বিষয়বস্তুতে চলুন

জিক্রিজম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জিক্রিজম
মোট জনসংখ্যা
৫০০,০০০ - ৮০০,০০০
প্রতিষ্ঠাতা
অজানা (সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠাতা মুল্লা আত্টোকি বা মুল্লা মুহাম্মদ)
উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যার অঞ্চল
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান, সিন্ধু, করাচি, ওমান
ধর্মগ্রন্থ
কুরআন
ভাষা
বেলুচি, পশতু, উর্দু, ফারসি

জিক্রিজম (ইংরেজি: Zikrism), যা জিকরিয়া নামেও পরিচিত, একটি মাহদিস্ট শিয়া মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যা মূলত পাকিস্তানের বেলুচিস্তান অঞ্চলে বিদ্যমান। শব্দ "জিকরি" আরবি শব্দ জিকর (ধর্মীয় স্মরণ) থেকে এসেছে।

বিশ্বাস ও উৎপত্তি

[সম্পাদনা]

জিক্রিজম ১৬শ শতকে পাকিস্তানের মাকরান অঞ্চলে উদ্ভূত হয়। জিকরি সম্প্রদায় বিশ্বাস করে যে মাহদি (অর্থাৎ শেষ সময়ের নেতা যিনি পৃথিবীকে ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনবেন) ইতিমধ্যে এসেছেন। তারা "নূর পাক" নামে একজন মাহদির অনুসারী, যিনি তাদের মতে আদমের আগেও পৃথিবীতে উপস্থিত ছিলেন এবং শেষ সময়ে ফিরে আসবেন।

কিছু গবেষকরা মনে করেন, জিক্রিজমের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সৈয়দ মুহাম্মদ জাউনপুরি; যদিও জিকরি সম্প্রদায় এটি অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে তাদের মাহদি সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। কিছু ঐতিহাসিকের মতে, আফগান ধর্মগুরু মুল্লা মুহাম্মদ জিকরি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, যা মুঘল শাসকদের দ্বারা নিপীড়নের শিকার হয়।

উপাসনা ও ধর্মীয় চর্চা

[সম্পাদনা]

জিকরি মুসলমানরা প্রতিদিন পাঁচবার নামাজের পরিবর্তে "জিকর" (স্মরণ) পালন করে। - তাদের উপাসনালয়কে "জিকরখানা" বা "জিগরানা" বলা হয়। - জিকরি উপাসনার সময় মুসল্লিরা বর্গাকারে অবস্থান নেয় এবং নেতা কেন্দ্রস্থলে থাকেন। - তাদের প্রার্থনাগুলো কুরআনের আয়াত, ফারসি ও বেলুচি ভাষার ধ্বনি ও ইসলামী জিকরের পুনরাবৃত্তি দ্বারা গঠিত। - বিশেষ উৎসব ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে "চাউগান" নামে সমবেত প্রার্থনা এবং সংগীত পরিবেশিত হয়। - মহরম, লাইলাতুল কদর, এবং ঈদ-উল-আজহা দিনেও বিশেষ জিকর অনুষ্ঠিত হয়।

পবিত্র স্থান ও তীর্থযাত্রা

[সম্পাদনা]

জিকরি সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র স্থান হল **কোহ-ই-মুরাদ** ("ইচ্ছার পর্বত"), যেখানে ২৭ রমজানে মাহদির স্মরণে তারা তীর্থযাত্রা (জিয়ারত) করে।

নিপীড়ন ও ইতিহাস

[সম্পাদনা]

জিকরি সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়নের শিকার হয়েছে। - ১৮শ শতকে খানের শাসনামলে হাজার হাজার জিকরি নিহত হন এবং জোরপূর্বক সুন্নি ইসলাম গ্রহণ করানো হয়। - ১৯৩০-এর দশকে ইরানীয় মাকরানে চরমপন্থীরা জিকরিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালায়। - ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা জিকরি ধর্মীয় স্থাপনার ধ্বংস ও হত্যা অভিযান চলে। - ২০১৪ সালে পাকিস্তানের আয়ারান জেলায় এক মাজারে হামলায় ৬ জন জিকরি নিহত হন। - ২০১৭ সালে বোমা হামলায় দুইজন জিকরি তীর্থযাত্রী নিহত হন।

বর্তমান জনসংখ্যা ও বিস্তার

[সম্পাদনা]

জিকরিরা মূলত পাকিস্তানের বেলুচিস্তান অঞ্চলে বসবাস করে, বিশেষত মাকরান উপকূল, গওয়াদর, লাসবেলা এবং কোয়েটা অঞ্চলে। - পাকিস্তানের সিন্ধু ও করাচিতে বড় জিকরি সম্প্রদায় রয়েছে। - কিছু জিকরি সম্প্রদায় ওমানে বসবাস করছে। - বর্তমান জনসংখ্যা অনুমান করা হয় ৫০০,০০০ থেকে ৮০০,০০০ এর মধ্যে।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

- ইসলামের বিভিন্ন সম্প্রদায় - শিয়া ইসলাম - মাহদিবাদ

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]

- "Zikrism"Wikipedia। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০২৫ - Rizwan Mawani (২০১৯)। Beyond the Mosque: Diverse Spaces of Muslim Worship। IB Tauris। আইএসবিএন ৯৭৮-১৭৮৮৩১৫২৭২ - Akbar S. Ahmed (২০১৩)। Islam in Tribal Societies। Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-১-১৩৪-৫৬৫২৭-৬