বিষয়বস্তুতে চলুন

জুম্মাহ মসজিদ (মরিশাস)

জুম্মাহ মসজিদ
مسجد جمعة
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিইসলাম
পরিচালনা সংস্থাকচ্ছি মেমন সোসাইটি
অবস্থান
অবস্থানপোর্ট লুইস, মরিশাস
জুম্মাহ মসজিদ (মরিশাস) মরিশাস-এ অবস্থিত
জুম্মাহ মসজিদ (মরিশাস)
মরিশাসে অবস্থান
স্থানাঙ্ক২০°৯′৩৫.৫″ দক্ষিণ ৫৭°৩০′১৭.৫″ পূর্ব / ২০.১৫৯৮৬১° দক্ষিণ ৫৭.৫০৪৮৬১° পূর্ব / -20.159861; 57.504861
স্থাপত্য
ধরনমসজিদ
প্রতিষ্ঠার তারিখ২০ অক্টোবর ১৮৫২
ওয়েবসাইট
দাপ্তরিক ওয়েবসাইট

জুম্মাহ মসজিদ (আরবি: مسجد جمعة), যা আগে "আরবদের মসজিদ" নামে পরিচিত ছিল, হলো মরিশাসের পোর্ট লুইসে অবস্থিত ১৮৫০-এর দশকের একটি মসজিদ। ভবনটির স্থাপত্যে ভারতীয়, ক্রেওল এবং ইসলামি নির্মাণশৈলীর সমন্বয় ঘটেছে।[] জুম্মাহ মসজিদের পাশে একটি মার্বেল পাথরের সমাধিতে জামাল শাহের (ভারতের কচ্ছ জেলা থেকে আসা একজন পীর) দেহাবশেষ রক্ষিত আছে।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
মসজিদের ভেতরের আঙিনা

১৮৫২ সালে পোর্ট লুইসের বণিক সম্প্রদায়ের সদস্যরা (জুনুস আলারাকিয়া, কাসিম হিম্মিম, জুসুব সাত দিনা, ইলিয়াস হামোদে, আবদুল্লাহ এসাক, আবদুর রহিম আলানা, ইসমাইল ইব্রাহিম এবং ওমর ইয়াকুব) পোর্ট লুইসের কুইন স্ট্রিটে মোট ৬,৮০০ টাকায় দুটি সম্পত্তি ক্রয় করেন। ১৮৫২ সালের ২০ অক্টোবরের সেই ক্রয় দলিলের শর্তানুযায়ী মুসলিম বণিকরা এই ঘোষণা দেন যে:[]

... ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের নামে এবং মরিশাসের সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তারা এই ক্রয়কার্য সম্পন্ন করেছেন, যে সম্প্রদায়ের কাছ থেকে তারা বিশেষ ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়েছেন। ক্রেতারা ঘোষণা করেন যে, এই ক্রয়ের জন্য প্রদত্ত অর্থ তাদের ব্যক্তিগত নয় বরং মরিশাসের সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের।[]

আরবদের মসজিদ

[সম্পাদনা]

মসজিদ নির্মাণের সময় কেনা সম্পত্তিগুলোর একটিতে অবস্থিত ঘর সাময়িকভাবে উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ইসমাইল জিওয়া সেই সাময়িক উপাসনালয়ে নামাজে ইমামতি করতেন। ১৮৫৩ সালে একটি ছোট মসজিদ নির্মিত এবং উৎসর্গ করা হয়। মরিশাসের ইসলামের তৎকালীন ইমাম বাকোসে সোবেদার নতুন মসজিদের মিহরাব (নামাজের কুলঙ্গি) চিহ্নিত করেন। দীর্ঘ বছর ধরে এটি 'মস্কে দেস আরাবেস' (আরবদের মসজিদ) নামে পরিচিত ছিল—কারণ সাধারণ মানুষ এর প্রতিষ্ঠাতাদের ভুলবশত আরব জাতি বলে মনে করত। প্রায় ২০০ জন মুসল্লি ধারণক্ষমতার সেই নতুন মসজিদটিই ছিল আদি জুম্মাহ মসজিদ।[]

জুম্মাহ মসজিদ

[সম্পাদনা]

পোর্ট লুইসে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে একটি বড় মসজিদের প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই ১৮৫৭ থেকে ১৮৭৭ সালের মধ্যে মসজিদের চারপাশে সাতটি ভিন্ন ভিন্ন লটে মোট ০.৩০ হেক্টর ( একর) জমি মুসলিম বণিকরা ১,৩৪,২৬০ টাকায় ধাপে ধাপে ক্রয় করে মসজিদে দান করেন।[] এর অর্থায়নের একটি অংশ এসেছিল শস্য ব্যবসার ওপর দুই শতাংশ কর থেকে।[] একটি বাদে সব দলিলের কেনাকাটাই মরিশাসের সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত রয়্যাল, নিউ লিটল মাউন্টেন (বর্তমান জোসেফ রিভিয়ের), কুইন এবং লিটল মাউন্টেন (বর্তমান জুম্মাহ মসজিদ) সড়ক দ্বারা বেষ্টিত পুরো ব্লকটি মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্পত্তিতে পরিণত হয়।[]

১৮৭৮ সালে সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয় এবং এটি জাকারিয়া জান মাহোমেদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ইসহাক মিস্ত্রির নেতৃত্বে কারিগর এবং নির্মাণ সামগ্রী ভারত থেকে আনা হয়েছিল, তবে শ্রমিকদের মধ্যে রোগব্যাধি এবং নির্মাণ সামগ্রীর ঘাটতির কারণে ১৮৯৫ সাল পর্যন্ত এর কাজ শেষ হতে দেরি হয়। বর্ধিত মসজিদটি একটি ছোট অংশ বাদে পুরো ব্লকটি দখল করে নেয়, যা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেওয়া হয়েছে।[]

মসজিদটির স্থাপত্যে মুরিশ এবং মুঘল শৈলীর মিশ্রণ রয়েছে। পুরনো 'আরবদের মসজিদ' ভবনটিকে বর্ধিত ভবনের প্রধান নামাজ কক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা কাঁচের ঝাড়বাতি দিয়ে আলোকিত। মসজিদের আঙিনার মাঝখানে একটি কাঠ বাদাম বা বাদামিয়া গাছ রয়েছে, যা ১৮৫২ সালে কেনা জমির ওপর আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল।[]

ধর্মীয় নেতৃত্ব

[সম্পাদনা]

জুম্মাহ মসজিদের বর্তমান ইমাম হলেন কেনিয়া থেকে আসা মুহাম্মদ ফকি আলী। তিনি মসজিদের মাদ্রাসা-এর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, যেখানে হাফেজ (কুরআন মুখস্থ) করার শিক্ষা দেওয়া হয়। প্রতি বছর রমজানের ২৭তম রাতে শবে কদর উপলক্ষে শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জুম্মাহ মসজিদের খতিব হলেন পাকিস্তান থেকে আসা মুফতি মুহাম্মদ ইসহাক কাদরি রাজভি।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

পরিচালনা কর্তৃপক্ষ

[সম্পাদনা]

মরিশাসের কচ্ছি মেমন সোসাইটির সদস্যদের দ্বারা প্রতি তিন বছর মেয়াদের জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচিত হয়। প্রতি তিন বছর অন্তর নতুন কমিটি গঠিত হয় বা নবায়ন করা হয়। বর্তমান 'মুতাওয়াল্লি' (সভাপতি) হলেন নিসার আহমদ রামতুলা।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Masters, Tom; Carillet, Jean-Bernard (২০০৭)। Lonely Planet Mauritius, Reunion & Seychelles। Lonely Planet। পৃ. ৫৯। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৭৪১০৪-৭২৭-১
  2. Colonial Research Studies। H.M. Stationery Office। ১৯৬০। পৃ. ১২৮।
  3. 1 2 3 4 5 "The "Mosquée des Arabes""The Jummah Mosque in Mauritius। ১২ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  4. 1 2 3 "The Jummah Mosque"The Jummah Mosque in Mauritius। ৪ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]