জিকরুল হক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ডাঃ জিকরুল হক
জিকরুল হক.jpg
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মশেখ জিকরুল হক
(১৯১৪-০৯-০১)১ সেপ্টেম্বর ১৯১৪
সৈয়দপুর, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি (বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু১২ এপ্রিল ১৯৭১(1971-04-12) (বয়স ৫৬)
রংপুর সেনানিবাস, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)
পেশাচিকিৎসা

শহীদ ডাঃ জিকরুল হক ছিলেন একজন বাঙালি পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ ও চিকিৎসক, যিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হন। ২০০১ সালে তিনি মরনোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পান। এছাড়া তিনি পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন।

জন্ম ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

জিকরুল হক ১৯১৪ সালের ১লা সেপ্টেম্বর নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ডাঃ মোঃ শেখ জেয়ারতউল্লাহ আহম্মদ এবং মাতা খমিউননেসা চৌধুরাণী। তিনি ১৯৩৩ সালে সৈয়দপুর ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক ও ১৯৩৯ সালে কলকাতা ক্যাম্বেল মেডিকেল স্কুল থেকে এল.এম.এফ পাস করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

জিকরুল হক সৈয়দপুরের দারওয়ারি হাসপাতালের হাজারীহাট দাতব্য চিকিৎসালয়ে অবৈতনিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ডাঙ্গারহাট শাহ আব্দুল গফুর চ্যারিট্যাবল ডিসপেনসারীতেও অবৈতনিক মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

কলকাতা ক্যাম্বেল মেডিকেল স্কুলে অধ্যয়নকালে তিনি একে ফজলুল হক এবং হোসেন সোহরাওয়ার্দীর সাহচর্যে আসেন এবং ভারত ভাগের পর তাদের অনুপ্রেরণায় রাজনীতিতে অংশ নেন। তিনি ১৯৩০ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন। জিকরুল হক থানা মুসলিম লীগের সেক্রেটারি ও পরে সভাপতি এবং জেলা মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ১৯৫৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি যুক্তফ্রন্ট মনোনীত মোহাজের প্রার্থীকে পরাজিত করে আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।[১] তিনি ষাটের দশকে স্বাধিকার আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনে সৈয়দপুরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ সৈয়দপুরে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় বাঙালি ও বিহারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে অনেকেই হকের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেই রেশ ধরে ২৫ মার্চ রাতে অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে তাকেওও গ্রেফতার করে রংপুর সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত অমানুষিক নির্যাতনের পর সেনানিবাসের পাশে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।[১]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

সৈয়দপুরে তার সম্মানে একটি সড়কের নাম শহীদ ডাঃ জিকরুল হক সড়ক করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে ডাক বিভাগ তার নামে স্বারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। ২০০১ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মরনোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. রাশেদুর রহমান। "উদয়ের পথে শুনি কার বাণী—৫২: ডা. জিকরুল হক"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৭ নভেম্বর ২০২০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]