জারিফা গাফারি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জারিফা গাফারি
Zarifa Ghafari 2020 (cropped).jpg
জন্ম
জাতীয়তাআফগান
মাতৃশিক্ষায়তনপাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়
পেশাব্যবসায়ী
মেয়র
পুরস্কারইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ এওয়ার্ড

জারিফা গাফারি (পশতু: ظریفه غفاری‎ ) একজন আফগান আইনজীবী, কর্মী, রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী। ১৯৯২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।[১] বর্তমানে তিনি ময়দান শহরের মেয়র। এটি আফগানিস্তানের ময়দান ওয়ারদাক প্রদেশের রাজধানী।[২] জারিফা আফগানিস্তানের খুব অল্প সংখ্যক নারী মেয়রদের মধ্যে একজন। এবং সবচেয়ে কনিষ্ঠ মেয়র কারণ মাত্র ২৬ বছর বয়সে তিনি মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি সবচেয়ে বেশি আলোচিত আফগানিস্তানে নারীদের অধিকার আদায়ের কর্মকান্ডের জন্য।[৩] তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট মন্ত্রনালয় কর্তৃক আন্তর্জাতিক সাহসী নারী নির্বাচিত হন।[৪]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের জন্য পাক্তিয়া প্রদেশের হালিমা খাজান উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি ভর্তি হন। এবং পরবর্তীতে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।[১]

আশরাফ গণি রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ২০১৮ সালের জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে জারিফা গাফারি ময়দান শহরের মেয়রের দায়িত্ব পান। এই শহরে প্রায় ৩৫,০০০ মানুষ বসবাস করেন এবং বেশিরভাগ মানুষই তালেবানদের সমর্থন করেন।[৫] যদিও, তার দায়িত্ব গ্রহণে প্রায় নয় মাস দেরি হয় কারণ অন্যান্য রাজনীতিবিদরা তার দায়িত্ব গ্রহণে হস্তক্ষেপ করে।[৬] মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পর একদম প্রথম দিনে কিছু লোক তার অফিস ভাঙচুর করে এবং তাকে পদত্যাগ করতে চাপ দেয়।[৭] শুধু তাই নয়, তাকে তালিবান এবং আইএসআইএল থেকেও হুমকি দেয়া হয়।[৮] জারিফা ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ময়দান শহরের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করে। দায়িত্ব গ্রহণের পরই জারিফা এন্টি-লিটার ক্যাম্পেইন শুরু করেন। এছাড়া ১২ বছর ধরে আটকে থাকা একটি রাস্তার কাজও তিনি শুরু করেন।[৫] নারীদের জন্য তিনি একজন অনুসরণীয় ব্যক্তি।[৪]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

মোট ৮ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বড়। সবার দেখাশোনা তিনিই করেছেন। তালেবানরা যখন ক্ষমতায় আসে তখন তার বয়স মাত্র ৪ বছর। ছোট থেকেই তিনি চুল ছোট রাখতেন, জিন্স ও টি-শার্ট পড়তেন। যখনই তালেবানদের সামনে পড়তেন দ্রুত তিনি নিজেকে লুকিয়ে ফেলতেন।[১]

পুরস্কার[সম্পাদনা]

২০১৯ সালে বিবিসির প্রকাশিত "১০০ নারী" তালিকায় জারিফা জায়গা করে নিয়েছেন।[৯] ২০২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কর্তৃক তাকে আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়।[৪] মোট বারো জন নারীকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। তার মধ্যে তিনি একজন।[১০] পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি বলেন,

"আমি বিজয়ীর বেশে বাঁচতে চাই, বিজয়ীর বেশে মরতে চাই"

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Database of Zarifa Ghafari"www.afghan-bios.info। ২০২০-০৪-৩০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২০ 
  2. News, Ariana। "ROKH: Interview with Zarifa Ghafari, the Mayor of Maidan Wardak province"Ariana News (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২০ 
  3. "Education Is the Key to Empowering Afghan Women"thediplomat.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২০ 
  4. "2020 International Women of Courage Award"United States Department of State (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৩-১৩ 
  5. "Female Mayor in Afghanistan Anticipates Her Impending Assassination"therealistwoman (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-১০-২৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২০ 
  6. "Newly-appointed female Afghan mayor barred from taking office"The Khaama Press News Agency (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৮-১২-১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২০ 
  7. Faizi, Fatima; Nordland, Rod (২০১৯-১০-০৪)। "Afghan Town's First Female Mayor Awaits Her Assassination"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২০ 
  8. "In The Spotlight: Female Afghan mayor defies stereotypes, Taliban"news.cgtn.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২০ 
  9. "BBC 100 Women 2019: Who is on the list?" (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-১০-১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১১-২০ 
  10. "নারী ও বালিকাদের অধিকার রক্ষার জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্ট কতৃক আফগান মেয়র সম্মানিত"। মার্চ ৫, ২০২০। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ২১, ২০২০