জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লেক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লেক হলো ঢাকার সাভারে অবস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত কিছু লেকের সমষ্টি।[১][২][৩] এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৬টি লেক রয়েছে। এই লেকগুলো হিমালয়ের উত্তরের দেশগুলো থেকে আগত অতিথি পাখির জন্য বিখ্যাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ সূত্র অনুসারে ১৯৮৬ সাল থেকে এখানে অতিথি পাখি আসা শুরু করে, প্রায় ১২৬টি দেশীয় ও ৬৯টি বিদেশি প্রজাতি মিলিয়ে মোট ১৯৫ প্রজাতির পাখি এই লেকসমূহে এসেছে।[৪] বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ সরকারপক্ষ থেকে লেকগুলোকে অতিথি পাখিদের অভায়রন্য ঘোষণা করা হয়েছে।[৫][৬]

অবস্থান[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সর্বোচ্চ ২৬টি লেক থাকলেও, এদের মধ্যে ৪-৫টি লেক আকারে কিছুটা বড়, এখানে অতিথি পাখিদের আনাগোনা বেশি দেখা যায়। বড় লেকগুলো জাহানারা ইমাম ও প্রীতিলতা হল, প্রশাসনিক ভবন এবং মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায়।[৭]

উল্লেখযোগ্য লেকসমূহ[সম্পাদনা]

বিভিন্ন সূত্র লেকের সংখ্যা ১০টা, ১২টা বা ১৭টা বললেও, সর্বোচ্চ ২৬টি লেকের কথা জানা যায়।[৮] এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য লেকসমূহঃ

  • জাহানারা ইমাম ও প্রীতিলতা হল সংলগ্ন লেক
  • প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন লেক
  • মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন লেক
  • মনপুরা এলাকার লেক
  • সুইমিংপুল এলাকার প্রভৃতি[৯]
  • ট্রান্সপোর্ট চত্বর সংলগ্ন লেক

অতিথি পাখির আগাগোনা[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই লেকটা মূলত অতিথি পাখির জন্য বিখ্যাত, এখানে প্রতি বছর প্রায় ৩-৪ টি হাসঁ প্রজাতিসহ ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির অতিথি পাখি এসে থাকে। পাখির সংখ্যা হিসাবে প্রায় ৫-৭ হাজার পাখি এসে থাকে।[১০] বাংলাদেশে আসা অতিথি পাখির ৮-১০ শতাংশ পাখি ক্যাম্পাসের এই সমস্ত লেকে আসে।[১১][১২]

এইজন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর দর্শনার্থী আসে পাখি প্রদর্শন করতে। ২০০১ থেকে নিয়মিত দর্শনার্থীদের জন্য পাখি মেলা আয়োজন করে থাকে ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষ। ১৯৮৬ সালের দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমস্ত লেকে প্রায় ৯৮ প্রজাতির পাখি দেখা যেত।[৮][১৩]

প্রধানত হিমালয়ের উত্তরের দেশ সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়ানেপাল, ভারত, জিনজিয়াং থেকে শীতকালে বেশি পরিমান পাখি বাংলাদেশের বিভিন্ন লেকে, আবার শীতকাল শেষে পাখিগুলো নিজের দেশে ফিরে যায়। অতিথি পাখিগুলো অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করে। অতিথি পাখিদের মধ্যে খঞ্জনা, সরালি, পাতিতারা, পাতারিহাঁস, গয়ার, নোনাজোৎসা, লালমুড়ি, ধুপানি, সিন্ধু ঈগল, বামুনিয়া হাঁস, হুড হুড, বাড়িঘোরা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।[১৪]

লেকের সৌন্দর্য[সম্পাদনা]

বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে বিভিন্ন রকমের জলীয় ফুল দেখতে পাওয়া যায়, যার মধ্যে লাল শাপলা, রক্ত কমল শাপলা, পদ্মফুল প্রভৃতি ফুল দেখতে পাওয়া যায়। লেকের সৌন্দর্যে শিক্ষার্থীরা ও দর্শনার্থীরা বিহোমিত হয়ে ঘুরতে আসে ক্যাম্পাস লেকে, এবং নানা অনুষ্ঠান ও মেলার আয়োজন করে লেককে কেন্দ্র করে।[১৫][১৬]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "জাবি, সাভার উপজেলা" 
  2. "পাখির অভয়ারণ্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-১০ 
  3. "জাবির লেকে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে অতিথি পাখি"www.bd24live.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-১০ 
  4. "বন্ধ ক্যাম্পাসে প্রাণ ফিরিয়েছে পরিযায়ী পাখিরা"jagonews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-১০ 
  5. প্রতিবেদক, নিজস্ব। "পাখির রাজ্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-১০ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. "শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকার" (PDF) 
  7. ইসলাম, শফিকুল; প্রতিনিধি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; ডটকম, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর। "জাবিতে আবার এসেছে শীতের পাখি"bangla.bdnews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-১০ 
  8. "জাবির লেকে পরিযায়ীদের জলকেলি!"banglanews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-১০ 
  9. "অতিথি পাখির জলকেলিতে মুখর জাবি ক্যাম্পাস"Bangla Tribune। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-১০ 
  10. "জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অতিথি পাখির মেলা"www.deshsangbad.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-১০ 
  11. "অতিথি পাখি দেখতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে"NTV Online (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০১-২০। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-১০ 
  12. প্রতিবেদক, নিজস্ব। "পাখির সখা জাহাঙ্গীরনগর"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-১০ 
  13. "অতিথি পাখি ছাড়াই জাবির পাখি মেলা"Bangladesh Journal Online। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-১০ 
  14. "জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লেকে অতিথি পাখির ভিড় জমতে শুরু করেছে" 
  15. "লাল মৃত্তিকার ক্যাম্পাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় - বিপ্রপার্টি"বাড়ি, প্রবণতা, টিপস ও জীবন সম্পর্কে একটি ব্লগ | Bproperty। ২০১৯-১০-২৪। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-১০ 
  16. "লেকের পানিতে 'অতিথি' পাখির জলকেলি"www.jaijaidinbd.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-১০