জিগমে দর্জি ওয়াংচুক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
জিগমে দর্জি ওয়াংচুক
Jigme Dorji Wangchuck Name.svg
তৃতীয় ড্রুক গ্যালাপ
চিত্র:Jigme Dorji Wangchuck.jpg
রাজত্বকাল 30 March 1952 – ২১ জুলাই ১৯৭২
রাজ্যাভিষেক 27 October 1952 [১]
জন্ম (১৯২৯-০৫-০২)২ মে ১৯২৯
জন্মস্থান Thruepang Palace, Trongsa
মৃত্যু ১৫ জুলাই ১৯৭২(১৯৭২-০৭-১৫) (৪৩ বছর)
মৃত্যুস্থান নাইরোবি, কেনিয়া
সমাধিস্থল কুর্জেয় লাহখাং
পূর্বসূরি জিগমে ওয়াংচুক
উত্তরসূরি জিগমে সিংয়ে ওয়াংচুক
দাম্পত্যসঙ্গী Ashi Kesang Choden
সন্তানাদি Sonam Choden ওয়াংচুক
Dechen Wangmo ওয়াংচুক
জিগমে সিংয়ে ওয়াংচুক
Pema Lhaden ওয়াংচুক
Kesang Wangmo ওয়াংচুক
পিতা জিগমে ওয়াংচুক
মাতা Phuntsho Choden
ধর্মবিশ্বাস বৌদ্ধধর্ম

জিগমে দর্জি ওয়াংচুক (Wylie: 'jigs med rdo rje dbang phyug; ২ মে ১৯২৯ - ১৫ জুলাই ১৯৭২) ভূটানের তৃতীয় ড্রূক গ্যালাপ (রাজা) ছিলেন।

তিনি বহির্বিশ্বের সঙ্গে ভূটানের যোগাযোগ স্থাপন করেন, আধুনিকীকরণ শুরু করেন, এবং গণতন্ত্রায়নের দিকে প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

শিক্ষা এবং রাজকীয় বিবাহ[সম্পাদনা]

মহামান্য রাজা জিগমে দর্জি ওয়াংচুক টংসার থ্রুএপমান প্যালেসে ১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।[২] তরুণ বয়সে, তিনি তার পিতার রাজকীয় আদালতে শিষ্টাচার ও নেতৃত্ব দিতে শেখেন। মহামান্য সম্রাট আশি কেসাং চোদেন ওয়াংচুককে (জন্ম ১৯৩০), ১৯৫১ সালে বিয়ে করেন। ১৯৫২ সালে তার পিতা মারা যাওয়ায়, তিনি ভূটানের সম্রাট হন। তার রাজ্যাভিষেক ২৭ অক্টোবর ১৯৫২ সালে পুনাখা ডিজংএ অনুষ্ঠিত হয়।[৩]

আধুনিক ভুটানের পিতা[সম্পাদনা]

তার ২০ বছরের রাজত্বকালে ভুটানের সমাজের মৌলিক পুনরভিযোজন শুরু হয়। জিগমে দর্জি ওয়াংচুক সমাজ ও সরকার পুনর্গঠন অর্জন করেছিলেন।[৪] তিনি এক প্রশংসনীয় উপায় ভূটান সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুসংহত করেন। তাঁর রাজত্বকালে ভারত ভূটানের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার প্রধান উৎস হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার[সম্পাদনা]

জিগমে দর্জি ওয়াংচুক সহজাতভাবেই মুক্তি ও সমতার আগ্রহী ছিলেন।[৫] তিনি ১৯৫৩ সালে পুনাখা ডিজংএ ভুটানের জাতীয় পরিষদের প্রতিষ্ঠা করেন।[৪] তিনি বিচার বিভাগ খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেনন। তিনি প্রথমে জেলা আদালতের জন্য বিচারকদের নিযুক্ত করেন এবং পরে হাইকোর্ট, যা ১৯৬৮ সালে স্থাপন করা হয় তার জন্য বিচারকদের নিযুক্ত করেন। তিনি নতুন আইন চালু করেন। তিনি ১৯৬৮ সালে নতুন মন্ত্রকের প্রতিষ্ঠা করেন।[৬]

সংস্কৃতি ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

জিগমে দর্জি ওয়াংচুক ভুটানের সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য গুরুত্ব দেন, যাতে করে ভুটান সবসময় একটি সাংস্কৃতিকভাবে স্বতন্ত্র জাতি হিসাবে নিজেকে চিহ্নিত করতে পারে। তিনি রাজ্যের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।[৪]

অবকাঠামো উন্নয়ন[সম্পাদনা]

ভুটানের পরিবহন, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং কৃষি অবকাঠামো আধুনিকীকরণ শুরু হয়, ভারত সাহায্যের প্রস্তাব করার পর থেকে।[৭]

বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক[সম্পাদনা]

মহামান্য সম্রাটের প্রথম এবং প্রধানতম অগ্রাধিকার ছিল ভারতের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক অব্যাহত রাখার জন্য। দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ছিল অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক করতে ছেয়েছিলেন।[৪] ভারতের পর ভুটান প্রথম বাংলাদেশকে স্বাধীনতা স্বীকৃতিদানকারী দিয়েছিল। তিনি ১৯৭১ সালে জাতিসংঘের যোগদানের জন্য ভুটানকে সক্রিয় করেন। ভুটান জাতিসংঘের ১২৫ তম সদস্য হয়।[৮]

শৈলী[সম্পাদনা]

  • 1929–1944: Dasho Jigme Dorji Wangchuck
  • 1944–1946: Trongsa Dronyar Dasho Jigme Dorji Wangchuck
  • 1946–1952: Paro Penlop Dasho Jigme Dorji Wangchuck
  • 1952–1963: His Highness Sri Panch Maharaj Jigme Dorji Wangchuk, Maharaja of Bhutan
  • 1963–1972: His Majesty Druk Gyalpo Jigme Dorji Wangchuk, Mang-pos Bhur-ba'i rgyalpo, King of Bhutan[৯]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

জিগমে দর্জি ওয়াংচুক ১৯৭২ সালের ১৫ জুলাই মাত্র ৪৩ বছর বয়সে কেনিয়ার নাইরোবিতে মারা যান।

সম্মানিত পদ[সম্পাদনা]

দেশী সম্মানিত পদ[সম্পাদনা]

  •  ভূটান
    • BHT Royal Order of Bhutan Ribbon.svg Grand Master of the Royal Order of Bhutan (Druk Thuksey = Son of the Heart of the Thunder Dragon, 1966).[১]

বিদেশী সম্মানিত পদ[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

  • Jigme Dorji National Park

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Royal Ark
  2. Tshewang, Lopen Pema (১৯৯৪)। ’Brug gi rgyal rabs: ’Brug gsal ba’i sgron me। Thimphu: National Library। 
  3. Michael, Aris (২০০৫)। The Raven Crown: The Origins of Buddhist Monarchy in Bhutan (2 সংস্করণ)। Chicago: Serindia Publications। আইএসবিএন 978-1932476217 
  4. dpal ‘brug zhib ‘jug lte ba (২০০৮)। ‘brug brgyd ‘zin gyi rgyel mchog gsum pa mi dwang ‘jigs med rdo rjé dwang phyug gi rtogs brjod bzhugs so (The Biography of the Third King of Bhutan)। Thimphu: The Centre for Bhutan Studies। আইএসবিএন 978-99936-14-49-4 
  5. Ura, Karma (১৯৯৫)। The Hero with a Thousand Eyes, A Historical Novel। Thimphu: Karma Ura। আইএসবিএন 978-8175250017 
  6. Resolutions Adopted During the 28th Session of the National Assembly of Bhutan, National Assembly of Bhutan (1968), Thimphu
  7. Gross National Happiness Commission। "1st Five Year Plan (1961-1966)" (PDF)। সংগৃহীত ২০১৫-০৬-১২ 
  8. Ministry of Foreign Affairs’ Website, Thimphu, Bhutan
  9. "BHUTAN. The Wangchuk Dynasty – GENEALOGY"The Royal Ark online। ২০০৯-০৩-১২। সংগৃহীত ২০১১-০২-২১ 
  10. Times Content

বাইরের তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • Rinchen, Gedun (১৯৭২)। Chos ’byung blo gsar rna ba’i rgyan। Thimphu: Tango Drubde। 
  • Lopen Nado (১৯৮৬)। ’Brug dkar po। Bumthang: Tharpaling Monastery। 
  • Dasho Lama Sa-ngag (২০০৫)। sMyos rabs yang gsal me long। Thimphu: KMT Publishers। 
  • Dasho Tenzin Dorji (১৯৮৮)। ’Brug shar phyogs kyi rje dpon byung rabs blo gsar byis pa dga’ ba’i rna rgyan। n.p.। 
  • Dasho Phuntsho Wangdi (২০০৭)। rGyal rabs sngon med bstan bcos zla ba। Thimphu: National Library of Bhutan। 
  • Rustomji, Nari (১৯৭৮)। Bhutan: The Dragon Kingdom in Crisis। Delhi: Oxford University Press। 
  • Yonten Thayge; Kuenga Gyatsho (২০০৩)। The Necklace of Pearls: Biography of the 13th Druk Desi Sherab Wangchuk (1697-1765)। Thimphu: Centre for Bhutan Studies। 
  • Mehra, G.N. (১৯৭৪)। Bhutan: Land of the Peaceful Dragon। New Delhi: Vikas Publishing House Pvt. Ltd.। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

জিগমে দর্জি ওয়াংচুক
জন্ম: 2 May 1928 মৃত্যু: 21 July 1972
শাসনতান্ত্রিক খেতাব
পূর্বসূরী
জিগমে ওয়াংচুক
King of Bhutan
1952–1972
উত্তরসূরী
জিগমে সিংয়ে ওয়াংচুক