জোড়া নারকেল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

জোড়া নারকেল
Lodoicea
Female coco de mer growth.jpg
Habit, with fruit
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Plantae
(শ্রেণীবিহীন): Angiosperms
(শ্রেণীবিহীন): Monocots
(শ্রেণীবিহীন): Commelinids
বর্গ: Arecales
পরিবার: Arecaceae
উপপরিবার: Coryphoideae
গোত্র: Borasseae
গণ: Lodoicea
Comm. ex DC.
প্রজাতি: L. maldivica
দ্বিপদী নাম
Lodoicea maldivica
(J.F.Gmelin) Persoon
প্রতিশব্দ[২]
Nut
The Vallée De Mai palm forest in Praslin

জোড়া নারকেল হচ্ছে লোডোইসি নামের এক-প্রজাতিবিশিষ্ট গণের পাম গাছ। এরা সাধারণত সামুদ্রিক নারকেল, লোডোইসি, ডাবল নারকেল বা কোকো ডে মার নামেও পরিচিত। এর একটিমাত্র প্রজাতি হলো লোডোচিয়া মালদিভিকা (দ্বিপদ নাম: Lodoicea maldivica) যা সেশেল-এর প্রাস্লিন এবং কুরিউস দ্বীপপুঞ্জেই পাওয়া যায় এবং এটি ওই অঞ্চলের একটি এন্ডেমিক উদ্ভিদ। পূর্বে এটি সেন্ট পিয়েরে, চৌভ-সৌরিস এবং ইলে রন্ডে (রাউন্ড দ্বীপপুঞ্জ) এর ছোট ছোট দ্বীপগুলিতেও পাওয়া যেতো, যার সবগুলোই প্রাস্লিনের কাছাকাছি অবস্থিত, তবে সম্প্রতি পুনরায় দেখতে না পাওয়া পর্যন্ত কিছু সময়ের জন্য এসব অঞ্চলে কোকো ডে মার বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বলেই ধরা হতো। এর গণের নামটি ফ্রান্সের রাজা পঞ্চদশ লুই এর সম্মানে নামকরণ হয়ে থাকতে পারে, উল্লেখ্য লোডোসিয়াস এর ল্যাটিন রূপ হলো লোডোইসা। তবে অন্যান্য সূত্র বলছে যে লোডোইসা নামটি প্রিয়াম এবং হেকুবার কন্যা লোওডিসের নাম থেকে এসেছে।[৩]

বিবরণ[সম্পাদনা]

এরা ২৫-৩৪ মিটার লম্বা হয়। গাছের পাতাগুলি পাখা আকারের হয় যা সাধারণত ৭-১০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং পরিপক্ব গাছগুলিতে ৪ মিটার পত্রবৃন্তসহ ৪.৫ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট হয়ে থাকে। তবে অল্পবয়সী গাছ দীর্ঘতর পত্রবৃন্ত উৎপাদন করে যার দৈর্ঘ্য ২৯ ফুট ৬ ইঞ্চি (৯ মিটার)[৪][৫] থেকে ৩৩ ফুট (১০ মিটার) পর্যন্ত হতে পারে।[৬] এটি একটি ভিন্নলৈঙ্গিক উদ্ভিদ অর্থাৎ পুরুষ এবং মহিলা প্রজননতন্ত্র পৃথক বৈশিষ্ট্যের হয়ে থাকে। পুরুষ ফুলগুলি ১ মিটার দীর্ঘ হয় এবং ক্যাটকিনের মতো পুষ্পবিন্যাসে বিন্যস্ত থাকে যা দশ বছর ধরে পরাগ উৎপাদন করতে থাকে; যা দীর্ঘকাল বেঁচে থাকা পরিচিত ফুলগুলোর মধ্যে একটি। পরিপক্ব ফল ৪০-৫০ সেমি ব্যাস এবং ১৫-৩০ কেজি ওজনের হয়ে থাকে যা উদ্ভিদজগতে সর্বোচ্চ ওজনদার ও সর্ববৃহৎ আকৃতির বীজ। ফল পরিপক্ব হতে ৬-৭ বছর সময় লাগে এবং অঙ্কুরোদগমের জন্য সময় লাগে আরও ২ বছর। এই উদ্ভিদ প্রজাতিটি কোথাও কোথাও সমুদ্রের নারকেল (Sea Coconut), প্রেমকেল (Love Nut), ডাবল নারকেল, কোকো ফিস বা সেশেলস নাট নামেও পরিচিত।[৭]

যদিও কোকো ডে মারের বৈশিষ্ট্যগুলো আর্দ্র ক্রান্তীয় অঞ্চলের মনোডমিন্যান্ট বনে থাকা অন্যান্য গাছের মতোই, তবে এর কিছু অনন্য ও পৃথক বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশাল আকৃতির বীজ, ফানেলিং কার্যকৌশল এবং বিভিন্ন প্রাণিসম্প্রদায়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকা। এই বৈশিষ্ট্যগুলি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দীর্ঘ বিবর্তনের ইতিহাসের সাক্ষী দেয়।[৮] সেশেলের ছয়টি একাঞ্চলিক (মনোস্পেসিফিক) এন্ডেমিক পামগুলোর মধ্যে, কোকো ডে মার হলো "সেশেলে থাকা অন্যান্য সপুষ্পক উদ্ভিদের মধ্যে দ্বীপের বিশালত্বের একমাত্র প্রকৃত উদাহরণ এটি যা সেশেলসের উদ্ভিদের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য"।[৯]

আবাসস্থল[সম্পাদনা]

কোকো ডে মার এমন সব রেইন ফরেস্টে পাওয়া যায় যেখানে গভীর ও ভালভাবে শুকানো মাটি এবং উন্মুক্ত ঢালু বা খাড়াই রয়েছে; যদিও এরকম ক্ষয়প্রাপ্ত মাটিতে এর বৃদ্ধি আগের চেয়ে হ্রাস পেয়েছে।[১০][১১]

সংরক্ষণ[সম্পাদনা]

সেশেল একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট) এবং এই অঞ্চলের এক তৃতীয়াংশ বর্তমানে সুরক্ষিত। [১২] অধিকাংশ কোকো ডে মার গাছই প্রাস্লিন এবং কুরিউজ জাতীয় উদ্যানে পাওয়া যায় এবং এর বাণিজ্যিকীকরণ ১৯৯৫ সালের কোকো-ডে-মার (ব্যবস্থাপনা) ডিক্রি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Fleischer-Dogley, F., Huber, M.J. & Ismail, S. (২০১১)। "Lodoicea maldivica"বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা। সংস্করণ 2011.1প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০১১ 
  2. "The Plant List: A Working List of All Plant Species"। সংগ্রহের তারিখ মে ১৬, ২০১৪ 
  3. John Craig,A new universal etymological technological, and pronouncing dictionary of the English language 1859
  4. BIOTROPICA Vol. 15 # 1 (March 1983) p. 18 Fig 3
  5. E.J.H. Corner, NATURAL HISTORY OF PALMS (Berkeley: Univ. Calif. Press, 1966) pp. 314-315.
  6. Rene Coativy in THE PALM JOURNAL # 195 (Summer 2010) p. 6 plus photo inside front cover p. 1
  7. "Royal honeymooners' 'erotic' souvenir"BBC News। ১৬ জুলাই ২০১১। 
  8. Edwards, Peter J.; Fleischer-Dogley, Frauke; Kaiser-Bunbury, Christopher N. (২০১৫)। "The nutrient economy of Lodoicea maldivica, a monodominant palm producing the world's largest seed"। New Phytologist206 (3): 990–999। ডিওআই:10.1111/nph.13272পিএমআইডি 25616088 
  9. Proctor, J. (১৯৮৪)। "Vegetation of the granitic islands of the Seychelles"। Stoddart, D. R.। Biogeography and Ecology of the Seychelles Islands। W. Junk। আইএসবিএন 978-90-6193-881-1ওসিএলসি 906429733 
  10. Wise, R. (১৯৯৮)। A Fragile Eden। New Jersey: Princeton University Press। 
  11. জোড়া নারকেল ARKive-এ আরও তথ্য, আলোকচিত্র ও ভিডিও
  12. Seychelles: Jewel of a Lost Continent। Natural World। BBC। ১০ ডিসেম্বর ২০০০। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]