জেমস পিস

কেনেথ জেমস পিস (ইংরেজি: Kenneth James Peace) ১৯৬৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পেইসলি-তে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন স্কটিশ গীতিকার (এবং সুরকার), কনসার্ট পিয়ানিস্ট এবং ভিজ্যুয়াল
জীবনী
[সম্পাদনা]জেমস পিস ১৯৬৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডের পেইসলি-তে জন্মগ্রহণ করেন।[১][২] তিনি তাঁর শৈশবের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন হেলেন্সবার্গে। হেলেন্সবার্গ স্কটল্যান্ডের পশ্চিমে অবস্থিত একটি উপকূলীয় শহর। তাঁর পরিবারেই ছিল অনেক শিল্পী (যেমন- জন ম্যাকগি); এছাড়াও তিনি বিশ শতকের প্রথমার্ধে জনপ্রিয় নৃত্য সঙ্গীত গীতিকার ফেলিক্স বার্নসের আত্মীয়।[১][৩] তিনি আট বছর বয়স থেকে পিয়ানো শেখা শুরু করেছেন।[১][৩] তাঁর প্রথম পাবলিক পারফর্ম্যান্সের হাতেখড়ি হয় চৌদ্দ বছর বয়সে স্কট জপলিনের সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে।[১][৩] ষোল বছর বয়সে তিনি সর্বকনিষ্ঠ পূর্ণকালীন ছাত্র হিসাবে রয়্যাল স্কটিশ একাডেমি অব মিউজিক অ্যান্ড ড্রামা (বর্তমানে রয়্যাল কনসার্ভেটোয়া অব স্কটল্যান্ড নামে পরিচিত, ইংরেজি: Royal Conservatoire of Scotland)-তে ভর্তি হন।[১][২][৩][৪] ১৯৮৩ সালে তিনি গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিয়ানো শিক্ষায় বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।[৪][৫] পরের বছর তিনি RSAMD অর্কেস্ট্রার সঙ্গে মেন্ডলসনের পিয়ানো কনসার্টো নং ১ বাজানোর পর সঙ্গীত পরিবেশনে ডিপ্লোমা অর্জন করেন।[৪][৫] আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষে তিনি পিয়ানিস্ট হিসাবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।[১][৬] ১৯৮৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি এডিনবার্গে থেকেছেন।[১][২]
জেমস পিস ১৯৯১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জার্মানির (জার্মান: Bundesrepublik Deutschland) বাদ ন্যৌহেইম (জার্মান: Bad Nauheim)-এ কাটিয়েছেন।[৬][৭][৮] ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি ট্যাঙ্গো নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, ট্যাঙ্গো দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি সিডি Tango escocés (ꞌꞌস্কটিশ ট্যাঙ্গোꞌꞌ) শিরোনামে নিজের পিয়ানো সঙ্গীত রচনা করেছেন।[৩][৮][৯] ২০০২ সালে তিনি ভিক্টোরিয়া কলেজ অব মিউজিকের সম্মানিত সদস্য হন।[৩][৮] একই বছরের সেপ্টেম্বর/অক্টোবরে তিনি উত্তর জার্মানিতে একটি একক কনসার্ট ট্যুরে অংশগ্রহণ করেন এবং নভেম্বর মাসে দূরপ্রাচ্যে যান।[৩][৮] প্রথমে তিনি হংকং-এ তাঁর ট্যাঙ্গো XVII পরিবেশন করেন।[৮][৯][১০][১১][১২]
পরবর্তী বছরগুলিতে তাঁর পরিবেশনাগুলো ইউরোপ-কেন্দ্রিক ছিল। তিনি আমস্টারডাম, এথেন্স,[১৩] বার্লিন,[১৪] ব্রাসেলস, হেলসিঙ্কি,[১৫] লিসবন,[১৬] লন্ডন, মাদ্রিদ,[১৭] ওসলো,[১৮] রিকজাভিক[১৯] ও ভিয়েনার[২০] মতো রাজধানী শহরগুলিতে তাঁর নিজস্ব ট্যাঙ্গোগুলো পরিবেশন করেছেন।
২০০৮ সালে তিনি ট্যাঙ্গোতে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে লন্ডন কলেজ অব মিউজিকের সম্মানিত সদস্য হন।[২১][২২][২৩]
এডিনবার্গে কিছুদিন থেকে তিনি ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে জার্মানিতে ফিরে আসেন এবং ওয়াইসব্যাডেনে থাকতে শুরু করেন।[১][৩] এটি তাঁর মধ্যে এক নতুন সৃজনশীল উদ্দীপনার সঞ্চার করে এবং পরবর্তীতে তিনি তাঁর নিজের সঙ্গীত বা সৃষ্টিকর্ম নিয়ে কিছু শর্ট ফিল্ম তৈরি করেন।[১][৩] এই ঘরানায় তাঁর কাজের মধ্যে জেমস পিস ইন ওয়াইসব্যাডেন ডকুমেন্টারি ফিল্মটি অন্যতম।[২২][২৩][২৪]
পুরস্কার ও সম্মাননা
[সম্পাদনা]● প্রথম পুরস্কার, ꞌꞌআগনেস মিলারꞌꞌ প্রতিযোগিতা, গ্লাসগো, ১৯৮৩[৪]
● প্রথম পুরস্কার, ꞌꞌডামবার্টনশায়ার ইআইএসꞌꞌ প্রতিযোগিতা, গ্লাসগো, ১৯৮৪[৪]
● ꞌꞌসাইবেলিউসꞌꞌ নিবন্ধ পুরস্কার, গ্লাসগো, ১৯৮৫[৪]
● সম্মানসূচক ডিপ্লোমা, টিআইএম আন্তর্জাতিক সঙ্গীত রচনা প্রতিযোগিতা, রোম, ২০০০[১][২][৫]
● সম্মানসূচক ডিপ্লোমা, আইবিএ ফাউন্ডেশন, নিউইয়র্ক, ২০০২[১][২][৫]
● স্মারক পদক, আন্তর্জাতিক পিয়ানো দুয়ো সংস্থা, টোকিও, ২০০২[১][২][৫][২১][২২][২৩][২৪]
● স্বর্ণ পদক, আন্তর্জাতিক একাডেমি অব ꞌꞌলুটেসꞌꞌ, প্যারিস, ২০০৮[১][২]
প্রধান সঙ্গীত বা সৃষ্টিকর্মসমূহ
[সম্পাদনা]১. জলপ্রপাত (ইংরেজি: The Waterfall)[২১]
২. মনোরম সময় (ইংরেজি: Idylls)
৩. নীরব চোখের জল (ইতালীষ়: Lento Lacrimoso)
৪. বিস্মৃত পাতা (ইংরেজি: Forgotten Leaves)
৫. ওবোয়ে সোনাটা (ইংরেজি: Sonata for oboe and piano)
৬. ব্যালাড (ফরাসি: Ballade)
৭. সিরামনিয়াল মার্চ নং ১ (ইংরেজি: Ceremonial March No.1)
৮. সিরামনিয়াল মার্চ নং ২ (ইংরেজি: Ceremonial March No.2)
৯. স্বর্ণালী শরৎ (ইংরেজি: Autumn Gold)[২৫][২৬]
১০. শাশ্বত গান (ইংরেজি: Eternal Song)[১]
১১. ꞌꞌজর্জিয়ার নিমিত্তেꞌꞌ (জর্জিয়ান ভাষা: საქართველოსთვის)
(গীত: তামার চিকভাইদজে, জুরাব চিকভাইদজে এবং জেমস পিস)
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 Birgitta Lamperth. ꞌꞌ ꞌ কণ্টকী ꞌ শব্দবিহীনꞌꞌ। Wiesbadener Tagblatt (জার্মান পত্রিকা), ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১১
- 1 2 3 4 5 6 7 Julia Anderton. ꞌꞌএকটি তিক্ত মধুর গল্পের ন্যায় ট্যাঙ্গোꞌꞌ Wiesbadener Kurier (জার্মান পত্রিকা), ২৪ মার্চ, ২০১২।
- 1 2 3 4 5 6 7 8 9 Sabine Klein. "আমার সঙ্গীত আমার মতোই" – অতীব রোমান্টিক। Frankfurter Rundschau (জার্মান পত্রিকা), ১৯৯২, সংখ্যা ২৫৪, পৃষ্ঠা ২।
- 1 2 3 4 5 6 G. Müller. "পিয়ানোর আত্মা ট্যাঙ্গো নাচে"। Kulturspiegel Wetterau (জার্মান ম্যাগাজিন), ১৭ মার্চ, ২০০১, পৃষ্ঠা ৫।
- 1 2 3 4 5 Deutsche Nationalbibliothek. ꞌꞌJames Peaceꞌꞌ
- 1 2 FRIZZ (জার্মান ম্যাগাজিন), জানুয়ারি,২০০১, পৃষ্ঠা ৫।
- ↑ Manfred Merz. ꞌꞌএকটি বিশিষ্ট ও সংবেদনশীলভাবে রঙিন রোমান্টিক দুনিয়াꞌꞌ। Wetterauer Zeitung (জার্মান পত্রিকা), ১২ ডিসেম্বর, ১৯৯২, পৃষ্ঠা ১।
- 1 2 3 4 5 The Tango Times (নিউ ইয়র্ক-ভিত্তিক ম্যাগাজিন), সংস্করণ ২০০২/২০০৩ (৩৯), পৃষ্ঠা ১ - ৫।
- 1 2 3 National Library of Scotland. ꞌꞌTango escocésꞌꞌ
- ↑ La Cadena. (ডাচ ম্যাগাজিন), সেপ্টেম্বর, ২০০২, পৃষ্ঠা ২৬।
- ↑ TangoTang (হংকং), নিউজলেটার, ৮ অক্টোবর, ২০০২।
- ↑ ꞌꞌজেমস পিসꞌꞌ. South China Morning Post (হংকং-ভিত্তিক পত্রিকা), ৯ অক্টোবর, ২০০২।
- ↑ কনসার্ট প্রোগ্রাম ব্রোশিওর (এথেন্স, ২০১৭)। {Για σένα, Αγγελική}
- ↑ Tangodanza (জার্মান ম্যাগাজিন), সংস্করণ ১/২০০২ - ৯।
- ↑ কনসার্ট পোস্টার (ফিনল্যান্ড কনসার্ট ট্যুর, ২০১৪) ।
- ↑ কনসার্ট পোস্টার (পর্তুগাল কনসার্ট ট্যুর, ২০১৬)।
- ↑ কনসার্ট পোস্টার (স্পেন কনসার্ট ট্যুর, ২০১৩) «¡Feliz cincuenta cumpleanos!»
- ↑ "Listen.no. Konsert, James Peace (flygel). Munch Museum, ওসলো, ১৬ অক্টোবর, ২০০৪"। ৮ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০২৪।
- ↑ Rikarður Ö. Pálsson. ꞌꞌSkozir Slaghörputangoárꞌꞌ. Morgunblaðið (আইসল্যান্ডভিত্তিক পত্রিকা), ১৪ অক্টোবর, ২০০৪।
- ↑ কনসার্ট প্রোগ্রাম ব্রোশিওর (ভিয়েনা, ২০০৫)
- 1 2 3 "ইন্টারন্যাশনাল পিয়ানো ডুও অ্যাসোসিয়েশন। পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা, ২০০২"। ২৭ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ ডিসেম্বর ২০২৪।
- 1 2 3 4 Deutsche Nationalbibliothek. ꞌꞌK. James Peace in Wiesbadenꞌꞌ
- 1 2 3 4 Whittaker Live: ꞌꞌWiesbadener Highlander K. James Peace, tango composer: new DVDꞌꞌ
- 1 2 3 National Library of Scotland. ꞌꞌK. James Peace in Wiesbadenꞌꞌ
- ↑ Hessisches Staatstheater Wiesbaden. কনসার্ট প্রোগ্রম ব্রোশিওর (12/19 September 2021)
- ↑ Schwäbische Post (জার্মান পত্রিকা), ꞌꞌঅর্কেস্ট্রার ওপর দিয়ে উড়ে যায় বায়োলিনের শব্দꞌꞌ। ৪ জুন, ১৯৯৪।