জেলা গ্রন্থাগার, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা
| দেশ | ভারত |
|---|---|
| ধরন | জেলা গ্রন্থাগার - সর্বসাধারণ |
| প্রতিষ্ঠিত | ২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬ |
| অবস্থান | নিবারণ দত্ত রোড, বিদ্যানগর, পো - চড়াশ্যামদাস দক্ষিণ ২৪ পরগণা ৭৪৩ ৫০৩ |
| সংগ্রহ | |
| আকার | ১,০১,৪৩৭ ( ৩১ জানুয়ারি ২০২৫) |
| অন্যান্য তথ্য | |
| কর্মচারী | ১০ |
জেলা গ্রন্থাগার, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা পশ্চিমবঙ্গ সরকার পোষিত দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলা গ্রন্থাগার। এটি বিষ্ণুপুর ২ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের বিদ্যানগরে অবস্থিত।[১][২]
অবস্থান
[সম্পাদনা]গ্রন্থাগারটি মহানগর কলকাতাস্থিত আলিপুর জেলা সদর হতে ২৫ কিমি দূরত্বে অবস্থিত। আলিপুর হতে জাতীয় সড়ক ১২ তথা ডায়মন্ড হারবার রোড বরাবর সড়ক পথে ২০ কিমি দূরত্বের পর আমতলা হতে (৫ কিমি), বাখরাহাট পর্যন্ত সম্প্রসারিত নিবারণ দত্ত রোডে এটির অবস্থান। অবস্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ হলো যথাক্রমে- ২২°১৩′৫২″ উত্তর ৮৮°০৮′২৯″ পূর্ব / ২২.২৩১১° উত্তর ৮৮.১৪১৪° পূর্ব।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার তৎকালীন কাঙ্গণবেড়িয়া বোর্ডের চেয়ারম্যান, চড়াশ্যামদাস গ্রামের দূরদর্শী শিক্ষাব্রতী ছিলেন ধীরেন্দ্রনাথ বেরা। তাঁর ঐকান্তিক ইচ্ছায় অধুনা বিষ্ণুপুর ২ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বিদ্যানগর এলাকা তৈরি ও 'বিদ্যানগর শিক্ষা সংসদ' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনার মধ্যেই অধিবর্ষ ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ ফেব্রুয়ারি জেলা গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রন্থাগারের জমির কিছু অংশ বাখরাহাটের স্বর্ণব্যবসায়ী পাঁচকড়ি দত্ত এবং বাকিটা ধীরেন্দ্রনাথ বেরার স্ত্রী ঊষারাণী দেবীর।
১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দের ১ জুন গ্রন্থাগার ভবনের আনুষ্ঠানিক দ্বারোদ্ঘাটন করেন বিশ্ব বিশ্রুত পদার্থবিজ্ঞানী (তৎকালীন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য) সত্যেন্দ্রনাথ বসু। [৩][৪] দ্বারোদ্ঘাটনের পর তিনি মন্তব্যে লেখেন-
"গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠান দেখে যাচ্ছি- বেশ সুন্দর বন্দোবস্ত, এখন প্রতিদিন এই সব সুবিধা শিক্ষা বিস্তারের কাজে লাগাতে পারবো।"

প্রসঙ্গত, ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় যখন বিদ্যানগর কলেজে অধ্যাপনা করতেন তখন তিনি গ্রন্থাগারের সদস্য হন।
২০১৭ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গ সরকার গ্রন্থাগারটিকে একটি মডেল গ্রন্থাগারের মর্যাদা দেয়।

পদ্মবিভূষণ সম্মানে সম্মানিত বিজ্ঞানী বিকাশচন্দ্র সিংহ গ্রন্থাগার সংলগ্ন 'সত্যেন্দ্রনাথ বসু উদ্যান'-এ অধ্যাপক সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ১২৫ তম জন্মদিন উদযাপনে বিজ্ঞানাচার্যের আবক্ষ মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি।
পরিষেবাসমূহ
[সম্পাদনা]রবিবার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঘোষিত ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ১১ টা হতে বিকাল ৬ টা পর্যন্ত গ্রন্থাগার সর্বসাধারণের জন্য খোলা থাকে।[২] উল্লেখযোগ্য পরিষেবাগুলি হল-
- পুস্তক লেনদেন বিভাগ
- ফ্রি রিডিং রুম
- শিশু বিভাগ
- ভ্রাম্যমান গ্রন্থাগার বিভাগ
- ছাত্রছাত্রীদের জন্য রেফারেন্স বিভাগ
- বিরল পুস্তক সংরক্ষণ বিভাগ
- জেলা তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগ
- প্রদর্শনী, সেমিনার আলোচনা সভা ইত্যাদির ব্যবস্থাপনা
বঙ্গীয় গ্রন্থাগার পরিষদের বর্ষব্যাপী শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসাবে ২০২৫ খ্রিস্টাব্দের ২২ ফেব্রুয়ারি গ্রন্থাগারের 'ধীরেন্দ্রনাথ বেরা সভাঘরে' একটি আলোচনা সভা ও সপ্তাহব্যাপী এক প্রদর্শনী ব্যবস্থা করা হয়।[৫]
গ্রন্থাগারিক
[সম্পাদনা]স্থাপনাকাল হতে যারা গ্রন্থাগারের দায়িত্বভার সামলেছেন তারা হলেন-
- সরোজগোপাল হাজরা (১৯৫৬ - ৬৫)
- প্রসাদলাল রায় (ভারপ্রাপ্ত) (১৯৬৬)
- অমলাংশু সেনগুপ্ত (১৯৬৭ -৭২)
- অরবিন্দ ঘোষ (ভারপ্রাপ্ত) (১৯৭২ - ৭৩)
- অমলাংশু সেনগুপ্ত (১৯৭৩ - ৮৭)
- অরবিন্দ ঘোষ (১৯৮৭ - ৯৪)
- অশ্বিনীকুমার পাড়ুই (ভারপ্রাপ্ত) (১৯৯৪ -০৩)
- মধুসূদন চৌধুরী (২০০৩ - বর্তমান)[২]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Details of Library Services"। ২২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- 1 2 3 "South 24 Parganas District Library" (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "২৪-পরগণা জেলা গ্রন্থাগার নূতন ভবনের দ্বারোদ্ঘাটন"। ৩ জুন ১৯৫৮।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|সংগ্রহের-তারিখ=এর জন্য|ইউআরএল=প্রয়োজন (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার|সংবাদ-পত্র=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য) - ↑ "২৪ পরগণা জেলা গ্রন্থাগার ভবন - বিশ্বভারতীর উপাচার্য ডক্টর সত্যেন্দ্রনাথ বসু কর্তৃক দ্বারোদ্ঘাটন সুসম্পন্ন"। ৬ জুন ১৯৫৮।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|সংগ্রহের-তারিখ=এর জন্য|ইউআরএল=প্রয়োজন (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার|সংবাদ-পত্র=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য) - ↑ "Events & News"। সংগ্রহের তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।