জিওফ কোপ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জিওফ কোপ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজিওফ্রে অ্যালেন কোপ
জন্ম (1947-02-23) ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৭ (বয়স ৭৪)
বারম্যানটফটস, লিডস, ইয়র্কশায়ার, ইংল্যান্ড
ডাকনামটজ
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ স্পিন
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪৭৫)
১৪ ডিসেম্বর ১৯৭৭ বনাম পাকিস্তান
শেষ টেস্ট১৮ জানুয়ারি ১৯৭৮ বনাম পাকিস্তান
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৪৫)
৩০ ডিসেম্বর ১৯৭৭ বনাম পাকিস্তান
শেষ ওডিআই১৩ জানুয়ারি ১৯৭৮ বনাম পাকিস্তান
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
ইয়র্কশায়ার১৯৬৬ - ১৯৮০
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা
রানের সংখ্যা ৪০
ব্যাটিং গড় ১৩.৩৩
১০০/৫০ -/- -/-
সর্বোচ্চ রান ২২ ১*
বল করেছে ৮৬৪ ১১২
উইকেট
বোলিং গড় ৩৪.৬২ ১৭.৫০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ৩/১০২ ১/১৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- -/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

জিওফ্রে অ্যালেন কোপ (ইংরেজি: Geoff Cope; জন্ম: ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৭) ইয়র্কশায়ারের বারম্যানটফটস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৮ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ার ও লিঙ্কনশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি অফ স্পিন বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন ‘টজ’ ডাকনামে পরিচিত জিওফ কোপ

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

ইয়র্কশায়ারের লিডস এলাকার বারম্যানটফটসে জিওফ কোপের জন্ম।[১] ফরাসী পোলিশভাষীর পুত্র তিনি। লিডসের ক্রসগেটসে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। লিডসের টেম্পল মুর স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন তিনি। ম্যানসটন জুনিয়র স্কুলের পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। অনূর্ধ্ব-১১ কাপের চূড়ান্ত খেলায় স্বীয় প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটান। ২৬ রানের বিনিময়ে সবকটি উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। এরপর ব্যাট হাতে নিয়ে জয়সূচক রান করেন। কিশোর বয়স থেকে ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নিতে থাকেন। লিডস জিঙ্গারি’র পক্ষে খেলার পর ইয়র্কশায়ার লীগে লিডস ক্রিকেট ক্লাবে খেলেন। ঐ ক্লাবের পক্ষে ২৫ বছর খেলেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিদ্যালয় দলে খেলেছেন। এরপর ১৯৬৪ সালে ইয়র্কশায়ার দ্বিতীয় একাদশের সাথে যুক্ত হন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত জিওফ কোপের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল।[২] দীর্ঘকালীন খেলোয়াড়ী জীবনে তিনি তার বোলিং ভঙ্গীমা নিয়ে বেশ কঠিন সময় অতিবাহিত করেছিলেন। তবে, বেশ সাহস ও দৃঢ়প্রত্যয়ীভাব বজায় রেখে দুইবার বোলিং ভঙ্গীমা পরিবর্তনে সচেষ্ট হয়েছিলেন। ১৯৭২ ও ১৯৭৮ সালে দুইবার কর্তৃপক্ষীয় নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। পরবর্তীতে শীর্ষস্তরের ক্রিকেটে ফিরে এসেছিলেন।

ব্রাডফোর্ড পার্ক এভিনিউতে অনুষ্ঠিত খেলায় হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে প্রথম একাদশে দলের সদস্যরূপে অভিষেক ঘটে তার। টেস্টে অংশগ্রহণকারী রে ইলিংওয়ার্থের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। ১৯৬৭ সালে ১৩.৮২ গড়ে ৪০ উইকেট লাভ করা সত্ত্বেও ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত প্রথম একাদশে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ লাভ করতে পারেননি তিনি। এ পর্যায়ে লিচেস্টারশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে রে ইলিংওয়ার্থের চলে যাবার পরই কেবল তিনি এ সুযোগ লাভ করেন।

১৯৭০ সালে ইয়র্কশায়ারের ক্যাপ লাভ করেন। ১৯৭২ ও ১৯৭৮ সালে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে দুইবার অফ ব্রেক বোলিং ভঙ্গীমা পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, ঐ সময়টুকু আমার মন্দভাবে কেটেছে ও আত্মরক্ষার্থে কিছুই করতে পারিনি। কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত নিজেদের অনুকূলে নিয়ে নেয়। ঐ কর্তৃপক্ষে কারা ছিল ও কি চিন্তাভাবনা করেছিল তা জানা ছিল না। কিন্তু, ডিকি বার্ডের অভিমত, তার বোলিং ভঙ্গীমায় অবৈধ কোন কিছু ছিল না।[৩]

ক্রিকেট লেখক কলিন বেটম্যান মন্তব্য করেন যে, লর্ডস কর্তৃপক্ষ দুইবার সন্দেহজনকভাবে অবৈধ বোলিং ভঙ্গীমা ছিল।[১] ইয়র্কশায়ারীয় স্পিনার জনি ওয়ারডলের সাথে তার বোলিং ভঙ্গীমা নিয়ে কাজ করেন।[১]

২৪৬টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে তিনি ৬৮৬টি উইকেট লাভ করেছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯৭৫ সালে ব্রিস্টলে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৮/৭৩ দাঁড় করান। ২৪.৭০ গড়ে উইকেট লাভ তার সময়কালের একই মানের বোলারদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। ১৯৭৬ সালে ২৪.১৩ গড়ে ৯৩ উইকেট পান তিনি যা তার মৌসুমের সর্বোচ্চ। ১৯৬৭ সালে মাত্র ১৩.৮২ গড়ে ৪০ উইকেট পেয়েছিলেন।

বেশ কয়েকটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন জিওফ কোপ। তবে, কোন স্তরের ক্রিকেটেই এগুলোকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করতে পারেননি তিনি। প্রায়শই তাকে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামানো হতো। এছাড়াও, জরুরী প্রয়োজনে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন তিনি। ১৯৭৭ সালে মিডলব্রো’র অ্যাকলাম পার্কে এসেক্সের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৭৮ রান তুলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্ট ও দুইটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন জিওফ কোপ। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে লাহোরে স্বাগতিক পাকিস্তান দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৮ জানুয়ারি, ১৯৭৮ তারিখে করাচীতে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। অংশগ্রহণকৃত সবগুলো টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকই তিনি পাকিস্তান সফরে খেলেছিলেন।

১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালে দুইটি চমৎকার মৌসুম অতিবাহিত করার পর মে, ১৯৭৬ সালে ব্রিস্টলে ইংল্যান্ডের টেস্ট প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে আমন্ত্রণ পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ডেরেক আন্ডারউড ৪/১০ পান ও তিনি পান ৫/২৭। ফলশ্রুতিতে ইংল্যান্ড বাদ-বাকী একাদশে ৪৮ রানে গুটিয়ে যায়। ঐ গ্রীষ্মে কোপকে টেস্ট খেলার জন্যে দলে অন্তর্ভূক্তি করা হয়নি। ফলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজে নাকানিচুবানি খেতে হয়নি তাকে। তবে, প্রথমবারের মতো বড় ধরনের সফর হিসেবে ভারত ও সিলন গমনের সুযোগ পান। এছাড়াও, ঐ মৌসুমের শীতকালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত শতবার্ষিকী টেস্টে অংশগ্রহণের জন্যে মনোনীত হন। তন্মধ্যে ভারতে সফরের শুরুতে বেশ ভালো খেললেও টেস্টে খেলাগুলোয় অংশ নেয়ার সুযোগ ঘটেনি তার। টনি গ্রেগ সিম বোলারদেরকে প্রাধান্য দিয়ে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করেন।

ইংল্যান্ডের পক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় সফরে কেন ব্যারিংটন ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন। এ সফরে তিনি মন্তব্য করেন যে, ডেরেক আন্ডারউডের চেয়েও তিনি অধিক নিখুঁততার স্বাক্ষর রাখেন। বল হাতে বড় মাপের স্পিনার না হলেও ব্যাটসম্যানদের উপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগে রান সংগ্রহ করা থেকে বিরত রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে দূর্বল বোলিং আক্রমণ নিয়ে পরিচালিত হওয়া ইয়র্কশায়ার দলে প্রায়শই দীর্ঘকাল ধরে রক্ষণাত্মক বোলিং করতে পরামর্শ দেয়া হতো যা তার স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের বিপরীত চিত্র ছিল।

পাকিস্তান গমন[সম্পাদনা]

১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে পাকিস্তান গমন করেন। তিন টেস্টে নিয়ে গড়া এ সফরের প্রত্যেক টেস্টেই তার অংশগ্রহণ ছিল। লাহোর, হায়দ্রাবাদ ও করাচীতে তিন টেস্ট খেলার পর শিয়ালকোট ও লাহোরে দুইটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নেন। তন্মধ্যে, শাহিওয়ালে প্রথম ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন তিনি।

অভিষেক টেস্টে তিনি হ্যাট্রিকের দোরগোড়ায় উপনীত হয়েছিলেন তিনি। আবদুল কাদিরকে এলবিডব্লিউতে বিদেয় করার পর সরফরাজ নওয়াজকে প্রথম বলে বোল্ড করেন। পরবর্তী ব্যাটসম্যান ইকবাল কাশিমকে স্লিপ অঞ্চলে তার বলে মাইক ব্রিয়ারলি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। আম্পায়ার প্রথমে আউট দিলেও ব্রিয়ারলি ক্যাচের বিষয়টি নিশ্চিত না করায় তাকে ক্রিজে ফিরিয়ে আনা হয়।[১]

অবসর[সম্পাদনা]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা থেকে সড়ে আসার পর ইয়াডন ক্রিকেট ক্লাবে খেলেন। ক্লাব এবং মাঠের উন্নয়নে তৎপর হন ও ৪০ বছর বয়সে খেলার জগতকে বিদেয় জানান। ব্রায়ান ক্লোজের অবসর গ্রহণের পর ইয়র্কশায়ার কমিটিতে নির্বাচিত সদস্য হন ও ২০০২ সালে ইয়র্কশায়ারের ‘ক্রিকেট পরিচালক’ হন। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, কাজটি বেশ কঠিন হলেও আমি উপভোগ করেছি। অপূর্ব সুযোগ লাভ করে এর সদ্ব্যবহার করেছি।

খেলোয়াড়ী জীবনের শুরু থেকেই চশমা পরিধান করে খেলতেন। ১৯৭২ সালে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন। এফসি হ্যালিফ্যাক্সের সহঃসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 42আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. Warner, David (২০১১)। The Yorkshire County Cricket Club: 2011 Yearbook (113th সংস্করণ)। Ilkley, Yorkshire: Great Northern Books। পৃষ্ঠা 366। আইএসবিএন 978-1-905080-85-4 
  3. Sengupta, Arunabha (৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬)। "Geoff Cope: England off-spinner whose career was plagued with obstacles"Cricket Country। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]