জুওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া
জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার লোগো | |
| সংক্ষেপে | ZSI |
|---|---|
| গঠিত | ১ জুলাই ১৯১৬ |
| ধরন | সরকারি সংস্থা |
| উদ্দেশ্য | প্রাণী শ্রেণিবিন্যাস এবং সংরক্ষণ |
| সদরদপ্তর | কলকাতা |
| অবস্থান | |
যে অঞ্চলে কাজ করে | ব্রিটিশ ভারত (১৮৫১-১৯৪৭) |
প্রধান প্রতিষ্ঠান | পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় (ভারত) (moef |
| ওয়েবসাইট | zsi |
জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া হল ভারতের একটি রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা। এর সদর দপ্তর কলকাতায় অবস্থিত। এই সংস্থাটি ১৯১৬ সালের ১ লা জুলাই ব্রিটিশ ভারতে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়।[১]
কাজ
[সম্পাদনা]কলকাতায় সদর দফতর এবং ১৬টি আঞ্চলিক কেন্দ্র সহ জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (জেডএসআই) হলো ভারতের প্রাণী গবেষণার শীর্ষস্থানীয় সংস্থা। এর মূল কাজ হলো ভারতীয় উপমহাদেশ জুড়ে সমৃদ্ধ প্রাণীজগতের জরিপ, অন্বেষণ, গবেষণা এবং নথিবদ্ধকরণকে উৎসাহিত করা।জেডএসআই-এর প্রধান কার্যাবলী ও উদ্দেশ্যসমূহ হলো:
প্রাণীজ সমীক্ষা: ভারতের বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্র, রাজ্য এবং সংরক্ষিত এলাকা জুড়ে জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করার জন্য ব্যাপক অনুসন্ধান পরিচালনা করা।
শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা: পদ্ধতিগত প্রাণিবিদ্যায় জ্ঞানের অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রাণীদের শনাক্তকরণ, নামকরণ ও শ্রেণিবিভাগ।জাতীয় সংগ্রহশালা:জাতীয় প্রাণিবিদ্যা সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করে এবং দশ লক্ষেরও বেশি শনাক্তকৃত প্রাণীর নমুনা সংরক্ষণ করে।বিপন্ন
প্রজাতি পর্যবেক্ষণ:স্থানিক ও বিপন্ন প্রজাতির অবস্থা পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা এবং রেড ডেটা বুকের জন্য তথ্য সংকলন করা ।তথ্য প্রকাশনা: বিশদ বৈজ্ঞানিক সাহিত্য প্রকাশ করা, যার মধ্যে রয়েছে ‘ভারতের প্রাণীজগত’, ‘রাজ্যসমূহের প্রাণীজগত’, এবং বার্ষিক ‘প্রাণী আবিষ্কার’ প্রতিবেদন।
বন্যপ্রাণী ফরেনসিক ও পরামর্শ: শ্রেণিবিন্যাসগত শনাক্তকরণ পরিষেবা, বন্যপ্রাণী ফরেনসিক সহায়তা এবং সংরক্ষণ নীতি ও CITES-এরমতো আন্তর্জাতিক চুক্তির জন্য বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রদান ।
উন্নত জৈবিক গবেষণা: সংরক্ষণ কর্ম পরিকল্পনা এবং পরিবেশগত মূল্যায়নকে সমর্থন করার জন্য আধুনিক জিনোমিক, ডিএনএ বারকোডিং এবং জৈব-পরিবেশগত গবেষণা পরিচালনা করা।[২][৩]
১১১ তম প্রতিষ্ঠা দিবস
[সম্পাদনা]ভারতের প্রাণীবিদ্যা সর্বেক্ষণ (জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া) তাদের ১১১তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করল। এই উপলক্ষে ‘অ্যানিম্যাল ট্যাক্সোনমি সামিট, ২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়। ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত আয়োজিত তিন দিনের এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। তিনি জানান, ২০১৪ সালের পর থেকে দেশে টাইগার রিজার্ভের সংখ্যা ৪৭ থেকে বেড়ে ৫৮, এশীয় সিংহের সংখ্যা ৫২৩ থেকে ৮৯১, রামসর সাইটের সংখ্যা ২৪ থেকে ১০০ এবং ইকো-সেনসিটিভ জোনের বিস্তার প্রায় ১৮৬৫ বর্গকিলোমিটার থেকে ৬৮,৫০০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি হয়েছে। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভারতের প্রাণীবিদ্যা সর্বেক্ষণ (জ়েডএসআই) এবং ভারতের উদ্ভিদ সর্বেক্ষণ সংস্থা (বিএসআই)-র যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত দু’টি গ্রন্থও উন্মোচন করেন। সেগুলি হল—‘অ্যানিম্যাল ডিসকভারিজ–২০২৫’ এবং ‘প্ল্যান্ট ডিসকভারিজ–২০২৫’। ‘অ্যানিম্যাল ডিসকভারিজ–২০২৫’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে সম্পূর্ণ নতুন ৪৮৩টি প্রাণীর প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়েছে। ২২৬টি প্রাণীর প্রজাতি প্রথম বারের মতো ভারতে নথিভুক্ত হয়েছে। দেশের জাতীয় জীববৈচিত্র্য তথ্যভাণ্ডারে ৭০৯টি নতুন প্রাণীজ নথি সংযোজিত হয়েছে। এর ফলে, ভারতের নথিভুক্ত প্রাণী বৈচিত্র্যের সংখ্যা বেড়ে ১,০৫,৯৫৩টি প্রজাতি ও উপপ্রজাতিতে পৌঁছেছে, যা সমগ্র বিশ্বে অন্যতম সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের দেশ হিসাবে ভারতের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। রাজ্যভিত্তিক নতুন প্রজাতি আবিষ্কারের ক্ষেত্রে কেরল সর্বোচ্চ ৯৮টি নতুন প্রজাতি নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। এর পরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (৭৬), কর্নাটক (৬৭) এবং অরুণাচলপ্রদেশ (৬৫)।[৪]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Zoological Survey of India-Home"। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০১৭।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "zoological survey of india"। records of zsi। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০২৬।
- ↑ "zoological survey of india"। byjus। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০২৬।
- ↑ "story/breaking news/ new animal discoveries"। Aaroananda। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০২৬।