্ডকে একবার আউট করেন। অ্যাডিলেডে এডি বার্লো ও পিটার পোলকের ৩৪১ রানের জুটির কল্যাণে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় আনে। তন্মধ্যে, সিডনিতে ড্র হওয়া টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৭/৯১ পেয়েছিলেন।

উভয় দলের মধ্যে ২৫ উইকেট নিয়ে পিটার পোলকের সাথে যৌথভাবে শীর্ষ বোলারে পরিণত হন। এরপর, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তিন টেস্টে ড্র হওয়া সিরিজে আরও ১৩ উইকেট পান। তন্মধ্যে, অকল্যাণ্ডে ৬/৮৬ পেয়েছিলেন। এ সফরটিতে ৬২ উইকেট নিয়ে পোলকের চেয়ে পাঁচটি উইকেট কম পান। অস্ট্রালেশিয়ায় দর্শকেরা ক্লান্তিহীন ও দক্ষ বোলারের ভূয়সী প্রশংসা করে। এছাড়াও, স্লিপ অঞ্চলের বলগুলো আটকানোয় অসম্ভব দক্ষতা প্রদর্শন করেন। থার্ড ম্যান অঞ্চলে অবস্থান করে ‘জোয়ের কর্নার’ নামে অঞ্চলটি পরিচিতি পায়।

ইংল্যান্ডের মুখোমুখি[সম্পাদনা]

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে ইংল্যান্ড দল দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করে। রোডেশিয়ার সদস্যরূপে সফররত ইংরেজ দলের ছয় উইকেট পান। তন্মধ্যে, জিওফ্রে বয়কটকে উভয় ইনিংসে আউট করেন। কিন্তু, তিন টেস্টের সিরিজে তেমন সফলতা পাননি। ২৯৩ রান খরচায় ছয় উইকেট পান। এভাবেই তার টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ঘরোয়া ক্রিকেটে অনিন্দ্যসুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৩ সালে সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট অ্যানুয়েল কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা লাভ করেন। পেশাগত পর্যায়ে ব্যাংকিং জগতের সাথে যুক্ত ছিলেন।

রোডেশীয় বংশোদ্ভূত জো প্যাট্রিজ জীবনের শেষদিকের কয়েকটি বছর মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানে ডুবে থাকতেন। এক পর্যায়ে রেস্তোরাঁর অর্থ পরিশোধ না করায় তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ৬ জুন, ১৯৮৮ তারিখে ৫৬ বছর বয়সে জিম্বাবুয়ের হারারের উপশহরের এক পুলিশ স্টেশনে স্বীয় বন্দুকের সাহায্যে আত্মহত্যা করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "South Africa – Players by Test cap"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  2. "South Africa – Test Batting Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  3. "South Africa – Test Bowling Averages"। ESPNCricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]