বিষয়বস্তুতে চলুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সঙ্গীতশিল্পীরা
অন্য নাম৩৬ জুলাই
পালনকারীবাংলাদেশ
ধরনজাতীয়
তাৎপর্যছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং তার সরকারের পতন[]
উদযাপনভিডিও শেয়ারিং, জেলা কেন্দ্রগুলোর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বিজয় মিছিল, এয়ার শো, কনসার্ট, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, ড্রোন শো
তারিখ৫ আগস্ট
সংঘটনবার্ষিক
সর্বপ্রথম আগস্ট ২০২৫; ৮ মাস আগে (2025-08-05)
সূচনাকারীজুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর
সম্পর্কিতজুলাই শহীদ দিবস

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস বাংলাদেশের একটি জাতীয় দিবস ও সরকারি ছুটির দিন যা ২০২৫ সাল থেকে প্রতিবছরের ৫ আগস্টে পালিত হচ্ছে।

৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ঘটে এবং তার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে যা পরবর্তীতে ৩৬ জুলাই নামে পরিচিতি পায়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রস্তাবিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের অ্যালোকেশন অব বিজনেসে দিনটি পালনের ব্যাপারে উল্লেখ ছিল যা গৃহীত হয়। এরপর ২৫ জুনে দিবসটিকে ক-শ্রেণিভুক্ত তথা জাতীয় দিবস করা হয় এবং ২ জুলাইয়ে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

পটভূমি

[সম্পাদনা]
৫ আগস্ট ২০২৪ তথা শেখ হাসিনার পদত্যাগের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনকর্মীরা।

২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে অরাজনৈতিক ছাত্র প্লাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সূচনা করে। আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকর্মীদের উপর সহিংসতার ফলে তৎকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তার অংশ হিসেবে দুই দিনব্যাপী রাজধানী ঢাকায় পরিচালিত লং মার্চের অংশ হিসেবে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ রাজধানীতে আসতে থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে বোন শেখ রেহানা সহ দেশ ছেড়ে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যেতে বাধ্য হয় এবং তার দলের ১৫ বছরের শাসনকালের অবসান ঘটে।[] চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তখন ৫ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল।[] ঘটনার পর দিনটিকে আন্দোলনকারীরা ৩৬ জুলাই হিসেবে অভিহিত করতে শুরু করে।[] ৯ আগস্ট ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে ৫ আগস্টকে "দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র দিবস" ঘোষণা করে।[] ২০ আগস্ট ২০২৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।[] ১৬ অক্টোবর ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম জানিয়েছিলেন যে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সম্পর্কিত একটি তারিখ জাতীয় দিবসের তালিকায় যুক্ত হবে এবং এ নিয়ে সরকারে আলোচনা চলমান রয়েছে।[] একই দিনে অনলাইন সক্রিয়কর্মী পিনাকী ভট্টাচার্য দিনটিকে "ফ্যাসিবাদ পতন দিবস" বা "মহান পলায়ন দিবস" হিসেবে সরকারি ছুটির দিন করার প্রস্তাব দেন।[] এর পরের দিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের একটি সূত্র জানিয়েছিল যে দিনটি একইসাথে সরকারিভাবে সাধারণ ছুটির দিন হিসেবে ঘোষিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং মন্ত্রিপরিষদের সভায় আলোচনার পর সম্ভাব্য সরকারি ছুটির দিনটির একটি নাম ঠিক করে দেওয়া হবে।[] মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠনের জন্য প্রস্তুতকৃত অ্যালোকেশন অব বিজনেস প্রস্তাবে দিনটি পালনের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছিল যা ৬ জানুয়ারি ২০২৫ সালে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে পাঠানোর পর তাদের বৈঠকে অনুমোদিত হয়।[১০] ২৯ এপ্রিল ২০২৫ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় দিবসটির নাম বাছাই করে 'ক' শ্রেণিভুক্ত করার একটি প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।[১১] ১৬ জুন ২০২৫ সালে ইনকিলাব মঞ্চ দেশের স্বাধীনতা দিবসবিজয় দিবসের সাথে তুলনা করে দিনটিকে "জাতীয় মুক্তি দিবস" হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানায়।[১২] ১৯ জুন ২০২৫ সালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী উক্ত বছর থেকে নিয়মিত দিনটিতে সরকারি ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন।[১৩] ২৪ জুন ২০২৫ সালে সরকারের পক্ষ থেকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ২৬ দিনব্যাপী 'জুলাই স্মৃতি উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানমালা' উদযাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৩৬ জুলাই অন্তর্ভুক্ত ছিল।[১৪] ২৫ জুন ২০২৫ সালে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৬ জুলাইকে "জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস" ঘোষণা করে এবং এটিকে ক শ্রেণিভুক্ত দিবসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।[১৫] ২ জুলাই ২০২৫ সালে দিনটিকে সরকার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সরকারি বার্ষিক ছুটির দিন ঘোষণা করে।[১৬] পরের দিন বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এর অন্তর্ভুক্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে চিঠি প্রেরণ করে দিনটি পালনের নির্দেশ প্রদান করে।[১৭] ১৭ জুলাই ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক দিনটিতে দেশের সকল ব্যাংক বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।[১৮]

উদযাপন

[সম্পাদনা]

২০২৫ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে সারা দেশে জুলাই গণহত্যায় নিহতদের জন্য কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।[১৯] এছাড়া বিভিন্ন রাষ্ট্রীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করে।[২০] দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দিবসের স্মারক ডাকটিকেট উন্মুক্ত করেন।[২১] এছাড়া জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এই দিনে উদ্বোধন করা হয়।[২২] ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।[২৩] অনুষ্ঠানে সঙ্গীতানুষ্ঠান আয়োজিত হয়।[২৪] বিকেলে মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।[২৫] রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জুলাই গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে আকাশে ১২ মিনিটের ড্রোন শো দেখানো হয়।[২৬]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "ইতিহাস বদলে দেওয়া ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট আজ"যুগান্তর। ৫ আগস্ট ২০২৫।
  2. "ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট"যুগান্তর। ৫ আগস্ট ২০২৪।
  3. "আজ ৫ অগাস্ট থেকে ৩ দিনের সাধারণ ছুটি"দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস। ৫ আগস্ট ২০২৪।
  4. "আগস্টের ৫ তারিখ যেভাবে '৩৬ জুলাই' হলো"দেশ রূপান্তর। ৬ আগস্ট ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ১৩ আগস্ট ২০২৪
  5. "শহীদ আবু সাইদ দিবস ও দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র দিবস ঘোষণা ছাত্রপক্ষের"ঢাকা টাইমস। ৯ আগস্ট ২০২৪।
  6. "৫ আগস্ট রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিশেষ দিবস পালনের আহ্বান তারেক রহমানের"আজকের পত্রিকা। ২০ আগস্ট ২০২৪।
  7. "'জুলাই অভ্যুত্থান' নিয়ে যুক্ত হতে পারে নতুন দিবস, জানালেন উপদেষ্টা নাহিদ"ঢাকা ট্রিবিউন। ১৬ অক্টোবর ২০২৪।
  8. "পিনাকী ভট্টাচার্যর দুটি দিবসের প্রস্তাব"আমাদের সময়। ১৭ অক্টোবর ২০২৪।
  9. "৫ আগস্ট সাধারণ ছুটি ঘোষণা হতে পারে"দৈনিক ইনকিলাব। ১৭ অক্টোবর ২০২৪।
  10. "জাতীয়ভাবে ৫ আগস্ট পালন হবে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস'"কালের কণ্ঠ। ২৯ জানুয়ারি ২০২৫।
  11. "পাঁচ আগস্ট 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস' পালনের সিদ্ধান্ত"সময়ের আলো। ৬ মে ২০২৫।
  12. "৩৬ জুলাইকে জাতীয় মুক্তি দিবস ঘোষণার দাবি"আমাদের বার্তা। ১৬ জুন ২০২৫।
  13. "'৩৬ জুলাই' সরকারি ছুটি"প্রতিদিনের সংবাদ। ১৯ জুন ২০২৫।
  14. "গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠান হবে"প্রথম আলো। ২৪ জুন ২০২৫।
  15. "৫ আগস্ট 'জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবস' ও ৮ আগস্ট 'নতুন বাংলাদেশ দিবস' ঘোষণা"প্রথম আলো। ২৫ জুন ২০২৫।
  16. "৫ আগস্ট জুলাই গণ অভ্যুত্থান দিবস, ১৬ জুলাই শহীদ দিবস"বাংলাদেশ প্রতিদিন। ৩ জুলাই ২০২৫।
  17. "সব স্কুল-কলেজে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও শহীদ দিবস পালনের নির্দেশ"কালের কণ্ঠ। ৩ জুলাই ২০২৫।
  18. "জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৫ আগস্ট বন্ধ থাকবে সব ব্যাংক"ঢাকা ট্রিবিউন। ১৭ জুলাই ২০২৫।
  19. "জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে সারা দেশে কোরআন খতম ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত"দৈনিক ইনকিলাব। ৫ আগস্ট ২০২৫।
  20. "শহীদ ও আহতদের স্মরণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত"মানবজমিন। ৬ আগস্ট ২০২৫।
  21. "জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত"দেশ রূপান্তর। ৫ আগস্ট ২০২৫।
  22. "জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে মুখর ঢাবি এলাকা, স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন"বাংলা ট্রিবিউন। ৫ আগস্ট ২০২৫।
  23. "মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে '৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন' অনুষ্ঠান চলছে"প্রথম আলো। ৫ আগস্ট ২০২৫।
  24. "নানা আয়োজনে উদযাপিত হলো 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস'"কালের কণ্ঠ। ৬ আগস্ট ২০২৫।
  25. "জুলাই ঘোষণাপত্র ঘোষণা করলেন প্রধান উপদেষ্টা, সন্নিবেশিত হবে সংবিধানের তফসিলে"বিবিসি। ৫ আগস্ট ২০২৫।
  26. "Special drone show lights up Dhaka sky in memory of July uprising martyrs"দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ আগস্ট ২০২৫।