বিষয়বস্তুতে চলুন

জোতি ভেঙ্কটাচলম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জোতি ভেঙ্কটাচলম
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৯১৭-১০-২৭)২৭ অক্টোবর ১৯১৭
মায়মিও, ব্রিটিশ বর্মা, এখন মিয়ানমার
মৃত্যু২৮ নভেম্বর ১৯৯২(1992-11-28) (বয়স ৭৫)
পেশাকেরালার রাজ্যপাল ভারত
পুরস্কারপদ্মশ্রী (১৯৭৪)

জোতি ভেঙ্কটাচলম (২৭ অক্টোবর ১৯১৭ - ২৮ নভেম্বর ১৯৯২) ছিলেন একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ যিনি কেরালার রাজ্যপাল এবং তামিলনাড়ু বিধানসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

জীবন এবং কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

জোতি ভেঙ্কটাচলাম ১৯১৭ সালের ২৭শে অক্টোবর ব্রিটিশ শাসিত বর্মার (বর্তমানে মিয়ানমার) পাহাড়ি শহর মায়মিওতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ও মা ছিলেন যথাক্রমে জি. কুপ্পুরম এবং মীনা পাই। [ তথ্যসূত্র প্রয়োজন ] তাঁর বাবা ব্রিটিশ বর্মার সচিব অফিসে নিযুক্ত হয়েছিলেন, কিন্তু ১৯৩০ সালে বর্মার রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তিনি পদত্যাগ করেন এবং চেন্নাইতে ফিরে আসেন। জোতি তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের ভেপ্পেরিতে অবস্থিত ইওয়ার্ট ম্যাট্রিকুলেশন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যান। ১৯৩০-এর দশকে জোতির বিবাহ হয় পি ভি এস ভেঙ্কটাচলমের সাথে।

জোতি সমাজসেবামূলক কাজে আরও বেশি জড়িত ছিলেন এবং কংগ্রেস দলের নজরে আসেন। ১৯৫৩ সালের ১০ই অক্টোবর থেকে ১৯৫৪ সালের ১২ই এপ্রিল পর্যন্ত সি. রাজাগোপালাচারীর মন্ত্রিসভায় তিনি মদ নিষিদ্ধকরণ ও নারী কল্যাণ মন্ত্রী নিযুক্ত হন। এইভাবে জোতি ভেঙ্কটাচলম ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের প্রথম মহিলা মন্ত্রী হন।[] খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মদ নিষিদ্ধকরণ বিভাগকে পুলিশ বিভাগের সাথে একীভূত করেন।

পরবর্তীতে তিনি ১৯৬২ সালের নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে এগমোর নির্বাচনী এলাকা থেকে এবং ১৯৭১ সালের নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (সংগঠন)-এর প্রার্থী হিসেবে শ্রীরঙ্গম নির্বাচনী এলাকা থেকে তামিলনাড়ু বিধানসভায় নির্বাচিত হন।[][] এই কার্যকালে মুখ্যমন্ত্রী কে. কামরাজ তাঁকে ১৯৬২ সাল থেকে তাঁর মন্ত্রিসভায় জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন। জোতি ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত পরবর্তী এম. ভক্তাভাতচলমের মন্ত্রিসভায়ও এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন।[][][]


পরবর্তীতে, জোতি ১৯৭৭ সালের ১৪ই অক্টোবর থেকে ১৯৮২ সালের ২৬শে অক্টোবর পর্যন্ত কেরালার রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[]

১৯৭৪ সালে, গণ বিষয়ক (পাবলিক অ্যাফেয়ার্স) ক্ষেত্রে জোতির নিবেদিতপ্রাণ অবদানের জন্য তাঁকে 'পদ্মশ্রী' পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। [ তথ্যসূত্র প্রয়োজন ]

ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

পি ভি এস ভেঙ্কটাচলমের সাথে জোতির বিবাহ দুটি ভিন্ন সামাজিক শ্রেণীর মানুষের বিবাহের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ছিল। জোতি ১৯৩০-এর দশকে পি ভেঙ্কটাচলম পরিবারের এক বংশধরকে বিয়ে করেন, এই পরিবার ভারতে এবং বিদেশে মশলা ও আচারের ব্যবসা করত এবং সমাজের উচ্চ বর্গের মানুষ বলে পরিগণিত হত। অন্যদিকে জোতির বর্ণ তাঁর স্বামীর পরিবারের চেয়ে উচ্চতর ছিল। এমন একটি পদক্ষেপ তখনকার দিনে যুগান্তকারী বলে বিবেচিত হত।[]

১৯৬১ সালের ১৯শে জুলাই জোতির স্বামী একটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। জ্যোতি ভেঙ্কটাচলমও মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর, অ্যাটকিনসনস রোডের নামকরণ করা হয় তাঁর নামে।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. முதல் பெண்கள் - ஜோதி வெங்கடாசலம்। Vikatan। ২০২০।
  2. 1962 Madras State Election Results, Election Commission of India
  3. 1971 Tamil Nadu Election Results, Election Commission of India
  4. Kandaswamy. P (২০০৮)। The political Career of K. Kamaraj। Concept Publishing Company। পৃ. ৬২–৬৪। আইএসবিএন ৮১৭০২২৮০১৮
  5. The Madras Legislative Assembly, Third Assembly I Session
  6. The Madras Legislative Assembly, Third Assembly II Session
  7. "Governors of Kerala"। ১৩ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০১০
  8. 1 2 "Trailblazers from another era"The Hindu (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। ৬ জুলাই ২০১৩। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

টেমপ্লেট:Padma Shri Award Recipients in Public Affairs