জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিস
এই নিবন্ধ বা অনুচ্ছেদটি পরিবর্ধন বা বড় কোনো পুনর্গঠনের মধ্যে রয়েছে। এটির উন্নয়নের জন্য আপনার যে কোনো প্রকার সহায়তাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। যদি এই নিবন্ধ বা অনুচ্ছেদটি কয়েকদিনের জন্য সম্পাদনা করা না হয়, তাহলে অনুগ্রহপূর্বক এই টেমপ্লেটটি সরিয়ে ফেলুন। ১৩ দিন আগে TheAhasan (আলাপ | অবদান) এই নিবন্ধটি সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন। (হালনাগাদ) |
জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিস جويرية بنت الحارث | |
|---|---|
| জন্ম | বুররা বিনতে হারিস[১] ১৫ হি.পূর্ব/আনু. ৬০৮ খ্রিস্টাব্দ |
| মৃত্যু | রবিউল আউয়াল, ৫৬ হিজরি; আনু. এপ্রিল, ৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দ |
| সমাধি | জান্নাতুল বাকি, মদিনা |
| পরিচিতির কারণ | নবি মুহাম্মাদের স্ত্রী |
| দাম্পত্য সঙ্গী |
|
| পিতা-মাতা | হারিস ইবনে আবি দিনার (পিতা) |
| পরিবার | বনু মুসতালিক (জন্মসূত্রে) আহলে বাইত (বিবাহসূত্রে) |
জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিস (আরবি: جويرية بنت الحارث, প্রতিবর্ণীকৃত: জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিস; জন্ম: আনুমানিক ৬০৮) ছিলেন নবি মুহাম্মাদের স্ত্রী ও উম্মুল মুমিনিন। তিনি বনু মুসতালিক গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর পিতা হারিস সেই গোত্রের প্রধান ছিলেন।
পারিবারিক পটভূমি
[সম্পাদনা]তিনি বনু মুস্তালিক গোত্রের প্রধান আল হারিস ইবনে আবি দিয়ারের কন্যা ছিলেন, যিনি নিজের গোত্রসহ মুসলিমদের সাথে একটি যুদ্ধে পরাজিত হন।[২]
মুসলিম ও বনু মুসতালিক সংঘর্ষ
[সম্পাদনা]যু ক্বারাদের অভিযান থেকে ফিরে দুই মাস পর নবি মুহাম্মদ খবর পেলেন যে, বনু মুসতালিক তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। তাই তিনি বুরাইদা ইবনুল হুসাইব আল-আসলামিকে গোয়েন্দা হিসেবে তাদের অঞ্চলে পাঠান, যাতে তিনি নিশ্চিতভাবে গোত্রটির ব্যাপারে খবর জানাতে পারেন। অন্যদিকে, বনু মুসতালিকও ভাবে যে, হয়তো নবি মুহাম্মাদ তাদের আক্রমণ করার পরিকল্পনা করছেন। তাই তারা নিজেদের পক্ষ থেকে একজন গোয়েন্দাকে মুসলমানদের অবস্থান খুঁজে বের করার জন্য পাঠায়। কিন্তু সে বন্দী হয় এবং পরবর্তীতে তাকে হত্যা করা হয়।[৩]
যুদ্ধে উভয় বাহিনী আল-মুরাইসি নামে একটি কুয়োর পাশে অবস্থান নেয়, যা সমুদ্রের উপকূলে এবং মক্কা থেকে কিছু দূরে অবস্থিত ছিল। উভয়ই এক ঘণ্টা ধরে তীর এবং ধনুক দিয়ে লড়াই চালিয়ে যায়। এরপর মুসলিমরা দ্রুত অগ্রসর হয়ে মুসতালিক গোত্রকে ঘেরাও করে এবং তাদের পুরো গোত্রকে বন্দী করে। তাদের পরিবার ও গবাদিপশু জব্দ করা হয়। যুদ্ধ শেষে মুসলিমরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। এতে প্রায় দুই শত পরিবারের মানুষকে বন্দী করা হয় এবং ২০০ উট, ৫,০০০ গবাদিপশু ও প্রচুর পরিমাণ গৃহস্থালির জিনিসপত্র জব্দ করা হয়।[৪][৫][৬]
যুদ্ধে বনু মুসতালিকের ১০ জন যোদ্ধা প্রাণ হারায়। মুসলিম বাহিনী থেকে কেবল একজন ভুলক্রমে একজন আনসার সাহাবির তীরে শহিদ হয়। এই যুদ্ধে বন্দীদের মধ্যে গোত্রের প্রধান হারিসের কন্য জুয়াইরিয়াও ছিলেন।[৭]
নবির সাথে বিবাহ
[সম্পাদনা]হালকা ক্ষয়ক্ষতি হলেও শেষ পর্যন্ত মুসলিম বাহিনী বিজয়ী হয়। যুদ্ধের জুয়াইরিয়ার স্বামী মুস্তফা বিন সফওয়ান নিহত হন। জুয়াইরিয়া প্রথমে নবি মুহাম্মদের সাহাবি সাবিত ইবনে কায়স ইবনুল-শাম্মাসের ভাগে পড়েছিলেন। এই অবস্থায় জুয়াইরিয়া মুক্তির জন্য নবির কাছে আবেদন করেন। নবি মুহাম্মদ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এর ফলে তিনি সাবিত ইবনে কায়সের বন্ধন থেকে মুক্ত হন। নবির সাথে বিবাহের পর বনু মুসতালিক গোত্রের অনেক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়।[৮]
এ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা এভাবে দেওয়া হয়েছে:
“প্রথম সুযোগে (যখন তাকে বন্দী করা হয়) তিনি নবি মুহাম্মদের কাছে গিয়ে নিজের কাহিনী শোনান। তিনি তাকে বলেন যে, তিনি একজন গোত্র প্রধানের কন্যা ছিলেন। পূর্বে তিনি কমান্ড করার ক্ষমতা রাখতেন; কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির কারণে নিজেকে এতটা অসহায় অবস্থানে এসেছেন। তিনি যেন সোনার সিংহাসন থেকে ধূলোর মধ্যে পড়ে গেছেন।… কিভাবে তিনি একজন দাসী হিসেবে জীবনযাপন করবেন? তিনি নবির কাছে অনুরোধ করলেন, যেন তিনি তার দুঃখজনক ও হতাশাজনক অবস্থার দিকে মনোযোগ দেন। নবি তার দুঃখভরা আবেদনে স্পর্শিত হলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, যদি তিনি তার মুক্তির জন্য মুক্তিপণ পরিশোধ করেন, তাহলে তিনি কি একজন স্বাধীন নারী হিসেবে তার পরিবারে থাকতে চাইবেন। এমন প্রস্তাবের কথা তিনি স্বপ্নেও কল্পনা করেনি। হঠাৎ এমন প্রস্তাব শুনে তিনি গভীরভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে যান এবং উত্তেজিতভাবে বলেন যে, তিনি অত্যন্ত খুশি মনে এটি গ্রহণ করবেন।[৯] এর কিছুদিন পর তার পিতা ও তার গোত্রের যে সকল পুরুষ মুক্তি পেয়েছিল, তারা সবাই ইসলাম গ্রহণ করেন।
এরপর তিনি নবি মুহাম্মাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তখন নবি ৫৭ বছর বয়সী ছিলেন এবং তিনি ছিলেন ১৯ বছর বয়সী। [১০] এই বিবাহ ৬২৭-৬২৮ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত হয়।[১১] তিনি নবির সঙ্গে চার বছর সংসার করেন এবং তাঁর মৃত্যুর ৪৪ বছর পরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যু ও সমাধি
[সম্পাদনা]তিনি ৫০ হিজরি সালে ৬৫ বছর বয়সে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। নবি মুহাম্মদের অন্যান্য স্ত্রীর সঙ্গে তাঁকেও জন্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।[১২]
গুণাবলি
[সম্পাদনা]জুয়াইরিয়াকে অত্যন্ত সুন্দরী এবং নাজুক স্বভাবের হিসেবে নারী বর্ণনা করা হয়েছে:
- তিনি বিলাসিতার কোলে বড় হন এবং রাজকুমারীর মত সব রকমের সৌন্দর্য ও শিষ্টাচার অর্জন করেন। তিনি বুদ্ধিমতী ও প্রজ্ঞাময় ছিলেন এবং ভাষা ও সাহিত্যিক রীতি-নীতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন।[১১]
- কেউ তাঁকে প্রথমবার দেখলে তার অসাধারণ সৌন্দর্য দেখে বিস্মিত হয়ে যেত।[১৩]
- নবির অপর স্ত্রী আয়েশা যখন প্রথমবার তাকে দেখেন, তিনি বিস্মিত হয়ে বলেন যে, জুয়ায়রিয়া "পরী-সদৃশ সুন্দরী নারী"।[১৪]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ لبابة الطاهر حسين، محاضرات في الحديث التحليلي، ص46 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৫ মে ২০২০ তারিখে
- ↑ Alfred Guillaume, The Life of Muhammad: A Translation of Ibn Ishaq's Sirat Rasul Allah। পৃ. ৪৯০–৪৯৩।
- ↑ "The Battle of Banu Al-Mustaliq – I"। Islamweb। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০১৬।
- ↑ "Sunan Abi Dawud 2633 – Jihad (Kitab Al-Jihad) – كتاب الجهاد – Sunnah.com – Sayings and Teachings of Prophet Muhammad (صلى الله عليه و سلم)"। sunnah.com। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২১।
- ↑ Watt, W. Montgomery (১৯৫৬)। Muhammad at Medina। Oxford University Press। পৃ. ৩৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৭৭৩০৭-১।
{{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য) (free online) - ↑ Al Tabari (১৯৯৭), Volume 8, Victory of Islam, Michael Fishbein কর্তৃক অনূদিত, State University of New York Press, পৃ. ৫৬, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৯১৪-৩১৫০-৪
- ↑ Ahmed Ali Abdel-Qader Muhammad al-Maqrizi, Taqi al-Din। "Battle with Banu Mustaliq"। With prophet। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০২০।
- ↑ "Sunan Abi Dawud 3931 – The Book of Manumission of Slaves – كتاب العتق – Sunnah.com – Sayings and Teachings of Prophet Muhammad (صلى الله عليه و سلم)"। sunnah.com।
- ↑ Mahmood Ahmad Ghadanfar, Great Woman of Islam, p.108-109.
- ↑ Juwayriyya bint al-Harith
- 1 2 Juwayriyya bint al-Harith - The Oxford Dictionary of Islam
- ↑ Ghadanfar, p.110
- ↑ Ghadanfar, p.108.
- ↑ Ghadanfar, p. 109.