বিষয়বস্তুতে চলুন

জিনাত-উন-নিসা বেগম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জিনাত-উন-নিসা বেগম
মুঘল সাম্রাজ্যের শাহজাদি
জিনাত এবং তাঁর বোনেরা
পাদশাহ বেগম
রাজত্ব১৬৮১ – ৭ মে ১৭২১
পূর্বসূরিজাহানারা বেগম
উত্তরসূরিবাদশা বেগম
জন্ম(১৬৪৩-১০-০৫)৫ অক্টোবর ১৬৪৩
ঔরঙ্গাবাদ, মুঘল সাম্রাজ্য, বর্তমানে ছত্রপতি সম্ভাজিনগর
মৃত্যু৭ মে ১৭২১(1721-05-07) (বয়স ৭৭)
দিল্লি, মুঘল সাম্রাজ্য
সমাধি
রাজবংশতৈমুরি
পিতাআওরঙ্গজেব
মাতাদিলরাস বানু বেগম
ধর্মসুন্নি ইসলাম

জিনাত-উন-নিসা (৫ অক্টোবর ১৬৪৩ – ৭ মে ১৭২১) ছিলেন জন্মসূত্রে একজন মুঘল রাজকন্যা এবং সম্রাট আওরঙ্গজেব এবং তার প্রধান সম্রাজ্ঞী সঙ্গী দিলরাস বানু বেগমের দ্বিতীয় কন্যা। তার পিতা সম্রাট আওরঙ্গজেব তাকে 'পাদশাহ বেগম' এর সম্মানিত শিরোনাম প্রদান করেছিলেন।[] রাজকুমারী জিনাত-উন-নিসা তার ধর্মানুরাগ এবং ব্যাপক দাতব্যের জন্য ঐতিহাসিকদের নিকট পরিচিত।[]:১৪,৩১৮

জীবনী

[সম্পাদনা]

জিনাত-উন-নিসার ("মহিলাদের মধ্যে মণী") জন্ম ৫ অক্টোবর ১৬৪৩ সালে আওরঙ্গবাদে, সম্রাট আওরঙ্গজেব এবং তার প্রধান সম্রাজ্ঞী সঙ্গী দিলরাস বানু বেগমের ঘরে। তার মা পারস্যের বিশিষ্ট সাফাভি রাজবংশ রাজকন্যা ছিলেন এবং গুজরাটের ভাইসরয় মির্জা বদি-উজ-জামান সাফাভির কন্যা ছিলেন।[] তার পিতামহ ছিলেন পঞ্চম মুঘল সম্রাট শাহজাহান, যার যার শাসনামলে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জিনাত তার বড় বোন, রাজকন্যা জিব-উন-নিসা ও তার ছোট বোন রাজকন্যা জুবদাত-উন-নিসা এর মতো ইসলামের মতবাদগুলোতে গভীরভাবে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।[] তিনি ব্যক্তিগত শিক্ষক এবং পণ্ডিতদের দ্বারা শিক্ষিত হয়েছিলেন, এবং বিবাহ করতে অস্বীকার করেন, তার সমগ্র জীবন একা থাকার সিদ্ধান্ত নেন। জিনাত তার কনিষ্ঠ সৎ ভাই মুহাম্মাদ কাম বখশের সপক্ষে ছিলেন, যার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার তার বাবার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়েছিলেন। যদিও তার আপন ভাই আজম শাহ, মুহাম্মাদ কাম বখশকে গভীরভাবে অপছন্দ করতেন।[] উপপত্নী উদয়িপুরি মহালের পাশাপাশি জিনাত তার পিতার শাসনের পরবর্তী অংশে তার পিতার একমাত্র সঙ্গী ছিলেন। তিনি ১৭০৭ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত এক শতাব্দীর এক চতুর্থাংশ সময় ধরে দাক্ষিণাত্যে তার পিতার পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। তিনি অনেক বছর বেঁচে ছিলেন, একটি মহান যুগের জীবন্ত স্মারক হিসেবে তার উত্তরাধিকারীদের সম্মান ভোগ করেছিলেন।[]:২৮২

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

দিল্লির নদীর তীরে লালকেল্লা-র প্রাচীরের দেওয়াল জুড়ে নিজ খরচে তিনি জিনাত-উল-মসজিদ নির্মাণ করেন, যেখানে তাকে দাফন করা হয়েছিল।[]

বংশপরিচয়

[সম্পাদনা]
১৬. জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর, মুঘল সম্রাট
৮. মুঘল সম্রাট নূরউদ্দিন মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
১৭. মরিয়ম-উজ-জামানি
৪. শাহাবউদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান প্রথম, মুঘল সম্রাট
১৮. উদয় সিংহ, মারওয়ারের রাজা
৯. জগত গোসাঁই
১৯. গোয়ালিয়রের মনরং দেবী
২. মুহিউদ্দিন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব, মুঘল সম্রাট
২০. ইতিমাদ-উদ-দৌলা (= ২৮)
১০. আবুল হাসান আসফ খান
২১. আসমত বেগম (= ২৯)
৫. মুমতাজ মহল
২২. গিয়াসউদ্দিন আলী আসফ খান
১১. দেওয়ানজি বেগম
১. জিনাত-উন-নিসা বেগম
২৪. সুলতান হুসাইন সাফাভি
১২. মির্জা রুস্তম সাফাভি
৬. মির্জা বাদিউজ্জামান সাফাভি
৩. দিলরাস বানু বেগম
২৮. ইতিমাদ-উদ-দৌলা (= ২০)
১৪. মির্জা মুহাম্মদ শরীফ
২৯. আসমত বেগম (= ২১)
৭. নওরাস বানু বেগম

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Sir Jadunath Sarkar (১৯৭৩)। Volumes 1-2 of History of Aurangzib: Mainly Based on Original Sources। Orient Longman। পৃ. ৩৮।
  2. 1 2 Sir Jadunath Sarkar (১৯৭৯)। A short history of Aurangzib, 1618-1707
  3. Annie Krieger-Krynicki (২০০৫)। Captive princess: Zebunissa, daughter of Emperor AurangzebOxford University Press। পৃ. ১।
  4. Schimmel, Annemarie (১৯৮০)। Islam in the Indian Subcontinent, Volume 2, Issue 4, Part 3। Leiden: Brill। আইএসবিএন ৯৭৮৯০০৪০৬১১৭০
  5. Richards, J.F. (১৯৯৫)। Mughal empire (Transferred to digital print. সংস্করণ)। Cambridge, Eng.: Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮০৫২১৫৬৬০৩২
  6. Annemarie Schimmel, Burzine K. Waghmar (২০০৪)। The Empire of the Great Mughals: History, Art and Culture। Reaktion Books। পৃ. ১৫৪