জোসেফ পুলিৎজার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জোসেফ পুলিৎজার
JosephPulitzerPinceNeznpsgov.jpg
-নির্বাচিত সদস্য
from ৯ম district
অফিসে
৪ মার্চ, ১৮৮৫ – ১০ এপ্রিল, ১৮৮৬
পূর্বসূরী জন হার্ডি
উত্তরসূরী স্যামুয়েল কক্স
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (১৮৪৭-০৪-১০)এপ্রিল ১০, ১৮৪৭
ম্যাকো, হাঙ্গেরী রাজতন্ত্র, অস্ট্রীয় সাম্রাজ্য
মৃত্যু অক্টোবর ২৯, ১৯১১(১৯১১-১০-২৯) (৬৪ বছর)
চার্লসটন, সাউথ ক্যারোলিনা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
রাজনৈতিক দল ডেমোক্র্যাট
পেশা প্রকাশক, সাংবাদিক, আইনজীবি, মানবতাবাদী
ধর্ম ইহুদী
সর্বমোট সম্পদ মৃত্যুকালীন $৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পদ রেখে গেছেন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় আয়ের আনুমানিক ১/১১৪২ অংশ।[১]
স্বাক্ষর
সামরিক পরিষেবা
আনুগত্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
সার্ভিস/বিভাগ ইউনিয়ন আর্মি
কার্যকাল ১৮৬৪-১৮৬৫
ইউনিট প্রথম রেজিমেন্ট, নিউইয়র্ক অশ্বারোহী সৈন্যদল
যুদ্ধসমূহ আমেরিকার গৃহযুদ্ধ

জোসেফ পুলিৎজার (ইংরেজি: Joseph Pulitzer; (শুনুনi/ˈpʊlɨtsər/ PUUL-it-sər;[২] জন্ম: ১০ এপ্রিল, ১৮৪৭ - মৃত্যু: ২৯ অক্টোবর, ১৯১১) হাঙ্গেরীয় বংশোদ্ভূত খ্যাতনামা আমেরিকান সাংবাদিক ছিলেন। অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধ থেকে উনবিংশ শতকের সূচনালগ্ন পর্যন্ত তিনি ছিলেন একাধারে সফলতম লেখকসংবাদপত্র প্রকাশক। অর্জিত বিপুল অঙ্কের অর্থ কলম্বিয়া স্কুল অব জার্নালিজম যা বর্তমানে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদান করেন। ১৯১১ সালে মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছানুসারে ও সম্মানার্থে পুলিৎজার পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। সাংবাদিকতা ও আলোকচিত্রকলার পাশাপাশি নাটক, কবিতা, ইতিহাস, পত্র, সঙ্গীতের ন্যায় ২১টি বিভাগে এ পুরস্কার সাংবার্ষিকাকারে প্রদান করা হয়ে থাকে। জন্মকালীন সময়ে তাঁর নাম ছিল পুলিৎজার জোসেফ

১৮৮০-এর দশকে পুলিৎজার নতুন সাংবাদিকতার কলা-কৌশল প্রবর্তন করে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি বৃহৎ ব্যবসা ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। ১৮৯০-এর দশকে তিনি তাঁর ওয়ার্ল্ড পত্রিকাকে নিয়ে উইলিয়াম র‌্যান্ডল্ফ হিয়ার্স্টের নিউইয়র্ক জার্নালের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন ও এর ফলে উভয়েই হলুদ সাংবাদিকতার পরিবেশ সৃষ্টি করে বৈশ্বিকভাবে পরিচিতি পান। সংবাদপত্র প্রকাশে ব্যাপক সংখ্যার পরিবেশ সৃষ্টি করেন যাতে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হয়। সংবাদের বিভিন্নতা, বিনোদন এবং বিজ্ঞাপনের সাথে পাঠকের যোগসূত্র ঘটান।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

পুলিৎজার হাঙ্গেরীর ম্যাকোতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৬৪ সালে সেখান থেকে অভিবাসিত হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। আমেরিকার গৃহযুদ্ধে ফার্স্ট নিউইয়র্ক ক্যাভার্লিতে সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। ১৮৬৭ সালে আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেন। একই বছরে মিসৌরীর সেন্ট লুইসে অবস্থিত জার্মানভিত্তিক দৈনিক সংবাদপত্র ওয়েস্টলিসে পোস্টের প্রতিবেদক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৮৭১ সালে তিনি সম্পাদকীয় পরিচালনার দায়িত্ব পান এবং দৈনিকের একাংশ মালিকানা লাভ করেন। কিন্তু দুই বছর পর চলে যান। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সেন্ট লুইসের রাজনীতিতেও জড়িয়ে পড়েন পুলিৎজার। ১৮৬৯ সালে মিসৌরীর প্রতিনিধি সভায় যোগ দেন। ১৮৭২ সালে লিবারেল রিপাবলিকান পার্টির পক্ষ থেকে হোরেস গ্রীলে থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন। গ্রীলে দলের পরাজয়ের প্রেক্ষিতে পুলিৎজার ডেমোক্র্যাট সদস্য হন। আইনে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন এবং নিউইয়র্ক সান পত্রিকার সংবাদদাতা হন। ১৮৭৮ সালে পুলিৎজার সেন্ট লুইস ইভনিং ডিসপ্যাচ এবং ইভনিং পোস্ট পত্রিকাদ্বয়ের মালিকানা ক্রয় করেন। এ দুটো পত্রিকাকে একীভূত করেন পোস্ট-ডিসপ্যাচ নামে। ১৮৮৩ সালে তিনি নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ড নামে নতুন একটি দৈনিক সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। তার পরিচালনায় এটি বৃহত্তম সংবাদপত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

৩১ বছর বয়সে ১৮৭৮ সালে ক্যাথরিন কেট ডেভিস নাম্নী মিসিসিপির এক সম্পদশালী পরিবারের নারীকে বিয়ে করেন। ক্যাথরিন তারচেয়ে পাঁচ বছরের বড় ছিলেন। তাদের সংসারে সাত সন্তান জন্মগ্রহণ করে। রাল্ফ পুলিৎজার, দ্বিতীয় জোসেফ, কনস্ট্যান্স, এডিথ এবং হার্বাট তাদের সন্তান। ৩১ ডিসেম্বর, ১৮৯৭ সালে তাদের জ্যেষ্ঠা কন্যা লুসিলি পুলিৎজার টাইফয়েড জ্বরে মারা যায়।

১৮৮৩ সালে সম্পদশালী ব্যক্তিরূপে পুলিৎজার $৩,৪৬,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে জে গোল্ডের কাছ থেকে নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ড ক্রয় করেন। ঐ সময়ে পত্রিকাটি প্রতি বছর গড়ে চল্লিশ হাজার ডলার লোকসান দিতো। প্রচার সংখ্যা বাড়াতে পুলিৎজার মানবধর্মী কৌতুলহলোদ্দীপক গল্প, রটনা এবং আবেগধর্মী বিষয়াবলী অন্তর্ভূক্ত করেন। ১৮৮৪ সালে তিনি প্রতিনিধি সভার সদস্যরূপে নির্বাচিত হলেও সাংবাদিকতার তাড়নায় পদত্যাগ করেন। ১৮৮৭ সালে জনপ্রিয় গোয়েন্দা সাংবাদিক নেলি ব্লাইকে নিয়োগ করেন। প্রথম সংবাদপত্র হিসেবে কমিক রঙিন মুদ্রণ করেন। তার নেতৃত্বে প্রচার সংখ্যা পনের হাজার থেকে একলাফে ছয় লক্ষে উন্নীত হয় যা দেশের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ সংবাদপত্রের মর্যাদা পায়।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Gunther, Michael (১৯৯৬)। The Wealthy 100: From Benjamin Franklin to Bill Gates—A Ranking of the Richest Americans, Past and PresentSecaucus, New Jersey: Carol Publishing Group। পৃ: xiii। আইএসবিএন 978-0-8065-1800-8ওসিএলসি 33818143 
  2. "The Pulitzer prizes – Answers to frequently asked questions"Pulitzer.org। সংগৃহীত আগস্ট ১০, ২০০৯ . The more anglicized pronunciation /ˈpjuːlɪtsər/ PEW-lit-sər is common but widely considered incorrect.
  3. Brian, Pulitzer (2001)